• যখন ছোট ছিলাম তখন খাওয়ার আগে আর বাথরুম থেকে আসার পর হাত ধোয়ার জন্যে বিটিভিতে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেয়া হত। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। আর মা তো লেগেই থাকতো খাবার আগে ভালো করে হাত ধোয়ার জন্যে। তখন যেটা জানতাম জীবাণু হচ্ছে আমাদের জন্মের শত্রু! এরা আমাদের শরীরে ঢুকে আর আমাদের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই জীবাণুর প্রতি no ভালোবাসা, Only ঢিসুম ঢিসুম with লাইফবয়! কিছুটা বড় হওয়ার পর দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলাম। দেখি এতদিন যাদের জীবাণু বলে জানতাম তাদের একটা ভদ্র নাম আছে ‘অণুজীব’, ইংরেজিতে Microorganism. মনে মনে বলি micro নামের মধ্যে একটা…

  • আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দেহকে খুব সহজে খেলাতে পারে। খেলানোর জন্য একধরনের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ চালু করেছে সে। ‘কোন একটা কাজ করলে আপনি পুরষ্কার পাবেন’ – এই মন্ত্র দিয়ে মস্তিষ্ক মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারে। পুরষ্কারটির নাম ডোপামিন, একধরনের রাসায়নিক যা মস্তিষ্ক কোষ নিঃসরণ করে। এই ডোপামিন নিঃসৃত হয়ে কোষের গ্রাহকে (রিসেপ্টর) লেগে যায় এবং আমাদের মধ্যে আনন্দের বা ভাললাগা অনুভূত হয়। যত বেশি ডোপামিন নিঃসৃত হবে তত বেশি আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি কাজ করবে। তাই, মজার খাবার খেলে বা যৌনানুভূতিতে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। কাজটা মস্তিষ্ক করে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই। আমরা খাবার না খেলে…

  • ‘কোথায় কাজ? কি কাজ আছে মানুষের? অংক কষা, ইঞ্জিন বানানো, কবিতা লেখা? ওসব তো ভান, কাজের ছল। পৃথিবীতে কেউ ওসব চায়না। একদিন মানুষের জ্ঞান ছিল না, বিজ্ঞান ছিল না, সভ্যতা ছিলনা, মানুষের কিছু এসে যায় নি। আজ মানুষের ওসব আছে কিন্তু তাতেও কারো কিছু এসে যায়না। তার মধ্যে যে বিপুল শূন্যতা আছে সেটা তাকে ভরতেই হবে…’ –মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিবারাত্রির কাব্য এই শূন্যতা পূরনের আয়োজন চলছেই। মানুষের চাহিদা যেন বিশাল ব্ল্যাকহোলের মত। যদি শুধু ভালো দিকটাই দেখি, জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতায় উন্নতি তো কম হলোনা। উন্নতির এক পর্যায়ে মানুষ নিজের অক্ষমতা গুলো আর মেনে নিতে পারলোনা। আমরা মানুষেরা…

  • শতকরার বিষয়টি বেশ বিভ্রান্তিকর। স্কুলে পড়ার সময় এই বিষয়ক সমস্যাগুলোর অধিকাংশই ছিলো লাভ-ক্ষতি বিষয়ক। অধিকাংশ সময়ই আমি বুঝতে পারতাম না ক্রয়মূল্যকে ১০০ ধরতে হবে নাকি বিক্রয়মূল্যকে। এতে করে ফলাফল মেলানো অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। এখন স্কুলের সেই সমস্যাগুলোর চেয়েও বিভ্রান্তিকর কিছু শতকরা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। যেমন: এই সমস্যাটি দেখা যাক। ধরা যাক, আপনি কোনো অফিসে নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করেন এবং কোনো এক সময় আপনার বেতন ১০% বৃদ্ধি করা হলো। কয়েকমাস এভাবে চলার পর কোম্পানির ব্যবসায় মন্দা যাওয়ায় আপনার বেতন পুনরায় ১০% ছেঁটে দেওয়া হলো। এখন কি আপনি আপনার শুরুর বেতনের সমান বেতন পাবেন? এই…

  • ইভোলিউশন এর “ন্যাচারাল সিলেকশন” এর কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি কিন্তু এর বিপরীত যে আরেকটি বিষয় আছে “আর্টিফিশিয়াল সিলেকশন”, যা ইভোলিউশন এর আলোচনায় সাধারণত তেমন একটা আসেনা। কিন্তু জিনিসটার চর্চা কিন্তু আমরা সবসময়ই ধরেই করে আসছি, সকল উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল কে আমাদের মত করে গঠন করতে যাদের উপর আমরা নির্ভরশীল। আমরা যে আমাদের পছন্দসই বৈশিষ্ট্য বাছাই করে প্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজনন করি তাই হল আর্টিফিশিয়াল সিলেকশন। একে সিলেক্টিভ ব্রিডিং ও বলা হয়। এখন এখানে কুকুর কোথা থেকে আসল তাই তো ? আজকে মানুষ-কুকুর এর বন্ধুত্বের মজার গল্পটাই সবাইকে বলবো… মানুষের প্রথম আর্টিফিশিয়াল সিলেকশন এর ফলাফল ই হচ্ছে এই…

  • তৃতীয় পর্বের পর থেকে।  শেষ গল্প: বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রস্তুতি কর্মশালা শুরু হয়েছে মে মাসে। সে উপলক্ষে বিজ্ঞান-প্রেমী স্বেচ্ছাসেবীদের দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে। স্কুলে স্কুলে প্রস্তুতি কর্মশালার একটিভেশনের কাজে আমাদের এলাকায় এসেছিলেন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভাই [আমি উনাকে ভাই বলে ডাকি]। কাজ শেষে বিকেলে আমরা তিতাস নদীর পারে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আর যাওয়া মাত্রই আকাশ কালো করে সে কী হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি! পাশেই ছিল টিনের চালের আশ্রয়। আর সে টিনের চালাতে হয়েছিল “মন্দ্রসপ্তক”। টিনের চালা আছে কিন্তু বেড়া নেই। বৃষ্টির এতই তোড় যে আশ্রয়ের মাঝে এসে সবাইকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। ভিজলেও কারো খারাপ লাগা নেই। সবাই আনন্দ পাচ্ছে। সেই…

  • বৃষ্টি : মেঘ মাদলে ভরা বাদলে …দ্বিতীয় পর্বের পর থেকে।  শিশির, কুয়াশা, তুষার: বায়ুমণ্ডলের উপরে সৃষ্টি হওয়া মেঘ আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে হলেও আমাদের হাতের কাছেই আছে মেঘের ছোট ভাই! কুয়াশা। বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা, শিশির এদেরকে আমরা আলাদা হিসেবে চিনলেও এরা আসলে একই জিনিস। এদের যেকোনো একটার ব্যাপারে জেনে গেলে সবগুলো সম্পর্কে জানা হয়ে যায়। আবহবিদগণ এই জিনিসটাকে বলেন Precipitation বাংলায় এর পরিভাষা হতে পারে বারিপাত। এই প্রেসিপিটেশনের কয়েকটা প্রকারভেদের মাঝে একটা হচ্ছে বৃষ্টি। আরেকটা কুয়াশা। শীতের সময়ে ভূমি তাপ বিকিরণ করে খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ভূমির কাছাকাছি যে বাতাস থাকে সেগুলোও ভূমির সাথে সাথে ঠাণ্ডা হয়। ঠাণ্ডা হলেই ঘনীভূত হবার…

  • …প্রথম পর্বের পর থেকে।  বাতাসে ভাসমান পানির কণাগুলো যখন ঘনীভূত হবে তখন তার একটা আশ্রয় বা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। নিচের বায়ুমণ্ডলীয় স্তর থেকে পানির কণা সহজে ঘনীভূত হতে পারে কারণ সেখানে অবলম্বন হিসেবে সমুদ্র কিংবা অন্য কোনো আধার আছে। উপরের স্তরে সমুদ্র নেই, গাছপালা নেই, মাটি নেই, বাড়িঘরের পৃষ্ঠ নেই, কিছু নেই। সেখানে আধার হিসেবে কাজ করে বায়ুতে মিশে থাকে ধুলাবালি। বায়ুর তুলনায় ধুলাবালি আসলেই হিসেবের বাইরে নগণ্য একটা জিনিস। কিন্তু নগণ্য হলেও সেটাই বৃষ্টি সংঘটনের মূল হোতা। পানি চক্রের যে ধারা না থাকলে মানুষের পক্ষে জীবন ধারণ করা সম্ভব হতো না সে পানি চক্র এক…

  • “মেঘ মাদলে ভরা বাদলেবরষা বুঝি আসে ওই।জল বরণে তৃষিতমন ভিজিয়ে হাসে ওই।” বৃষ্টি : মেঘ মাদলে ভরা বাদলে বৃষ্টির সৌন্দর্যের দিক থেকে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের মত ভাগ্যবান মানুষ মনে হয় পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সব দেশে তেমন বৃষ্টি হয় না। প্রায় দেশেই তুষারপাত হয়। বরফে ঢাকা, কিংবা মাইলের পর মাইল মরুভূমি। আবার সব দেশে টিনের চাল নেই। বাংলাদেশের মানুষদের জন্য আশ্চর্য এক সমাবেশ ঘটেছে ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি আর টিনের চাল। ঝমঝম করে যখন টিনের চালে বৃষ্টি পড়ে তখন যে কী স্বর্গীয় এক সুখানুভূতি হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বৃষ্টি এতোটাই পাগলকরা যে তার প্রেমে একজন পাকিস্তানিকেও বাংলাদেশে থেকে যেতে দেখা যায়। [১] বৃষ্টি ব্যাপারটা এতই সুন্দর মনোহর আর গ্রহণযোগ্য যে…