• আমাদের মগজটা অসাধারন একটা বস্তু। অসাধারন এর প্রয়োজনীয়তা, অসাধারন এর জটিলতা। ছোট্ট-বদ্ধ একটা কোঠরে থেকেও, একটি কোয়ান্টাম কণার স্পন্দন থেকে মহাবিশ্বের নিঃসীমতা- বহু কিছুই ধারন করতে পারে। ভালো লাগা, খারাপ লাগা, চলাফেরায় ভারসাম্য রাখা- এই ব্যাপারগুলো মগজের নিউরনের মধ্যে ছড়ানো কিংবা সাজানো থাকে। মন ভালো নাই- নির্দিষ্ট কিছু নিউরন কাজ করছে। সুন্দর একটি গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল, অন্য এক গুচ্ছ নিউরন এখন সক্রিয়। কিংবা ভাইভা দিতে গিয়ে সব ভূলে যাওয়া, তখন সব নিউরন নিষ্ক্রিয়। মাত্রাতিরিক্ত সরলীকৃত করে বলা যায় যে, নিউরনের সক্রিয়তা/নিষ্কৃয়তাই আমাদের আবেগ-অনুভূতি, আচরনের ভৌত রূপ। মানুষের স্বভাবই হচ্ছে শর্টকাট খোজা। সমুদ্র দেখতে…

  • অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রনঅনুচ্ছেদ-২: ক্যাথোড রশ্মির কণিকা তড়িৎক্ষেত্রের উপস্থিতিতে একটি চার্জযুক্ত কণিকা কী পরিমান বেঁকে যাবে তা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের উপর: কণিকাকর্তৃক পরিবাহিত চার্জের আকার, যে গতিতে কণিকা ভ্রমন করে এবং কণিকার ভর। চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতেও চার্জযুক্ত কণিকার বিচ্যুতি এই তিনটি বিষয়েরই উপর নির্ভর করে, কিন্তু তা তড়িৎক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন ঢংএ। থমসন যদি দুই ধরনের বিচ্যুতিই পরিমাপ করতেন তাহলে তাদের পারস্পরিক পরিমান থেকে কণিকার চার্জ বনাম ভরের অনুপাত নির্ণয় করা সম্ভব ছিল। এবং এই অবস্থায় যদি কণিকার বৈদ্যুতিক চার্জ জানা থাকত তাহলে কণিকার ভরও বের করার সুযোগ ছিলো। কণিকার বৈদ্যুতিক চার্জ বের করা পুরোপুরি অসম্ভব ছিলো…

  • একটি পুরোনো কৌতুক দিয়ে শুরু করি। একটি রেস্টুরেন্টে ভীষন ভীড় হওয়ায় একই টেবিলে দুজন মানুষ খেতে বসেছেন। ওয়েটার আসা মাত্রই উভয়েই মাছের অর্ডার করলেন। ওয়েটার দুটি প্লেটে করে দুটি মাছ নিয়ে এলেন এবং টেবিলে রাখলেন।বলা বাহুল্য মাছ দুটির আকার একেবার সমান ছিলো না। এই সময় টেবিলে বসা দু’জনের একজন অনেকটা অবচেতনেই বড় মাছের প্লেটটি নিজের দিকে টেনে নিলেন। এই দেখে অপরজন বেজায় অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি চটে গিয়ে অপরজনকে শুধালেন এ কেমন আচরণ ভাই? ভদ্রতা বলতে কি কিছুই জানেন না? অভদ্রের মতো বড় মাছটি নিয়ে নিলেন যে? প্রথম ব্যক্তি তখন বললেন, আপনি হলে কোনটি নিতেন? দ্বিতীয় ব্যক্তি…

  • ডি এন এ ( Deoxyribonucleic acid) মূলত অক্সিজেন, কারবন, নাইট্রোজেন, এবং হাইড্রোজেন এর দ্বারা গঠিত মাইক্রোমলিকিউল। এটি একটি নিউক্লিক এসিড যার মাঝে বংশ বিস্তার এবং জীবের বেড়ে ওঠা এবং তার সম্পর্কে যাবতীয় সকল তথ্য (জেনেটিক  ইনফরমেশন) এনকোডেড থাকে। এর গঠন সাধারণত এর বেস পেয়ার মলিকিউলের চেইন হয়ে থাকে । যখন বাবা মায়ের ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর সংমিশ্রণ হয় , তখন দুটোর মিশ্রণে বাচ্চার প্রথম ডি এন এ তৈরি হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের সময় আরও ডি এন এ তৈরি হতে থাকে, ডি এন এ যে কোন সেল এর নিউক্লিয়াস এর মাঝে কন্ডেন্সেড এবং সামান্য পরিমাণে…

  • অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রনঅনুচ্ছেদ-১: তড়িৎ বিভাজন তড়িৎ বিষয়ক প্রাথমিক পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলো খুব অল্প বৈদ্যুতিক চার্জের উপর করা হয়েছিলো। তবে ১৭৪৬ সালে ডাচ পদার্থবিদ পিটার ভন মুশানব্রক (Pieter van Musschenbroek, ১৬৯২-১৭৬১) যখন লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছিলেন তখন লেইডেন জার নামক একটি জিনিস উদ্ভাবন করেছিলেন যা বিপুল পরিমান চার্জ জড়ো করতে পারে। চার্জ যতো বেশী জড়ো করা হবে ততোই সেই চার্জ নিষ্ক্রিয় করার জন্য বাইরে থেকে চাপ তৈরি হবে। লেইডেন জারকে যদি কোনো কিছুর সাথে স্পর্শ করানো হয় তাহলে বিদ্যুৎ সেই বস্তুতে প্রবাহিত হয়ে অতিরিক্ত চার্জ নিষ্ক্রিয় করে দেয় (যদি কোনো মানুষ তা স্পর্শ করে তাহলে তার মধ্য দিয়েই বিদ্যুৎ…

  • It is a common experience that a problem difficult at night is resolved in the morning after the committee of sleep has worked on it. জন স্টেইনবেক (১৯০২-১৯৬৮), নোবেল জয়ী আমেরিকান সাহিত্যিক গত “ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ” লেখায় আমরা ঘুমচক্র সম্পর্কে মোটাদাগে কিছু তথ্য জেনেছি। এখন তাহলে আগের প্রশ্নে ফেরত যাওয়া যায় — ঘুম কেন দরকার? অনেক সময় সহজ-সরল-ছোট প্রশ্নও মাথা ঘুরিয়ে দেয়। সোজা প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাই আনায়সের কাজ নয়। আফ্রিকায় একটা প্রবাদ আছে — প্রতিবার এক-লোকমা মুখে দিয়ে একটা বড়ো হাতি একাই খেয়ে ফেলা সম্ভব। মানে একটা দুরূহ কাজ প্রথমে অসম্ভব মনে হলেও যদি কেউ সেটাকে…

  • যখন ছোট ছিলাম তখন খাওয়ার আগে আর বাথরুম থেকে আসার পর হাত ধোয়ার জন্যে বিটিভিতে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেয়া হত। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। আর মা তো লেগেই থাকতো খাবার আগে ভালো করে হাত ধোয়ার জন্যে। তখন যেটা জানতাম জীবাণু হচ্ছে আমাদের জন্মের শত্রু! এরা আমাদের শরীরে ঢুকে আর আমাদের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই জীবাণুর প্রতি no ভালোবাসা, Only ঢিসুম ঢিসুম with লাইফবয়! কিছুটা বড় হওয়ার পর দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলাম। দেখি এতদিন যাদের জীবাণু বলে জানতাম তাদের একটা ভদ্র নাম আছে ‘অণুজীব’, ইংরেজিতে Microorganism. মনে মনে বলি micro নামের মধ্যে একটা…

  • আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দেহকে খুব সহজে খেলাতে পারে। খেলানোর জন্য একধরনের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ চালু করেছে সে। ‘কোন একটা কাজ করলে আপনি পুরষ্কার পাবেন’ – এই মন্ত্র দিয়ে মস্তিষ্ক মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারে। পুরষ্কারটির নাম ডোপামিন, একধরনের রাসায়নিক যা মস্তিষ্ক কোষ নিঃসরণ করে। এই ডোপামিন নিঃসৃত হয়ে কোষের গ্রাহকে (রিসেপ্টর) লেগে যায় এবং আমাদের মধ্যে আনন্দের বা ভাললাগা অনুভূত হয়। যত বেশি ডোপামিন নিঃসৃত হবে তত বেশি আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি কাজ করবে। তাই, মজার খাবার খেলে বা যৌনানুভূতিতে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। কাজটা মস্তিষ্ক করে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই। আমরা খাবার না খেলে…

  • ‘কোথায় কাজ? কি কাজ আছে মানুষের? অংক কষা, ইঞ্জিন বানানো, কবিতা লেখা? ওসব তো ভান, কাজের ছল। পৃথিবীতে কেউ ওসব চায়না। একদিন মানুষের জ্ঞান ছিল না, বিজ্ঞান ছিল না, সভ্যতা ছিলনা, মানুষের কিছু এসে যায় নি। আজ মানুষের ওসব আছে কিন্তু তাতেও কারো কিছু এসে যায়না। তার মধ্যে যে বিপুল শূন্যতা আছে সেটা তাকে ভরতেই হবে…’ –মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিবারাত্রির কাব্য এই শূন্যতা পূরনের আয়োজন চলছেই। মানুষের চাহিদা যেন বিশাল ব্ল্যাকহোলের মত। যদি শুধু ভালো দিকটাই দেখি, জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতায় উন্নতি তো কম হলোনা। উন্নতির এক পর্যায়ে মানুষ নিজের অক্ষমতা গুলো আর মেনে নিতে পারলোনা। আমরা মানুষেরা…