• ”ঘুম কেন জরুরী” লেখাটিতে ঘুমের মতো জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় নষ্ট করা আপাত-দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়ের কাজটা কি হতে পারে তা  আমরা সাদা চোখে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা ঘুমানোর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাই, তা ভালোমতো বুঝতে পারলে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এই প্রশ্নটার বাঁকা পথে আরো ভালো উত্তর পাওয়া যাবে, এরকম একটা সম্ভাবনার কথা উল্লেখ ছিলো গত লেখাটিতে।  উত্তর-খোঁজার আগে ঘুম-গবেষণা আর ঘুমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। ইউজিন আরিয়েনস্কিঘুম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার শুরুটা ছিলো বেশ উদ্ভট। উনবিংশ শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন ফরাসী গবেষক  ঘুমের প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। ঘুমের মধ্যে কি ঘটে তার সবচেয়ে সরল পর্যবেক্ষণ হতে পারে কোন…

  • ও কি গরম! বসে আছি বাইরে গাছের ছায়ায় চেয়ার পেতে। তাতে যদি গরমের কষ্টটা একটু কমে! পাখা দিয়ে করছি বাতাস। হুট করেই পিচ্চি ভাগ্নে সিফাত প্রশ্ন করে বসে- পাখাগুলো বাতাস জমিয়ে রাখে কই? পাখাটা নাড়া দিলে বাতাস কোথা থেকে বের হয়? বাতাসটা যে সবসময় আরামদায়ক হয়। এমন হয় কেন? :O প্রশ্ন শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না। এ আবার কেমন প্রশ্ন? শেষমেশ চুপ করেই রইলাম। নিষ্পাপ শিশুমনকে নিরুৎসাহিত করতে নেই। পাখা থেকে বাতাস আসা লাগবে কেন? বাতাস তো সবসময়ই আছে। পাখা নাড়ালেও আছে, না নাড়ালেও আছে। এই বাতাস না থাকলে তো আমরা মারাই পরতাম। আমরা…

  • মানুষের মৃত্যুর কারন নানান রকম। আলোচনার সুবিধার জন্য দুই ভাগে ভাগ করলাম, আত্নহত্যা আর পরহত্যা(মানে খুন, দূর্ঘটনা, রোগ এরকম পরের দ্বারা হত্যা)। কোষের ক্ষেত্রেও একই প্রকারভেদ প্রয়োগ করা যায়। পরহত্যা-মানে কোন কোষ যদি আঘাতজনিত, বিষক্রিয়া কিংবা কোন ধরনের সংক্রমনের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অথবা রক্তের প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মারা যায় তখন তাকে বলে নেক্রোসিস। নেক্রোসিসের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে প্রদাহ এবং পরবর্তীতে নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে কোষের সমাজে নেক্রোসিস যতটা অস্বাভাবিক, অ্যাপপ্টসিস ততটাই স্বাভাবিক। তবে অ্যাপপ্টসিস নাম যেমনই হোক, কাজে কিছুটা ভদ্র। মরলে মরে, কিন্তু ছড়ায়না। জী হ্যা। কোষের আত্নহত্যার ব্যাপারটাই আসলে অ্যাপপ্টসিস। এই ব্যাপারটা…

  • পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভঅধ্যায়-২ : আলোঅনুচ্ছেদ-৩: প্রতিভাসগুলোর একীভবনতাহলে আমরা সবমিলিয়ে চারধরনের প্রবাহ বা প্রতিভাস পাচ্ছি যাদের শূন্যমাধ্যমের মধ্য দিয়ে অনুভব করা যায়: আলো, বিদ্যুৎ, চৌম্বকত্ব এবং মহাকর্ষ। এই প্রত্যেক ঘটনাই ইথারের মাধ্যমে গমন করে বলে কল্পনা করা হয় কিন্তু প্রশ্ন হলো এদের প্রত্যেকটির জন্য কি ইথার আলাদা আলাদা নাকি একই রকম? বলার কোনো উপায় নেই। তবে মাঝে মধ্যে আলোকে বলা হয় আলোবাহী (luminiferous) ইথারের তরঙ্গ (luminiferous শব্দটি ল্যাটিন থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ আলো ধারনকারী)। কাজেই “বিদ্যুৎবাহী”, “চৌম্বকবাহী”, এবং “মহাকর্ষবাহী” ইথারের অস্তিত্বও হয়তোবা থাকতে পারে? নিশ্চিতভাবে বলা যায় এই চারটি বিষয়ের মধ্যে খুব বড়…

  • পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভ অধ্যায়-২ : আলোঅনুচ্ছেদ-২: চার প্রকার প্রতিভাস পুরোপুরি সন্তোষজনক উত্তর খুবই বিরল এবং এই কথা বিজ্ঞানের জন্য খুবই প্রযোজ্য যেখানে প্রতিটি উত্তর একেকটি নতুন ও আরো সূক্ষ প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমরা যদি স্বীকৃতি দিয়ে দিই যে, আলো; শব্দ কিংবা আন্দোলিত পুকুরের মতোই তরঙ্গের সমাহারে গঠিত তাহলে সমস্যা থেকে যায় যে, আলো খুব সহজেই শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে যেখানে শব্দ কিংবা পানির তরঙ্গ তা পারে না।পানির তরঙ্গ তৈরি হয় কেননা পানির অণুগুলো নিয়মিত উপরে-নীচে স্পন্দিত হতে থাকে। যদি পানি না থাকত তাহলে পানির তরঙ্গও থাকত না। শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয় বায়ুর অণুগুলোর…

  • বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কত সহজে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, টিউমার শনাক্ত করতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় ধরণের এজেন্ডার মাঝে ক্যানসার একটি। এখন পর্যন্ত ডাক্তারেরা তিনটি উপায়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করে থাকেন। প্রথমটি হল ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্যানসারকে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করা, অন্যটি তেজস্ক্রিয়তা বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে একটু একটু করে কমিয়ে আনা। আরেকটি যেটি আছে সেটি হল ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া। এখানে প্রথম প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরপ্রক্রিয়া। অন্যদিকে পরের দুটি উপায় চিকিৎসকরা ব্যবহার করে থাকেন বেশি কিন্তু এই প্রক্রিয়া সবসময় সফল হয় না। কারণ এটা বলা খুব কষ্টকর যে ঠিক কোন জায়গা থেকে টিউমার কোষ…

  • পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ মূল: আইজ্যাক আসিমভ অধ্যায়-১: পদার্থ অনুচ্ছেদ-৫: বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য পরমাণু যদি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে তাহলে যৌক্তিকভাবেই ধরে নেওয়া যায় যে তাদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমান পার্থক্য থাকবে, বিশেষ করে বিভিন্ন পরমানুর ধর্ম হবে বিভিন্ন ধরনের। যাদি তা না-ই হয় অর্থাৎ সবধরনের পরমাণুর ধর্মই যদি একই রকম হয় তাহলে কেনইবা একগুচ্ছ পরমাণু একত্রিক হয়ে সোনা আর অপর একগুচ্ছ পরমাণু একত্রিত হয়ে সীসা তৈরি করবে? প্রাচীন গ্রীক পন্ডিতরা সবচেয়ে বেশী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন যেই বিষয়টিতে তা হচ্ছে জ্যামিতি, কাজেই তাঁরা যেহেতু মৌলিক পদার্থ এবং পরমাণু নিয়ে চিন্তা করেছিলেন, তাদের পক্ষে পরমাণুর আকৃতি…

  • পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভঅধ্যায়-১: পদার্থঅনুচ্ছেদ-৪: পরমাণুর বাস্তবতা পারমাণবিক তত্ত্ব যতোই ভালোভাবে কাজ করুক কিংবা যতোই দক্ষতার সাথে এর উন্নতি ঘটানো হোক কিংবা যতোই এটি নতুন নতুন আবিষ্কারের দিকবর্তিকা দিক না কোন, একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত রয়েই যায় আর তা হচ্ছে পরমাণু কেউই দেখতে পায়নি কিংবা কেউ কোনোভাবে শনাক্ত-ও করতে পারে নি। পরমাণুর যাবতীয় সাক্ষ-প্রমাণই পরোক্ষভাবে অর্জিত। আপনি হয়তো পরমাণু ধরে নিলে আপনার অমুক পরীক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারছেন কিংবা তমুক পর্যবেক্ষণের ভিত্তি দিতে পারছেন কিন্তু পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভুলও হতে পারে। পারমাণবিক তত্ত্ব মোটের উপর একটি চিত্র দেয় যা ঠিকঠাক কাজ করে বলে দেখা…

  • পরমাণুর অভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভঅধ্যায়-১: পদার্থঅনুচ্ছেদ-৩: পরমাণুবাদের বিজয় যেসকল বস্তু পৃথিবীতে উৎপন্ন হয় তাদের অধিকাংশই মৌলিক নয় তবে সেগুলোকে একাধিক মৌলিক পদার্থে বিশ্লেষণ করা যায়। যেসব বস্তু একাধিক মৌলিক পদার্থের সমন্বয় হিসেবে পাওয়া যায় সেগুলোকে যৌগিক পদার্থ বা যৌগ বলা হয় (ইংরেজিতে compound, যা একটি ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ একসাথে স্থাপন)। রসায়নবিদগণ ক্রমশঃ কোন বস্তু কী পরিমান বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ নিয়ে গঠিত তা শনাক্ত করতে প্রবল উৎসাহী হয়ে উঠলেন। এর শুরু হয় ফরাসী রসায়নবিদ যোসেফ লুই প্রাউস্ট (Joseph Louis Proust, ১৭৫৪-১৮২৬) এর হাত ধরে যিনি এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং একটি যুগান্তকারী…