• [কিছুদিন আগে মারা গেছেন প্রথিতযশা বাঙ্গালি বিজ্ঞানী প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর পর একটা জিনিস প্রবলভাবে অনুধাবন করলাম আর তা হল বাঙ্গালির বিজ্ঞান বিমুখতা। জামাল নজরুল ইসলামকে বলা হত ছোট দেশের বড় বিজ্ঞানী কিন্তু নিজ দেশের খুব কম লোকই তাঁকে চিনতেন। তাঁর মৃত্যুর পর কৃতী নিভৃতচারী গবেষকদের নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখার তাগিদ অনুভব করলাম। সেই ধারায় আজকের প্রবন্ধটির নায়ক প্রফেসর আবুল হুসসাম।] শিক্ষা ও কর্মজীবন:[১][২] আবুল হুসসামের জন্ম ১৯৫২ সালে কুষ্টিয়া জেলায়। কুষ্টিয়ায় প্রাথমিকভাবে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে বিএসসি এবং ১৯৭৬ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮২ সালে…

  • চমৎকার স্মৃতিশক্তি আমাদের সকলেরই কাম্য, এর জন্য আমরা কত আয়োজনই না করে থাকি, কিন্তু এতসব আয়োজনে হয়ত একটি পরিচিত নিত্যসঙ্গীর কথাই ভুলে যায়আবার কর্মব্যাস্ত ও ক্লান্তিকর একটা দিন অতিবাহিত করার পর আমাদের দেহ মন দুইয়েরই একটু আরাম প্রয়োজন। কারন আগামীদিন আর একটা নতুন কর্মস্পৃহা নিয়ে জীবন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু কোন জিনিসটা যোগাবে এই নতুন কর্মস্পৃহা এবং শানিত করবে আমাদের স্মৃতিশক্তি ? উত্তর হল ঘুম ! একটা ভাল ঘুম। আসুন তাহলে জেনে নেই, ঘুম আমাদের জীবন টাকে কিভাবে স্বাচ্ছন্দময় করে তোলে। স্মৃতিশক্তি উন্নয়ন জাগ্রত অবস্হায় যে কাজ আপনি অনুশীলন বা শিখতে চেষ্টা করেন, ঘুমের সময় তা আপনার…

  • বরেন্য পদার্থবিদ ও গণিতবিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরন করেছেন। আমাদের বাঙালি জাতির বিজ্ঞান বিমুখতার কোনো তুলনা নেই। শিরোনাম পড়ার সাথে সাথেই বোধহয় অনেকে ভ্রু কুঁচকে ভাবছেন এই লোকটা আবার কে? তাদের জন্য জামাল নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরছি। ড. জামাল নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ঝিনাইদহ জেলায়। তাঁর বাবা সে সময়ে ওখানকার মুন্সেফ ছিলেন (বর্তমানের সহকারী জজ সমতুল্য)। তাঁর বয়স যখন এক বছর, সে সময় তাঁর বাবার বদলির সুবাদে কলকাতায় চলে যান তাঁরা।জামাল নজরুল কলকাতার মডেল স্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। সেখান থেকে যান শিশুবিদ্যাপীঠে। সেখানে চতুর্থশ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পঞ্চম শ্রেনীতে…

  • ফুলের রং পাল্টে দেবার আগে আমার ছোট মামার কথা বলে নেই। আমার দেখা প্রথম বিজ্ঞানী হচ্ছেন আমার ছোট মামা। তার কাছ থেকেই শিখেছি কি করে ফুলের রং পাল্টে দিতে হয়। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমরা ছিলাম সেই বিজ্ঞানী মামার সার্বক্ষণিক এসিস্ট্যান্ট। সে সুবাদে তার কাছ থেকে শিখেছি হলুদ আর সাদা মেশানো ছিটছিট রঙের পাতাবাহার গাছের ডাল কেটে স্বচ্ছ কাঁচের বোতলে পানি ভরে রেখে দিলে কিভাবে শিকড় গজায়। আরও শিখেছি, ফাউন্টেন পেনের কালির দোয়াতে সাদা ফুলের দুবলা গাছ থেকে কী করে কালো ফুল ফোটাতে হয়। চিকন বাঁশের চটি দিয়ে বানিয়েছি বাতাসের দিক নির্দেশক যন্ত্র। ফিউজ হয়ে যাওয়া…

  • বিজ্ঞান রিভিউ লিখতে বসে শুধু দুটি ঘটনাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। একটি হিগস্ বোসন আর অপরটি কিউরিওসিটি। বলতে গেলে এই দুটি জিনিসই ২০১২ সালের বিজ্ঞান জগতের পুরোটা দখল করে রেখেছে। কিন্তু একটু ঘাটাঘাটি করে যা খুঁজে পেলাম তা মোটামুটি পিলে চমকানোর মত। আজ ২০১২ সালের উল্ল্যেখযোগ্য কিছু বিজ্ঞান অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা যাক। হিগস-বোসন আবিষ্কার:এই লেখাটি যখন শুরু করেছি তখন পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানীগণ হিগস-বোসন আবিষ্কৃত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। আমাদের এই মহাবিশ্ব যে সব মৌলিক কণিকা দ্বারা তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানীরা সেগুলোকে এখটি সার্বজনীন মডেলের মাধ্যমে ব্যখ্যা করার…

  • ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে  চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে। -কাজী নজরুল ইসলাম   ধূমকেতু নিয়ে কিছুদিন আগেও আমাদের মধ্যে একটা সংস্কার প্রচলিত ছিল, মানুষ ধূমকেতুকে হয় দুঃসময় না হয় নতুন সামাজিক পটপরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখত। তাঁর অনুবাদ-চর্চা নামক সঙ্কলনে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘অষ্টাদশ শতাব্দী পর্য্যন্ত সকল যুগের সাহিত্যেই দেখা যায় যে, ধূমকেতুকে লোকে তখন দুঃখের ভীষণ অগ্রদূত বলিয়া বিশ্বাস করিত… Milton বলেন যে, ধূমকেতু তাহার ভয়াবহ কেশজাল ঝাড়া দিয়া মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহ বর্ষণ করে। রাজা হইতে আরম্ভ করিয়া দীনতম কৃষক পর্য্যন্ত সমগ্র জাতি এই অমঙ্গলের দূতসকলের আবির্ভাবে ক্ষণে ক্ষণে দারুণতম আতঙ্কে নিমগ্ন হইত। ১৪৫৬ খ্রীষ্টাব্দে, হ্যালির নামে পরিচিত ধূমকেতুর…

  • মানুষের সভ্যতার বয়স কতো? পৃথিবীর বয়সের তুলনায় খুববেশি হয়তো নয়, মাত্র দশ হাজার হবে। এর আগের মানুষেরা ছিলো অসভ্য, বর্বর। তারও আগে মানুষ যাপন করতো আদিম বন্য জীবন। সে আজ থেকে প্রায় দুই লাখ বছর আগের কথা। এই সুদীর্ঘকাল সময়ের মধ্যে আমরা মানুষ সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, স্বাস্থ্যজ্জ্বল সময় কাটাচ্ছি। যদি গত দুই লাখ বছর সময়টা গোনায় ধরি, তাহলে যেকোন সময়ের চেয়ে এখন মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সবচেয়ে কম। আমাদের ঘরবাড়িগুলো ঝড়ে উড়ে যায় না। আগের তুলনায় অনেক কম মানুষ ক্ষুধার্ত সময় কাটায়। অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে এখন মানুষের গড় আয়ুস্কাল বেশি। কলেরা কিংবা প্লেগের মহামারীতে অথবা…

  • এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ ,২ ,৩ ,৪,৫) মূল : মিশিও কাকু Anti–Gravity And Anti-Universes ডিরাকের তত্ত্ব ব্যবহার করে, আমরা এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিঃ প্রতিবস্তুর মহাকর্ষের প্রতিরূপ কি হবে? প্রতি-মহাবিশ্বের অস্তিত্ব কি আছে? আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি যে, প্রতিকণার চার্জ সাধারণ বস্তুর চার্জের বিপরীত ধর্মী । কিন্তু এমন কিছু কণা আছে যাদের কোন চার্জ নাই (যেমন আলোক কণা ফোটন, অথবা মহাকর্ষের জন্য দায়ী গ্রাভিটন কণা) এরা নিজেরা নিজেদের প্রতিকণা । যেহেতু এরা নিজেরা নিজেদের প্রতিবস্তুর, তাই আমরা অন্যভাবে বলতে পারি, মহাকর্ষ আর প্রতিমহাকর্ষ (Anti gravity) একই বিষয় । মহাকর্ষের কারনেই প্রতিবস্তুর নিম্নে পতিত হবে,…

  • এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ ,২ ,৩ ,৪ ) মূল : মিশিও কাকু Founder Of Anti Matter প্রতিপরমাণু কি ? এটা চিন্তা করে বিস্মিত হতে হয় যে প্রকৃতি যথার্থ কোন কারণ ছাড়াই সাব-অ্যাটমিক কণাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছিল । আমরা এতোদিন জেনে এসেছিলাম প্রকৃতি সম্পূর্ণ মিতব্যয়ি, কিন্তু এখন আমরা প্রতিকণার কথা জানি আর তাই প্রকৃতিকে মনে করা হয় (অপ্রয়োজনীয়) বস্তুকে সবচেয়ে বেশি অপব্যয় করেছে । প্রশ্ন আসে যদি প্রতিবস্তু থেকে থাকে তাহলে কি প্রতিমহাবিশ্বও আছে? এই প্রশ্নের উত্তর পাবো আমরা প্রতিবস্তুর উৎপত্তিস্থল খুঁজে বের করার মাধ্যমে । সত্যিকারার্থে প্রতিবস্তুর আবিষ্কারের তারিখটি হচ্ছে ১৯২৮ সাল, পল ডিরাকের অসামান্য…