

মানবদেহ; পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল, সবচেয়ে রহস্যময় এক জৈবিক সংগঠন। মাথার ত্বক থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত, প্রতিটি কোষে লুকিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য। আছে নানাবিধ প্রাণের মনোরম জীবনযাপন। আমরা প্রতিনিয়ত বহন করছি কোটি কোটি “অতিথি”–এরা খায়, ঘুমায়, প্রজনন করে। এরা কখনো আমাদের বন্ধু, কখনো আবার শত্রুও বটে! এই “অতিথি” আসলে কারা? এরা হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, আর্কিয়া এবং প্রোটোজোয়া। আমাদের শরীরেই গড়ে উঠেছে এদের বিশাল জনপদ যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন “মাইক্রোবায়োম”। এই অণুজীবদের চোখে দেখা যায় না, তবুও তারা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চলুন আজ আমরা ডুব দেই সেই অদৃশ্য জগতে, শুনবো এক রহস্যময় বসতির গল্প! মুখ ও…

আইনস্টাইন জিগজ্যাগ
লেখাটি গবেষণা, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ফিচার, বিবিধ, মহাকাশ, সাম্প্রতিক বিভাগে প্রকাশিতমিরাবিলিস ১৯০৫ সালকে অ্যানাস মিরাবিলিস বা ‘অত্যাশ্চর্যের বছর’ নামে অভিহিত করা হয়। এমন নামে ডাকার কারণ এ বছর বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন – ব্রাউনিয়ান মোশন, যার মাধ্যমে অণুর অস্তিত্বকে প্রমাণ করেন, ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট, যেই ইফেক্ট ব্যবহার করে আমাদের ক্যামেরাগুলো কাজ করে এবং তৃতীয়টি হলো আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব যার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণই বদলে দেন আইনস্টাইন। ১৯১৫ সালে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব কেবলমাত্র ধ্রুব বেগে গতিশীল বস্তুর জন্য কাজ করলেও আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব পরিবর্তনশীল বেগের জন্যও সঠিকভাবে কাজ…

কেমন হতে পারে পৃথিবীর সমাপ্তি?
২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বর। পৃথিবী চলছে তার চিরচেনা গতিতে। সূর্য উঠেছে, পাখিরা ডাকছে, রাস্তায় গাড়ি চলছে, মানুষ প্রতিদিনের কাজকর্মে ব্যস্ত। কোনো অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ছে না। তবু কোথায় যেন একটা চাপা উত্তেজনা, এক অজানা ভয়। কেউ প্রকাশ্যে বলছে না, তবে অনেকেই মনে মনে ভাবছে—”আজই কি পৃথিবীর শেষ দিন?” মায়ান ক্যালেন্ডারের শেষ দিন বলে কয়েক বছর ধরেই নানা গুজব ছড়িয়েছে—ধ্বংস হবে পৃথিবী, নাকি আসবে এলিয়েন? কেউ বলছে বিশাল গ্রহ ধাক্কা দেবে পৃথিবীতে, কেউ আবার নিশ্চিন্তে চা খেয়ে বলছে—”সবই বাজে কথা।” ঢাকার মোহাম্মদপুর নিবাসী ছেলে তুহিন, এক সাধারণ কলেজপড়ুয়া ছেলে। নিয়মিত কলেজে যাওয়া আসা করে। পৃথিবীর সব বিষয়েই…

ডাইনোসর বিলুপ্ত না হলে কেমন হতো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ
আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর পূর্বে, এক মহাবিপর্যয় নেমে আসে পৃথিবীর বুকে। তৎকালীন পৃথিবীর অধিপতি, প্রায় সাড়ে ষোল কোটি বছর ধরে ভূপৃষ্ঠ দাপিয়ে বেড়ানো জীব ডাইনোসরদের জীবনে ঘটে এক অকস্মাৎ বিপর্যয়। মহাশূন্য থেকে প্রায় ৯ মাইল চওড়া (১৫ কিলোমিটার) এক গ্রহাণু আছড়ে পড়ে মেক্সিকোর উপকূলে। ফলস্বরূপ শুরু হয় বিধ্বংসী সুনামি। দাউদাউ করে জ্বলে উঠে অরণ্য, আকাশ ভরে উঠে অ্যাসিড বৃষ্টিতে। সূর্যের আলো থমকে দাঁড়ায়, গাছপালা বন্ধ করে দেয় সালোকসংশ্লেষণ। এই অন্ধকার ও দুর্যোগময় পরিবেশে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাণের অবলুপ্তি ঘটে। কিন্তু সেই গ্রহাণুটি যদি পৃথিবীকে এড়িয়ে যেত, তাহলে কেমন হতো পৃথিবীর বর্তমান…

দ্য মাঙ্গা গাইড টু মলিকিউলার বায়োলজি, পর্ব-২
(চলবে….) বি. দ্র. ‘দ্য মাঙ্গা গাইড টু মলিকিউলার বায়োলজি’ বইটি অর্ডার করতে পারেন বিজ্ঞান ব্লগ ফেসবুক পেজ থেকে।

মুরগির মাংসে শনাক্ত ইশেরিশিয়া আলবার্টিঃ অজান্তেই বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঝুঁকি
সম্প্রতি জাপানে মুরগির মাংস খেয়ে শতাধিক মানুষ ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া এবং কিডনির জটিলতার মতো গুরুতর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে পরীক্ষাগারে জানা যায়, এসব রোগের মূল কারণ একটি নতুন ব্যাকটেরিয়া ইশেরিশিয়া আলবার্টি (Escherichia albertii)। এটি ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার রূপান্তরিত প্রজাতি, যা মানুষের পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে গুরুতর সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- এই জীবাণুটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, এবং এটি ‘জুনোটিক’, অর্থাৎ অন্যান্য প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়াতে পারে। ইশেরিশিয়া আলবার্টি একটি গ্রাম-নেগেটিভ, আণুবীক্ষণিক জীবাণু, যা Escherichia গণের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত মানুষের ও অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে বসবাসকারী জীবাণুদের মধ্যে একটি। এই জীবাণুটি নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া একটি প্যাথোজেনিক (রোগ…

আরবান হিট আইল্যান্ড
আরবান হিট আইল্যান্ড শব্দটা আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত, আবার অনেকের কাছেই অপরিচিত, কিন্তু নিয়মিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এর কারণে জনজীবনের অস্বস্তির বিষয়টা কারোরই দৃষ্টিগোচর নয়। কিন্তু আমরা ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ পরিভাষাই কেন ব্যবহার করি? কেন ‘রুরাল হিট আইল্যান্ড’ বলি না? কীভাবে আরবান হিট আইল্যান্ড রূপায়িত হয়? কীভাবে আমরা এর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারি? এই সব বিষয় নিয়েই আজ বিস্তৃতভাবে আলোচনা করব। আরবান হিট আইল্যান্ড কী? আরবান হিট আইল্যান্ড বা নগর তাপদ্বীপ হল এমন একটা ধারণা, যেখানে শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে তাপমাত্রা গ্রামের তুলনায় প্রায় ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত…

ডিপফেক: এক অধুনা প্রযুক্তির বীভৎস হাতছানি
সময়টা ডিসেম্বর মাস। চারিদিকে শীতের আমেজ। কনকনে ঠাণ্ডা। অদূরে জানালার ওপাশে বইছে হিমশীতল হাড়কাঁপানো বাতাস। ফুলপুর নামক ছোট্ট এক গ্রামে সাত-সকালে কম্বলের নীচ থেকেই ফেসবুকে ঢুঁ মারেন রূপা। নীল-সাদার স্বপ্নময় জগৎটায় প্রবেশ করতেই গা শিউরে ওঠে তাঁর। যা দেখছে তা কি সত্যি? নাকি বেঘোর ঘুমে দুঃস্বপ্ন দেখছে সে? এক ঝটকায় শোয়া থেকে উঠে বসে রূপা। শরীরে চিমটি কাটে আলতো করে। লক্ষ্য করে, জবুথবু শীতেও কপাল বেয়ে তরতর করে ঝরছে ঘাম! স্বপ্নিল জগৎটা মূহুর্তেই বীভৎস হয়ে ধরা দেয় তাঁর কাছে। ভিডিওটি ফুটেজটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে৷ ভালো কিছু যত দ্রুত ছড়ায়, খারাপ কিছু ছড়ায় তারও বহুগুণ দ্রুততায়৷…

কে২-১৮বি- এলিয়েনের সম্ভাবনাময় বাসস্থান?
রাতের আকাশে অগণিত তারা দেখা যায়। কেবলমাত্র আমাদের সূর্যই একমাত্র তারা নয় যাকে কেন্দ্র করে গ্রহরা ঘুরে বেড়ায়। আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় এমন গ্রহকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট। ১৯৯৫ সালে আমাদের সূর্যের মতোই দেখতে একটি নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করার সময় প্রথম এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পান বিজ্ঞানী মাইকেল মায়োর ও দিদিয়ের কুইলোজ। তাদের এ আবিষ্কারের জন্য ২০১৯ সালে তারা নোবেল পুরষ্কারও লাভ করেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষের কল্যাণে প্রতিনিয়তই এমন নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার হচ্ছে। এই আর্টিকেলটি লেখার সময় অবধি মোট আবিষ্কৃত এক্সোপ্ল্যানেটের সংখ্যা ৫,৮৮৯টি। কিন্তু এসব এক্সোপ্ল্যানেটেও কি মানুষের মতো জীব আছে? এর উত্তর আমরা এখনও জানি…







