• আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর পূর্বে, এক মহাবিপর্যয় নেমে আসে পৃথিবীর বুকে। তৎকালীন পৃথিবীর অধিপতি, প্রায় সাড়ে ষোল কোটি বছর ধরে ভূপৃষ্ঠ দাপিয়ে বেড়ানো জীব ডাইনোসরদের জীবনে ঘটে এক অকস্মাৎ বিপর্যয়। মহাশূন্য থেকে প্রায় ৯ মাইল চওড়া (১৫ কিলোমিটার) এক গ্রহাণু আছড়ে পড়ে মেক্সিকোর উপকূলে। ফলস্বরূপ শুরু হয় বিধ্বংসী সুনামি। দাউদাউ করে জ্বলে উঠে অরণ্য, আকাশ ভরে উঠে অ্যাসিড বৃষ্টিতে। সূর্যের আলো থমকে দাঁড়ায়, গাছপালা বন্ধ করে দেয় সালোকসংশ্লেষণ। এই অন্ধকার ও দুর্যোগময় পরিবেশে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাণের অবলুপ্তি ঘটে।  কিন্তু সেই গ্রহাণুটি যদি পৃথিবীকে এড়িয়ে যেত, তাহলে কেমন হতো পৃথিবীর বর্তমান…

  • (চলবে….) বি. দ্র. ‘দ্য মাঙ্গা গাইড টু মলিকিউলার বায়োলজি’ বইটি অর্ডার করতে পারেন বিজ্ঞান ব্লগ ফেসবুক পেজ থেকে।

  • সম্প্রতি জাপানে মুরগির মাংস খেয়ে শতাধিক মানুষ ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া এবং কিডনির জটিলতার মতো গুরুতর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে পরীক্ষাগারে জানা যায়, এসব রোগের মূল কারণ একটি নতুন ব্যাকটেরিয়া ইশেরিশিয়া আলবার্টি (Escherichia albertii)। এটি ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার রূপান্তরিত প্রজাতি, যা মানুষের পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে গুরুতর সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- এই জীবাণুটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, এবং এটি ‘জুনোটিক’, অর্থাৎ অন্যান্য প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়াতে পারে। ইশেরিশিয়া আলবার্টি একটি গ্রাম-নেগেটিভ, আণুবীক্ষণিক জীবাণু, যা Escherichia গণের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত মানুষের ও অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে বসবাসকারী জীবাণুদের মধ্যে একটি। এই জীবাণুটি নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া একটি প্যাথোজেনিক (রোগ…

  • আরবান হিট আইল্যান্ড শব্দটা আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত, আবার অনেকের কাছেই অপরিচিত, কিন্তু নিয়মিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এর কারণে জনজীবনের অস্বস্তির বিষয়টা কারোরই দৃষ্টিগোচর নয়। কিন্তু আমরা ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ পরিভাষাই কেন ব্যবহার করি? কেন ‘রুরাল হিট আইল্যান্ড’ বলি না? কীভাবে আরবান হিট আইল্যান্ড রূপায়িত হয়? কীভাবে আমরা এর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারি? এই সব বিষয় নিয়েই আজ বিস্তৃতভাবে আলোচনা করব। আরবান হিট আইল্যান্ড কী? আরবান হিট আইল্যান্ড বা নগর তাপদ্বীপ হল এমন একটা ধারণা, যেখানে শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে তাপমাত্রা গ্রামের তুলনায় প্রায় ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত…

  • সময়টা ডিসেম্বর মাস। চারিদিকে শীতের আমেজ। কনকনে ঠাণ্ডা। অদূরে জানালার ওপাশে বইছে হিমশীতল হাড়কাঁপানো বাতাস। ফুলপুর নামক ছোট্ট এক গ্রামে সাত-সকালে কম্বলের নীচ থেকেই ফেসবুকে ঢুঁ মারেন রূপা। নীল-সাদার স্বপ্নময় জগৎটায় প্রবেশ করতেই গা শিউরে ওঠে তাঁর। যা দেখছে তা কি সত্যি? নাকি বেঘোর ঘুমে দুঃস্বপ্ন দেখছে সে? এক ঝটকায় শোয়া থেকে উঠে বসে রূপা। শরীরে চিমটি কাটে আলতো করে। লক্ষ্য করে, জবুথবু শীতেও কপাল বেয়ে তরতর করে ঝরছে ঘাম! স্বপ্নিল জগৎটা মূহুর্তেই বীভৎস হয়ে ধরা দেয় তাঁর কাছে। ভিডিওটি ফুটেজটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে৷ ভালো কিছু যত দ্রুত ছড়ায়, খারাপ কিছু ছড়ায় তারও বহুগুণ দ্রুততায়৷…

  • রাতের আকাশে অগণিত তারা দেখা যায়। কেবলমাত্র আমাদের সূর্যই একমাত্র তারা নয় যাকে কেন্দ্র করে গ্রহরা ঘুরে বেড়ায়। আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় এমন গ্রহকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট। ১৯৯৫ সালে আমাদের সূর্যের মতোই দেখতে একটি নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করার সময় প্রথম এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পান বিজ্ঞানী মাইকেল মায়োর ও দিদিয়ের কুইলোজ। তাদের এ আবিষ্কারের জন্য ২০১৯ সালে তারা নোবেল পুরষ্কারও লাভ করেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষের কল্যাণে প্রতিনিয়তই এমন নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার হচ্ছে। এই আর্টিকেলটি লেখার সময় অবধি মোট আবিষ্কৃত এক্সোপ্ল্যানেটের সংখ্যা ৫,৮৮৯টি।  কিন্তু এসব এক্সোপ্ল্যানেটেও কি মানুষের মতো জীব আছে? এর উত্তর আমরা এখনও জানি…

  • বিজ্ঞানের কাজ হচ্ছে সবকিছুর গভীরে যাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় জন্ম নিয়েছে ‘মলিকিউলার বায়োলজি’ তথা আণবিক জীববিজ্ঞান নামের এই শাখাটি। বিজ্ঞানের এই শাখা জীবনকে ব্যাখ্যা করে একেবারে আণবিক পর্যায়ে। এখানে জীবনকে ভাবা হয় নান রাসায়নিক অণুর মিথস্ক্রিয়ার ফল হিসেবে। শাখাটি এখনও বিকাশমান পর্যায়ে আছে। তার ওপর এর কারবার এমনকিছু নিয়ে যা খালি চোখে দেখা যায় না। তাই সহজ ভাষায় একে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এই কঠিন কাজটাকে সাবলীল করে তোলার জন্যে এই কমিকস বই- “দ্য মাঙ্গা গাইড টু মলিকিউলার বায়োলজি”। বইটির মূল লেখক জাপানিজ গবেষক মাসাহারু তাকেমুরা। এবারের ২০২৫ বইমেলায় বইটির অনুবাদ বেরিয়েছে অন্বেষা প্রকাশন থেকে। (চলবে…) বি. দ্র.…

  • প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছরের ইতিহাস গেঁথে রয়েছে পৃথিবীর বুকে। এই সুদীর্ঘ সময়ে বহু উত্থান পতন হয়েছে পৃথিবীর। সৃষ্টি ও ধ্বংস হয়েছে বহু প্রাণের। বিবর্তিত হয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী। সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে প্রথম জীবের উদ্ভবের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে প্রাণের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এককোষী থেকে বহুকোষী প্রাণীর উদ্ভবের মাধ্যমে এবং প্রজননের বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণীকূলে ব্যাপক বৈচিত্র‍্য সৃষ্টি হয়। একসময় উদ্ভব হয় মাছের। সেই মাছেরা উঠে আসে ডাঙায়। সৃষ্টি করে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ীদের। আর এই স্তন্যপায়ীদের অন্যতম সংস্করণ হলো মানুষ। হ্যাঁ, আমাদের আশেপাশে যে প্রচুর মানুষ দেখতে পাই এরা সবাই স্তন্যপায়ী; পাশাপাশি…

  • প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে উদ্দাম সাগরের বুকে ভেসে আছে ছোট্ট এক দ্বীপ– পাপুয়া নিউগিনি। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, ছোট ছোট পাহাড়, স্নিগ্ধ সবুজ অরণ্য– এ সবকিছুর সংমিশ্রণে যেন এক প্রশান্তিময় জনপদ। ৪,৬২,৮৪০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দেশে অনেকগুলো গোত্রের একত্রে বসবাস। তাদের মধ্যে অন্যতম ফোর জনগোষ্ঠী। দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে ফোররা গড়ে তুলেছিল নিজেদের আবাসস্থল। সেখানকার উর্বর ভূমিতে কালক্রমে তারা জীবনযাপন করে এসেছে। তৈরি করেছে এক আড়ম্বরপূর্ণ সামাজিক বন্ধন ও সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। তবে, প্রাচীনকালের সমাজ কাঠামো আজকের মতো এতটাও সভ্য ছিল না। ছিল না একে অপরের প্রতি মায়া-মমতা, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। আর তাই আচমকা বিভিন্ন গোত্রের…