

সাল ১৯৯০গ্রান ডোলিনা গুহা, স্পেন। গ্রান ডোলিনা গুহার খননকাজ প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় কিছু একটা দেখে আৎকে উঠলেন তৎকালীন নৃতত্ত্ববিদরা। এই কিছুক্ষন আগে ৮ লাখ বছর পুরোনো যেই প্রাগৈতিহাসিক মানব দেহাবশেষটি পাওয়া গেলো, তার হাড়ে উঁকি দিচ্ছে অস্বাভাবিক কাটা কাটা দাগ। কিছু জায়গা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এই দেহের যিনি অধিকারী ছিলেন, তার হাড় থেকে জোর পূর্বক মাংস ছাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি উপলব্ধি করা মাত্র যারপরনাই শিহরন বয়ে যায় উপস্থিত সকলের শরীরে। একজন তো বলেই উঠলেন, “সে কালেও তবে ক্যানিবালিসম ছিল! মানুষ হয়ে ওরা মানুষেরই মাংস খেতো!” প্রিয় পাঠক, বিশ্বাস করুন আর না করুন উপরের ঘটনাটি…

বায়োরেমিডিয়েশনঃ প্রকৃতির ক্ষত সারানোর হাতিয়ার যে প্রযুক্তি
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্য মতে, পরিবেশ দূষণ প্রত্যেক বছর প্রায় ৯০ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী। তার মধ্যে দূষিত বায়ু মৃত্যু ঘটায় ৭০ লাখ লোকের। অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ দিন দিন আরো প্রাণঘাতী হবার দিকে যাচ্ছে। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি নষ্ট করছে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য, বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীকে। এমতাবস্থায় মাঠে নামানো হয়েছে এমন এক ডিকন্ট্যামিনেশন প্রযুক্তিকে, যার মাধ্যমে পরিবেশের দূষক ও বিষাক্ত পদার্থগুলো ধবংস করার জন্য প্রকৃতির নিজস্ব বিয়োজক (যারা বাস্তুতন্ত্রে মৃত জীবদেহ বা বর্জ্য থেকে শক্তি অবমুক্ত করে) এর কার্যকারিতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই প্রযুক্তির নাম বায়োরেমিডিয়েশন। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, যেখানে…

এআই রোবট: মহাকাশ অভিযানে মানুষের বিকল্প?
মানবজাতি এক দুঃসাহসিক প্রাণী। পৃথিবীপৃষ্ঠে নিজেদের সফল আবির্ভাবের শুরু থেকে আজ অবধি অজানাকে জানার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। প্রাগৈতিহাসিক কালে কখনো উদ্দাম সমুদ্র পেরিয়ে, কখনো নির্জন পাহাড় ডিঙিয়ে, কখনো আবার জলের অতলে হিংস্র প্রাণীদের মাঝে ডুব দিয়ে, আর এখন মহাশূন্যের পানে হাত বাড়িয়ে– দুরন্তপনায় কখনোই পিছিয়ে ছিলো না মানুষ। ১৯৬৯ সালে চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের সফল অবতরণের পর এই দুরন্তপনার পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। প্রসারিত হয় আরও দূরে– পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে নিঃসীম অন্ধকার মহাশূন্যের পানে। দূরের লক্ষ্য বলতে— মঙ্গল, শুক্র, বৃহস্পতি, শনির উপগ্রহ, এমনকি একদিন হয়তো অন্যকোনো নক্ষত্রের গ্রহ-উপগ্রহেও মানবজাতির সক্ষমতার দেখা মিলবে। দৃষ্টিগোচর হবে সফল মহাকাশ অভিযাত্রার রোমাঞ্চকর…

অ্যান্ট-ম্যানের ‘মিনিচুরাইজেশন প্রযুক্তি’ কতদূর (পর্ব-২)
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত। এরা আমাদের কাছে পরিচিত ‘পরমাণু’ নামে। মিনিচুরাইজেশন অর্জন করতে এই পরমাণুগুলোকে সম্পূর্ণ বাগে আনা, অর্থাৎ এগুলোতে মৌলিক পরিবর্তন আনা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। ফ্যান্টাসিক ভয়েজ বইয়ে আইজ্যাক আসিমভ বস্তুর আকার সংকোচনের তিনটি সম্ভাব্য কৌশলের কথা তুলে ধরেছিলেন— হাইপোথিসিসগুলো যথেষ্ট যৌক্তিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এদের কোনটাকেই কি বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব? চলুন একে একে বিশ্লেষণ করা যাক…. আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি, পরমাণুরা অতিশয় ক্ষুদ্র। এদের আকার ন্যানোমিটার স্কেলে। এই ক্ষুদ্র পরিসরেই বিচরণ করে ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রনসহ চেনা-অচেনা হরেক রকম অতিপারমাণবিক কণারা। প্রতিটি পরমাণুর কেন্দ্র, নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে…

কৌতূহল- সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়ার রসদ
থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে, কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে দেশ হতে দেশ দেশান্তরে ছুটছে, তারা কেমন করে, কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে, কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণারে -কাজী নজরুল ইসলাম মানুষ প্রাণী হিসেবে অত্যন্ত কৌতূহলী। হাজার হাজার বছর আগে, যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা গুহায় বসবাস করত, তখন কৌতূহলই তাদের আগুন আবিষ্কারের দিকে ধাবিত করেছিল। ঝড়ের রাতে আকাশ থেকে পড়া বিদ্যুৎ আর গাছপালা পোড়ার দৃশ্য দেখে তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল – “এই আগুন কী? আমরা কি একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তারা শিখল কীভাবে…
Lorem ipsum dolor sit amet
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipiscing elit. Quisque faucibus ex sapien vitae pellentesque sem placerat. In id cursus mi pretium tellus duis convallis. Tempus leo eu aenean sed diam urna tempor. Pulvinar vivamus fringilla lacus nec metus bibendum egestas. Iaculis massa nisl malesuada lacinia integer nunc posuere. Ut hendrerit semper vel class aptent taciti sociosqu. Ad litora torquent per conubia nostra inceptos himenaeos. Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipiscing elit. Quisque faucibus ex sapien vitae pellentesque sem placerat. In id cursus mi pretium tellus duis convallis. Tempus leo eu aenean sed diam urna tempor.…

অ্যান্ট-ম্যানের ‘মিনিচুরাইজেশন প্রযুক্তি’ কতদূর?
অ্যান্ট-ম্যান ওরফে পিঁপড়া-মানব হিসেবে অপরাধীদের সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইে নামা কিংবা কমিউনিস্ট গুপ্তচরদের বন্দি করার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগের আগ পর্যন্ত ডক্টর হেনরি পিম ছিলেন নিছকই একজন গতানুগতিক বিজ্ঞানী। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বায়োকেমিস্ট বা প্রাণরসায়নবিদ। মার্ভেল ইউনিভার্সের খানিকটা ব্যতিক্রমী এই সুপারহিরো চরিত্রের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল দ্য ম্যান ইন দ্য অ্যান্ট হিল কমিক বইতে। সেখানে প্রথমেই তাকে সংগ্রাম করতে দেখা যায় যে কোন বিজ্ঞানীর ভয়ংকরতম দুঃস্বপ্ন– নিজের পছন্দসই বিষয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন যোগাড়ের প্রাণান্তকর চেষ্টা– এর বিরুদ্ধে। পিমের স্বপ্নের প্রজেক্ট ছিল মিনিচুরাইজেশন বা ক্ষুদ্রকরণ প্রযুক্তির গুপ্তকৌশল খুঁজে বের করে। অর্থাৎ বিশেষ এক ধরনের পোশন বা সিরাম…

বইমেলা ২০২৫ এ বিজ্ঞানের যত বই
বি.দ্র. বইমেলায় যে বইগুলো ইতোমধ্যে চলে এসেছে সেগুলোই এখানে রাখা হয়েছে।

মানুষের যত পূর্বপুরুষ (পর্ব-১)
১৮৫৬ সাল। জার্মানির ডুসেলডর্ফের অদূরে নিয়ান্ডারথাল নামক স্থানে একদল শ্রমিক চুনাপাথর খননকার্যে ব্যস্ত। প্রচুর পরিশ্রম এই কাজে; তবে পারিশ্রমিকও ভালো। খনন করতে করতে একসময় তারা গুহার গভীরে পৌঁছে যায়। এখানটায় বেশ অন্ধকার। যদিও আলোর ব্যবস্থা রয়েছে; তবে তা অপর্যাপ্ত। হঠাৎ একসময় একজন শ্রমিক চিৎকার দিয়ে উঠে। গুহার ভেতর মাটি খোড়ার সময় হঠাৎই সে কিছু কঙ্কালের দেখা পেয়েছে। অদ্ভুত দেখতে এই কঙ্কালগুলোকে ঠিক মানুষের কঙ্কাল বলা চলে না। যেই লোকের নেতৃত্বে খননকার্য চলছে, তিনি খুবই বুদ্ধিমান লোক। দ্রুতই সেই কঙ্কালগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিলেন গবেষণাগারে। বিভিন্ন শারীরতত্ত্ববিদ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলেন সেই কঙ্কালসদৃশ জীবাশ্মগুলোকে। হ্যাঁ,হাজার বছর ধরে…






