

বিজ্ঞানের কাজ হচ্ছে সবকিছুর গভীরে যাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় জন্ম নিয়েছে ‘মলিকিউলার বায়োলজি’ তথা আণবিক জীববিজ্ঞান নামের এই শাখাটি। বিজ্ঞানের এই শাখা জীবনকে ব্যাখ্যা করে একেবারে আণবিক পর্যায়ে। এখানে জীবনকে ভাবা হয় নান রাসায়নিক অণুর মিথস্ক্রিয়ার ফল হিসেবে। শাখাটি এখনও বিকাশমান পর্যায়ে আছে। তার ওপর এর কারবার এমনকিছু নিয়ে যা খালি চোখে দেখা যায় না। তাই সহজ ভাষায় একে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এই কঠিন কাজটাকে সাবলীল করে তোলার জন্যে এই কমিকস বই- “দ্য মাঙ্গা গাইড টু মলিকিউলার বায়োলজি”। বইটির মূল লেখক জাপানিজ গবেষক মাসাহারু তাকেমুরা। এবারের ২০২৫ বইমেলায় বইটির অনুবাদ বেরিয়েছে অন্বেষা প্রকাশন থেকে। (চলবে…) বি. দ্র.…

মানুষের যত পূর্বপুরুষ (পর্ব-৩)
প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছরের ইতিহাস গেঁথে রয়েছে পৃথিবীর বুকে। এই সুদীর্ঘ সময়ে বহু উত্থান পতন হয়েছে পৃথিবীর। সৃষ্টি ও ধ্বংস হয়েছে বহু প্রাণের। বিবর্তিত হয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী। সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে প্রথম জীবের উদ্ভবের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে প্রাণের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এককোষী থেকে বহুকোষী প্রাণীর উদ্ভবের মাধ্যমে এবং প্রজননের বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণীকূলে ব্যাপক বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। একসময় উদ্ভব হয় মাছের। সেই মাছেরা উঠে আসে ডাঙায়। সৃষ্টি করে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ীদের। আর এই স্তন্যপায়ীদের অন্যতম সংস্করণ হলো মানুষ। হ্যাঁ, আমাদের আশেপাশে যে প্রচুর মানুষ দেখতে পাই এরা সবাই স্তন্যপায়ী; পাশাপাশি…

কুরু রোগ: নরমাংসখেকো ফোর জনগোষ্ঠীর অজানা রোগের বৃত্তান্ত!
প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে উদ্দাম সাগরের বুকে ভেসে আছে ছোট্ট এক দ্বীপ– পাপুয়া নিউগিনি। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, ছোট ছোট পাহাড়, স্নিগ্ধ সবুজ অরণ্য– এ সবকিছুর সংমিশ্রণে যেন এক প্রশান্তিময় জনপদ। ৪,৬২,৮৪০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দেশে অনেকগুলো গোত্রের একত্রে বসবাস। তাদের মধ্যে অন্যতম ফোর জনগোষ্ঠী। দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে ফোররা গড়ে তুলেছিল নিজেদের আবাসস্থল। সেখানকার উর্বর ভূমিতে কালক্রমে তারা জীবনযাপন করে এসেছে। তৈরি করেছে এক আড়ম্বরপূর্ণ সামাজিক বন্ধন ও সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। তবে, প্রাচীনকালের সমাজ কাঠামো আজকের মতো এতটাও সভ্য ছিল না। ছিল না একে অপরের প্রতি মায়া-মমতা, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। আর তাই আচমকা বিভিন্ন গোত্রের…

আদতেই কি ফিরে এসেছে ডায়ার নেকড়ে?
লেখাটি জিন প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, জীবাশ্ম বিজ্ঞান, পরিবেশ ও প্রকৃতি, বায়োটেকনোলজি, সাম্প্রতিক বিভাগে প্রকাশিতশুরুতেই আপনাদের একটা ছোট্ট গল্প বলি। গল্পের সূচনা প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের রোমান পুরাণে। এক সময়ের ছোট্ট শহর আলবা লঙ্গার সিংহাসনে রাজত্ব করতেন নুমিটর। কিন্তু রাজনীতির, সিংহাসনের খেলায় যেমন প্রায়ই দেখা যায়, তেমনই এক চেনা চক্রান্তে তাঁর ছোট ভাই আমুলিয়াস ক্ষমতা দখল করে বসেন। নুমিটরকে হত্যা করে এবং তাঁর কন্যা রিয়া সিলভিয়াকে ‘ভেস্টাল ভার্জিন’ হিসেবে উৎসর্গ করে রাজবংশের উত্তরাধিকারের পথ রুদ্ধ করতে চান তিনি। কিন্তু গল্প মোড় নেয় যুদ্ধের দেবতা মার্সের আবির্ভাবে। রিয়া সিলভিয়া গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং জন্ম দেন যমজ দুই পুত্রের– রমুলাস ও রেমাস। রাজা আমুলিয়াস তাদের হত্যা করতে চাইলেও ভাগ্য বা প্রকৃতির…

মিউটেশনের সহজ পাঠ
আধুনিক বিবর্তন তত্ত্বের অন্যতম এক ভিত্তি হচ্ছে মিউটেশন। একটা প্রজাতির উদ্ভব ন্যাচারাল সিলেকশানেই হোক, জেনেটিক ড্রিফটে হোক কিংবা জিন প্রবাহের মাধ্যমেই হোক—জেনেটিক ভ্যারিয়েশন ঘটার একমাত্র রাস্তা হচ্ছে মিউটেশন। অর্থাৎ, বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তিই হচ্ছে মিউটেশন। চার্লস ডারউইন যখন বিবর্তন তত্ত্ব প্রস্তাব করেন, তখন পৃথিবীবাসীর এমনকী, তাঁর নিজেরও ক্রোমোজোম, ডিএনএ, জিন ইত্যাদি নিয়ে কোনো ধারণা ছিলো না। ডারউইন বিবর্তনকে দেখেছিলেন ব্যক্তিগত প্রাণী বা উদ্ভিদ এবং প্রজাতি লেভেলে। কিন্তু, আধুনিক জিনতত্ত্বের উন্নতির সাথে সাথে আমরা বুঝতে পেরেছি যে বিবর্তন ঘটছে জিন, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য এবং পপুলেশনে। মিউটেশনের পরিচয়, প্রকারভেদ ও আদ্যোপান্ত একজন ছাপোষা লেখক হিসেবে আমি মোটেও আপনাদের ছোট করে…

ভুল নিদানে সন্তান হত্যার দায়ঃ একটি করুণ কেস স্টাডি
গত শতাব্দীর আশির দশকের ঘটনা। ঘটনার প্রধান চরিত্র প্যাট্রিশিয়া স্টলিং নামের একজন নারী। আমেরিকার মিজৌরিতে বাস করতেন তিনি, কাজ করতেন একটা দোকানে। আর দশজনের মতোই একসময় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডেভিড বলে একজনের সাথে। বিয়ের পরের বছরই প্যাট্রিশিয়ার কোল আলো করে জন্ম নেয় রায়ান। সবকিছুই ভালো চলছিলো, কিন্তু একদিন তিন মাস-বয়সী রায়ান হঠাৎ অস্বাভাবিক বমি করতে শুরু করে। কোনোভাবেই তাকে খাওয়ানো যায় না। শ্বাস নিতে সমস্যা হতে লাগলো। আকস্মিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়া শিশুকে নিয়ে ভীত মা হাসপাতালে গেলেন। হাসপাতাল জানালো রায়ানের দেহে বিষাক্ত ইথিলিন গ্লাইকল পাওয়া গেছে। ইথিলিন গ্লাইকল মোটর ইঞ্জিনে ব্যবহৃত এন্টিফ্রিজের প্রধান উপাদান। তার চেয়েও…

মানুষের যত পূর্বপুরুষ (পর্ব-২)
সূর্য তখনও পুরোপুরি ওঠেনি। দূর দিগন্তে কমলা আভা ছড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গলের ঘন পাতার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণীটি। তার চোখে সতর্ক দৃষ্টি, হাতের পাথরের হাতিয়ারের অগ্রভাগ ধারালো – যা সে নিজেই তৈরি করেছে আগের রাতে। আজ তাদের দল শিকারে নেমেছে বড় কিছু ধরার আশায়। দলের সবাই জানে, সফল শিকার মানে কেবল পেট ভরা নয়, বরং তা মানে শক্তি, ক্ষমতা আর টিকে থাকার নিশ্চয়তা। শীতের হাওয়া ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে, খাবার মজুত করা দরকার। প্রাণীটির পাশে আছে তার আরও দুই-তিনজন সঙ্গী – সবার হাতেই বর্শার মতো দেখতে এক ধরণের পাথরের অস্ত্র। তাদের লক্ষ্য বিশাল এক বন মহিষ, যাকে…

শনির নতুন ১২৮টি উপগ্রহের সন্ধানঃ কোন বৈশিষ্ট্যে মেলে উপগ্রহের স্বীকৃতি ?
গত সপ্তাহে, আনুষ্ঠানিক ভাবে শনির ১২৮টি নতুন প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ (IAU) নতুন এই ১২৮টি চাঁদকে স্বীকৃতি দিয়েছে তাইওয়ানের একাডেমিয়া সিনিকা-তে এডওয়ার্ড অ্যাশটনের নেতৃত্বে একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে। সূর্যের এই ষষ্ঠ গ্রহটি এখন মোট ২৭৪টি উপগ্রহের গর্বিত মালিক, যা সৌরজগতের অন্য যে কোনো গ্রহের তুলনায় বেশি। কিন্তু এই আবিষ্কার অনেকগুলো প্রশ্ন তুলেছে। যেমন: উপগ্রহ চিহ্নিত করা হয় কীভাবে, এতদিন কেউ এগুলো দেখতে পেল না কেন? বৃহস্পতি না সবচেয়ে বেশি উপগ্রহের অধিকারী ছিলো? এই নতুন উপগ্রহগুলোর নাম কী রাখা হবে? আরও উপগ্রহ কি থাকতে পারে? এবং প্রকৃতপক্ষে, কোনো কিছুকে…

সৌরজগতে সমুদ্র
এক সুখময় মেলবন্ধন সমুদ্রবিদ্যাকে চিন্তা করা যায় সমুদ্রের গল্পের মতো। এই গল্প পৃথিবীর একান্ত নিজস্ব। ঈশপের উপদেশ, গ্রিক দেবতাদের উপাখ্যান, হোমারের মহাকাব্য, ইউক্রেনের রূপকথা, আরব্য রজনীর লোককাহিনী, কিংবা ফ্রাঞ্জ কাফকার “দ্য মেটামরফোসিস” থেকে তা সম্পূর্ণ আলাদা। আধুনিক গবেষণা আমাদের প্রতিদিন জানান দেয় এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর ঘটনাপ্রবাহে মেশানো সমুদ্রবিদ্যার ইতিহাস। প্রতিটি ছোট ঘটনা, আপাত দৃষ্টিতে খুবই স্বাভাবিক, তবে চিন্তার একটু গভীরতায় গেলে বোঝা যায় এই ঘটনাদের একসাথে থাকা কতটা আশ্চর্যজনক, কাকতালীয়, এবং দুর্লভ। সকালের কোমল রোদ। বেলা যত বাড়ে সূর্যের প্রখরতা তীব্র হয়। সন্ধ্যায় তার কোমলতা আবারো বুঝিয়ে দিয়ে এক রাত্রির বিদায়। পরের ভোরে আবারো দেখা।…







