• অ্যান্ট-ম্যান ওরফে পিঁপড়া-মানব হিসেবে অপরাধীদের সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইে নামা কিংবা কমিউনিস্ট গুপ্তচরদের বন্দি করার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগের আগ পর্যন্ত ডক্টর হেনরি পিম ছিলেন নিছকই একজন গতানুগতিক বিজ্ঞানী। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বায়োকেমিস্ট বা প্রাণরসায়নবিদ। মার্ভেল ইউনিভার্সের খানিকটা ব্যতিক্রমী এই সুপারহিরো চরিত্রের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল দ্য ম্যান ইন দ্য অ্যান্ট হিল কমিক বইতে। সেখানে প্রথমেই তাকে সংগ্রাম করতে দেখা যায় যে কোন বিজ্ঞানীর ভয়ংকরতম দুঃস্বপ্ন– নিজের পছন্দসই বিষয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন যোগাড়ের প্রাণান্তকর চেষ্টা– এর বিরুদ্ধে। পিমের স্বপ্নের প্রজেক্ট ছিল মিনিচুরাইজেশন বা ক্ষুদ্রকরণ প্রযুক্তির গুপ্তকৌশল খুঁজে বের করে। অর্থাৎ বিশেষ এক ধরনের পোশন বা সিরাম…

  • বি.দ্র. বইমেলায় যে বইগুলো ইতোমধ্যে চলে এসেছে সেগুলোই এখানে রাখা হয়েছে।

  • ১৮৫৬ সাল। জার্মানির ডুসেলডর্ফের অদূরে নিয়ান্ডারথাল নামক স্থানে একদল শ্রমিক চুনাপাথর খননকার্যে ব্যস্ত। প্রচুর পরিশ্রম এই কাজে; তবে পারিশ্রমিকও ভালো। খনন করতে করতে একসময় তারা গুহার গভীরে পৌঁছে যায়। এখানটায় বেশ অন্ধকার। যদিও আলোর ব্যবস্থা রয়েছে; তবে তা অপর্যাপ্ত। হঠাৎ একসময় একজন শ্রমিক চিৎকার দিয়ে উঠে। গুহার ভেতর মাটি খোড়ার সময় হঠাৎই সে কিছু কঙ্কালের দেখা পেয়েছে। অদ্ভুত দেখতে এই কঙ্কালগুলোকে ঠিক মানুষের কঙ্কাল বলা চলে না। যেই লোকের নেতৃত্বে খননকার্য চলছে, তিনি খুবই বুদ্ধিমান লোক। দ্রুতই সেই কঙ্কালগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিলেন গবেষণাগারে। বিভিন্ন শারীরতত্ত্ববিদ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলেন সেই কঙ্কালসদৃশ জীবাশ্মগুলোকে। হ্যাঁ,হাজার বছর ধরে…

  • চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বেশ বড়ো একটা জায়গা দখল করে রয়েছে সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা। সুপ্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে নিজের স্থান ধরে রেখেছে এই পদ্ধতি। সবচেয়ে পুরাতন সার্জারির প্রমাণ পাওয়া গেছে পাথর যুগে, একটি শিশুর পা-ব্যবচ্ছেদ। প্রাচীন মিশরীয়রা আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার শুরু করে। এ সময়ে তাঁরা জখমের সেলাই ও হাড় ভাঙার চিকিৎসা করত। খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালে ‘দ্য কোড অব হাম্মুরাবি’ তে সার্জনদের অনুসৃত নীতিমালা পাওয়া যায়। খ্রিস্টাব্দ ৯৫০ সালের দিকে আরবরাও এক্ষেত্রে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। কাল পরিক্রমায় উনবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক সার্জারি বিকাশ লাভ করে। সার্জারির ক্ষেত্রে অপারেটিভ মটার্লিটি বলে একটা কথা আছে। কোনো এক ধরনের…

  • মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হিমবাহ, মোহনা, বদ্বীপ, নদী, প্রণালি, ভূ-গর্ভস্থ পানি, হ্রদ, উপহ্রদ, খাল, বিল, পুকুর – শব্দগুলো ঘুরে ফিরে আমরা সবাই শুনি। এই ব্লগটি লেখার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই সংজ্ঞাগুলো সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়া। খুব সম্ভবত প্রায় সবগুলো সংজ্ঞাই আমাদের জানা, তবে নতুন করে জানতে দোষের কিছু নেই। আমরা আলোচনার সুবিধার্থে ছোট জলাধার থেকে ক্রমান্বয়ে বড় জলাধারের দিকে আগাবো। এবং আলোচনা প্রাসঙ্গিক রাখব বাংলাদেশের দিকে।  পুকুর, বিল, খাল  ছোট সাইজের জলাভূমির কথা চিন্তা করলে এদেরকে এক শ্রেণীতে রাখা যায়। আমরা সবাই পুকুরের সাথে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িগুলোর পিছনের দিকে এখনো এই স্থির পানির…

  • পৃথিবীতে প্রথম সমুদ্র বা মহাসাগরের উৎপত্তির ধারণা পেতে আমাদের আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে চলে যেতে হবে। এই লেখায় মিলিয়ন এবং বিলিয়ন শব্দগুলো প্রায়শই আসবে। তাই সামনে আগানোর আগে তাদের ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।  এক হাজারটি এক হাজার এ হয় এক মিলিয়ন, বা সহজ ভাষায় ১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ। একইভাবে এক হাজারটি এক মিলিয়ন এ হয় এক বিলিয়ন, বা অন্যভাবে ১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি। আমাদের মস্তিষ্ক সাধারণত এতো বড় মান নিয়ে সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারেনা। আমরা ১০ থেকে ১০০ মিটার, ১ থেকে ১০ কিলোমিটার, ৫ থেকে ৩০ মিনিট, ৩০…

  • ১৯৫২ সাল। শান্ত-স্নিগ্ধ শহর কোপেনহেগেন। ডেনমার্ক। মাত্র বছর সাতেক পূর্বেই জার্মান সৈন্যবাহিনীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলেছিল শহরটার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীভৎস থাবার ক্ষত থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছিল সবকিছু। বেরিয়ে আসছিল ভয়ংকর সব তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিতে তাই আপন মনে ব্যতিব্যস্ত সবাই। এরইমাঝেই একদিন, শহরটিতে হুড়মুড়িয়ে হামলে পড়লো এক ভয়ংকর ছোঁয়াচে রোগ- বালবার পোলিও ভাইরাস। বিশ্বযুদ্ধের বিবর্ণ সময়টায় নগরীর যেসব স্থানে বোমার আঘাতও হানা যায়নি, সেসব স্থানেও হানা দিয়েছে এই পোলিও। অকেজো করে দিচ্ছে শান্তিপ্রিয় মানুষদের মস্তিষ্কের মোটর নিউরন। ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে পড়ছে রোগীর শরীর। সেই সঙ্গে নড়ছে না মুখমণ্ডলও। কথা বলা বা ওষুধ-খাবার সেবনেও…

  • ভিটামিন- আমাদের খাদ্যতালিকার অন্যতম অত্যাবশকীয় বা “এসেনশিয়াল” উপাদান। অত্যাবশকীয়, কারণ দুয়েকটা ছাড়া বেশিরভাগ ভিটামিন আমাদের দেহে তৈরি হয়না, খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি – এই তিনটি খাদ্য উপাদানকে “প্রোটেক্টিভ ফুড” বলা হয়। অর্থাৎ এই তিনধরনের খাদ্য উপাদান শরীরের নানারকম রোগ প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন দুইভাবে গ্রহণ করা যায়: খাদ্যের মাধ্যমে (প্রাকৃতিক ভাবে) এবং সাপ্লিমেন্ট হিসেবে (ট্যাবলেট বা সিরাপ হিসেবে)। যেভাবেই গ্রহণ করা হোক, দেহে ভিটামিনের গ্রহণযোগ্য পরিমাণ এবং কার্যক্ষমতা নির্দিষ্ট। অর্থাৎ ভিটামিন আমাদের দেহে খুবই অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় এবং বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়ায় কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে…

  • এত বড় পৃথিবীর প্রায় পুরোটাই তো সমুদ্র। তাই যৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া যায় যে, সমুদ্র সৃষ্টির রহস্যের সাথে পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যের ওতোপ্রোত বন্ধন জড়ানো। সত্যি বলতে, পৃথিবী এবং সমুদ্রের সৃষ্টির একটি অসাধারণ সুন্দর গল্প আছে। এই গল্পটি বলার আগে ছোট পাদটীকা- তত্ত্ব এবং প্রস্তাবনা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। আজ আমরা পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে যা জানি তা দেড় শ বছর আগের কোনো জ্ঞানী মানুষকে বললে সে হয়ত ভ্রূ কুঁচকে তাকাতো। একইভাবে, এখন থেকে পঞ্চাশ বা একশ বছর পর হয়ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির মৌলিক গল্পটা সম্পূর্ণ নতুনভাবে আলোচিত হবে।  প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে!…