

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বেশ বড়ো একটা জায়গা দখল করে রয়েছে সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা। সুপ্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে নিজের স্থান ধরে রেখেছে এই পদ্ধতি। সবচেয়ে পুরাতন সার্জারির প্রমাণ পাওয়া গেছে পাথর যুগে, একটি শিশুর পা-ব্যবচ্ছেদ। প্রাচীন মিশরীয়রা আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার শুরু করে। এ সময়ে তাঁরা জখমের সেলাই ও হাড় ভাঙার চিকিৎসা করত। খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালে ‘দ্য কোড অব হাম্মুরাবি’ তে সার্জনদের অনুসৃত নীতিমালা পাওয়া যায়। খ্রিস্টাব্দ ৯৫০ সালের দিকে আরবরাও এক্ষেত্রে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। কাল পরিক্রমায় উনবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক সার্জারি বিকাশ লাভ করে। সার্জারির ক্ষেত্রে অপারেটিভ মটার্লিটি বলে একটা কথা আছে। কোনো এক ধরনের…

কারা ধরে রাখে এতো জল?
মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হিমবাহ, মোহনা, বদ্বীপ, নদী, প্রণালি, ভূ-গর্ভস্থ পানি, হ্রদ, উপহ্রদ, খাল, বিল, পুকুর – শব্দগুলো ঘুরে ফিরে আমরা সবাই শুনি। এই ব্লগটি লেখার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই সংজ্ঞাগুলো সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়া। খুব সম্ভবত প্রায় সবগুলো সংজ্ঞাই আমাদের জানা, তবে নতুন করে জানতে দোষের কিছু নেই। আমরা আলোচনার সুবিধার্থে ছোট জলাধার থেকে ক্রমান্বয়ে বড় জলাধারের দিকে আগাবো। এবং আলোচনা প্রাসঙ্গিক রাখব বাংলাদেশের দিকে। পুকুর, বিল, খাল ছোট সাইজের জলাভূমির কথা চিন্তা করলে এদেরকে এক শ্রেণীতে রাখা যায়। আমরা সবাই পুকুরের সাথে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িগুলোর পিছনের দিকে এখনো এই স্থির পানির…

সমুদ্রের কোলে প্রথম প্রাণের স্পন্দন
পৃথিবীতে প্রথম সমুদ্র বা মহাসাগরের উৎপত্তির ধারণা পেতে আমাদের আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে চলে যেতে হবে। এই লেখায় মিলিয়ন এবং বিলিয়ন শব্দগুলো প্রায়শই আসবে। তাই সামনে আগানোর আগে তাদের ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা প্রয়োজন। এক হাজারটি এক হাজার এ হয় এক মিলিয়ন, বা সহজ ভাষায় ১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ। একইভাবে এক হাজারটি এক মিলিয়ন এ হয় এক বিলিয়ন, বা অন্যভাবে ১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি। আমাদের মস্তিষ্ক সাধারণত এতো বড় মান নিয়ে সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারেনা। আমরা ১০ থেকে ১০০ মিটার, ১ থেকে ১০ কিলোমিটার, ৫ থেকে ৩০ মিনিট, ৩০…

ভেন্টিলেটর: কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের উদ্ভাবনের গপ্পো!
১৯৫২ সাল। শান্ত-স্নিগ্ধ শহর কোপেনহেগেন। ডেনমার্ক। মাত্র বছর সাতেক পূর্বেই জার্মান সৈন্যবাহিনীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলেছিল শহরটার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীভৎস থাবার ক্ষত থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছিল সবকিছু। বেরিয়ে আসছিল ভয়ংকর সব তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিতে তাই আপন মনে ব্যতিব্যস্ত সবাই। এরইমাঝেই একদিন, শহরটিতে হুড়মুড়িয়ে হামলে পড়লো এক ভয়ংকর ছোঁয়াচে রোগ- বালবার পোলিও ভাইরাস। বিশ্বযুদ্ধের বিবর্ণ সময়টায় নগরীর যেসব স্থানে বোমার আঘাতও হানা যায়নি, সেসব স্থানেও হানা দিয়েছে এই পোলিও। অকেজো করে দিচ্ছে শান্তিপ্রিয় মানুষদের মস্তিষ্কের মোটর নিউরন। ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে পড়ছে রোগীর শরীর। সেই সঙ্গে নড়ছে না মুখমণ্ডলও। কথা বলা বা ওষুধ-খাবার সেবনেও…
%22%20transform%3D%22translate(4%204)%20scale(7.8125)%22%20fill-opacity%3D%22.5%22%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23514c0c%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22rotate(-136.5%2098.6%2026.5)%20scale(39.84883%2053.38955)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23d3ab7c%22%20cx%3D%2281%22%20cy%3D%2228%22%20rx%3D%22149%22%20ry%3D%2235%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%236fa14e%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22rotate(67.6%2026%20120.6)%20scale(54.70777%2025.00071)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23e69f75%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(28.06177%20-11.91151%2038.02156%2089.57319%20255.5%20124.4)%22%2F%3E%3C%2Fg%3E%3C%2Fsvg%3E)
ভিটামিন নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ধারণার অ্যানাটমি
ভিটামিন- আমাদের খাদ্যতালিকার অন্যতম অত্যাবশকীয় বা “এসেনশিয়াল” উপাদান। অত্যাবশকীয়, কারণ দুয়েকটা ছাড়া বেশিরভাগ ভিটামিন আমাদের দেহে তৈরি হয়না, খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি – এই তিনটি খাদ্য উপাদানকে “প্রোটেক্টিভ ফুড” বলা হয়। অর্থাৎ এই তিনধরনের খাদ্য উপাদান শরীরের নানারকম রোগ প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন দুইভাবে গ্রহণ করা যায়: খাদ্যের মাধ্যমে (প্রাকৃতিক ভাবে) এবং সাপ্লিমেন্ট হিসেবে (ট্যাবলেট বা সিরাপ হিসেবে)। যেভাবেই গ্রহণ করা হোক, দেহে ভিটামিনের গ্রহণযোগ্য পরিমাণ এবং কার্যক্ষমতা নির্দিষ্ট। অর্থাৎ ভিটামিন আমাদের দেহে খুবই অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় এবং বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়ায় কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে…
%22%20transform%3D%22translate(4%204)%20scale(7.8125)%22%20fill-opacity%3D%22.5%22%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23ffcb96%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22rotate(82.4%2041.1%2065.2)%20scale(54.93404%2041.84334)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%231a1c22%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(2.08279%20153.53847%20-31.16916%20.42282%20233.7%2095.4)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%232c94bc%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(-10.21834%2066.94739%20-75.83318%20-11.5746%20119.3%20143)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%2320222f%22%20cy%3D%2276%22%20rx%3D%2225%22%20ry%3D%2277%22%2F%3E%3C%2Fg%3E%3C%2Fsvg%3E)
সমুদ্র সৃষ্টির আদ্যোপান্ত
এত বড় পৃথিবীর প্রায় পুরোটাই তো সমুদ্র। তাই যৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া যায় যে, সমুদ্র সৃষ্টির রহস্যের সাথে পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যের ওতোপ্রোত বন্ধন জড়ানো। সত্যি বলতে, পৃথিবী এবং সমুদ্রের সৃষ্টির একটি অসাধারণ সুন্দর গল্প আছে। এই গল্পটি বলার আগে ছোট পাদটীকা- তত্ত্ব এবং প্রস্তাবনা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। আজ আমরা পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে যা জানি তা দেড় শ বছর আগের কোনো জ্ঞানী মানুষকে বললে সে হয়ত ভ্রূ কুঁচকে তাকাতো। একইভাবে, এখন থেকে পঞ্চাশ বা একশ বছর পর হয়ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির মৌলিক গল্পটা সম্পূর্ণ নতুনভাবে আলোচিত হবে। প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে!…
%22%20transform%3D%22translate(4%204)%20scale(7.8125)%22%20fill-opacity%3D%22.5%22%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23f8aa64%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(6.94486%2036.52212%20-51.40125%209.7742%2052.7%20133)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23598938%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(-3.41078%20122.10772%20-30.99032%20-.86564%20143.6%20112.7)%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%23802b2c%22%20cy%3D%2251%22%20rx%3D%2235%22%20ry%3D%2251%22%2F%3E%3Cellipse%20fill%3D%22%234d5815%22%20rx%3D%221%22%20ry%3D%221%22%20transform%3D%22matrix(-15.68774%20-35.2981%2014.32976%20-6.36866%20149.3%20105.4)%22%2F%3E%3C%2Fg%3E%3C%2Fsvg%3E)
ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিউট্রাসিউটিক্যালসের ভূমিকা
নিউট্রাসিউটিক্যালস এমন খাবার বা খাবারের উপাদান, যা আমাদের শরীরকে শুধু পুষ্টি জোগায় না, বরং রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। সহজ কথায়, এগুলো এমন বিশেষ ধরনের খাবার যা ওষুধের মতো কাজ করে। নিউট্রাসিউটিক্যালস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—”নিউট্রিশন” বা পুষ্টি এবং “ফার্মাসিউটিক্যাল” বা ঔষধ। সাধারণত এগুলো প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমাদের শরীরে অনেক সময় ক্ষতিকর পদার্থ যেমন ফ্রি র্যাডিক্যালস বা মুক্ত মূলক তৈরি হয়। শরীরে মুক্ত মূলকের পরিমাণ বেড়ে গেলে নানারকম ক্ষতি হয় যেমন ডিএনএ ভেঙে যাওয়া, কোষপর্দার ক্ষয় ইত্যাদি। ফলে দেখা দিতে পারে ক্যান্সারসহ…

নীল তিমি: অতিকায় স্থলজ প্রাণীটির জলজ অভিযাত্রা!
১৯৭৮ সাল। পাকিস্তানের সুলেমান মাউন্টেন। শুভ্র শীতের স্নিগ্ধ এক সকালে একদল তরুণ জীবাশ্ম বিজ্ঞানী এগিয়ে চলেছেন পর্বতটির পানে। হৃদয়ে অদম্য বিশ্বাস ও অজানাকে জানার সীমাহীন আগ্রহ নিয়ে তাদের এই দলবদ্ধ পদযাত্রা। জানা যায়, প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীতে সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত ছিল পাকিস্তানের এই আদিম পর্বতটি। আর তাই অতীতের নানান ফসিলের জরাজীর্ণ চিহ্ন ও দুর্লভ নিদর্শন থাকার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এর পরতে পরতে। মাটির প্রতিটি খাঁজাঙ্কিত স্তর যেন একেকটি কালের রোমাঞ্চকর প্রতিচ্ছবির কথা বলছে। হাজার হাজার ফসিলের দরুন বিজ্ঞানীদের কাছেও তাই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থান। আর তাই প্রতিবছরই নিয়ম করে জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের আগমন ঘটে এখানে। এখানে এসে তারা খুঁজে ফিরেন অজানা…

চোখের সামনে কি ঘটে না বিবর্তন? (পর্ব-২)
লেখাটি উদ্ভিদবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পতঙ্গ, পরিবেশ ও প্রকৃতি, প্রাণের বিজ্ঞান, বিবর্তন, বিবিধ বিভাগে প্রকাশিতবিবর্তনের ব্যাপারে খুব প্রচলিত একটা দাবি হচ্ছে, বিবর্তনকে দেখানো যায় না। প্রজাতির বিবর্তন মূলত জানতে হয় পরোক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে। এ নিয়ে প্রথম পর্বে বিস্তারিত বলেছি। প্রজাতির বিবর্তন ঘটে খুব দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে। তবুও, আমাদের নাকের ডগায়-ই এমন সব বিবর্তন ঘটে গেছে বা যাচ্ছে, যেগুলি প্রকৃতির এই অনিবার্য বাস্তবতাকে আমাদের সামনে আরও পরিস্কার করে দেয়। যেমন আছে মাইক্রো বিবর্তনের নজির, তেমনি আছে ম্যাক্রো বিবর্তনের নজির। ম্যাক্রো বিবর্তন সাধারণত দীর্ঘ সময় ব্যবধানে হয়ে থাকে। সেটা কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ, এমনকী কয়েক কোটি বছর ধরে ঘটতে পারে। তাই মাইক্রো বিবর্তনকে জানতে, চিনতে এবং প্রমাণ জন্যে আমরা…







