• “হাত দিয়ে কেন কাজ করবো যদি মেশিন সেটা করে দিতে পারে?” – এই ধারণাই সূত্রপাত করে শিল্পবিপ্লবের। বিজ্ঞানীরা আজও নিশ্চিত নন যে ঠিক কবে এই বিপ্লবের শুরু এবং কবে এর শেষ। তবে ধারণা করা হয় যে ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত প্রায় সমগ্র পৃথিবীতে এই গণজোয়ার শুরু হয়েছিলো। দুর্ভাগ্যক্রমে, এই বিপ্লবের রেশ শুরু হওয়ার পর থেকেই পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়ে যায় যা পৃথিবী তার গত কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে কখনো দেখেনি।  কলকারখানা নির্গত প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া, নিয়ন্ত্রণহীন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন, বিপুল পরিমাণ ফ্রিয়ন গ্যাসের উপস্থিতি ইত্যাদি গ্রিন হাউজ ইফেক্টের সূত্র ধরে বিগত একশ বছরে…

  • শরীরে কোথাও ধারালো কিছুর আক্রমণে কেটে গেলে কতক্ষণ রক্ত পড়ে? দুই মিনিট? চার মিনিট? কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় যে রক্ত পড়া বন্ধই হচ্ছে না। কেন? আমাদের শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেখানে অণুচক্রিকা সক্রিয় হয়ে প্লাগ তৈরি করে। ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি ছোটোখাটো কাটা হয় তাহলে এভাবেই রক্তপড়া বন্ধ হয়। রক্তবাহিকা বেশি কেটে গেলে তখন রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। সুস্থ মানুষের রক্তক্ষরণ কাল (ব্লিডিং টাইম) ১-৬ মিনিট এবং রক্ত জমাট বাঁধার সময় (ক্লটিং টাইম) ৬-১০ মিনিট। এই সময়সীমা বিলম্বিত হলে বুঝতে হবে যে, কোনো না কোনো কারণে রক্ত ঠিকমতো জমাট বাঁধছে না ফলে অস্বাভাবিক…

  • বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের এক কোণায় থাকা একজন মানুষ কিংবা আমেরিকার একজন বিলিয়নিয়ার, দুজনেই একই প্রজাতি তথা হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। আর গত প্রায় তিন লক্ষ বছর ধরে পৃথিবী নামক গ্রহটিকে শাসন করছে মানুষের এই প্রজাতি। তবে কয়েক লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে শুধু হোমো সেপিয়েন্সই ছিলো না। বরং মানুষের অনেকগুলো প্রজাতি পৃথিবী চষে বেড়াতো। এখন থেকে মাত্র ১ লক্ষ বছর পেছনে গেলেই আমরা মানুষের অন্তত পাঁচটি প্রজাতিকে পেয়ে যেতাম। এদের কারও আকার মানুষের চেয়ে বড়, কেউ বা আবার আকারে ছোট, কারো মাথার খুলির আকার বড়, কেউ বা একটা ছোট দ্বীপে আটকে রয়েছে।…

  • এক্সোপ্ল্যানেট বা বাহ্যগ্রহ বলতে বোঝায় আমাদের সৌরজগতে আমরা যেসকল গ্রহদের চিনি তাদের বাইরের গ্রহ। অর্থাৎ সৌরজগতের বাইরের গ্রহ গুলোকেই বলা হয় এই এক্সোপ্ল্যানেট। লেখক ইশতিয়াক হোসেন চৌধুরী তার অসাধারণ লেখনীর সাহায্যে এক্সোপ্ল্যানেট: বহিঃসৌরগ্রহের খোঁজে বইটি লিখেছেন। বইটি লিখতে তিনি সাহায্য নিয়েছেন এলিজাবেথ টাস্কারের লেখা দ্য প্ল্যানেট ফ্যাক্টরি বই থেকে। তবে এটা একদম লাইন ধরে ধরে অনুবাদ নয়। এতে রয়েছে একটা গ্রহের জন্ম থেকে শুরু করে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত চলার কাহিনি। বইটি মূলত তিন ভাগে বিভক্ত। মানে এতে রয়েছে তিনটি মূল অধ্যায়। যথাক্রমে এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজে, মহাশূন্যে গ্রহদের জন্মরহস্য ও বিপজ্জনক গ্রহদের রাজ্যে। বর্তমান বিশ্বে মহাকাশ গবেষণার…

  • আমাদের চোখের সামনেই ঘটে চলা নানান বিবর্তনীয় ঘটনা নিয়ে আজকের আসরে বসার পূর্বে কিছু ব্যাপার পরিষ্কার করে রাখা উচিত বলে মনে করি। আমাদের এই প্রকৃতির কিছু বস্তুতা আছে, যা আমরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে চাক্ষুষ অবলোকন করতে পারি না বা সম্ভবও না। যেমন পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলির যেমন সূর্যেকে কেন্দ্র করে সৌরজগতে ঘূর্ণায়মান রয়েছে; যা সরাসরি উপস্থিতি থেকে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর পক্ষে সম্ভব নয় একটি নক্ষত্র ব্ল্যাকহোলে পরিণত হচ্ছে, আর সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা হাতে নিয়ে দেখা। কিংবা একজন ভূতত্ত্ববিদের পক্ষে সম্ভব না পৃথিবীর কেন্দ্রের গঠন দেখা আসা। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হওয়া সিসমিক ওয়েভ…

  • ১৯৫৩ সালে ডিএনএর দ্বিসূত্রক গঠন আবিষ্কারের পঞ্চাশ বছর পর জীবনবিজ্ঞানে আলোড়ন তোলে এক বিশিষ্ট ঘটনা। সেসময় সমাপ্ত হয় মানব জিনোম প্রকল্প (Human Genome Project)। এর লক্ষ্য ছিলো, যে তিন বিলিয়ন বেস পেয়ার দিয়ে মানুষের জিনোম গঠিত, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, তাকে আগামাথা ‘পড়ে’ ফেলা। আমরা জানি A,T,C,G এই চারটি ‘অক্ষর’ দিয়ে জীবনের তথ্য ডিএনএ’তে তথা জিনোমে ‘লেখা’ থাকে। এই পুরো তথ্যকে যান্ত্রিক উপায়ে পড়ে ফেলা’কে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। সেসময় বহু বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ পর্যন্ত এই প্রকল্পকে ঘিরে বেশ বড় বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। যেমন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আশা…

  • ইউটিউবে “মর্নিং রুটিন” ঘরানার ভিডিওগুলো অনেক জনপ্রিয় যেখানে ক্রিয়েটররা দেখান যে সকালে উঠে তারা ব্যায়াম করেন, ধ্যান করেন, নাস্তা করে পড়তে বসেন, কাজে যান – অর্থাৎ তারা সকালটা কতো প্রোডাক্টিভভাবে কাটান – এ কারণেই তারা জীবনে (ইউটিউবে) এতো সফল। আমাদের সমাজে কম ঘুমিয়ে বেশি পরিশ্রম করাকে প্রশংসা করা হয়, হাসল কালচার (hussle culture) এর অংশ হিসেবে দেখা হয়। অন্য দিকে যারা প্রাকৃতিকভাবে দেরি করে ঘুমায়, দেরি করে ঘুম থেকে উঠে, তাদেরকে তীর্যক দৃষ্টিতে দেখা হয়। আমারা তো এই প্রবাদ জানিই, “Early to bed and early to rise/ Make a man happy, wealthy and wise”। তার মানে…

  • এইতো, দুই বছর আগে ২০২২ এর ১১ জুলাই পুরো পৃথিবীবাসীকে তাক লাগিয়ে দেয় নাসা, ১৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষ দূরের অসংখ্য গ্যালাক্সির এক অদেখা মহাবিশ্বের ছবি প্রকাশ করে। মানবজাতি এর আগে কখনও এই কল্পনাতীত দূরের মহাবিশ্বকে এতো স্পষ্ট করে দেখতে পায়নি। এটাকে তারা নামকরণ করেন “Webb’s First Deep Field” নামে। মহাবিশ্বের বিশালতা নিয়ে এ ছবিটি মানবজাতিকে নতুন করে জানান দেয়। নাসার এডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলসনের ভাষ্যে, “আপনি আঙ্গুলের ডগায় একটি ছোট্ট বালিকণা নিয়ে সেটি মাথার ওপরের বিশাল আকাশের দিকে ধরলে আকাশের যতোখানি জায়গা এই ক্ষুদ্র বালিকণাটি দখল করবে, ঠিক সেই কল্পনাতীত ক্ষুদ্র অংশটিই হচ্ছে এই ছবিটি। মহাবিশ্বের মাত্র একটি…

  • ১৮১৬ সাল। ন্যাকার হাসপাতাল। প্যারিস, ফ্রান্স। জনসাধারণের আনাগোনায় লোকে-লোকারণ্য হাসপাতালের সবুজ আঙিনা। কেউ কেউ হাসিমুখে বিদেয় হচ্ছেন, কেউ-বা আতঙ্কিত নয়নে, ভয়ার্ত মনে, ধীর পায়ে প্রবেশ করছেন। ডাক্তার লেনেক ন্যাকার হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন। নিজের রুমে বসে ঝাঁঝালো রোদ্দুরে বাইরের পানে আপন মনে তাকিয়ে আছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন রোগীর আগমনের। শুভ্র পা-যুগল এলিয়ে দিয়ে এক নির্মল নারীমূর্তি প্রবেশ করলো লেনেকের চেম্বারে। পেছন পেছন এগিয়ে এলেন একজন দীর্ঘদেহী যুবকও। কথা বলার একফাঁকে জানতে পারলেন, যুবকটি তার (নারীর) বাগদত্তা স্বামী। রোগীর সমস্যা, হৃদ-যন্ত্রণা! হাসপাতালের ডাক্তারদের গলায় সর্বদা একটি সর্পিল যন্ত্র পেঁচিয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি টিউব, যার একপাশ গোলাকার,…