• ছবিতে যে জলবিহারী প্রাণিটিকে দেখছেন, তার নাম বিশির মাছ। সৌখিন মৎসপ্রেমীদের কাছে অবশ্য ড্রাগন ফিন নামেই বেশি পরিচিত। কিছু কিছু প্রজাতির বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারনে অনেকে একুয়ারিয়ামে পুষে থাকেন। তবে এর স্বভাব খারাপ, মুখে আটাতে পারে এমন সব মাছ কিংবা জলজ জীবকেই সাবাড় করতে সক্ষম। শুধু অন্যান্য মাছের তুলনায় এর সাঁতারের গতি কম বলেই এর সাথে একুয়ারিয়ামে অন্যান্য মাছ টিকতে পারে। যাই হোক, মজার বিষয় হল এর বায়ুথলির পরিবর্তে রয়েছে একজোড়া আদিম ফুসফুস, এবং এর সাহায্যে ডাঙ্গায় উঠে এসে নিঃশ্বাসও নিতে পারে। সামনের পাখনাগুলো বিশেষ ভঙ্গীতে নাড়িয়ে কিলবিল করে হাটতেও পারে। এই মাছটি নিয়ে সাম্প্রতিক একটি এক্সপেরিমেন্ট…

  • জিরো টু ইনফিনিটির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় বই। বইটির সবচে দারুণ দিক হচ্ছে এর প্রকাশনার মিষ্টতা। ৮০ পৃষ্ঠার বই কিনতে গেলে ১২০ টাকা গুনতে হয়। আজকালকার বইয়ে প্রতি পৃষ্ঠার দাম পড়ে দেড় টাকা থেকে দুই টাকা। নিয়মিত পাঠকদের জন্য এটা একটা মোটা দাগের সমস্যা। কিন্তু এই বই মাত্র ৫০ টাকা। এখানেই শেষ নয়। এর পৃষ্ঠাগুলো দিয়েছে গ্লসি পেপারে। খুবই মূল্যবান কিছু গ্লসিতে ছাপানো হয় এবং তা হয় অনেক খরচবহুল। কিন্তু প্রকাশনী হিসেবে জিরো টু ইনফিনিটি খুবই অল্প মুনাফা করছে, বা যতটুকু সম্ভব কম দাম রাখছে। আর এই বই বিক্রি হয়েছে, হচ্ছে ফুটপাতের দোকান হতে অভিজাত…

  • ২০১৫ বইমেলার বই। ইদানিং অনেক ভাল ভাল বই অনুবাদ হচ্ছে। এদের তালিকায় এই বইটিও আছে। দারুণ লেগেছে বইটি। আইজ্যাক আসিমভের লেখা বই কেমন হবে তা আর এখন কাওকে বলে দিতে হয় না। লেখক হিসেবে তার নামের আগে এখন আর কোনো বিশেষণ ব্যবহার না করলেও চলে। তার নামটাই একটা বিশেষণ। “বিগিনিংস” নামের বইটা দৈবভাবে বইয়ের দোকানে ঘুরতে গিয়ে কিনে ফেলেছিলাম। দোকানী জানে আমি বিজ্ঞান পছন্দ করি, তাই এই বইটা সাজেস্ট করলো। প্রকাশনীর নাম দেখে মনে হল একদমই বাজে বই। কারণ এই প্রকাশনী থেকে একবারে ৫ টা বিজ্ঞানের বই কিনেছিলাম, আলী ইমামের। রাখঢাক না রেখে সত্য কথা বলতে…

  • কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে তার কাছে সবথেকে মূল্যবান জিনিস কি, সে যদি নিতান্তই বোকা না হয়ে থাকে তাহলে বলবে যে তার “জীবন”। এটাই মনে হয় জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ভেবে এসেছে যে কিভাবে সে এই প্রকৃতিতে বেশি দিন টিকে থাকবে, ভালভাবে টিকে থাকবে, বেশি দিন বেঁচে থাকবে। শুধু মানুষই নয়, আসলে এটাই যেন প্রতিটা জীবের চিরন্তন আশা-আকাঙ্ক্ষা। এর প্রধান কারণ সম্ভবত, আপাত দৃষ্টিতে প্রকৃতি কাওকেই অফুরন্ত সময় দেয়নি বেঁচে থাকার জন্য। তাতে আবার বিভিন্ন প্রকার রোগ-বালাই প্রকৃতির এই কাজটা আরও সহজ করে দিচ্ছে যেন দিন কে দিন। যত দিন যাচ্ছে,…

  • পৃথিবীর সব মানুষই কি একরকম? না, বলতে গেলে কেউই কারো মত নয়। শুধু মানুষের ক্ষেত্রে নয় অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদিও প্রাণীর ক্ষেত্রে আমরা পার্থক্যটুকু তেমন একটা ধরতে পারি না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈচিত্রটুকু আমরা ঠিকই বুঝতে পারি। আমরা দেখি যে, আমাদের চারপাশের মানুষের আচার-আচরণ, চেহারায় একজনের সাথে অন্যজনের প্রায় মিল নেই। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন মানুষের বা অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়? অনেকেই অবাক হয়ে বলবেন যে, এ আবার কেমন কথা হলো? একজনের সাথে অন্যজনের মিল কেন থাকবে বরং মিল থাকাটাই তো আশ্চর্য! আসলে ব্যাপারটা সেরকম না। আমরা…

  • জেট ইঞ্জিন কিংবা নিউক্লিয় বোমার আঘাত এদের কোনটির শব্দ বেশী জোরালো? পৃথিবীতে এসবের সৃষ্ট শব্দই কি সবচেয়ে জোরালো? সম্ভাব্য সবচেয়ে তীব্র শব্দ কতটা তীব্র হতে পারে বা তীব্রতার কি কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে? চলুন দেখা যাক। শব্দ হলো একপ্রকার চাপীয় তরঙ্গ যা কোনো মাধ্যমের, যেমন: বায়ুর মধ্যে এর অণুগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে সংকোচন আর তার পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রসারণ এবং ক্রমশঃ সংকোচিত এলাকার অণুর প্রসারণ এবং প্রসারিত এলাকার অণুর সংকোচনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলে।  পরপর একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ মিলে একটি পুর্ণ স্পন্দন তৈরি করে। একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে যেহেতু শব্দের বেগ নির্দিষ্ট তাই সম্পন্দের হার বৃদ্ধি পেতে…

  • রজার কর্নবার্গ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “রসায়ন হল বিজ্ঞানের রাণী। পদার্থের নিয়মগুলো চারপাশের জগতে প্রয়োগ করতে গেলে রসায়নই  আমাদের পরম আশা দেখায়। এমন কোন বিষয়ের কথা যদি বলা হয় যা সম্পর্কে পৃথিবীর সকল শিক্ষিত ব্যক্তির জানাশোনা থাকা উচিত, তাহলে সেটি হবে রসায়ন।” ২০০৬ সালে কর্নবার্গ রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। জীব-কোষের ভেতরে ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরির সময় অনেকগুলো প্রোটিন অংশ নেয়। কর্নবার্গ এদের মধ্যে ডজন-খানেকেরও বেশি প্রোটিন চিহ্নিত করেন। তিনি প্রকৃত অর্থেই জানেন জীবনের পেছনে বিশ্বজনীন প্রক্রিয়াগুলোর বিস্তারিত উন্মোচন করার জন্যে রসায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি তাই কর্নবার্গের সংলাপ-সূত্র ধরে এই প্রশ্নটি তুলি: বিজ্ঞানের জগতে কোন সমীকরণটিকে আপনি…

  • “আকাশ ভরা, সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান…….” সত্যি তাই। আকাশ জুড়ে অনন্ত নক্ষত্রের মেলা, যুগপৎ ভাবেই মহাবিশ্বে প্রতিটি জীবের অবস্থান কি অনন্ত বিস্ময়ের আর কি অপরিসীম তাৎপর্যের ! ভাবতেও অবাক লাগে। ভাবনার সাথেই মনের কোণে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, শত ধারায় উৎসারিত হয় অফুরন্ত আবেগ। হৃদয়ের গভীরতম সেই তৃষ্ণার্ত প্রশ্ন গুলিকে জীববিজ্ঞান দেখাচ্ছে আলোর পথ।  অপরিসীম সৌন্দর্যে ভরপুর বিজ্ঞানের এই  শাখাটির চর্চার বদান্যতায়ই বিশ্বকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রূপে। মহাবিশ্বে সকল জীবকে উপলব্ধি করছি এক নতুন চেতনার সংমিশ্রণে! রবিঠাকুরের “আবেদন”…… ১৩০২ বংগাব্দের কথা। বাইশে অগ্রহায়ণ শিলাইদহ অভিমুখে যাত্রা অভিমুখে লিখেছিলেন তাঁর…

  • কাউকে কতটা বিশ্বাস করা উচিত কিংবা কারো সম্পর্কে জানতে হলে অন্যের কথা না শুনে এমন সমস্যার সম্মুখীন আমরা প্রায়ই হয়ে থাকি। কিন্তু এই সব সমস্যার সমাধান যদি ঐ ব্যক্তির মুখই করে দেয় তাহলে ব্যপারটা কেমন হয়? আমাদের ব্যক্তিত্ব, সুস্বাস্থ্য, যৌনতা প্রভৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের চেহারার মাধ্যমে ফুটে উঠে। আমরা আমাদের গূঢ় রহস্যময় মনের কথা বুঝতে পারে এমন কাউকে পেতে হলে হয়ত কোনো মহান দার্শনিকের উপস্থিতিই আশা করবো। ডেভিড রবসন তাঁর সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বিষয়টির উপর। কিন্তু গ্রিক চিন্তাবিদেরা এই কাজ দার্শনিকদের উপরই কেবল ছেড়ে দেন নি। এরিস্টটল এবং তাঁর অনুসারীরা চেহারার মাধ্যমে অন্য আরেক জনের মনের…