• ‘অনুমান’ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অনুমানের মাধ্যমে আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা শৃঙ্খলায়িত করে নিতে পারি। একটি গবেষণার ফলাফল কেমন হতে পারে বা কি ধরনে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলে একটি কোনো একটি গবেষণা থেকে কাঙ্খিত ফলাফল আসতে পারে তা অনেকসময় পুর্ববর্তী জ্ঞান ও গবেষণাসমূহ হতে বেশ নির্ভুলভাবে অনুমান করা যেতে পারে। এতে অনেক মূল্যবান সময়, অর্থ, শ্রম ইত্যাদি বেঁচে যেতে পারে। কতটা নির্ভুল ভাবে অনুমান করা যাবে তা নির্ভর করে কী পরিমান তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কত তার উপর। একজন দক্ষ বিজ্ঞানী, শুধু বিজ্ঞানী বলছি কেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা…

  • দীপেন ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে আসছেন। বাংলাভাষায় প্রতিবছর অনেকগুলো সাইফাই প্রকাশিত হয় একুশের বই মেলায়, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল কিংবা হুমায়ুন আহমেদের মতো লেখক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে বহু খ্যাতি কুড়িয়েছেন। মূলধারার বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী একটা পরিচিত ছকের মধ্যে পড়ে গেছে বহু আগেই – গল্পের মধ্যে যে কোনভাবে রকেট, মহাকাশে ওয়ার্মহোল ভ্রমণ, ভিনগ্রহের প্রাণী, অতিরিক্ত-বুদ্ধিমান কম্পিউটার/রোবট, স্থান-কালের আপেক্ষিকতা ঢুকিয়ে দাও; ব্যাস, কল্পকাহিনী তৈরি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রথমত: যে একটা “কাহিনী” যার একটা “প্লট” থাকবে; যার নায়ক-নায়িকারা মানুষ, সে মানুষের যে একটা সমাজ-প্রেক্ষিত আছে, সুতরাং বেশ কিছু পিছুটান ও দ্বন্দ্ব থাকবে; তারা একটা মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবে,…

  • ইলেক্ট্রোলুমিনেসেন্স (Electroluminescence) বা বৈদ্যুতিক প্রতিপ্রভা নামক একধরনের ঘটনা সম্বন্ধে পদার্থবিদগণ ১৯০৭ সাল থেকে অবগত আছেন। এধরনের ঘটনায় একটি বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো নির্গত করে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবস্তু নিঃসরণের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালিয়েও আলো পেয়ে থাকি। বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং তার ফলে এটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলো উৎপন্ন হয়। ইলৈক্ট্রলুমিনেসেন্স এ ধরনের ঘটনা নয়। বরং এই ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন সরাসরি দৃশ্যমান আলো নির্গত করে যখন সে একটি অর্ধপরিবাহীর মধ্য দিয়ে গমন কালে একটি ‘হোল’ এর দেখা পায়। সহজ কথায়…

  • বাস্তব জগতে আমরা যত ধরনের জ্যামিতিক বস্তুর সম্মুখীন হই তার সবগুলোই ত্রিমাত্রিক জ্যামিতিক বস্তু বা থ্রিডি জ্যামিতিক ফিগার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যে জ্যামিতিগুলো করানো হয় তার প্রায় সবই দ্বিমাত্রিক জ্যামিতি। দ্বিমাত্রিক জ্যামিতিকে বলা হয় ইউক্লিডীয় জ্যামিতি। এই দ্বিমাত্রিক জ্যামিতির ভীত ইউক্লিড নামের একজন গণিতবিদ তৈরি করেছেন বলে এই জ্যামিতিকে ইউক্লিডীয় জ্যামিতি বলা হয়। ইউক্লিড হচ্ছেন একজন ইতিহাসবিখ্যাত গ্রীক গণিতবিদ। স্কুল কলেজে পঠিত জ্যামিতির প্রায় সবই ইউক্লিড রচিত ‘এলিমেন্টস’[1] নামের ১৩ খণ্ডের বই থেকে উৎসারিত। ইউক্লিডের এই বইটি একটা বিশেষ দিক থেকে সেরা। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচে নির্ভুল বই।[2] ইউক্লিডীয় জ্যামিতির নিয়ম-নীতি শুধু দুই…

  • আজ থেকে অনেক বছর পর। আপনি একজন মহাকাশচারী, ক্রায়োজেনিক চেম্বার থেকে বের হলেন লম্বা একটা ঘুমের পর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে জাগিয়ে তোলার অর্থ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গ্রহটি অন্ধকার, এতই অন্ধকার যে আপনি এর পৃষ্ঠে কি আছে না আছে কিছুই বুঝতে পারছেন না। শুধু দেখছেন আকাশের তারাদের ঢেকে রাখা গাঢ় অন্ধকার এক গোলক। ধীরে ধীরে এর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে মেঘের স্তর ভেদ করে নামা শুরু করলেন। আপনার মহাকাশযানের বাহিরে কোন নেই কোন আলো। এতদিন ধরে দেখে আসা বিশ্বস্ত তারাগুলোও হঠাৎ গায়েব। তথ্যগুলো নাড়াচাড়া করে আপনার বুকটা ছাৎ করে উঠলো। তখনই আপনি কনসোলে ফিরে গিয়ে কমান্ডারের…

  • মার্ভেল ইউনিভার্সের মুভিগুলো কে কে দেখেন? এই কথা জিজ্ঞেস করলে সম্ভবত কেউ আর ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করবে না। অনেকেই আছেন আবার মার্ভেল ইউনিভার্সের কথা বললে একেবারেই পাগল! আর হবেনই না বা কেন? দারুণ দারুণ সব সুপার হিরো আর বিজ্ঞানের চমৎকার ব্যাবহার ছবিগুলোকে যেন আরো বেশি জনপ্রিয়তা পাইয়ে দিয়েছে। তো যাই হোক, আজ আমরা মার্ভেল ইউনিভার্সের এক সুপার হিরোর কথা বলব। যার কথা বলব সে আমার সবথেকে প্রিয়। অনেকেই হয়ত আয়রন ম্যান বা হাল্কের কথা মনে করবেন। আসলে সেটা না। আজ আমরা মহাশক্তিশালী (কমিকস অনুযায়ী) থরের গুণগান গাইব। আসলে মূলত থর না, আমরা কথা বলব থরের সেই…

  • আলেকজান্দ্রিয়ার সর্বশেষ নামকরা যে গণিতবিদ ছিলেন তিনি একজন নারী! বেশ একটা অবাক করা তথ্য! কারণ যে সময়টার কথা বলছি তখন নারী শিক্ষার কল্পনা করার ব্যাপারটা সমাজ আর শাসনতন্ত্রের সাথে যায় না। নাম হাইপেশিয়া। জন্ম আনুমানিক ৩৭০খ্রিস্টাব্দ। বাবার নাম থিওন। হাইপেশিয়ার মায়ের কথা জানা যায় না। ইতিহাস হাইপেশিয়াকে হাইপেশিয়া হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর বাবার অবদানের জন্য থিওনকে ধরে রাখতে পেরেছে। হাইপেশিয়াকে বলা হয় প্রথম নারী গণিতবিদ যার ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণ গভীরভাবে জানতে পেরেছেন। হাইপেশিয়ার বাবা ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক এবং অবশ্যই একজন মুক্তমনা ব্যক্তিত্ব। পরবর্তীতে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। হাইপেশিয়া তাঁর বাবার ছায়ায় বেড়ে উঠেছিলেন একটা শিক্ষাসুলভ, প্রশ্নাতুর, কৌতূহলউদ্দীপক আর…

  • গল্প বলতে আর শুনতে কার না ভাল লাগে। আর সে গল্প যদি হয় নিজেদের তাহলে তো কোন কথাই নেই। তাহলে চলুন শোনা যাক আমাদের নিজেদের গল্প। একটা বিখ্যাত উক্তি আছে যে, “আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান”। তাহলে বলা চলে যে আমাদের গল্প মানেই হল নক্ষত্রের গল্প, আমাদের মহাবিশ্বের গল্প। আজ গল্প বলব আমাদের চারপাশের, গল্প বলব আমাদের আবির্ভাব আর সৃষ্টি নিয়ে; আমাদের উদ্ভব নিয়ে। কেমন ছিল শুরুটা? কি ছিল সেখানে? এর আগেই বা কি ছিল আর কিই বা থাকবে এর পরে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস; যদিও বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর এখনো আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে…

  • সকল পুরুষেরই স্তন-গ্রন্থি আছে। মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার সহ অন্য কোনো সমস্যা না হলে কোনো পুরুষই সাধারণত সে স্তন থেকে দুধ উৎপন্ন করতে পারে না। যদি সন্তান সন্ততিদের দুধ খাইয়ে সাহায্য নাই করতে পারে তাহলে কোন লাভের জন্য এই অপ্রয়োজনীয় জিনিষ সারাজীবন ধরে থেকে যায় প্রত্যেকটি পুরুষের মাঝে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে মানুষের ভ্রূণ দশার মাঝে। ভাল করে বললে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণে লাগা সময়কালের মাঝে। মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী, আর প্রত্যেক স্তন্যপায়ী প্রাণীই হয়ে থাকে উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট, লোমশ, মেরুদণ্ডী, নিঃশ্বাস হিসেবে বায়ু গ্রহণ করে এবং অবধারিতভাবে সকল শিশুই স্তন পান করে বড় হয়। যেমন মানুষ, কুকুর, গরু…