• রজার কর্নবার্গ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “রসায়ন হল বিজ্ঞানের রাণী। পদার্থের নিয়মগুলো চারপাশের জগতে প্রয়োগ করতে গেলে রসায়নই  আমাদের পরম আশা দেখায়। এমন কোন বিষয়ের কথা যদি বলা হয় যা সম্পর্কে পৃথিবীর সকল শিক্ষিত ব্যক্তির জানাশোনা থাকা উচিত, তাহলে সেটি হবে রসায়ন।” ২০০৬ সালে কর্নবার্গ রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। জীব-কোষের ভেতরে ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরির সময় অনেকগুলো প্রোটিন অংশ নেয়। কর্নবার্গ এদের মধ্যে ডজন-খানেকেরও বেশি প্রোটিন চিহ্নিত করেন। তিনি প্রকৃত অর্থেই জানেন জীবনের পেছনে বিশ্বজনীন প্রক্রিয়াগুলোর বিস্তারিত উন্মোচন করার জন্যে রসায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি তাই কর্নবার্গের সংলাপ-সূত্র ধরে এই প্রশ্নটি তুলি: বিজ্ঞানের জগতে কোন সমীকরণটিকে আপনি…

  • “আকাশ ভরা, সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান…….” সত্যি তাই। আকাশ জুড়ে অনন্ত নক্ষত্রের মেলা, যুগপৎ ভাবেই মহাবিশ্বে প্রতিটি জীবের অবস্থান কি অনন্ত বিস্ময়ের আর কি অপরিসীম তাৎপর্যের ! ভাবতেও অবাক লাগে। ভাবনার সাথেই মনের কোণে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, শত ধারায় উৎসারিত হয় অফুরন্ত আবেগ। হৃদয়ের গভীরতম সেই তৃষ্ণার্ত প্রশ্ন গুলিকে জীববিজ্ঞান দেখাচ্ছে আলোর পথ।  অপরিসীম সৌন্দর্যে ভরপুর বিজ্ঞানের এই  শাখাটির চর্চার বদান্যতায়ই বিশ্বকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রূপে। মহাবিশ্বে সকল জীবকে উপলব্ধি করছি এক নতুন চেতনার সংমিশ্রণে! রবিঠাকুরের “আবেদন”…… ১৩০২ বংগাব্দের কথা। বাইশে অগ্রহায়ণ শিলাইদহ অভিমুখে যাত্রা অভিমুখে লিখেছিলেন তাঁর…

  • কাউকে কতটা বিশ্বাস করা উচিত কিংবা কারো সম্পর্কে জানতে হলে অন্যের কথা না শুনে এমন সমস্যার সম্মুখীন আমরা প্রায়ই হয়ে থাকি। কিন্তু এই সব সমস্যার সমাধান যদি ঐ ব্যক্তির মুখই করে দেয় তাহলে ব্যপারটা কেমন হয়? আমাদের ব্যক্তিত্ব, সুস্বাস্থ্য, যৌনতা প্রভৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের চেহারার মাধ্যমে ফুটে উঠে। আমরা আমাদের গূঢ় রহস্যময় মনের কথা বুঝতে পারে এমন কাউকে পেতে হলে হয়ত কোনো মহান দার্শনিকের উপস্থিতিই আশা করবো। ডেভিড রবসন তাঁর সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বিষয়টির উপর। কিন্তু গ্রিক চিন্তাবিদেরা এই কাজ দার্শনিকদের উপরই কেবল ছেড়ে দেন নি। এরিস্টটল এবং তাঁর অনুসারীরা চেহারার মাধ্যমে অন্য আরেক জনের মনের…

  • মাত্রই গেলো পাই দিবস। তাই পাই নিয়ে কিছু একটা লেখার খায়েশ জাগলো মনে। পাই এর মান যে ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৮৯৮………. এটা সবারই জানা। এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর তাই আমার এই লেখাটায় আমি বরং পাই এর ইতিহাস আর এর প্রচলন নিয়ে আলোচনাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিবো। পাই (ইংরেজীতে Pi) এর মানটা এসেছে একটি বিশেষ অনুপাত (২২/৭) থেকে আর এই অনুপাতটা হলো বৃত্তের পরিধি আর ব্যাস এর অনুপাত। সৃষ্টির শুরু থেকেই বৃত্তের পরিধি আর ব্যাস এর এই সার্বজনীন ধ্রুব(universal constant) অনুপাতটা প্রকৃতিতে বজায় ছিল, শুধু অপেক্ষাটা ছিল এই অনুপাতটার আবিষ্কার হবার। আমি এখানে সেই আবিষ্কার হওয়ার ঘটনা…

  • কাচ একটি স্বচ্ছ বস্তু। মূলতঃ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড বা সিলিকা দিয়ে তৈরি। তার মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান আলো আপাতঃদৃষ্টিতে খুব সহজেই ভ্রমণ করতে পারে। অর্থাৎ সেই আলো কাচের পরমাণুদ্বারা শোষিত হয়ে যায় না। কিন্তু সাধারন কাচের প্রতিসরণাঙ্ক ১.৫, অর্থাৎ কাচের ভেতর আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে আলোর গতির চাইতে প্রায় ৫০% কম, কাচে আলোর গতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটারের বদলে দুই লক্ষ কিলোমিটার। কেন আলো কাচের মধ্যে শ্লথ হয়ে যাবে? অনেকে বলবেন কাচের পরমাণু আপতিত আলোকে শোষণ করে আবার বিকিরিত করে। এবং এইভাবে স্তরে স্তরে শোষিত ও বিকিরিত হতে হতে আলো কাচের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ করে। এই শোষণ ও বিকিরণেরর জন্য…

  • বিজ্ঞান ব্লগে এটি আমার প্রথম লেখা । বিজ্ঞানের ছাত্র কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। তবে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম থেকে জীববিজ্ঞানের প্রতি কেন জানিনা একটা আলাদা ভাললাগার অনুভূতি কাজ করে।তাই সেই ভালবাসা আর ভাললাগা বিষয় গুলিকে একত্রিত করে ছড়িয়ে দিতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আজকে বলব জীবনের বিজ্ঞানের কথা আর জীবনের বিজ্ঞানের সৌন্দর্যের কথা।জীবকে জানার ইচ্ছা আমাদের সবারই থাকে। কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরঘুর করে। যেমন: আমাদের চারপাশে যে কত নানারকম জীব দেখি- এদের উদ্ভব কিভাবে হল? মানে কিভাবে তারা এই পৃথিবীতে প্রথম আসলো, কিভাবে তারা চলে ফিরে বেড়াচ্ছে? খাচ্ছে-দাচ্ছে-ঘুমাচ্ছে? কেন…

  • প্রকৃতি রহস্য করতে ভালোবাসে। কিন্তু তার সেই রহস্য আমাদের কাছে মাঝে মধ্যেই জটিল মনে হয়। কিন্তু যখন আমরা একটু গভীর ভাবে দেখি তখন বুঝতে পারি যে প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করলেও জটিলতায় মোটেও পছন্দ করে না। তার সব কিছুই অনেক সরল-সোজা। তাই বিজ্ঞানীরাও প্রকৃতির সবকিছুকে একটা সহজ তত্ত্ব দিয়ে প্রকাশ করার জন্য খোঁজ করছেন ‘সবকিছুর তত্ত্ব’ বা ‘The theory of everything’. যাই হোক, আজ আমরা আলোচনা করব প্রকৃতির সেই রহস্যময়তার ব্যাপারে কিন্তু সেটা অনেক সহজ রহস্য। আমরা মাঝে মাঝেই প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্যাটার্ন খুজে পাই। এর মধ্যে কিছু বিখ্যাত হল গোল্ডেন রেশিও বা সোনালীঅনুপাত আর ফিবোনাক্কি রাশিমালা। এই…

  • জীবনের প্রথম দিকে গনিতকে প্রচন্ড ঘৃণা করতাম। তারপর হঠাৎ ই কোন কারন ছাড়া ভালোবেসে ফেললাম গনিতকে। গনিতের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হল । কৌতুহল জন্ম নিল মনে। ভালোবাসা দিয়ে ভরে তোলার চেষ্টা করলাম গনিত কে। ভাবনা কে জাগ্রত করলাম। কৌতুহলের নদী মনের চারিদিকে বেয়ে চলেছে। গনিতের উপর লেখা বই গুলো কিনে পড়তে শুরু করলাম। গনিতকে অনুভব করতে শিখলাম। ধরাবাঁধা নিয়মকে অতিক্রম করতে তীব্র ইচ্ছা জন্ম নিল মনে। আমরা কি শুধু পরীক্ষার পাশ করার জন্য অংক করি?? গনিতের মত মজার বিষয় আর হতে পারে না। একবার যদি গনিত সমুদ্রে প্রবেশ করা যায় তবেই এর প্রকৃত মজা উপলব্ধি…

  • ঘরটার কাঠের দেয়ালজুড়ে অদ্ভুদ নকশা আঁকা। জানালাগুলো বন্ধ, এবং ভারী পর্দা দিয়ে ঢাকা। মাপা দূরত্বে বেশ কয়টি বড় আয়নাও রয়েছে। আলোর সংস্থান কয়েকটি বেঢপ লম্বা মোমবাতির সাহায্যে। আপনার এখানে আসার কারনঃ ধরা যাক, প্রচন্ড পেট ব্যাথা। এমন সময় তার দেখা পাওয়া গেলো। ধোপদূরস্ত পোশাক, অভিজাত চেহারা আর ধারালো চোখের অধিকারী তিনি। আপনার সামনের চেয়ারটিতে বসে সেটা কিছুটা এগিয়ে নিলেন যেন তার হাটু আপনার হাটু স্পর্শ করে থাকে। এরপর একজন সহকারী দুটো চুম্বকের টুকরা আপনার পেটে বসিয়ে দিয়ে গেলো। আর সেই লোকটি আপনার বুড়ো আঙ্গুল চেপে ধরে চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলেন। অনেক ক্ষন পর সামনের…