• মাত্রই গেলো পাই দিবস। তাই পাই নিয়ে কিছু একটা লেখার খায়েশ জাগলো মনে। পাই এর মান যে ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৮৯৮………. এটা সবারই জানা। এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর তাই আমার এই লেখাটায় আমি বরং পাই এর ইতিহাস আর এর প্রচলন নিয়ে আলোচনাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিবো। পাই (ইংরেজীতে Pi) এর মানটা এসেছে একটি বিশেষ অনুপাত (২২/৭) থেকে আর এই অনুপাতটা হলো বৃত্তের পরিধি আর ব্যাস এর অনুপাত। সৃষ্টির শুরু থেকেই বৃত্তের পরিধি আর ব্যাস এর এই সার্বজনীন ধ্রুব(universal constant) অনুপাতটা প্রকৃতিতে বজায় ছিল, শুধু অপেক্ষাটা ছিল এই অনুপাতটার আবিষ্কার হবার। আমি এখানে সেই আবিষ্কার হওয়ার ঘটনা…

  • কাচ একটি স্বচ্ছ বস্তু। মূলতঃ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড বা সিলিকা দিয়ে তৈরি। তার মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান আলো আপাতঃদৃষ্টিতে খুব সহজেই ভ্রমণ করতে পারে। অর্থাৎ সেই আলো কাচের পরমাণুদ্বারা শোষিত হয়ে যায় না। কিন্তু সাধারন কাচের প্রতিসরণাঙ্ক ১.৫, অর্থাৎ কাচের ভেতর আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে আলোর গতির চাইতে প্রায় ৫০% কম, কাচে আলোর গতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটারের বদলে দুই লক্ষ কিলোমিটার। কেন আলো কাচের মধ্যে শ্লথ হয়ে যাবে? অনেকে বলবেন কাচের পরমাণু আপতিত আলোকে শোষণ করে আবার বিকিরিত করে। এবং এইভাবে স্তরে স্তরে শোষিত ও বিকিরিত হতে হতে আলো কাচের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ করে। এই শোষণ ও বিকিরণেরর জন্য…

  • বিজ্ঞান ব্লগে এটি আমার প্রথম লেখা । বিজ্ঞানের ছাত্র কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। তবে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম থেকে জীববিজ্ঞানের প্রতি কেন জানিনা একটা আলাদা ভাললাগার অনুভূতি কাজ করে।তাই সেই ভালবাসা আর ভাললাগা বিষয় গুলিকে একত্রিত করে ছড়িয়ে দিতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আজকে বলব জীবনের বিজ্ঞানের কথা আর জীবনের বিজ্ঞানের সৌন্দর্যের কথা।জীবকে জানার ইচ্ছা আমাদের সবারই থাকে। কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরঘুর করে। যেমন: আমাদের চারপাশে যে কত নানারকম জীব দেখি- এদের উদ্ভব কিভাবে হল? মানে কিভাবে তারা এই পৃথিবীতে প্রথম আসলো, কিভাবে তারা চলে ফিরে বেড়াচ্ছে? খাচ্ছে-দাচ্ছে-ঘুমাচ্ছে? কেন…

  • প্রকৃতি রহস্য করতে ভালোবাসে। কিন্তু তার সেই রহস্য আমাদের কাছে মাঝে মধ্যেই জটিল মনে হয়। কিন্তু যখন আমরা একটু গভীর ভাবে দেখি তখন বুঝতে পারি যে প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করলেও জটিলতায় মোটেও পছন্দ করে না। তার সব কিছুই অনেক সরল-সোজা। তাই বিজ্ঞানীরাও প্রকৃতির সবকিছুকে একটা সহজ তত্ত্ব দিয়ে প্রকাশ করার জন্য খোঁজ করছেন ‘সবকিছুর তত্ত্ব’ বা ‘The theory of everything’. যাই হোক, আজ আমরা আলোচনা করব প্রকৃতির সেই রহস্যময়তার ব্যাপারে কিন্তু সেটা অনেক সহজ রহস্য। আমরা মাঝে মাঝেই প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্যাটার্ন খুজে পাই। এর মধ্যে কিছু বিখ্যাত হল গোল্ডেন রেশিও বা সোনালীঅনুপাত আর ফিবোনাক্কি রাশিমালা। এই…

  • জীবনের প্রথম দিকে গনিতকে প্রচন্ড ঘৃণা করতাম। তারপর হঠাৎ ই কোন কারন ছাড়া ভালোবেসে ফেললাম গনিতকে। গনিতের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হল । কৌতুহল জন্ম নিল মনে। ভালোবাসা দিয়ে ভরে তোলার চেষ্টা করলাম গনিত কে। ভাবনা কে জাগ্রত করলাম। কৌতুহলের নদী মনের চারিদিকে বেয়ে চলেছে। গনিতের উপর লেখা বই গুলো কিনে পড়তে শুরু করলাম। গনিতকে অনুভব করতে শিখলাম। ধরাবাঁধা নিয়মকে অতিক্রম করতে তীব্র ইচ্ছা জন্ম নিল মনে। আমরা কি শুধু পরীক্ষার পাশ করার জন্য অংক করি?? গনিতের মত মজার বিষয় আর হতে পারে না। একবার যদি গনিত সমুদ্রে প্রবেশ করা যায় তবেই এর প্রকৃত মজা উপলব্ধি…

  • ঘরটার কাঠের দেয়ালজুড়ে অদ্ভুদ নকশা আঁকা। জানালাগুলো বন্ধ, এবং ভারী পর্দা দিয়ে ঢাকা। মাপা দূরত্বে বেশ কয়টি বড় আয়নাও রয়েছে। আলোর সংস্থান কয়েকটি বেঢপ লম্বা মোমবাতির সাহায্যে। আপনার এখানে আসার কারনঃ ধরা যাক, প্রচন্ড পেট ব্যাথা। এমন সময় তার দেখা পাওয়া গেলো। ধোপদূরস্ত পোশাক, অভিজাত চেহারা আর ধারালো চোখের অধিকারী তিনি। আপনার সামনের চেয়ারটিতে বসে সেটা কিছুটা এগিয়ে নিলেন যেন তার হাটু আপনার হাটু স্পর্শ করে থাকে। এরপর একজন সহকারী দুটো চুম্বকের টুকরা আপনার পেটে বসিয়ে দিয়ে গেলো। আর সেই লোকটি আপনার বুড়ো আঙ্গুল চেপে ধরে চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলেন। অনেক ক্ষন পর সামনের…

  • একটা গুবরেপোকাকে জিন্দালাশ হতে দেখা বিস্ময়ের, বেদনারও। গুবরেপোকা সুক্ষ্ম জীব, স্বভাবটাও খাইখাই ধরনের। গুবরেপোকা তার জীবনে কয়েক হাজার এফিডপোকা সাবাড় করে ফেলে। শিকার খোঁজার জন্য গুবরেপোকা ওর এন্টেনা নাড়াচাড়া করে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ সনাক্ত করার জন্য। গাছেরা এফিডের মতো তৃণভোজি পতঙ্গ দিয়ে আক্রান্ত হলে এই রাসায়নিকগুলো নিঃসৃত করে। একবার এই রাসায়নিকের সন্ধান পেলে গুবরেপোকা এমন সব অণু খুঁজতে থাকে যেগুলো শুধু এফিডরাই ছড়ায়। এসব অণু পেলেই গুবরেপোকা হামাগুড়ি দিয়ে এফিডদের আক্রমণ করে, খাঁজ কাটা চোয়াল দিয়ে চিরে ফেলে এফিডদের দেহ। গুবরেপোকারা তাদের প্রায় সব শত্রু থেকে সুরক্ষিত। ওদের দেহের লাল-কালো গম্বুজাকৃতির বহিরাবরণ আমাদের চোখে সুন্দর লাগলেও…

  • আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বটা কী আমাদের জীবনে? কিংবা বিজ্ঞানের ভাষায়, এর প্রযুক্ত বলই বা কতটুকু আমাদের উপর? কিংবা আমাদের বিবর্তনের পিছনে কি আমাদেরই সংস্কৃতি কোনো অংশে দায়ী? কাপড়, আশ্রয় থেকে শুরু করে বহিঃশক্তির হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। কতিপয় জীববিজ্ঞানীদের নিকট তাই মনে হয় মানব সংস্কৃতি আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা কিনা মানব জীবনে প্রযুক্তির ভূমিকার সাথে তুল্য। তবে মানব সংস্কৃতির প্রভাব ধীরে ধীরে উপলদ্ধির ব্যপার। তাই এর প্রভাবে সমাজে কখনও মনুষ্য জাতির আগমন বেশি ঘটেছে আবার কখনও কোনো সমাজ পঙ্গু হয়ে গিয়েছে। তবে জীব বিজ্ঞানীরা এখন মানব…

  • আমাদের পৃথিবীটা অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ, এখানে বিভিন্ন প্রকার বিচিত্র ঘটনার যেন অভাব নেই। ঠিক তেমনই একটা বিচিত্র কিন্তু প্রাকৃতিক ঘটনা হল যমজ শিশুর জন্ম। বিচিত্র বলার কারণ এই যে, দুটি শিশু একই সাথে জন্ম নেবে যারা একই রকম দেখতে হবে, একই রকম সুরে কথা বলবে, একে অন্যের পুরোপুরি ক্লোন হবে, এটা আসলেই অনেক মজার একটা ব্যাপার। তাছাড়া বিজ্ঞানীদের কাছেও যমজ শিশু খুব জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় একটা বিষয় – এ নিয়ে গবেষণার যেন শেষ নেই। যমজ শিশুর জন্ম একটা প্রাকৃতিক ঘটনা, প্রকৃতিতে সবসময়ই সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই এটা ঘটতে দেখা যায়। মানুষের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়, তাই ভাবলাম এটা…