• বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর, বিশ্বের সব পত্রিকায়ই একটি অগোছালো ডেস্কের ছবি ছাপা হয়। ডেস্কটি স্বয়ং আলবার্ট আইনস্টাইনের। ডেস্কের ছবির সাথে পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, “The unfinished manuscript of the greatest work, of the greatest scientist of our time”। পুরো বিশ্বই তখন এই কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর আলোচনায় মুখর। কিন্তু বিজ্ঞানে আগ্রহী যেকোনো লোকেরই কৌতূহল জাগবে, কি সেই অসমাপ্ত কাজ ? আর কেনই বা তার মত একজন কিংবদন্তী বিজ্ঞানী তা শেষ করে যেতে পারলেন না ? আইনস্টাইন তার জীবনের শেষ ৩৫ বছর এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার চেস্টা করে গেছেন, কিন্তু কোনভাবেই কুল-কিনারা করতে পারেন নি। সাধারন মানুষের…

  • কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে এগোনো যাক। কেন এই ম্যাটারের (পদার্থের) নাম ডার্ক ম্যাটার? বিজ্ঞানীরা কি এই ম্যাটার শনাক্ত করেছেন? উত্তর হচ্ছে, না! এই ম্যাটার অন্য সাধারণ ম্যাটারের মত দেখা যায় না বা যন্ত্রপাতি দ্বারাও কখনো শনাক্ত করা যায় নি। তাই এদের অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকেই এই নামকরণ। যদিও সাধারণ ম্যাটারও অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে, কিন্তু সেসব আমরা খালি চোখে দেখতে না পেলেও যন্ত্রপাতি দিয়ে শনাক্ত করতে পারি। যদি দেখাও না যায়, শনাক্ত ও করা না যায় তাহলে কেন আমরা এটি নিয়ে এত আলাপ আলোচনা করি? এর উত্তরে তুলনামূলক চিত্র হিসেবে বলা যায়, পরমাণুও দেখা যায় নি, এবং একশতাব্দী আগে পরমাণুও…

  • সাদামাটা পোস্ট এটা। আমাদের এই পৃথিবীটা কত ছোট তা অনুভব করা যাবে এই ভিডিওটা দেখে। আমাদের মাঝে কেহ যদি কখনো উচ্চতার একদম শিখরে চলে যায় এবং এটা নিয়ে নিজেকে বেশ বড় মনে করে তাহলে এই মহাকাল মহাকাশের তুলনায় পৃথিবী যে কত ক্ষুদ্র তা একটু অনুভব করে দেখলেই হবে।  এই মহাকাশে আমরা পৃথিবীর মানুষেরা বালুকণা, পরমাণুকণা মাত্র। তারপরেও এই বিশাল গ্রহের সাগরে, প্রতিকূল পরিবেশে না হয়ে আমাদের ঠাই হয়েছে এই মধুর পৃথিবীতে। 🙂 বলা যায় পরীক্ষামূলক পোস্ট এটা। ব্লগে ভিডিও বা এরকম কিছু শেয়ার করতে গেলে ব্যক্তিগতভাবে কিছু কৌশলগত সমস্যায় পড়তে হয়। সেগুলো উৎরাতে এবং শিখে নেবার…

  • সমুদ্রসীমা প্যারাডক্স একটি অদ্ভুতুড়ে জ্যামিতিক সমস্যা। শুরু করা যাক অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতটের পরিসীমা দিয়ে। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত Year Book of Australia তে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতটের পরিসীমা দেওয়া হয়েছে ৩৬,৭৩৫ কিলোমিটার। অপরদিকে Australia Handbook বইতে এই সীমা ১৯,৩২০ কিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে। স্পষ্টতঃই বোঝা যাচ্ছে যে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে পরিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রথমটির প্রায় অর্ধেক! আমরা যখন কোনো কিছু পরিমাপ করি তখন বিভিন্ন ধরনের পরিমাপগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরিমাপে কিছুটা ঊনিশ-বিশ হয়ে থাকে বটে, কিন্তু তাই বলে কখনো পরিমানে তা দ্বিগুণ বা অর্ধেক হয়ে যায় না। তাহলে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করতে গিয়ে কেন এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে? এর কারণটি হচ্ছে গণিতের…

  • ১৯৭০ সালে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে জীববিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা হয়। বিজ্ঞানীরা প্রথম বারের মত ডিএনএ তে পরিবর্তন নিয়ে আসার সুযোগ পান। যার ফলে একক কিংবা একগুচ্ছ জিন নিয়ে কাজ করে কিছু অভিনব ওষুধ এবং জৈবপ্রযুক্তি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ের জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের আরেকটি বিপ্লবের সূচনা করেছে। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে কাংক্ষিত ডিএনএ সিকোয়েন্সকে জিনোম থেকে আলাদা করে নিয়ে কাজ করা লাগে। কিন্তু এখন একদম কোষের ভেতরে থেকেই জিনোমের মধ্যেই জিনের কাংক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। পরিবর্তন বলতে নতুন জিন যুক্ত করা, কোন জিনকে বাদ দেয়া কিংবা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। ব্যপারটা অনেকটা ওয়ার্ড প্রসেসরের…

  • BNCC এর নাম শুনেছেন? Bangladesh national cadet core না। বরিশাল নোয়াখালি চাঁদপুর কুমিল্লা চিটাগাং ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু এই BNCC না, এমন কথা অবশ্যই শুনেছেন, অমুক এলাকার মানুষজন সহজসরল, ওই অঞ্চলের মানুষজন পরিশ্রমী এমন অনেক কিছু। এখন ঘটনা হচ্ছে এরকম এলাকা ভিত্তিক মানুষজনকে ধরে ধরে ডেঞ্জারাস-সহজসরল কিংবা হাজারটা বৈশিষ্ট্য ধরে ক্রাইটেরিয়ায় কিভাবে ফেলে দিল? তাও শুধুমাত্র এলাকার উপর ভিত্তি করে? এটার একটা ব্যাখ্যা কেন জানি দিতে ইচ্ছা করল। (প্রায়) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা(এটাকে হাইপোথিসিস বলাই ভাল)। চেষ্টা করব, এমনভাবে যাতে অবৈজ্ঞানিক মানুষজনও টুকটাক বুঝতে পারে। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির এটাই প্রথম চেষ্টা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলো জন্মসূত্রে…

  • ১০ নভেম্বর বিশ্ব বিজ্ঞান দিবসে এক বৈঠকে পড়ে শেষ করে ফেললাম ‘ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী’র বই “কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ”। আকৃতিতে ছোট সাইজের এই বইটি একটি ট্রেন ভ্রমণেই শেষ হয়ে গেল। ‘কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ’ নামের বইটি হচ্ছে সলিড স্টেট সিরিজের দ্বিতীয় বই। আগের বইটির চেয়ে এই বইটি অনেক সাবলীলে পড়ে শেষ করতে পেরেছি। আগের বইটি আর এই বইটি ধাঁচের দিক থেকে একই, কিন্তু তারপরেও এই বইটিকে আমি উপরে রাখবো। তার কারণ মনে হয় প্রথম বইটি পড়ার সময় ধরে নিয়েছিলাম এটি পপুলার সায়েন্স জাতীয় বই। কিন্তু আদতে এটি কিছুটা টেক্সট, কিছুটা পপুলার ধাঁচের বই। বলা যায় ‘সেমি-টেক্সট’ বই। মানসিক…

  • স্বপ্নের স্নায়ুবিজ্ঞান সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় ঘুমের সময় মানুষজনের মস্তিষ্কের বিভিন্নধর্মী সক্রিয়তা মাপা হয়েছে ব্রেন স্ক্যানার দিয়ে। স্বপ্নের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে নেয়া যাক। গল্প বলা স্বপ্নেরা রেম ও গভীর নন-রেম দুই ধরনের ঘুমেই দেখা দিলেও রেম-ঘুমেই এসব স্বপ্নের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কে কি কি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হয় তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গল্প বলা স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করবো আমরা। প্রাণীদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম রেম ঘুমের সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুদের সক্রিয়তা PET স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। এই স্ক্যান…

  • জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে আমি বরাবরই আগ্রহী। মহাবিশ্বের উৎপত্তি মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ আমার দারুণ ভাল লাগা কয়েকটি বিষয়ের মাঝে স্থান করে নিয়েছে। আর দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের কাজ তো সমস্ত পৃথিবীতে সাঁরা জাগানো। বরাবরই লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। প্রচার বিমুখ। কথা নেই বার্তা নেই অপ্রত্যাশিতভাবে একদিন সকালে পত্রিকায় দেখি জামাল নজরুল ইসলাম আর নেই। এই সংবাদে সেদিন মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ সালের বইমেলায় তার মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটা নাদুস নুদুস বই লিখেছেন শরীফ মাহমুদ সিদ্দিকী। বইয়ের লেখক জামাল নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত গণিত ও ভৌত…