• স্বপ্ন-অভিধান সবাই স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। ঘুমে দেখা স্বপ্ন জেগে উঠে খুব অর্থবোধক বলে মনে হয়। স্বপ্ন কেন দেখি? স্বপ্নের কি কোন মানে আছে? পৃথিবীর প্রতিটি সংস্কৃতিতেই এই প্রশ্নের উত্তরে বিস্তৃত ভাবনা খুঁজে পাওয়া যাবে। অনেকেই খোয়াবনামা বইটি দেখেছেন। খোয়াবনামাকে বলা যেতে পারে স্বপ্ন অভিধান যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন দৃশ্যর রূপকঅর্থ বলে দেয়া আছে। অনেক সময় স্বপ্নকে দেখা হয়েছে ঐশ্বরিক বার্তা হিসেবে। খ্রিষ্টীয় বাইবেল, মুসলমানদের কুরআন আর হিন্দু-বৌদ্ধদের পুরাণে স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বানীর কথা পাওয়া যায় । কোন কোন প্রাচীন গোষ্ঠী ভাবতো যে ঘুমের সময় আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় – যে…

  • সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় মহাকাশযানে চেপে মানুষকে দূর নক্ষত্রে পারি দিতে। কিন্তু উপন্যাসিকের কল্পনায় আঁকা মহাকাশযানের ভেতরের সত্যিকার বাস্তবতা কেমন তা মনে হয় এ বিষয়ে আগ্রহীদের না জানলেই নয়। তারই কিছুটা আভাষ পাওয়া যেতে যাবে “থাকে শুধু অন্ধকার” নামের বইটিতে। মহাকাশযানে চেপে দূর নক্ষত্রে পাড়ি দিতে কত যে জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে, কত যে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠতে হবে তা নিয়ে তাক লাগানো কিছু আলোচনা করা হয়েছে এই বইটিতে। শক্তি ব্যবহারে আমাদের আজকের যে প্রযুক্তি সে প্রযুক্তিতে অতি কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারিতে যাত্রা করতে হলেও আরও দুইশো অপেক্ষা করতে হবে। সবচে কাছের একটা নক্ষত্রের দিকে…

  • ছবি বাম থেকে ডানে যথাক্রমে এডভার্ট মোজার, জন ও’কেফে, মে-ব্রিট মোজার স্মার্টফোনের কল্যাণে অনেকেই জিপিএস-ব্যবহার করেছেন। জিপিএস হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা কিছু স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে ভূমির স্থানিক তথ্য সুনির্দিষ্ট জানার একটি পদ্ধতি। কোন বস্তু ভূমির ঠিক কোথায় আছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় জিপিএস সিস্টেম। এই তথ্য আসলে স্থানাঙ্ক; অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব। জিপিএস-এর উপর ভিত্তি করে আধুনিক টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে রকেট উড্ডয়ন প্রযুক্তি গড়ে ওঠেছে। জিপিএস মানেই হলো Global Positioning System, বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা। চিন্তা করুন, কোন এক দুপুর বেলা আপনি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে চাঙ্খারপুল যাবেন নান্নার বিরিয়ানি খেতে। এজন্য স্মৃতি ও ইন্দ্রিয়ের…

  • চিন্তা করে দেখুন আজ থেকে প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে সমুদ্র থেকে উঠে এসেছিল কোন এক উভচর মাছ, তারপর কোটি কোটি বছর চলে গেছে, সেই মীন থেকে উদ্ভূত হল সরীসৃপ, পাখী, স্তন্যপায়ী জীব, পৃথিবী ঘুরল প্রায় দু’বার গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারধারে, অবশেষে মানুষ মাত্র সেইদিন যেন গাছ থেকে এল নেমে। আমরা প্রকৃতই জলজাত, আমরা জলের সন্তান। কিন্তু আমরা জলেই থাকতে পারতাম। মৎস থেকে বিবর্তিত হতাম কিংবদন্তীর মৎসমানুষে। কিন্তু সেই জলজ সভ্যতা কি জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা করতে পারত? পৃথিবীরপৃষ্ঠ তাদের জন্য হত অস্পৃশ্য।  সেখানে যদি তারা দূরবীনও স্থাপন করতে পারত, সেই দূরবীন তাদেরকে মহাসমুদ্রের নিচ থেকে চালনা করতে হত। …

  • উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে উঠছে পৃথিবী। গলছে বরফ, বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা, বাড়ছে দূর্যোগ। যার প্রধান কারণ জলবায়ূ পরিবর্তন। কার্বন- ডাই- অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন ইত্যাদি গ্যাসগুলো জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্যাস, যা গ্রীন হাউস গ্যাস নামে পরিচিত। আর প্রতিনিয়ত এ গ্যাসগুলো নিঃসরণ করে জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শিল্পোন্নত দেশ গুলো। তাই ১৯৯৭ সালে কার্বন নিঃসরণ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে স্বাক্ষরিত হয় কিয়োটো প্রোটোকল। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এটি কার্যকর করা হয়। পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাস কমানোর জন্য কিয়োটো প্রোটোকোল একটি আইনগত বাধ্যতামূলক দলিল। এই প্রোটোকোলে, শিল্পসমৃদ্ধ দেশ গুলোর জন্য গ্রীন হাউস গ্যাস…

  • অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াস অনুচ্ছেদ-২: ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণিকা নিউক্লিয়াস একটি পরমাণুর মোট ভরের শতকরা ৯৯.৯৪৫ ভাগ থেকে ৯৯.৯৭৫ ভাগ ধারন করে। এই কারনে নিউক্লিয়াস নিয়ে গবেষণা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, আপনি বলতে পারেন নিউক্লিয়াসই হলো আসলে পরমাণু। ঊনিশ শতকে পরমাণু সম্বন্ধে ভাবা হতো যে এর প্রায় সম্পূর্ণই ফাঁকা; কিংবা এর অভ্যন্তরভাব অত্যন্ত অকিঞ্চিৎকর ইলেক্ট্রন কণা/তরঙ্গ দিয়ে পূর্ণ। নিউক্লিয়াসই হয়তোবা সেই ক্ষুদ্র, গোলাকার এবং প্রকৃত বস্তু যা লুসিপ্পাস এবং ডোমোক্রিটাস কল্পনা করেছিলেন। বিশাল ভরযুক্ততা সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের আকার অত্যন্ত ক্ষূদ্র এবং তা হচ্ছে একটি পরমাণুর ব্যাসের একলক্ষ ভাগের একভাগ। এই কারনে একে ইলেক্ট্রনের মতোই পরমাণুর আভ্যন্তরীন একটি কণিকা হিসেবেই…

  • স্ট্রিং থিওরি হল পদার্থবিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো, যেখানে মৌলিক কনিকাদের ব্যাপারে কিছু ভিন্ন ধারনা পেষণ করা হয়। কনাবাদী পদার্থবিদ্যার মতে মৌলিক কনিকারা হল মাত্রাহীন বিন্দুর মত। ঠিক যেমনটি জ্যামিতিতে শেখানো হয়েছিল , “যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও উচ্চতা নেই তাকেই বিন্দু বলে”। যে কনার দৈর্ঘ্য,প্রস্থ ও উচ্চতা নেই , আসলে তার কোন মাত্রাও নেই(এই দৈর্ঘ্য,প্রস্থ ও উচ্চতাই হোল স্থানের তিনটি মাত্রা )। তো, কনাবাদি পদার্থবিদ্যার মতে মৌলিক কনিকারা হোল এইরকম মাত্রাহীন বিন্দুদের মত। আর স্ট্রিং থিয়োরির পার্থক্যটা এখানেই। স্ট্রিং থিওরি বলছে মৌলিক কনিকারা মাত্রাহীন বিন্দুর মত নয়, বরং এগুলো হল একমাত্রিক তারের মত । একটি তারের যেমন…

  • অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াসঅনুচ্ছেদ-১: পরমাণু অনুসন্ধান (২য় খন্ড) তিনি সহসাই উপলব্ধি করলেন যে, পটাশিয়াম ইউরেনাইল সালফেট হতে যে বিকিরণ উৎপন্ন হয় তার উৎস হচ্ছে এর মধ্যস্থিত ইউরেনিয়াম। কেননা ইউরেনিয়ামযুক্ত অন্যান্য যৌগসমূহও একই ধরনের বিকিরন দেয় এমনকি যারা ফ্লোরোসেন্স প্রদর্শন করে না তারাও। ১৮৯৮ সালে পোলিশ-ফরাসি পদার্থবিদ মেরি কুরি (Marie Curie, ১৮৬৭-১৯৩৪) দেখালেন যে অন্য আরেকটি ধাতু থোরিয়ামও বিকিরন প্রদর্শন করে। তিনি এই দুটি মৌলের আচরণকে যথাক্রমে ইউরেনিয়াম বিকিরন এবং রেডিয়াম তেজষ্ক্রিয়তা হিসেবে অভিহিতে করলেন। বেকরেল এবং কুরি উভয়ই ধারনা করেছিলেন এই দুই পদার্থের বিকিরণ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। ১৮৯৯ সালে নিউজিল্যান্ড বংশদ্ভুত পদার্থবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford, ১৮৭১-১৯৩৭)…

  • অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াসঅনুচ্ছেদ-১: পরমাণু অনুসন্ধান (১ম খন্ড) বিজ্ঞানীরা যখন সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন যে ইলেক্ট্রন পরমাণুর মধ্যেই অন্তুর্ভুক্ত থাকে তখন একটি সমস্যা দেখা দিল; ইলেক্ট্রন ঋনাত্মক চার্জ বহন করে কিন্তু পরমাণু মোটের উপর বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ। তার মানে ইলেক্ট্রনের ঋনাত্মক চার্জের সমপরিমাণ ধনাত্মক চার্জ পরমাণুর মধ্যে থাকতে হবে যা ইলেক্ট্রনের চার্জের সাথে মিলে মোটের উপর পরমাণুকে নিরপেক্ষ করে রাখবে। যদি তা-ই তাহলে তাহলে পরমাণু থেকে ইলেক্ট্রন সরিয়ে দেওয়ার পর যা থাকবে তাকে অবশ্যই ধনাত্মক চার্জ বহন করতে হবে। আর একটি পরমাণুতে যদি বাড়তি ইলেক্ট্রন যোগ করা হয় তাহলে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রনটির ঋনাত্মক চার্জের কারনে পরমাণুকে ঋনাত্মক চার্জযুক্ত হয়ে…