• ১০ নভেম্বর বিশ্ব বিজ্ঞান দিবসে এক বৈঠকে পড়ে শেষ করে ফেললাম ‘ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী’র বই “কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ”। আকৃতিতে ছোট সাইজের এই বইটি একটি ট্রেন ভ্রমণেই শেষ হয়ে গেল। ‘কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ’ নামের বইটি হচ্ছে সলিড স্টেট সিরিজের দ্বিতীয় বই। আগের বইটির চেয়ে এই বইটি অনেক সাবলীলে পড়ে শেষ করতে পেরেছি। আগের বইটি আর এই বইটি ধাঁচের দিক থেকে একই, কিন্তু তারপরেও এই বইটিকে আমি উপরে রাখবো। তার কারণ মনে হয় প্রথম বইটি পড়ার সময় ধরে নিয়েছিলাম এটি পপুলার সায়েন্স জাতীয় বই। কিন্তু আদতে এটি কিছুটা টেক্সট, কিছুটা পপুলার ধাঁচের বই। বলা যায় ‘সেমি-টেক্সট’ বই। মানসিক…

  • স্বপ্নের স্নায়ুবিজ্ঞান সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় ঘুমের সময় মানুষজনের মস্তিষ্কের বিভিন্নধর্মী সক্রিয়তা মাপা হয়েছে ব্রেন স্ক্যানার দিয়ে। স্বপ্নের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে নেয়া যাক। গল্প বলা স্বপ্নেরা রেম ও গভীর নন-রেম দুই ধরনের ঘুমেই দেখা দিলেও রেম-ঘুমেই এসব স্বপ্নের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কে কি কি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হয় তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গল্প বলা স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করবো আমরা। প্রাণীদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম রেম ঘুমের সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুদের সক্রিয়তা PET স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। এই স্ক্যান…

  • জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে আমি বরাবরই আগ্রহী। মহাবিশ্বের উৎপত্তি মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ আমার দারুণ ভাল লাগা কয়েকটি বিষয়ের মাঝে স্থান করে নিয়েছে। আর দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের কাজ তো সমস্ত পৃথিবীতে সাঁরা জাগানো। বরাবরই লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। প্রচার বিমুখ। কথা নেই বার্তা নেই অপ্রত্যাশিতভাবে একদিন সকালে পত্রিকায় দেখি জামাল নজরুল ইসলাম আর নেই। এই সংবাদে সেদিন মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ সালের বইমেলায় তার মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটা নাদুস নুদুস বই লিখেছেন শরীফ মাহমুদ সিদ্দিকী। বইয়ের লেখক জামাল নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত গণিত ও ভৌত…

  • ডিজনি স্টুডিও প্রতি বছর একটি করে ডকুমেন্টারি তৈরি করছে। কোনো কোনো বছর দুটি করেও করছে। প্রতি বছর  Earth Day বা ধরিত্রী দিবসে  রিলিজ হয় একটি করে ডকু ফিল্ম। ডিজনির এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ডিজনির কাজ মানেই ক্লাসিক, আমি ডিজনির অন্যতম ভক্ত। ডিজনি স্টুডিওর করা সকল কিছুই আমার ভাল লাগে। হোক সেটা মুভি, এনিমেশন, ফেইরি বই, কিংবা ডকুমেন্টারি। এই ডকুমেন্টারির সবটুকু সময়ই আবর্তিত হয়েছে একটি ছোট নব জন্ম নেয়া এক শিম্পাঞ্জিকে কেন্দ্র করে। ডকুতে তাকে ডাকা হয় ‘অস্কার’ নামে। মোটা দাগে বলতে গেলে অস্কারের ছোট জীবনের কিছু ঘটনাবহুল চিত্র এতে স্থান পেয়েছে। এই হিসেবে একে নায়ক বলা…

  • পৃথিবীতে পানির মাত্র ২.৫ শতাংশ মিঠাপানি। এ মিঠাপানির ৩০.১ শতাংশ পানি থাকে ভূগর্ভে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি মাঠ-ঘাট, রাস্তা, জলাশয় ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় ও সারাবছর আমাদের পানির চাহিদা মেটায়। সূক্ষ বালিকণা ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় বলে এ পানি হয় বিশুদ্ধ। গভীর নলকূপের পানি তো এতটাই নিরাপদ যে তা না ফুটিয়েই খাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দুশ্চিন্তার বিষয় এই যে দেশে ক্রমাগত ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ভূ-গর্ভে পানি জমা হওয়ার যে হার তার চেয়ে অধিক পরিমাণে পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত চাহিদা…

  • ফাইলি নামে একটি মহাকাশযান 67P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো নামে একটি ধূমকেতুতে অবতরণ করেছে। এই ধূমকেতুটির নাম হয়েছে দুজন রুশ জ্যোতির্বিদের নামে যাঁরা ধূমকেতুটি ১৯৬৯ সনে আবিষ্কার করেছিলেন। আমার প্রথম অভিযোগ হল এরকম একটা নাম এই যানটিকে দেওয়া হয়েছে যার উচ্চারণ সম্পর্কে কেউই একমত নন। ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে Philae – এর উচ্চারণ শুনলাম ফিলাই, ফিলে, ফিলি, ফাইলাই। ১৫ নভেম্বর ইউটিউবে এইজন্য একটা ছোট কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেয়া হয়েছে যেখানে এটাকে বলা হচ্ছে ফাইলাই। অথচ ৭ই জুনের ঐ একই উৎসের একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে উচ্চারণটা ফাইলিও হতে পারে। আমি কেন এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি? আমার মতে মহাকাশযানের নাম এমন হতে…

  • মাইটোকন্ড্রিয়া… জীবিত কোষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংগানু। মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে এলো? এই বিষয়ে চমৎকার একটি তত্ব আছে, যাকে বলা হয় ‘এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরী’। কিভাবে এককালের স্বাধীন ব্যাক্টেরিয়া বহুকোষীর পরাধীন হলো সেইসব ব্যাপার নিয়ে এই থিওরী। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি- মাইটোকন্ড্রিয়া হচ্ছে কোষের পাওয়ারহাউস। কথাটি ভূল নয়, তবে আরো কিছু আনুষঙ্গীক ঘটনা-চক্রে এর গুরুত্বপূর্ন অংশগ্রহন আগ্রহীদের এর সম্পর্কে আরো জানতে উৎসাহী করেছে। একজনের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মাইটোকন্ড্রিয়া কি শুধুই কোষের পাওয়ারহাউস? এর কাজ কি শুধুই কোষের জন্য জটিল কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়া? আমাদের জীবনাচরন, রোগব্যাধী,প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকা, এসব বিষয়ে এর প্রত্যক্ষ কোন প্রভাব কি…

  • কিছুদিন দিন আগে আমি একটা কাপড়ের দোকানে টাকা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো। আমার সামনে একজন মহিলা প্রায় ৫০ বছর বয়সী। হাত পা অস্বাভাবিক ভাবে নড়ছে। অর্থাৎ তার নিজের শরীরের নড়াচড়ার উপর নিয়ন্ত্রণ তেমন নাই। এটা পার্কিনসন্স ডিজিজ এর জন্য গৃহিত এল-ডোপা ঔষধের ক্লাসিক সাইড ইফেক্ট (কিছু অন্য কিন্তু বিরল কারনেও হতে পারে)। মস্তিষ্কের রাসায়নিক যোগাযোগের রোগ পার্কিনসন্স। আমাদের নড়াচড়াকে শিথীল করে দেয়। আর এল-ডোপা ঔষধ নড়াচড়া এত বাড়িয়ে দেয় যে নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আর এর সাথেই জড়িত পরের কাহিনী। টিম লরেন্স নামক একজন স্টান্টম্যান কাজ করেছিলেন ব্রেভহার্ট এবং লন্ডন ইজ বার্নিং এর মত মুভিগুলোতে। কম বয়সেই, অর্থাৎ…

  • রাত হলেই রাস্তার পাশের ল্যাম্প পোস্ট, বাল্ব, টিউব লাইট অথবা খোলা স্থানে আগুন জ্বালালে সেগুলোকে কেন্দ্র করে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গদের উড়তে দেখা যায়। একটু ভালভাবে খেয়াল করলে দেখবেন যে, বিশেষ করে উইপোকা আগুনের খুব কাছাকাছি চলে যায়, এমনকি ঝাঁকে ঝাঁকে তাদের আগুনে ঝাপ দিতেও দেখা যায়। কিন্তু কেন? এর পিছনের বিজ্ঞান কি? এর পেছনের বিজ্ঞান বুঝতে হলে, পতঙ্গদের এই অদ্ভুত আচরণের ব্যাখ্যা জানতে হলে, আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে Phototaxis কি?