• ডিজনি স্টুডিও প্রতি বছর একটি করে ডকুমেন্টারি তৈরি করছে। কোনো কোনো বছর দুটি করেও করছে। প্রতি বছর  Earth Day বা ধরিত্রী দিবসে  রিলিজ হয় একটি করে ডকু ফিল্ম। ডিজনির এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ডিজনির কাজ মানেই ক্লাসিক, আমি ডিজনির অন্যতম ভক্ত। ডিজনি স্টুডিওর করা সকল কিছুই আমার ভাল লাগে। হোক সেটা মুভি, এনিমেশন, ফেইরি বই, কিংবা ডকুমেন্টারি। এই ডকুমেন্টারির সবটুকু সময়ই আবর্তিত হয়েছে একটি ছোট নব জন্ম নেয়া এক শিম্পাঞ্জিকে কেন্দ্র করে। ডকুতে তাকে ডাকা হয় ‘অস্কার’ নামে। মোটা দাগে বলতে গেলে অস্কারের ছোট জীবনের কিছু ঘটনাবহুল চিত্র এতে স্থান পেয়েছে। এই হিসেবে একে নায়ক বলা…

  • পৃথিবীতে পানির মাত্র ২.৫ শতাংশ মিঠাপানি। এ মিঠাপানির ৩০.১ শতাংশ পানি থাকে ভূগর্ভে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি মাঠ-ঘাট, রাস্তা, জলাশয় ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় ও সারাবছর আমাদের পানির চাহিদা মেটায়। সূক্ষ বালিকণা ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় বলে এ পানি হয় বিশুদ্ধ। গভীর নলকূপের পানি তো এতটাই নিরাপদ যে তা না ফুটিয়েই খাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দুশ্চিন্তার বিষয় এই যে দেশে ক্রমাগত ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ভূ-গর্ভে পানি জমা হওয়ার যে হার তার চেয়ে অধিক পরিমাণে পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত চাহিদা…

  • ফাইলি নামে একটি মহাকাশযান 67P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো নামে একটি ধূমকেতুতে অবতরণ করেছে। এই ধূমকেতুটির নাম হয়েছে দুজন রুশ জ্যোতির্বিদের নামে যাঁরা ধূমকেতুটি ১৯৬৯ সনে আবিষ্কার করেছিলেন। আমার প্রথম অভিযোগ হল এরকম একটা নাম এই যানটিকে দেওয়া হয়েছে যার উচ্চারণ সম্পর্কে কেউই একমত নন। ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে Philae – এর উচ্চারণ শুনলাম ফিলাই, ফিলে, ফিলি, ফাইলাই। ১৫ নভেম্বর ইউটিউবে এইজন্য একটা ছোট কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেয়া হয়েছে যেখানে এটাকে বলা হচ্ছে ফাইলাই। অথচ ৭ই জুনের ঐ একই উৎসের একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে উচ্চারণটা ফাইলিও হতে পারে। আমি কেন এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি? আমার মতে মহাকাশযানের নাম এমন হতে…

  • মাইটোকন্ড্রিয়া… জীবিত কোষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংগানু। মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে এলো? এই বিষয়ে চমৎকার একটি তত্ব আছে, যাকে বলা হয় ‘এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরী’। কিভাবে এককালের স্বাধীন ব্যাক্টেরিয়া বহুকোষীর পরাধীন হলো সেইসব ব্যাপার নিয়ে এই থিওরী। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি- মাইটোকন্ড্রিয়া হচ্ছে কোষের পাওয়ারহাউস। কথাটি ভূল নয়, তবে আরো কিছু আনুষঙ্গীক ঘটনা-চক্রে এর গুরুত্বপূর্ন অংশগ্রহন আগ্রহীদের এর সম্পর্কে আরো জানতে উৎসাহী করেছে। একজনের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মাইটোকন্ড্রিয়া কি শুধুই কোষের পাওয়ারহাউস? এর কাজ কি শুধুই কোষের জন্য জটিল কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়া? আমাদের জীবনাচরন, রোগব্যাধী,প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকা, এসব বিষয়ে এর প্রত্যক্ষ কোন প্রভাব কি…

  • কিছুদিন দিন আগে আমি একটা কাপড়ের দোকানে টাকা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো। আমার সামনে একজন মহিলা প্রায় ৫০ বছর বয়সী। হাত পা অস্বাভাবিক ভাবে নড়ছে। অর্থাৎ তার নিজের শরীরের নড়াচড়ার উপর নিয়ন্ত্রণ তেমন নাই। এটা পার্কিনসন্স ডিজিজ এর জন্য গৃহিত এল-ডোপা ঔষধের ক্লাসিক সাইড ইফেক্ট (কিছু অন্য কিন্তু বিরল কারনেও হতে পারে)। মস্তিষ্কের রাসায়নিক যোগাযোগের রোগ পার্কিনসন্স। আমাদের নড়াচড়াকে শিথীল করে দেয়। আর এল-ডোপা ঔষধ নড়াচড়া এত বাড়িয়ে দেয় যে নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আর এর সাথেই জড়িত পরের কাহিনী। টিম লরেন্স নামক একজন স্টান্টম্যান কাজ করেছিলেন ব্রেভহার্ট এবং লন্ডন ইজ বার্নিং এর মত মুভিগুলোতে। কম বয়সেই, অর্থাৎ…

  • রাত হলেই রাস্তার পাশের ল্যাম্প পোস্ট, বাল্ব, টিউব লাইট অথবা খোলা স্থানে আগুন জ্বালালে সেগুলোকে কেন্দ্র করে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গদের উড়তে দেখা যায়। একটু ভালভাবে খেয়াল করলে দেখবেন যে, বিশেষ করে উইপোকা আগুনের খুব কাছাকাছি চলে যায়, এমনকি ঝাঁকে ঝাঁকে তাদের আগুনে ঝাপ দিতেও দেখা যায়। কিন্তু কেন? এর পিছনের বিজ্ঞান কি? এর পেছনের বিজ্ঞান বুঝতে হলে, পতঙ্গদের এই অদ্ভুত আচরণের ব্যাখ্যা জানতে হলে, আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে Phototaxis কি?

  • উল্লেখ বা citation হল কোন গবেষণার নিবন্ধে পুরানো বা আগের কোন পরীক্ষার ফলাফল, প্রক্রিয়া, মতামত, চিন্তা, ধারণা উল্লেখ করা। কোন গবেষণা কতবার উল্লেখিত হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করে গবেষণাটি পরবর্তী গবেষণায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটাও মোটামুটি বোঝা যায়।   নেচার পত্রিকার অতিসাম্প্রতিক সংখ্যাটি খুঁজে বের করেছে এরকম সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখিত গবেষণা নিবন্ধগুলি। প্রথমদিককার প্রায় সবগুলি নিবন্ধই জীববিজ্ঞানের। আমি এখানে প্রথম ১০টি উল্লেখ করে দিচ্ছি, সেইসঙ্গে জানাচ্ছি কোন নিবন্ধটি কী গবেষণা নিয়ে সেটা। এরফলে আমাদের একটু ধারণা হবে পৃথিবীর গবেষণাগারে কীধরনের কাজ হয়, খুব কমন কাজ কোনগুলি ইত্যাদি। ১. ৩,০৫,১৪৮ বার উল্লেখিত Protein measurement with the folin phenol…

  • কার্যকরী ঔষধ এবং টিকা আবিষ্কার না হওয়ার কারণে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা আক্রান্তের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশের মত। সেই সঙ্গে মিডিয়ার কারণে এবং কিছু পশ্চিমা মানুষেরা আক্রান্ত হওয়ার ফলে ইবোলা ভীতি প্রায় সংক্রামক আকার ধারণ করেছে। আসলে রোগটির চেয়ে রোগটির ভীতি বেশি সংক্রামক। কিছু তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেখি। Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী যদি তুলনা করি তবে ইবোলে মোটেই খুব সংক্রামক নয়। বরং মিসেলস বা হাম এবং মাম্পস রোগ ইবোলার চেয়ে বেশি সংক্রামক। উপরের ছবিটা দেখুন। এখানে R0 বা ‘R nought’ দিয়ে বোঝানো হচ্ছে প্রতি একজন রোগাক্রান্ত মানুষ থেকে কয়জন সুস্থ মানুষ ঐরোগে…

  • বেশ কিছুদিন আগে একটা লেখা প্রকাশ করেছিলাম যেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ক্যান্সার সংক্রামক হতে পারে কিনা। কিছু প্রাণীতে এরকম সংক্রমণ সম্ভব। যেমন, তাসমানিয়ান ডেভিল নামের জন্তুটি ক্যান্সার আক্রান্ত হলে সে যদি অন্য তাসমানিয়ান ডেভিলকে কামড়ে দেয় তবে মুখ থেকে ক্ষতে ক্যান্সার কোষ ঝরে পড়ে কামড় খাওয়া জন্তুটিরও ক্যান্সার তৈরি হয়। মানুষে এমন উদাহরণ পাওয়া যায়নি। তবে খুব সম্প্রতি একটি পরীক্ষা বলছে কোষ নয়, বরং ক্যান্সার কোষ থেকে তৈরি হওয়া এক্সোজোম থেকে ক্যান্সার একটি কোষ থেকে আরেক কোষে ছড়াতে পারে। স্বাভাবিক মনুষ্যকোষ কিছু থলির মত ঝিল্লীযুক্ত জিনিস তৈরি করে যেখানে প্রোটিন, ডিএনএ এবং আরএনএ পাওয়া যায়…