• পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভঅধ্যায়-১অনুচ্ছেদ-২: মৌলিক পদার্থ এই বিশ্ব কী দিয়ে তৈরি তা ভেবে প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা চমৎকৃত হতেন। পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এটি অগণিত বিভিন্ন ধরনের বস্তু দিয়ে তৈরি কিন্তু বিজ্ঞানীরা সবসময়ই এই উপাদানগুলোকে সরলীকরনের তাগিদ অনুভব করে আসছেন। বিজ্ঞানীদের কাছে সবসময়ই অনুভূত হয়ে এসেছে যে, এই বিশ্ব কিছু সরল ভিত্তিমূলক উপাদান দিয়ে গঠিত এবং বিশ্বের সবকিছু সেই সরল ভিত্তিগত উপাদানগুলোর বিভিন্ন রকম রূপভেদ এবং সংমিশ্রণ। খুব সম্ভবতঃ থ্যালেস (Thales, ৬৪০ -৫৪৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ছিলেন প্রথম গ্রীক দার্শনিক যিনি মতামত দিয়েছিলেন যে পানিই হচ্ছে এই বিশ্বের সকল বস্তুর মূল ভিত্তি যা দিয়ে সকল বস্তু তৈরি হয়েছে।…

  • পূর্বের লেখা:  মস্তিষ্ক যেভাবে বদলায় আমরা জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ঘুমের মধ্যে কাটাই। এটা কি সময়ের অপচয়? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা একটু কঠিনই বটে। চলুন, কোন ভালো ব্যাখ্যার খোঁজে একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখি। ১৯৫২ সাল। চলছিলো কোরিয়ান যুদ্ধ। সে সময় আমেরিকার সামরিক বাহিনী একটা অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। কারণ চলমান যুদ্ধে বিপক্ষীয় চীনা বাহিনী কর্তৃক আটক হওয়া আমেরিকান সেনাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি যোদ্ধা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহারের মতো উল্টোপাল্টা সব যুদ্ধাপরাধের স্বীকারোক্তি দিচ্ছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার আমেরিকাকে ত্যাগ করে কম্যুনিজম গ্রহণ করে দলিলে স্বাক্ষর দিচ্ছিলো। বোঝাই যাচ্ছে যে তখন এসব ঘটনা চীনাদের পক্ষে খুব শক্তিশালী…

  • পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণমূল: আইজ্যাক আসিমভঅধ্যায় -১: পদার্থপরিচ্ছেদ-১: পদার্থের বিভাজন মনে করুন আপনার কাছে একটি বড়সড় বালুর স্তুপ আছে। বালুর দানাগুলো মসৃন এবং সেগুলো পরিমানে কয়েক লক্ষ। সেই বালুর স্তুপটি নিয়ে আপনার আপাততঃ কিছু করার নেই। এমন পরিস্থিতিতে আপনি চাইলেন বালুর স্তুপটিকে সমান দুইভাগে ভাগ করবেন। প্রথমবার ভাগ করার পর একটি ভাগ ফেলে দিয়ে অপর ভাগটিকে আবারো সমান দুইভাগে ভাগ করলেন। এই দু’টি ক্ষুদ্রভাগের মধ্যে একটি ভাগ ফেলে দিয়ে অপর ভাগটিকে আবারো সমান দুইভাগে ভাগ করলেন এবং এভাবে বারবার ভাগ করতে করতে বালির স্তুপটিকে ছোট থেকে ছোট করতে লাগলেন। আপনি হয়তো এরই মধ্যে ভাবছেন কতক্ষণ এই…

  • অনুসন্ধিৎসু চক্রের সদস্য খুকি আপু  যিনি ডার্ক এনারজি নিয়ে পি.এইচ.ডি. করছে, তিনি একদিন আমাকে টেকনোলজির আদি ঘটনার কিছু কাজের ভিতর বেলুন নিয়ে ঘাটতে বললেন। হালকা পাতলা একটা ঝটিকা অভিযান চালালাম কিছু বই এর উপরে। আমি বেলুনের নানা কাজ দেখে তো  হতবাক! আমরা অনেকেই আকাশ জয়ের কাহিনীতে বেলুন এর অবদানের কথা জানি, প্রয়োজনে নানা আকৃতির বেলুন দিয়ে ঘর সাজিয়েছি। কিন্তু বেলুন যে বিজ্ঞানের অনেক জটিল পরীক্ষায় এখনও ব্যবহার হয় সেটা আমার জানা ছিল না। বেলুন বলতে আমরা গ্যাসীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ পাতলা বস্তুর একটি ছিদ্রহীন বদ্ধ আস্তরণ বোঝাই। অনেক সময় আমরা ঊর্ধ্ব আকাশে কিছু তোলার জন্য বেলুন…

  • কয়েক সহস্রাব্দকাল আগের কথা, যখন বিজ্ঞান বলতে কিছুই ছিলো না, যখন জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর ছিল প্রাকৃতিক দর্শন এবং সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছিলেন দার্শনিক তখন দুনিয়াতে একটি বিদ্যা প্রচলিত ছিলো। এই বিদ্যাটির নাম আলকেমি। আজকের যুগে আলকেমী বলতে আমরা বুঝি তুচ্ছ এবং সহজপ্রাপ্য এবং ক্ষয়িষ্ণু ধাতু যেমন সীসা কিংবা লোহাকে অতিমূলবান এবং সমাদৃত ধাতু যেমন: সোনা এবং রূপায় পরিণত করার বিদ্যাকে। মধ্যযুগে যখন আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এখনকার মতো বিস্তৃতিলাভ করেনি তখন একশ্রেনীর মানুষের মনে ধারনা তৈরি হয় যে তুচ্ছ ও অকিঞ্চিৎকর ধাতুগুলোকে একধরনের পরশপাথরের (Philosopher’s stone) ছোঁয়ায় দুস্প্রাপ্য এবং মূল্যবান ধাতুতে পরিণত করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, আরো…

  • কন্টিনেন্টাল ড্রিফট (দ্বিতীয় পর্ব) প্রথম পর্বের পর থেকে… ভেগেনার তত্ত্ব দাড় করালেন এবং বললেন যে বহুকাল আগে সব মহাদেশ একত্রে মিলে একটি বড় মহাদেশ আকারে ছিল এবং তার নাম দিলেন ‘প্যানজিয়া’। বিজ্ঞানীদের অনুমান আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগের অবস্থা সেটা। এই তিরিশ কোটি বছর আগেকার একটি মাত্র ভূমিকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল একটি মহাসাগর। এই মহাসাগরের নাম দেয়া হল প্যানথালাস। প্যানজিয়া শব্দটার সাথে মিল রেখেই এই শব্দ। গ্রীক Pan শব্দটার অর্থই হচ্ছে ‘সব’ বা ‘সমগ্র’ । Gaea শব্দের অর্থ দাড়ায় ভূমি বা স্থলভাগ। সব মিলে প্যানজিয়া শব্দের অর্থ হয় ‘সমগ্র ভূমি’। প্যানথালাস শব্দের অর্থ…

  • (কন্টিনেন্টাল ড্রিফট) ১ম পর্বআজকের পৃথিবীর সবথেকে উঁচু যে পর্বতমালা হিমালয় তা একসময় এমন ছিল না। যে হিমালয় তার উচ্চতার গুনে উত্তর দিক থেকে আসা কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসকে ঠেকিয়ে রেখে আমাদের রক্ষা করে, সে হিমালয় একসময় এখনকার সমতল ভূমির মতই নিচু ছিল। সামগ্র্ ভারতীয় উপমহাদেশও একসময় এশিয়ার সাথে লেগে ছিল না। আলাদা একটি অংশ ছিল এই ভারত। আর ভারত বলতে তো আমাদের বাংলাদেশকেও বোঝানো হয়। ভারত নামের ভূখণ্ডটি এক সময় চলতে চলতে এশিয়ার ভূখণ্ডের সাথে মিলিত হয়। মিলিত হবার সময় প্রচণ্ড রকমের যে ধাক্কা বা চাপের সৃষ্টি হয়েছিল সে প্রবল চাপের ফলেই ভারত ও এশিয়ার সংযোগ স্থলে…

  • ক্লোন এবং ক্লোনিং কি? আমরা যারা বায়োলজিতে পড়ি অথবা যারা হলিউড প্রেমী তারা হয়তো সবাই কম বেশি ক্লোনিং অথবা ক্লোন শব্দ গুলোর সাথে পরিচিত, তবুও সবার জানার জন্য বলছি, “ক্লোন” শব্দের অর্থ “অনুরূপ প্রতিলিপি” আর ক্লোনিং হলো ক্লোন তৈরির প্রক্রিয়া। একটু ভাল করে বললে, ক্লোনিং হলো অতি অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটা প্রাণীর ক্রোমোজোম বা ডিএনএ (কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের জৈব অ্যাসিড যা একটি জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে –জন্ম, মৃত্যু, চেহারা, আকার-আকৃতি, আচার ব্যবহার, বেড়ে উঠা ইত্যাদি) ব্যবহার করে হুবহু সেই প্রাণীর অনুরূপ আরেকটি প্রাণী করা হয় – যা…

  • একই বিষয়ে পূর্বপ্রকাশিত লেখার দ্বিতীয় পর্ব। এটিও অনুবাদ।  দ্বিতীয় পর্বের লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত অন্যান্য  জীবপ্রজাতির মতই মানব প্রজাতিও দূর্ভিক্ষ, রোগ এবং আবহাওয়ার মত সাধারন প্রাকৃতিক নির্বাচন শক্তিগুলি (natural selection force, এর চেয়ে ভাল বাংলা খুঁজে পেলাম না) দিয়ে প্রভাবিত হয়ে তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। সম্প্রতি, এরকম আরেকটি নতুন নির্বাচন শক্তি আমাদের গোচরে আসছে। চমৎকার এই ধারণাটি হল- গত প্রায় ২০,000 বছর ধরে মানুষ তার অগোচরেই নিজেদের বিবর্তনকে রূপ দিচ্ছে। মানুষের সংস্কৃতি, বৃহদাকারে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় অর্জিত আচরণ, এমনকি প্রযুক্তিও আমাদের বিবর্তনের নির্বাচনিক শক্তি। এই শক্তির উপস্থিতির প্রমাণ একটু আশ্চর্যজনক, কারন অনেকদিন থেকেই ভাবা হত যে…