• আমি জেনিফার ডাউডনা। পেশায় একজন গবেষক—কাজ করি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়াতে। কয়েক বছর আগে আমি এবং আমার সহকর্মী ইম্যানুয়েল শারপ্যান্টিয়ে একসাথে জিনোম সম্পাদনার একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করি। এর নাম ক্রিসপার-ক্যাস নাইন। আপনারা জেনে খুশি হবেন ক্রিসপার ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কোষের ডিএনএ’তে নিখুঁত পরিবর্তন করতে পারেন। আমাদের বিশ্বাস এই প্রযুক্তি আমাদেরকে-বহুকাল-ধরে-ভোগানো অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারবে। এই লেখায় আমি ক্রিসপার আসলে কী,এর ক্ষমতা কতদূর,এই প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের ভাবনা কী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,এর ভবিষ্যত কী—তা নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করতে চাই। আপনারা জেনে অবাক হবেন ক্রিসপার আবিষ্কারের ঘটনা মোটেই খুব পরিকল্পিত কিছু ছিলো না,খুব সাধারণ একটা গবেষণা থেকে…

  • করোনা ভাইরাস আবিষ্কারের নেপথ্যের রাণী জুন আলমেইডার গল্প

    কোভিড-১৯ একবিংশ শতাব্দীর এক কালো থাবা। পুরো বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একটা জীবাণুর কাছে আমরা কতোটা অসহায়। কিন্তু ২০১৯ এ চীনের হুবেই প্রদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে করোনা ভাইরাস ছিলো কীনা এ নিয়ে বিজ্ঞান মহলে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। করোনা ভাইরাস আবিষ্কারের নেপথ্যে কে ছিলেন তা নিয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২০ এ কলামিস্ট স্টিভেন বি.বি.সি নিউজ স্কটল্যাণ্ডে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন । যেই নারী প্রথম করোনা ভাইরাস অনুসন্ধান করেছিলেন তিনি ছিলেন একজন স্কটিশ বাস চালক এর মেয়ে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যিনি স্কুল জীবন থেকে ছিটকে পড়েন। ভাইরাসের…

  • শেখার কোন বয়স নেই। হাতেখড়ির পর স্বরবর্ণ,ব্যঞ্জনবর্ণের পরিচয়ের মাধ্যমে যে পড়াশোনার পাঠ শুরু হয়, তার সমাপ্তি আদৌ নেই। প্রতিনিয়ত আমরা শিখে চলেছি। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, ক্রমান্বয়ে গতিশীল এই শেখার প্রক্রিয়া কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে? কে নিয়ন্ত্রণ করছে? দুটো প্রশ্নের উত্তর যে দিতে পারে সে হচ্ছে মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক হচ্ছে মানবদেহের আশ্চর্য অঙ্গ। রুপকথায় বর্ণিত আলাদীনের চেরাগের বাস্তব দৈত্য বলা যায়। এই মস্তিষ্ক তার বিস্তৃত কর্মকান্ড পরিচালনা করে নিউরণের মাধ্যমে। চেরাগের দৈত্যের হুকুম দেয় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস। আমরা খালি চোখে আকাশে নক্ষত্ররাজি দেখে বিস্মিত হই। মস্তিষ্কে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন নিউরণ আছে – যা খালি চোখে যত নক্ষত্র দেখি…

  • ড্যান ব্রাউনের দ্যা ভিঞ্চি কোড-এর কল্যাণে আমরা প্রায় সবাই গোল্ডেন রেশিও সম্বন্ধে জেনে গেছি। অনেক অনেক জায়গাতে এই গোল্ডেন রেশিও ব্যাবহার করা হয়, একে তো সৌন্দর্যের গাণিতিক মাপকাঠিও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু গোল্ডেন রেশিওর মত সিলভার রেশিও সম্বন্ধে কি আমরা জানি? কিংবা এই গোল্ডেন রেশিও আর সিলভার রেশিও পরিবার মেটালিক রেশিও? কিভাবে বের করা যায় এই রেশিও। আজকে আমরা সাবলীল ভাবে এই ‘কিভাবে’ বের করে ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করব। আবার এটাও জানার চেষ্টা করব এই মেটালিক রেশিওর সাথে গোল্ডেন রেশিও আর সিলভার রেশিওর সম্পর্কটাই বা কী? গোল্ডেন রেশিও   গোল্ডেন রেশিও নিয়ে লিখতে হলে গ্রীক গণিতবিদ…

  • [পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞানের সহজ পাঠ ( একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক উপযোগী ) ] আজ থেকে প্রায় দুই কোটি বছর পূর্বে প্লিউসিন যুগে উদ্ভব হওয়া হোমোস্যাপিয়েন্স তথা আমরা “ভূলোক দ্যূলোক গোলোক ভেদিয়া” পৌঁছে গেছি অসীম মহাবিশ্বের তরে। আমরা জয় করেছি স্থল, জল, মরুভূমি, আন্টার্কটিকা সবকিছুই। তবে পৃথিবীর বুকে যে শুধু আমাদেরই বিচরণ, এরকমটা নয়। বৈজ্ঞানিকগন এ পর্যন্ত দুই লাখ সত্তর হাজার উদ্ভিদ এবং পনেরো লাখেরও বেশি প্রাণি প্রজাতি নিশ্চিতকরণ করেছেন। পৃথিবীর সমস্ত জলচর, উভচর, স্থলচর কিংবা খেচর সকলের মধ্যেই কিছু না কিছু পার্থক্য চোখে পড়ে। এই পার্থক্য  যেমন জিন-প্রজাতি-ইকোসিস্টেম গত, তেমনি হতে পারে দেহের গঠন, বসতি নির্বাচন, চলন,…

  • আমি যখন ‘ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ (DNA Fingerprint)’ শব্দটা প্রথম শুনি তখন মনে করেছিলাম এটা হয়তো ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আংগুলের ছাপ) বের করার কোনো একটা পদ্ধতি। এছাড়াও আমার আরেকটা ধারনা ছিল, ফরেনসিক কেসগুলো সমাধান করার জন্য ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করা হয় ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে চেহারা বের করার জন্য। পরে জানলাম এই ধরনের কাজ এখনো গবেষনা পর্যায়ে আছে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি গুলোতে কিভাবে ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা হয়? আসলে ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে বেশ কয়েক ভাবেই একজন ব্যক্তি কে শনাক্ত করা যায়। যেমন ধরো, সিঙ্গেল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম (SNP), রেস্ট্রিকশন ফ্রাগমেন্ট লেংথ পলিমরফিজম…

  • আমাদের দেহের সকল কাজের নিয়ন্ত্রক মস্তিষ্ক। খাবার খাওয়া, খাবার হজম, হাঁটা-চলা, ঘুমানো, রক্তচাপসহ যাবতীয় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। হোমিওস্ট্যাসিস (Homeostasis) প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য শরীরে এক ধরনের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়- যা হরমোন নামে পরিচিত। হোমিওস্ট্যাসিস মূলত শরীরে পূর্ণ ভারসাম্য অবস্থায় থাকার নাম। মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে পুরো শরীরে হরমোন ভ্রমণ করে থাকে। মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশে রক্ত-জালিকা আছে, যারা জানালা হিসেবে কাজ করে হরমোন চলাচলে। হোমিওস্ট্যাসিস প্রক্রিয়ায় যখন ব্যাঘাত ঘটে, তখন এই ভারসাম্য বিনষ্টের খবর চলে যায় মস্তিষ্কে। হরমোন বাহক হিসেবে কাজ করে। হরমোন ছাড়া ও কিছু সংকেতবাহী রাসায়নিক (signaling molecule) যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে…

  • জীবাণুর বিরুদ্ধে আমাদের অনাক্রম্য ব্যবস্থা(Immune System) যেভাবে যুদ্ধ করে তা মোটেই চাট্টিখানি বিষয় নয়। দেহের ভিতরে জীবাণুরা যেই গতিতে বংশবৃদ্ধি করে, বাঁধা না দিলে আমরা অচিরেই ছাতু হয়ে যেতাম। ভেবে দেখুন মরে যাওয়ার পরে দেহের কি হাল হয়? এর সবই জীবাণুর কম্ম।   যখন আমরা বেচে আছি এবং আমাদের ছাতু করতে চাওয়া জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করছি, তখন ইউমিউন সিস্টেম বেশ ভালোই কাজ করে। বেশির ভাগ সংক্রমণই যেখানে শুরু হয় সেখানেই শেষ হয়ে যায় আমরা টেরই পাইনা।  যেসব অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় তা যেমন কাজের তেমনি বিধ্বংসী। এদের যখন জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়, তখন আশেপাশের আমাদের…

  • ২০২০ বসন্ত-কোয়ার্টারে UCR-এ TA করার সময় শিক্ষার্থীদের বিবর্তন কোর্সে Sharp and Hahn (2011) পেপারটা ডিসকাশন সেকশনে আলোচনা করেছিলাম। তখনো নভেল করোনা ভাইরাস নতুন ছিলো। কিন্তু নভেল করোনা ভাইরাস যেভাবে অতিমারী (pandemic) তৈরি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে, সেটা নতুন ছিলো না। প্রায় একশ বছর আগেই এইচআইভি ভাইরাস প্রায় একই প্রক্রিয়ায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে। এই লেখাতে আমরা এইচআইভি ভাইরাস উদ্ভবের ইতিহাসটা জানবো। বানর থেকে এইচআইভি মহামারীর উদ্ভব ১৯৮১ সালের কথা। বেশ কয়েকজন সমকামী যুবক একটি রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটা বেশ অবাক করা। কারণ তারা মারা গিয়েছিলেন কিছু ব্যাক্টেরিয়ার সুবিধাবাদী সংক্রমণে। এধরণের সংক্রমণ বেশ…