• গ্রিক মিথোলজিতে কাইমেরা নামক এক দৈত্যের কথা উল্লেখ আছে যার শরীর ছিলো তিনটি প্রাণীর সমন্বয়ে গঠিত। মাথাটা ছিল সিংহের, শরীরের মধ্যাংশে ছিল ছাগলের মাথা ঠিক সিংহের মুখের বিপরীতে এর মুখ ঘোরানো  এবং লেজ হিসেবে ছিল একটি সাপ। ভয়ংকর এই দৈত্য ছিল টাইফন এবং একিডনা নামক দুই দৈত্যের সন্তান। আর সেরবেরাস এবং হাইড্রা ছিল এর ভাই বোন। গ্রিক পুরাণের সেই কাইমেরা নামটি এখন ব্যবহৃত হয় একাধিক প্রাণীর শরীর এর কোনো অংশ নিয়ে গঠিত কোনো প্রাণীকে বোঝাতে। সেটি হতে পারে একই দেহে দুই সেট ক্রোমোজোম যার এক সেট ক্রোমোজোম হবে অন্য কারো কিংবা সেই ব্যক্তি এখনো পৃথিবীতেই নেই।…

  • একটি প্রচলিত বাক্য আমরা সচরাচর দেখে থাকি।  “ধূমপানে ক্যান্সার হয়, এমনকি মৃত্যু ও হতে পারে।” এই সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ বার্তা যত্রতত্র দেখেছেন হয়তো। মুভির শুরুতে, বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপনে এমনকি খোদ সিগারেটের প্যাকেটে লিখা থাকে।  এইসব দেখেও ,না দেখার ভান করে মানুষ দেদারসে বিড়ি ফুঁকছে,  সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাখছে নিজেকে। ধূমপান বা মারিজুয়ানার প্রভাব ব্যক্তির ক্ষেত্রে ,মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে ভয়ংকর। আসুন, সেসব নিয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা হয়ে যাক। কেন মানুষ নিকোটিনে আসক্ত হয়? একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের সিগারেটে আসক্ত হবার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। সব তো ব্যাখ্যা করা বা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। গবেষকরা প্রধানত যেসব কারণ চিহ্নিত করেছেন…

  • রোগব্যাধী ও মৃত্যু থেকে দূরে থাকার জন্য বর্তমানে  আমাদের আছে বৈচিত্র্যময় ও বিশাল পরিমাণ ঔষধের সরবরাহ। মজার ব্যাপার হলো জীবন রক্ষাকারী উল্লেখযোগ্য অনেক ঔষধ তৈরী করা হয়েছে প্রাণঘাতী বিভিন্ন বিষ থেকে। উপরের চিত্রটি মানুষের পরিচিত সবচেয়ে বিষাক্ত উপাদানের ত্রিমাত্রিক গঠন। এই বিষাক্ত যৌগটির মাত্র এক চা চামচ পরিমাণ, একটি দেশের সকল মানুষকে মারার জন্য যথেষ্ট। এক কেজি পরিমাণ এই বিষ সমগ্র পৃথিবীর সকল মানুষকে মারতে সক্ষম। এই বিষ এতটাই বিপদজনক যে সামরিক নিরাপত্তায় এটিকে উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি, এ বিষের প্রতি কেজির মূল্য ১০০ ট্রিলিয়ন ইউরো। যা পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত তৈরী হওয়া সবচেয়ে দামী ও ব্যয়বহুল…

  • রসিকেরা বলে থাকেন, আমাদের আদি-পিতা মাতাকে বেহেশত থেকে বের করে দেয়ার কারন আসলে একঘেয়েমী। অফুরন্ত সুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যে অতল একঘেয়েমীর সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্ররোচনাতেই তারা নিষিদ্ধ ফলের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। ইসস!! ওনারা এটা না করলে আমরাও হয়তো… যাই হোক, আমরা যারা যারা এই মুহুর্তে একঘেয়েমীতে ভুগছি তারা তারা একটু নড়ে চড়ে বসি- কেননা এই লেখাটি আমাদের জীবন বদলে দিতে যাচ্ছে…না। একঘেয়েমী এক ধরনের অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা যাকে আমরা কেউই চাইনা। অনেক মানুষ পাওয়া যাবে যারা কষ্ট পেতেও ভালোবাসে, কিন্তু একঘেয়েমীর প্রশ্নে পলায়নপর। আমরা আমজনতা নিজেদের সুখ, দুঃখ নিয়ে যতটা পেরেশান হই, এদের পেতে বা রেহাই…

  • বিগব্যাং থেকে পরমাণু   আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব এর একটি সমাধান থেকে বেরিয়ে আসে মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রসারণশীল। এই কথা আইনস্টাইন নিজেই বিশ্বাস করতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন মহাবিশ্ব নিজে নিজে কি করে প্রসারিত হতে পারে! তাই সেই সমাধান সংশোধন করার জন্যে তিনি তাঁর আপেক্ষিকতার সূত্রে একটা মহাজাগতিক ধ্রুবক বসিয়ে দিলেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী হাবল বিখ্যাত ডপলার ইফেক্ট এর মাধ্যমে দেখান যে গ্যালাক্সি গুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারপর মহাজ্ঞানী আইনস্টাইন তার ভুল বোঝতে পেরে বলেন, ‘এটি ছিল আমার জীবনের মস্ত বড় এক ভুল’। যেহেতু গ্যালাক্সি গুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তার মানে অবশ্যই মহাবিশ্বের সব কিছু…

  • আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কত কিছুই না করি। তার মধ্যেই ফুরসত পেলেই ফোনের প্লে-লিস্ট থেকে গান শুনি। শত কাজের ব্যস্ততা সত্ত্বেও খানিক অবসরে, আয়েশ খুঁজি গান শোনায়। কারো কারো ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম হতে পারে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বোধহয় গান শোনার দলেই। মন ভালো থাকলে গান শোনা, মন খারাপ থাকলে গান শোনা- এইসব কিছু দারুণভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মস্তিষ্কের মাধ্যমে। সংগীতের প্রভাব মস্তিষ্কে বিস্ময়কর। অনেকে আছে, গান গাইতে পছন্দ করে। আবার অনেকে গান গাওয়ার চাইতে শুনতে বেশি স্বস্তি পান। আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়ে চলছে। সহজ কথায় প্লাস্টিকের মত আচরণ করে। তাই এই বৈশিষ্ট্যকে মস্তিষ্কের নমনীয়তা (neural…

  • আগামীর চিকিৎসার অস্ত্র: স্টেম সেল

    অনেক সময় সায়েন্স ফিকশনের মুভিগুলিতে দেখা যায়- কিছু মানুষেরা সুনির্দিষ্ট ক্ষমতার (স্পেশাল পাওয়ার) অধিকারী থাকে৷ বাচ্চাদের অতি প্রিয় Ben-10 কার্টুনের কথায় যদি ধরি সেখানে নায়ক বেনের হাতের ঘড়ির কারণে সে চাইলেই কোন অ্যালিয়েনে রূপান্তরিত হতে পারে৷ আবার, টিন টাইটানস কার্টুনে দেখা যায় বিস্ট বালক (Beast boy) চাইলেই যে কোন প্রাণীর আকার ধারণ করতে পারে। Marvel এর অতিপরিচিত X-men মুভির কথাতে যদি আসি সেখানেও অধিকাংশ চরিত্রের ক্ষেত্রে এরকমটা লক্ষ করা যায়। যেমন: রেবেন নামক মেয়ে চাইলেই যে কোন রুপ ধারণ করতে পারে আবার একই মুভির নায়ক লোগানের রয়েছে  আক্রান্ত হলে দ্রুত সেড়ে যাওয়া (healing power) ক্ষমতা। আবার,…

  • কন্সপিরেসি থিওরি হলো কোনো ঘটনাকে ভুলভাবে  ব্যাখ্যা করে তার সাথে উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা মিশিয়ে তাকে দিয়ে রহস্যময় করে তোলা কনসেপ্ট যেটা সমাজের একদল লোককে প্রবলভাবে  প্রভাবিত করে এবং বেশিরভাগ সময়ই এটা সমাজে পাকাপোক্তভাবে গেঁড়ে বসে যায়৷ এটা সাধারণত জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি, প্রভাবশালী অভিনেতা বা রাজনৈতিক ব্যক্তির দ্বারা চালু হয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করে। প্রাচীনকাল থেকেই এসব বিশ্বাস চালু ছিল কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকার কারণে একটি নিদিষ্ট গোত্রের মধ্যেই সেটা সীমাবদ্ধ থাকত কিন্তু বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তির যুগে সামান্য বিষয়ই বিশাল আকার ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কারণে। সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু কন্সপিরেসি থিওরির মধ্যে একটি…

  • শৈশব এবং যৌবনের মধ্যবর্তী সময়কাল হচ্ছে কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল (Puberty)। বয়ঃসন্ধি দেহের একটি স্বাভাবিক বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া। কারো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ধীরে শুরু হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে দ্রুত শুরু হয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধি বলতে আমরা বুঝে থাকি, হঠাত করে কিছু পরিবর্তন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। এই যেমন ধরুন- কন্ঠস্বরে পরিবর্তন, গায়ের গন্ধ, চুলের বৃদ্ধি ইত্যাদি। কারো ক্ষেত্রে আবার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দেখা দেয়। খেয়াল করলে দেখবেন – হুট করে কেউ অনেক লম্বা হয়ে গেছে বা অনেক মোটা হয়ে গেছে। এইসব পরিবর্তনের জন্য আদতে ব্যক্তি দায়ী নয়। কলকাঠি নাড়ে মস্তিষ্ক এবং বাস্তবায়ন করে হরমোন। মন্ত্রী মস্তিষ্ক তারা সাগরেদ হরমোনদের হুকুম…