• আমাদের দেহের সকল কাজের নিয়ন্ত্রক মস্তিষ্ক। খাবার খাওয়া, খাবার হজম, হাঁটা-চলা, ঘুমানো, রক্তচাপসহ যাবতীয় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। হোমিওস্ট্যাসিস (Homeostasis) প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য শরীরে এক ধরনের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়- যা হরমোন নামে পরিচিত। হোমিওস্ট্যাসিস মূলত শরীরে পূর্ণ ভারসাম্য অবস্থায় থাকার নাম। মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে পুরো শরীরে হরমোন ভ্রমণ করে থাকে। মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশে রক্ত-জালিকা আছে, যারা জানালা হিসেবে কাজ করে হরমোন চলাচলে। হোমিওস্ট্যাসিস প্রক্রিয়ায় যখন ব্যাঘাত ঘটে, তখন এই ভারসাম্য বিনষ্টের খবর চলে যায় মস্তিষ্কে। হরমোন বাহক হিসেবে কাজ করে। হরমোন ছাড়া ও কিছু সংকেতবাহী রাসায়নিক (signaling molecule) যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে…

  • জীবাণুর বিরুদ্ধে আমাদের অনাক্রম্য ব্যবস্থা(Immune System) যেভাবে যুদ্ধ করে তা মোটেই চাট্টিখানি বিষয় নয়। দেহের ভিতরে জীবাণুরা যেই গতিতে বংশবৃদ্ধি করে, বাঁধা না দিলে আমরা অচিরেই ছাতু হয়ে যেতাম। ভেবে দেখুন মরে যাওয়ার পরে দেহের কি হাল হয়? এর সবই জীবাণুর কম্ম।   যখন আমরা বেচে আছি এবং আমাদের ছাতু করতে চাওয়া জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করছি, তখন ইউমিউন সিস্টেম বেশ ভালোই কাজ করে। বেশির ভাগ সংক্রমণই যেখানে শুরু হয় সেখানেই শেষ হয়ে যায় আমরা টেরই পাইনা।  যেসব অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় তা যেমন কাজের তেমনি বিধ্বংসী। এদের যখন জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়, তখন আশেপাশের আমাদের…

  • ২০২০ বসন্ত-কোয়ার্টারে UCR-এ TA করার সময় শিক্ষার্থীদের বিবর্তন কোর্সে Sharp and Hahn (2011) পেপারটা ডিসকাশন সেকশনে আলোচনা করেছিলাম। তখনো নভেল করোনা ভাইরাস নতুন ছিলো। কিন্তু নভেল করোনা ভাইরাস যেভাবে অতিমারী (pandemic) তৈরি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে, সেটা নতুন ছিলো না। প্রায় একশ বছর আগেই এইচআইভি ভাইরাস প্রায় একই প্রক্রিয়ায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে। এই লেখাতে আমরা এইচআইভি ভাইরাস উদ্ভবের ইতিহাসটা জানবো। বানর থেকে এইচআইভি মহামারীর উদ্ভব ১৯৮১ সালের কথা। বেশ কয়েকজন সমকামী যুবক একটি রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটা বেশ অবাক করা। কারণ তারা মারা গিয়েছিলেন কিছু ব্যাক্টেরিয়ার সুবিধাবাদী সংক্রমণে। এধরণের সংক্রমণ বেশ…

  • প্রাগৈতিহাসিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব থেকে এই অধুনা যুগ পর্যন্ত পৌঁছুতে পারার পেছনে সবচাইতে বড় যে কারণ সেটি হচ্ছে আমাদের প্রত্যেকের উন্নত এবং অনেক বড় একটি মস্তিষ্ক আছে। আমারা ভাবতে পারি, চিন্তা করতে পারি, উদ্ভাবন করতে পারি এসবের পেছনেই রয়েছে আমাদের এই চমৎকার মস্তিষ্কের ভূমিকা। আমাদের মস্তিস্কের ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি। যা আমাদের শরীরের জন্যে যতটুকু প্রয়োজন ছিল সে তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি। এবং এতে আছে প্রায় একশো বিলিয়ন নিউরন বা স্নায়ু কোষ। আমাদের প্রাইমেট বর্গের অন্যান্য নিকট আত্মীয় যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা এদের কিন্তু এত বড় মস্তিষ্ক নেই। শিম্পাঞ্জির মস্তিষ্ক তার শরীরের তুলনায় মাত্র দুই গুণ বড়…

  • আপনাকে যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি, এই প্রশ্নটি করা হয় তবে আমি নিশ্চিত আপনি তৎক্ষণাৎ উত্তরটি বলবেন -“মাউন্ট এভারেস্ট”। কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোনটি এবং কোথায় এটি অবস্থিত? আজকের এই লেখায় পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ(খাদ) নিয়ে আলোচনা করব যা প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত  বিশ্বের গভীরতম সমুদ্রখাদ।  পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮৮৫০ মিটার বা ২৯০৩৫ ফিট যা নেপাল ও চীনের সীমান্তরেখায় অবস্থিত। অপরদিকে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার (৩৬,২০১ ফিট) অর্থাৎ প্রায় ৭ মাইলের সমান! অর্থাৎ পুরো মাউন্টcএভারেস্টকেও যদি তুলে এনে এই জায়গায়…

  • ধরা যাক, আপনার কাছে n টি আলাদা রঙের বল আছে। আপনি এদেরকে কতভাবে এক লাইনে সাজাতে পারেন? এই সহজ প্রশ্নটির উত্তর হলো n! যাকে আমরা পড়ি n ফ্যাক্টোরিয়াল। উদাহরণস্বরূপ, লাল (R), কালো (B), সাদা (W) এই তিন রঙের বল থাকলে আমরা RBW, RWB, BRW, BWR, RWB, RBW এই ছয় উপায়ে এদের এক লাইনে সাজাতে পারি। কাজেই 3!=6। আমরা প্রথমে চেষ্টা করি $n!$ কে কোন সাধারণ সূত্র দিয়ে লেখা যায় কিনা। খেয়াল করি, এক লাইনে $n$ টি বস্তুকে সাজাতে গেলে আমরা $n$ টি আলাদা ঘর চিন্তা করতে পারি। আমাদের কাজ বস্তুগুলোকে সেই ঘরে একেক ক্রমে বসানো। এখন,…

  • (অনুবাদক: সম্প্রতি Scientific American এ প্রকাশিত এরিকা সেনিরো-এর ” The Environment’s New Clothes: Biodegradable Textiles Grown from Live Organisms ” লেখাটি পড়া হয়। আমাদের দেশের অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তি টেক্সটাইল খাত হলেও বর্তমানে অনেকেরই এ টেক্সটাইল খাত সম্পর্কে তেমন কোনো ধারনা নেই আর না ধারনা আছে এ খাতের পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে।বর্তমান পৃথিবীর মূল উদ্বেগ হচ্ছে পরিবেশ ও এর সুরক্ষা। তাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম বড় এই কারন অর্থাৎ টেক্সটাইল খাত থেকে পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য চলেছে অনেক গবেষণা। এ লেখাটি সেরকমই একটি গবেষণার অনুবাদ। ) কোনো কাপড় যখন ছিড়ে যায় বা পুরনো হয়ে যায় তখন প্রায়ই সেটাকে…

  • সিকল কোষের রোগ কী নিরাময়যোগ্য ?

    শেকলের বেড়িকে কোন মানুষ কিংবা প্রাণী সজ্ঞানে সহজে মেনে নিতে পারেনা। মানসিক জ্ঞান হারিয়ে না ফেললে কোন মানুষকেই শিকল বন্দি করে বেঁধে রাখা যায়না। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে কেন অপ্রাসংগিক কথা তুললাম? রক্ত সংবহনতন্ত্রের তিন রক্ত কণিকার অন্যতম সদস্য লোহিত কণিকাগুলো যখন কাস্তের মতো বেঁকে পরস্পর নকশা করে থাকে এবং রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে তখনই সিকল কোষের রোগ (কাস্তে কোষ ব্যাধি) সৃষ্টি হয়।  সিকল সেল ডিজিজ/ সিকল সেল ডিজিজ/ সিকল কোষ রোগ ( SCD) পারিবারিক সূত্রে পাওয়া সবচেয়ে সাধারণ রোগ। এটা বংশগত সূত্রে ছড়ায়, তার মানে আপনি জন্ম নিতে পারেন এস.সি.ডি( sickle cell disease) নিয়ে। সিকল…

  • একবিংশ শতাব্দীকে বলা হয় বায়োটেকনোলজী বা জীবপ্রযুক্তির শতাব্দী। অথচ এই সময়ে এসেও আজ পৃথিবীর মানুষকে এক হাত করে নিয়েছে ‘নভেল করোনা ভাইরাস’। পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য মানুষ মারাত্মক শ্বাসকষ্ট সৃষ্টিকারী এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে, যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এ ভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারছি। কিভাবে এটি রোগ সৃষ্টি করে, কিভাবে ছড়ায়, কিভাবে এর প্রতিরোধ করা যেতে পারে এসব সম্পর্কে প্রতিনিয়তই আমরা নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। আগামীতে আরো পাবো। আমাদের বিজ্ঞান পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীরই হয়তো ইচ্ছা অনুজীবঘটিত এসব রোগ এবং রোগের সমাধান করা যায় কিভাবে তা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। তাহলে…