• অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে স্যামুয়েল হানিম্যান বলে এক জর্মন ডাক্তার নতুন এক চিকিৎসা-পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। এর নাম ‘হোমিওপ্যাথি’। সিনকোনা গাছের বাকল থেকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ বানানো যায় এ-খবর অনেক কাল থেকেই মানুষের জানা ছিলো। হানিম্যান পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, সুস্থ মানুষকে সিনকোনা গাছের বাকল খাওয়ালে তার দেহে ম্যালেরিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এই ঘটনা থেকেই হানিম্যান হোমিওপ্যাথির মূলতত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন। ‘Extraordinary claims require extraordinary evidence’~Carl Sagan হানিম্যানের তত্ত্বের দুটি প্রধান নীতি ছিলো। প্রথমত,যা খেলে কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দেয়,সেটাই ভিন্ন ডোজে ওই রোগ সারাতে পারে দ্বিতীয়ত,ওষুধকে যত বেশি লঘু করা যাবে,ওষুধ তত বেশি শক্তিশালী হবে। এই নীতি অনুসারে, অনিদ্রা রোগের…

  • অপবিজ্ঞানের ব্যবচ্ছেদ-নব্যপৃথিবী সৃষ্টিতত্ত্ববাদীদের যত কাণ্ড! (পর্ব-২)

    বিবর্তন তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করতে অনেকেরই তো অনেক প্রয়াস দেখলেন, আজকে আমরা জানব ‘ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশানিজম’ নামে এক অদ্ভুত প্রস্তাবনা নিয়ে। বাংলায় বলা যায়, ‘নব্য পৃথিবী সৃষ্টিতত্ত্ববাদ’। পুরো লেখায় ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশানিজম-ই ব্যবহৃত হবে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের আশীর্বাদে আমরা জানতে পেরেছি যে আমাদের মহাবিশ্ব প্রায় ১৩.৮  বিলিয়ন বছর আগে মহা বিস্ফোরণের ফলে আবির্ভূত হয়েছে। আর এই মহাজাগতিক যাত্রায় পৃথিবীর যোগদান মোটামুটি সাড়ে চার শ কোটি বছর আগে। আমরা নানানভাবে এসবের স্বপক্ষে এতসব প্রমাণ পেয়েছি যে এখন আর এতকিছুকে মিথ্যে প্রমাণ করার অবকাশ নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কিছু লোক প্রাচীন কিছু মিথোলজিকাল বইপত্র ঘেঁটে দেখলেন, পৃথিবীর বয়স দাঁড়ায়…

  • পৃথিবীতে পানির পরিমাণ  সময়টা গোধুলি। সূর্য অস্ত যাবে যাবে। আকাশ রক্তিম। সম্পূর্ণ রক্তিম না। হলুদ, কমলা, এবং লালেরা মিলে একটি ছবি আঁকছে। সেইন্ট মার্টিনের সৈকতে দাঁড়িয়ে আছে কিছু যুবক। তাদের পায়ে লেপটে আছে সৈকতের বালু। ঢেউ এসে পা ধুয়ে দিচ্ছে। এক পা আগাতেই আবারো দুই পা বালুময়। কোলাহল বিবর্জিত সন্ধ্যা। কিছু সামুদ্রিক বুবি পাখি ভরপেটে এখানে সেখানে টহল দিচ্ছে।  যুবকদল ক্লান্ত। তাদের মাঝে কেউ কেউ সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  যত এগিয়ে যাচ্ছে ততই কাছে বঙ্গোপসাগরের আলিঙ্গনের হাতছানি। অদৃশ্য মায়ায় সমুদ্র তাদের ডাকে। পরক্ষণেই সমুদ্রের গভীরতা তাদের ভয় পাইয়ে দেয়। তারা অবিচলিত, তবে কিছুটা পিছিয়ে আসে। জোয়ারের…

  • প্রায় ২৬০০ বছর আগের কথা। বর্তমান ভারতের বেনারসের নিকটবর্তী কোনো এক অচেনা জনপদ। কাছেপিঠেই ছোট্ট এক আলো ঝলমলে কুঁড়েঘরে বাস করতেন মহর্ষি সুশ্রুত, তখনকার দিনে সে অঞ্চলের পরিচিত মুখ– জ্ঞানী, গুণী ও মহানুভব এক শল্য চিকিৎসক। সময়ে-অসময়ে তার কাছেই যেকোনো রোগ-ব্যধি-পথ্যের প্রয়োজনে ছুটে আসতেন স্থানীয় মানুষজন। হাত বাড়াতেই পেয়ে যেতেন প্রয়োজনীয় ওষুধ-চিকিৎসা। তেমনি এক ঝড়বাদলের মধ্যরাতের ঘটনা। সুশ্রুত-র কুঁড়েঘরের দরজায় অকস্মাৎ টুকা পড়লো– ঠক ঠক ঠক। কে এসেছে বাইরে? প্রশ্ন শেষ না হতেই দরজা খুলে তার পদযুগলে লুটিয়ে পড়লেন এক যুবক। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে তার নাক বেয়ে। রক্তের তোড়ে ভিজে যাচ্ছে তার পুরো মুখাবয়ব!…

  • এ দর্শনের মূল শিক্ষা হচ্ছে আপনি যেমন আছেন ঠিক তেমন সত্ত্বাটিকেই আলিঙ্গন করুন। আপনার অপূর্ণতা ও খুঁতগুলোকে লুকানোর চেষ্টা করবেন না। এগুলোই আপনার স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ সম্প্রতি এক্স-রে ন্যানোইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কঠিন ইলেক্ট্রোলাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম আবিষ্কার করেন যা ওয়াবি সাবির শিক্ষাকেই প্রতিফলন করে। (এই লেখায় কোনো শব্দের পাশে [↓] চিহ্ন শব্দটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নির্দেশ করে, যা লেখার শেষে ‘তথ্য সমৃদ্ধি’ অনুচ্ছেদে পাওয়া যাবে।) উপরের দুইটি কাপ থেকে যদি যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয় আপনাকে, তাহলে আপনি অবধারিতভাবেই হয়তো বামের কাপটিকে বেছে নিবেন। এর কারণ বামের কাপটি…

  • প্রবাহী পদার্থের কোলাহল পদার্থের প্রচলিত সব ধরনের অবস্থার মধ্যে কঠিন এবং প্রবাহী পদার্থের (তরল, বায়ু) সাথে আমাদের পরিচিতি সবচেয়ে বেশি। এই দুই প্রকার পদার্থের মাঝে মূল পার্থক্য হলো সামান্যতম ধাক্কা বা বলের ইশারা (non-zero force) পেলেই তরল এবং বায়বীয় পদার্থ আর আগের আকৃতিতে থাকে না, তারা রূপ পরিবর্তন করে ফেলে। অন্যদিকে কঠিন পদার্থের আকৃতি পরিবর্তনের জন্য এবং তাকে তার জায়গা থেকে সরানোর জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি (yielding force) প্রয়োগ করতে হয়। প্রবাহী পদার্থের কোলাহল আমাদের চারপাশে সর্বত্র। পুকুরে ছোঁড়া ছোট্ট ঢিলের তরঙ্গ থেকে উত্তাল সাগরের উর্মিমালা, নিশ্বাসের নিস্তব্ধতা থেকে আগ্নেয়গিরির ধূমায়িত চিৎকার, গাছের পাতাকে…

  • আজকের দিনে মদ আর বিয়ার (যবসুরা) শিল্প শয়ে শয়ে বিলিয়ন মূল্যের। কি করে এই শিল্প এ পর্যায়ে এলো তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাণরসায়নের এক দারুণ প্রক্রিয়ার আবিষ্কার। এর নাম গাঁজন (ইংরেজিতে ফারমেন্টেশন)। কিন্তু ইতিহাসে বহু আগে থেকেই মানুষ এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আসছে। তবে কেবল মদ তৈরিতেই নয় খাবার সংরক্ষণ, স্বাদ বর্ধন আর পুষ্টির চাহিদা মেটাতেও যুগ যুগ ধরে গাঁজন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আসছে মানুষ। তবে ঠিক কবে থেকে মানুষ এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে তা ঠিকঠাক করে বলা মুশকিল।

  • এখন থেকে প্রায় ৫০ বছর পরের কথা। বাংলাদেশী কিছু বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে পৃথিবীর প্রথম টাইম মেশিন আবিষ্কার হয়েছে। কিছু পশু পাখির ওপর পরীক্ষা করে সফল হয়েছে এই প্রজেক্ট। তাই এখন তারা ‘হিউম্যান ট্রায়াল’ এর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে হিউম্যান সাবজেক্ট এর জন্য। অফারটি লোভনীয়! তাই আপনি আবেদন করে ফেললেন। এর কিছুদিন পর আপনার ডাক আসলো। চলে গেলেন তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে! ‘আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে অতীতে ভ্রমণ করবেন আপনি। ভাগ্য আপনার সহায় হোক!’ যান্ত্রিক কণ্ঠ ভেসে আসলো কম্পিউটারের ভেতর থেকে। বিজ্ঞানীরা আপনাকে একটা বিশাল কাঁচের ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা আটকে দিয়েছে।…

  • আমি নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন আমাদের জীববিজ্ঞানের শিক্ষক অলিপ স্যারের মুখ থেকে প্রথম ‘স্টেম সেল’ নামটা শুনি। তখন একে সাদাসিধে কোষই মনে করেছিলাম। পরে বুঝতে পারি যে এটা মোটেও অতটা সহজ-সরল নয়ঃ আর এই প্যাঁচাইলে মার্কা কোষের উপর ভিত্তি করেই আমরা সবাই দাঁড়িয়ে আছি। স্টেম সেল নিয়ে ইতিমধ্যে বহু গবেষণাপত্র আর বই লেখা হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনে হয়ত বাংলায় বিচিত্র সব কল্পগল্পও লেখা হবে। এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় বুধবার ‘স্টেম কোষ সচেতনতা দিবস’ পালন করা হয়। তবুও বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে কেন যেন এই টার্মটা অতটা পরিচিত নয়।  কী এই স্টেম সেল? লেখার…