• প্রকৃতি জীবনের গল্প লিখেছে কতগুলো নিউক্লিওটাইড বেস দিয়ে। সেই গল্পের ভাষা হল জিন। আর কোডন হচ্ছে এর অক্ষরস্বরুপ। কিন্তু ইচ্ছে হলেই সেই ভাষার কোন রকম পরিবর্তন এর কথা আমরা ভাবতে পারতাম না। তাই যেভাবেই জীবন নামক উপন্যাস রচিত হয় সেভাবেই উপভোগ করতে হয় আমাদের। সে দুঃখ কিংবা সুখকর। কিন্তু অণুজীববিদ এমানুয়েল শারপেনটিয়ার, প্রাণরসায়নবিদ জেনিফার ডাওডনা নামের দুই মহারথী এ অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ গতবছর রসায়নবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। তারা ক্রিসপার/ক্যাস ৯ নামক এক ধরনের জেনেটিক সিসর বা জৈবিক কাঁচি উদ্ভাবন করেন যা দিয়ে জীবের জিনোমে ইচ্ছেমত পরিবর্তন করা যায়। কোন জীবের ক্রোমোজোমে থাকা…

  • শিরোনামটা একটু কঠিন মনে হতে পারে, তাই শুরুতে কয়েকটা সংজ্ঞা পরিষ্কার করে নিলে সম্পুর্ণ ব্যাপারটাবুঝতে সুবিধা হবে। অনকো (onco) শব্দের অর্থ টিউমার (tumor), আর লাইটিক (lytic) মানে ধ্বংস বা বিনাশ করা (destruction)। অতএব, অনকো লাইটিক মানে হলো টিউমারকে ধ্বংস করা বা বিনাশ করা। এখন, যদি বলি অনকো লাইটিক ভাইরাস, তার মানে দাঁড়ায়, যে ভাইরাস টিউমারকে ধ্বংস করে। তাহলে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, অনকো লাইটিক ভাইরাস থেরাপি হলো ভাইরাস দিয়ে টিউমার চিকিৎসা করা। ব্যাপারটা খুবই ইন্টারিস্টং তাই তো! কিন্তু মনে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়? ভাইরাস টিউমার কে বিনাশ করবে কিভাবে? ভাইরাস তো নিজেই ক্যান্সার বা টিউমার হতে সাহায্য…

  • ১৯৭৬ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়া শহরে প্রতিবছরের মতোই আমেরিকার সৈন্যদের সম্মেলন হলো। ইংরেজিতে বলে লিজিওনারি কনভেনশান। সেই সম্মেলনে সাড়ে ৪ হাজার সৈন্য অংশগ্রহন করেন, সৈন্যরা যেহেতু বেশিরভাগই প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক সেহেতু তাদের গড় বয়স বেশিই ছিলো। সম্মেলনের প্রধান কার্যক্রম হয় শহরের সবচেয়ে বড় হোটেলগুলির একটিতে, বেলভেউ স্ট্র্যাটফোর্ড। আশ্চর্যজনক ঘটনা পরবর্তীতে ঘটে। এই সম্মেলনে অংশ নেয়া বহু মানুষ রোগাত্রান্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তী বেশ কয়েকদিনে মোট ৩৪ জন সৈন্য যারা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা মারা যান, কোন এক দূরারোগ্য রোগে। সৈন্যদের বিশেষভাবে আক্রমণ করেছে বলে এই রোগটাকে ‘লিজিওনেয়ার্স ডিজিজ’ বা সৈন্যদের রোগ হিসেবে ডাকা শুরু করে লোকে।…

  • সময় জানা এখন খুব মামুলি একটি বিষয় হলেও যখন ঘড়ি ছিল না তখন সঠিক সময় জানা ছিল অসাধ্য একটি কাজ। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মিশরীয়রা প্রথম সূর্যঘড়ি বা ছায়াঘড়ি নামে এক ধরণের ঘড়ি আবিষ্কার করেছিল। এর আগে মানুষ সময় বুঝতো দিনের আলো বা রাতের তারা দেখে। মিশরীয়রা সময় নির্ণয় করতে খোলা জায়গায় একটি লাঠি পুতে রাখতো। সেই লাঠিকে ঘিরে ছোটো বড় কিছু চক্র এঁকে সময়ের সংকেত লিখে রাখতো। লাঠির ওপর সূর্যের আলো পড়লে তার ছায়া পড়তো মাটিতে, তা থেকেই সময় বোঝা যেত। এটাই ছিল সূর্যঘড়ি। এমন একটি ঘড়ি আজো রক্ষিত আছে বার্লিন মিউজিয়ামে। বাইবেলের ওল্ড…

  • এ বছরের শুরুতে চীনের উহাং প্রদেশে প্রথম আবির্ভাব ঘটে করোনা ভাইরাসের। সেই থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসটি কেড়ে নিয়েছে ১,৭৭৮,৩২১ জনের প্রাণ। বছরের শেষ হতে চলল কিন্তু করোনা ভাইরাস আমাদের ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। সেই সাথে প্রতিনিয়তই এ নিয়ে চলছে গবেষকদের নানা গবেষণা আর বেড়িয়ে আসছে নানান তথ্য। বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন ডেভেলাপের আশায় করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। গত সপ্তাহে বায়োআর্কাইভ প্রিপ্রিন্টে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র জানান দিচ্ছে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে নিয়ানডার্থাল জিন প্রকরণের প্রভাব সম্পর্কে। আপনি যদি করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে আপনার পূর্বপুরুষ নিয়ানডার্থাল ছিল কিনা তা বোঝার সুযোগ আছে। কিছু সংখ্যক মানুষের ক্রোমোজোমে নিয়ানডার্থাল মানুষের জিনপ্রকরণ এর সন্ধান…

  • (লেখাটি Smithsonian magazine এ প্রকাশিত Rasha Aridi লিখার ভাবানুবাদ) কোভিড -১৯ প্যান্ডেমিক বিশ্বকে একাকী করে তুলছে, যেহেতু মানুষ ঘরে আবদ্ধ আছে। মানুষ চাইছে তাদের প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হতে। একাকীত্ব কে এড়ানোর প্রবৃত্তি আমাদের মস্তিষ্কে সব সময় অন্তর্নিহিত আছে। সম্প্রতি Nature Neuroscience এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, সামাজিক মেলামেশার জন্য আকাঙ্ক্ষা ঠিক একই ভাবে মস্তিষ্কে ক্রিয়া দেখায় যেমনটা একজন ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের জন্য করে । Massachusetts Institute of Technology (MIT) এর একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী লিভিয়া তমোভা ( Livia Tomova) এবং তার সহযোগীরা মিলে ১০ঘন্টা ব্যাপী ক্ষুধার্ত থাকা ৪০ জন মানুষের উপর একটি গবেষনা করেছেন। দিনশেষে তাদের…

  •   (লেখাটি নিউইয়র্ক টাইমসে কার্ল জিমারের লেখা Most New York Coronavirus Cases Came From Europe, Genomes Show এর ভাবানুবাদ। লেখাটি এই বছর এপ্রিলের ৮ তারিখে লেখা।) নতুন একটি গবেষণার মতে নিউয়র্কে আক্রান্ত রোগী শনাঙ্ক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ফেব্রুয়ারী মাঝামাঝি সময়েই করোনাভাইরাস নিউইয়র্কে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটি ইউরোপের ভ্রমণকারীদের কাজ থেকে ছড়ায়, এশিয়ার কারো থেকে নয়। হার্ম ভেন বেকেল এর মতে বেশীরভাগ করোনা ভাইরাস ইউরোপিয়ানদের থেকে এসেছে। তিনি মাউন্ট সিনাই-এর ইকান স্কুল অফ মেডিসিনের জিনতত্ত্ববিদ এবং একটি গবেষণাপত্র লিখেছেন যেটা রিভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। (অনুবাদক: গবেষণাটি সায়েন্স জার্নালে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে) এন ওয়াই ইউ গ্রসম্যান স্কুল অফ…

  • (লেখাটি Nature এ প্রকাশিত আর্টিকেল  “How stress can cause a fever” এর ভাবানুবাদ) স্টেজে দর্শকের সামনে কথা বলতে গেলে আমাদের সকলেরই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে, আমরা ঘামতে থাকি। পাশাপাশি আমাদের দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এই উদ্দীপনার মূলে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা আমাদের দেহকে আসন্ন বিপদের মুখোমুখি হতে তৈরি করে। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ হতে মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জ্বর হতে পারে। কিন্তু আমরা কি জানি এই ঘটনার পেছনে কোন স্নায়বিক প্রক্রিয়া কাজ করছে? আমাদের দেহের সকল অনুভূতি কোনো না কোনো স্নায়বিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।  কিন্তু মানসিক চাপে পড়লে বা ভয় পেলে কেন আমাদের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি…

  • তথ্যপ্রযুক্তি যখন আরাধ্য হয়ে ওঠে, তখন মনে হতেই পারে আলাউদ্দীনের আশ্চর্য প্রদীপটি পাওয়া গেছে। ঠিকমতো ‘ঘষতে’ পারলে (পড়ুন সঠিক ‘App’-এ ‘swap’ করতে পারলে) দারিদ্র্য থেকে এইডস পর্যন্ত সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে। এটা একটুকুও বাড়িয়ে বলা নয়। সিলিকন ভ্যালিতে এরকম ধারণা প্রচলিত আছে যে ‘সঠিক’ প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধান করা যাবে। যেমন ‘একটি শিশুর জন্য একটি ল্যাপটপ‘-প্রচারণার উদ্যোক্তা নিকোলাস নেগ্রোপন্টে মনে করেন কমদামী ল্যাপটপ দিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বের সকল পীড়া সারিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু আসলেই কি তাই? এ মতবাদের দুইটি বড় সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, সকল সামাজিক-অর্থনৈতিক-মানবিক সমস্যাকে প্রযুক্তিগত দিকটা বড় করে অন্যান্য জটিল মাত্রা…