• এই লেখাটি যখন লিখছি তখন করোনার ভ্যাক্সিন আবিস্কার অনেক এগিয়ে গেছে। ইউকে তাদের নাগরিক দের ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু করতে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সারাবিশ্বের দিন রাত পরিশ্রম করে যাওয়া বিজ্ঞানীদের এই কর্মযজ্ঞ এককথায় অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাক্সিন আবিস্কারের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে সময় প্রয়োজন তার থেকেও অনেক কম সময়ে ভ্যাক্সিনের ছাড়পত্র পাবার বিষয়টি নানা কারনে শংকা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের আনাচে কানাচে পৌঁছে যাবার কারনে ভ্যাক্সিন এর চাহিদাও সর্বোচ্চ সীমায়। জনবহুল দেশ হওয়াতে বাংলাদেশের নাগরিক দের জন্য ভ্যাক্সিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে তোড়জোড়। এ পর্যন্ত বিশ্বের যারা…

  • করোনার মধ্য দিয়েই কি mRNA ভ্যাক্সিনের বিপ্লব ঘটবে?

    ভাইরাস এবং ভ্যাক্সিন এখন বলা যায় “ভয় এবং ভরসা” শব্দ দুইটির সাথে বেশি যায়। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আমরা বুঝতে পেরেছি ভাইরাস যতটা না সহজলভ্য, ভ্যাক্সিন ততটাই মূল্যবান আর কষ্টসাধ্য৷ পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারীর কারণেই গত কয়েক মাসে জনসাধারণ অনেকগুলি বৈজ্ঞানিক শব্দের সাথে পরিচিত হয়েছে। যেমন: কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গনিরোধ, লকডাউন, মাস্ক বা মুখোশ পরিধান, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি। এসব শিখতে গিয়েই আমাদের ভাইরাস সংক্রামণ কমাতে PCR পদ্ধতিতে ভাইরাস সনাক্তকরণের মতো সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া জানতে হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ের খবরে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে “এম-আরএনএ (mRNA) ভ্যাক্সিন” শব্দটি। দুইটি কোম্পানির তৈরি mRNA-ভ্যাক্সিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখিয়েছে। অবশ্য আপনি…

  • মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিক পদার্থের অতিক্ষুদ্র কণা যেগুলো প্লাস্টিক পদার্থের তৈরি বৃহত্তর বস্তু ভাঙ্গনের ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং জমা হয়। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশের জন্য একটি বিশাল হুমকির কারণ। এগুলো সহজেই প্রাণীদের খাবারের সাথে প্রাণী দেহে প্রবেশ করে আর এগুলো এত ক্ষুদ্র যে এগুলো পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো সমুদ্রের মধ্যে অনেক বিস্তৃত, তবে স্থলে বিশেষ করে দূরবর্তী পর্বতের চূড়ায় এসবের অস্তিত্ব নিয়ে তেমন গবেষণা করা হয় না। সম্প্রতি গবেষকরা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং রোলেক্স পের্পেটুয়াল প্ল্যানেট এর এভারেস্ট অভিযান হতে প্রাপ্ত তুষার ও প্রবাহের নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মাউন্ট এভারেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রমাণ পেয়েছেন।  বেইজ ক্যাম্পের আশেপাশে যেখানে…

  • ১. যদি আপনি ঠিকমতো খেয়াল করে না থাকেন, গত কয়েক বছরে জিনোমিকসবিদ্যায় অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে। যেমন এখন কোন মানুষের জিনোম পড়ে সেখানে থাকা সকল ভুল সংশোধন করা সম্ভব। শুনতে ভীতিকর মনে হতে পারে, কিন্তু জিনোমিকসের অজস্র রেকর্ড আছে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনীকে বাস্তবে পরিণত করার। ক্যামব্রিয়ান জেনোমিকসের সিইও অস্টিন হেইনজ গর্ব নিয়ে যেমনটা বলেছেন – ‘যা কিছুই জীবিত সকলকেই আমরা নতুন করে লিখতে চাই।’ মাত্র ২০১০ সালে মেরিল্যান্ডে ক্রেইগ ভেন্টরের নের্তৃত্বে আমারা কৃত্রিম জিনোমিকসের যুগে প্রবেশ করি। তাঁরা তখন সিন্থিয়া তৈরি করেছিলেন – যা হলো বিশ্বের প্রথম ব্যক্টেরিয়া যার মাতা (এক অর্থে) কম্পিউটার। ব্যক্টেরিয়াটি খুবই সরল, তার ডিএনএ…

  • (এটি Nature Career column এ Julia Nolte এর লেখা “Why comparing yourself to other graduate students is counter-productive” এর অনুবাদ) কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইথাকা, নিউয়র্কে মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি করার মাঝামাঝি সময় আমার মনে হলো একটা প্রজেক্ট শেষ এবং পাবলিশ করার জন্য যে মানসিক ক্ষমতা লাগে তা আমার নেই। এটা মনে হচ্ছিলো অন্য গ্র্যাজুয়েট ছাত্ররা যে সময়ে কয়েকটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করছিলো, আমার একটি এক্সপেরিমেন্ট করতেই একই সময় লাগছিলো। আমি আমার সর্বোচ্চ পরিশ্রম করছিলাম কিন্তু আমার অগ্রগতি অন্যদের তুলনায় ধীর মনে হচ্ছিলো। আমি যখন আমার সুপারভাইজারের সাথে বিষয়গুলো শেয়ার করলাম তিনি জিনিসগুলো অন্যভাবে নিলেন। তিনি আমাকে নিশ্চিত করলেন “তুমি ভুল…

  • আমাদের দেহের গাঠনিক উপাদানের কথা চিন্তা করলে আসবে অস্থি-তরুণাস্থি সমন্বিত শিরা-উপশিরা, লসিকাতন্ত্র, পরিপাক তন্ত্র, রেচনতন্ত্র, নিউরন-পেশী ইত্যাদির সংমিশ্রণে গঠিত এক জটিল গাঠনিক ক্রিয়াকলাপ৷ অর্থাৎ, মানবদেহ আর যাই হোক মোটেও কোন সহজ কাঠামো নয়৷ আর, অণুজীববিজ্ঞানীদের চোখে দেখলে হবে নানা ধরণের অনুজীবের সমাহারে গঠিত মানবদেহ ৷ তবে এটা মোটেও কোন নিছক খেলার বিষয়বস্তু নয়।  বিষয়টা অনেকটা এমন — আপনি যদি কোন রসায়নবিদের কাছে যান তিনি আপনাকে সবকিছুতে ক্রিয়া-বিক্রিয়া দেখাবে, পদার্থবিদের কাছে অণু-পরমাণুর খেলা, গণিতবিদের কাছে লাভ-ক্ষতির হিসাব, দার্শনিকের কাছে গেলে সব কিছুতে দার্শনিক যুক্তি মিলাবে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনার দেহের অর্ধেকেরও বেশি মানব অংশ নয়। হ্যা, শুনতে অদ্ভুত…

  • ১. আবুল বাজনদার গান-বাজনা করতেন কি না জানি না, তবে খবরে পাওয়া যায় তিনি পেশায় ছিলেন ভ্যান-চালক। কিন্তু গত-দশ বছর ধরে তার দু’হাতের আঙ্গুলে গাছের শেকড়-বাকড়ের মতো অদ্ভূতদর্শন অংশ গজিয়ে ওঠা শুরু করলে তার পক্ষে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে এই অস্বাভাবিক অসুখের খবর বাংলাদেশের তথ্যমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. সামন্ত লাল সেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্তত ষোলটি অপারেশনের মাধ্যমে হাতের বৃক্ষ-ঝুড়িগুলো কেটে ফেলা হলে এখন তিনি সুস্থ। বাজনদার এখন নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে খেলতে…

  • ১. রোনাল্ড রস তখন ব্রিটিশ আর্মির সার্জন হিসেবে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে কাজ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে খুশিই ছিলেন। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব সার্জন থেকে বের হয়েছেন মাত্র বছর-দুই হলো। তরুণ বয়সে ইচ্ছা ছিলো লেখক হবেন; কিন্তু তার বাবা লন্ডনের একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দেন। রস যে মেডিকেল কলেজে কঠোর পরিশ্রমে পড়াশুনা করতেন এমন না। তার অনেকটা সময় চলে যেত কবিতা লিখে, নাটক আর সঙ্গীত রচনা করে। সময়টা ১৮৮৩ সাল, পেশাগত জীবন মাত্র শুরু তখন। ব্যাঙ্গালোর বেশ পছন্দই হলো তাঁর। এখানকার রৌদ্রজ্বল দিন, বাগান আর ভিলা তার মতে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সুন্দর জায়গা। কিন্তু রোনাল্ড রস…

  • ( নীচের লেখাটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে প্রকাশিত ডগলাস মেইনের লেখা ‘Worls largest cave fish discovered in India’ এর অনুবাদ।) এখন পর্যন্ত ২৫০ প্রজাতির গুহাবাসী মাছ পাওয়া গিয়েছে যারা ঘুটঘুটে অন্ধকারময় জায়গায় সামান্য খাদ্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। যেহেতু খাবারের জন্য খুব বেশি কিছু মিলে না তাই এরা আকারে ছোট হয়, সাধারণত কয়েক ইঞ্চি লম্বা। কিন্তু গবেষকরা ভারতের এক পাতাল গহ্বরে একটি মাছ আবিষ্কার করেছেন যা প্রায় দেড় ফুট লম্বা। যা জানা প্রজাতিগুলো থেকে প্রায় দশগুন ভারী। যখন জীববিজ্ঞানী ডেনিয়েল হ্যারিস ২০১৯ সালের অভিযানে প্রথম এই মাছটি দেখেন তখন তিনি বিস্মিত ও বিহম্বল হয়ে পড়েন। “আমার প্রথম…