• টেস্টিং সল্ট, যেটাকে MSG (Monosodium Glutamate) বলে আর এর ই-নাম্বার হলো E621 ।  তো, আসা যাক মূল কথায়। MSG নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে বেশ বহু বছর ধরেই যে, এটা asthma, headaches এমনকি brain damage করতে পারে বলে ধারণ করা হয়। যদিও কিডনি ড্যামেজের কথা কোথাও উল্লেখ করা হয় না, তবে বাংলাদেশে তো গুজব ছড়ায় দ্রুত, তাই বাংলাদেশের সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে সেই সাথে কিডনি ড্যামেজও সংযুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ অফিসিয়াল সোর্স বলে, পরিমাণমতো MSG নিরাপদ। কিন্তু সেটার দিকে না চোখ না দিয়ে চলুন আমরা দেখি MSG এর কার্যকলাপ। MSG কী? MSG বা Monosodium Glutamate বা E621,…

  • (লেখাটি Nautilus এর Neuroscience পেইজে প্রকাশিত Michael Segal র লেখা Are there bacteria in your brain এর ভাবানুবাদ) মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা অভ্যাসে হয়ে উঠেছিল রোজালিন্ডা রবার্টস ‘র। প্রায় তিন যুগ ধরে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপে মস্তিষ্কের কোষ দেখেন। প্রায় প্রতিসময় কিছু “অচেনা বস্তু”- ডট এবং প্যাটার্ন দেখতেন ছবিতে, যেগুলো সেখানে থাকার কথা ছিল না। তাছাড়া তিনি কোন ভাবেই সেগুলোকে মিলাতে পারছিলেন না সিন্যাপ্সিসের সাথে এবং যে টপিক নিয়ে তিনি পড়ছিলেন তার সাথেও! তিনি ব্যাখ্যা করে বলেনঃ আমি তখন বলে উঠতাম, “নাহ, এদের প্রতি আর মনোযোগ দেবো না!” তারপরের ঘটনা এখনকার আলোচ্য। মস্তিষ্কে ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পাওয়া সুখবর নয়…

  • মহাকাশের প্রতি মানুষের কৌতুহল সেই প্রাচীনকাল থেকে। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারা দেখে দেখে পৃথিবী নামক গ্রহের অধিবাসীদের মহাকাশের প্রতি ভালবাসা, আবেগ ও অনুভূতি জন্মায়। মহাকাশের সৌন্দর্য মানুষের মনে জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়। নানা সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে মানুষের মাথায়  মহাকাশ ভ্রমণের ভূত মাথায় চেপে বসে।  নানা চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে উনবিংশ শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে মানুষের কাঙ্খিত মহাকাশ যাত্রা সফলতার মুখ দেখে। পৃথিবীর বাইরের জগৎ অন্বেষণের জন্য মহাকাশযুগের সূচনার পর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন কক্ষপথের উদ্দেশ্য হাজার হাজার রকেট, কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করছি। কিন্তু নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য এসব মহাকাশযান ও…

  • এই লেখাটি যখন লিখছি তখন করোনার ভ্যাক্সিন আবিস্কার অনেক এগিয়ে গেছে। ইউকে তাদের নাগরিক দের ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু করতে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সারাবিশ্বের দিন রাত পরিশ্রম করে যাওয়া বিজ্ঞানীদের এই কর্মযজ্ঞ এককথায় অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাক্সিন আবিস্কারের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে সময় প্রয়োজন তার থেকেও অনেক কম সময়ে ভ্যাক্সিনের ছাড়পত্র পাবার বিষয়টি নানা কারনে শংকা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের আনাচে কানাচে পৌঁছে যাবার কারনে ভ্যাক্সিন এর চাহিদাও সর্বোচ্চ সীমায়। জনবহুল দেশ হওয়াতে বাংলাদেশের নাগরিক দের জন্য ভ্যাক্সিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে তোড়জোড়। এ পর্যন্ত বিশ্বের যারা…

  • করোনার মধ্য দিয়েই কি mRNA ভ্যাক্সিনের বিপ্লব ঘটবে?

    ভাইরাস এবং ভ্যাক্সিন এখন বলা যায় “ভয় এবং ভরসা” শব্দ দুইটির সাথে বেশি যায়। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আমরা বুঝতে পেরেছি ভাইরাস যতটা না সহজলভ্য, ভ্যাক্সিন ততটাই মূল্যবান আর কষ্টসাধ্য৷ পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারীর কারণেই গত কয়েক মাসে জনসাধারণ অনেকগুলি বৈজ্ঞানিক শব্দের সাথে পরিচিত হয়েছে। যেমন: কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গনিরোধ, লকডাউন, মাস্ক বা মুখোশ পরিধান, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি। এসব শিখতে গিয়েই আমাদের ভাইরাস সংক্রামণ কমাতে PCR পদ্ধতিতে ভাইরাস সনাক্তকরণের মতো সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া জানতে হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ের খবরে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে “এম-আরএনএ (mRNA) ভ্যাক্সিন” শব্দটি। দুইটি কোম্পানির তৈরি mRNA-ভ্যাক্সিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখিয়েছে। অবশ্য আপনি…

  • মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিক পদার্থের অতিক্ষুদ্র কণা যেগুলো প্লাস্টিক পদার্থের তৈরি বৃহত্তর বস্তু ভাঙ্গনের ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং জমা হয়। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশের জন্য একটি বিশাল হুমকির কারণ। এগুলো সহজেই প্রাণীদের খাবারের সাথে প্রাণী দেহে প্রবেশ করে আর এগুলো এত ক্ষুদ্র যে এগুলো পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো সমুদ্রের মধ্যে অনেক বিস্তৃত, তবে স্থলে বিশেষ করে দূরবর্তী পর্বতের চূড়ায় এসবের অস্তিত্ব নিয়ে তেমন গবেষণা করা হয় না। সম্প্রতি গবেষকরা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং রোলেক্স পের্পেটুয়াল প্ল্যানেট এর এভারেস্ট অভিযান হতে প্রাপ্ত তুষার ও প্রবাহের নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মাউন্ট এভারেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রমাণ পেয়েছেন।  বেইজ ক্যাম্পের আশেপাশে যেখানে…

  • ১. যদি আপনি ঠিকমতো খেয়াল করে না থাকেন, গত কয়েক বছরে জিনোমিকসবিদ্যায় অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে। যেমন এখন কোন মানুষের জিনোম পড়ে সেখানে থাকা সকল ভুল সংশোধন করা সম্ভব। শুনতে ভীতিকর মনে হতে পারে, কিন্তু জিনোমিকসের অজস্র রেকর্ড আছে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনীকে বাস্তবে পরিণত করার। ক্যামব্রিয়ান জেনোমিকসের সিইও অস্টিন হেইনজ গর্ব নিয়ে যেমনটা বলেছেন – ‘যা কিছুই জীবিত সকলকেই আমরা নতুন করে লিখতে চাই।’ মাত্র ২০১০ সালে মেরিল্যান্ডে ক্রেইগ ভেন্টরের নের্তৃত্বে আমারা কৃত্রিম জিনোমিকসের যুগে প্রবেশ করি। তাঁরা তখন সিন্থিয়া তৈরি করেছিলেন – যা হলো বিশ্বের প্রথম ব্যক্টেরিয়া যার মাতা (এক অর্থে) কম্পিউটার। ব্যক্টেরিয়াটি খুবই সরল, তার ডিএনএ…

  • (এটি Nature Career column এ Julia Nolte এর লেখা “Why comparing yourself to other graduate students is counter-productive” এর অনুবাদ) কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইথাকা, নিউয়র্কে মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি করার মাঝামাঝি সময় আমার মনে হলো একটা প্রজেক্ট শেষ এবং পাবলিশ করার জন্য যে মানসিক ক্ষমতা লাগে তা আমার নেই। এটা মনে হচ্ছিলো অন্য গ্র্যাজুয়েট ছাত্ররা যে সময়ে কয়েকটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করছিলো, আমার একটি এক্সপেরিমেন্ট করতেই একই সময় লাগছিলো। আমি আমার সর্বোচ্চ পরিশ্রম করছিলাম কিন্তু আমার অগ্রগতি অন্যদের তুলনায় ধীর মনে হচ্ছিলো। আমি যখন আমার সুপারভাইজারের সাথে বিষয়গুলো শেয়ার করলাম তিনি জিনিসগুলো অন্যভাবে নিলেন। তিনি আমাকে নিশ্চিত করলেন “তুমি ভুল…

  • আমাদের দেহের গাঠনিক উপাদানের কথা চিন্তা করলে আসবে অস্থি-তরুণাস্থি সমন্বিত শিরা-উপশিরা, লসিকাতন্ত্র, পরিপাক তন্ত্র, রেচনতন্ত্র, নিউরন-পেশী ইত্যাদির সংমিশ্রণে গঠিত এক জটিল গাঠনিক ক্রিয়াকলাপ৷ অর্থাৎ, মানবদেহ আর যাই হোক মোটেও কোন সহজ কাঠামো নয়৷ আর, অণুজীববিজ্ঞানীদের চোখে দেখলে হবে নানা ধরণের অনুজীবের সমাহারে গঠিত মানবদেহ ৷ তবে এটা মোটেও কোন নিছক খেলার বিষয়বস্তু নয়।  বিষয়টা অনেকটা এমন — আপনি যদি কোন রসায়নবিদের কাছে যান তিনি আপনাকে সবকিছুতে ক্রিয়া-বিক্রিয়া দেখাবে, পদার্থবিদের কাছে অণু-পরমাণুর খেলা, গণিতবিদের কাছে লাভ-ক্ষতির হিসাব, দার্শনিকের কাছে গেলে সব কিছুতে দার্শনিক যুক্তি মিলাবে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনার দেহের অর্ধেকেরও বেশি মানব অংশ নয়। হ্যা, শুনতে অদ্ভুত…