• ১. আবুল বাজনদার গান-বাজনা করতেন কি না জানি না, তবে খবরে পাওয়া যায় তিনি পেশায় ছিলেন ভ্যান-চালক। কিন্তু গত-দশ বছর ধরে তার দু’হাতের আঙ্গুলে গাছের শেকড়-বাকড়ের মতো অদ্ভূতদর্শন অংশ গজিয়ে ওঠা শুরু করলে তার পক্ষে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে এই অস্বাভাবিক অসুখের খবর বাংলাদেশের তথ্যমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. সামন্ত লাল সেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্তত ষোলটি অপারেশনের মাধ্যমে হাতের বৃক্ষ-ঝুড়িগুলো কেটে ফেলা হলে এখন তিনি সুস্থ। বাজনদার এখন নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে খেলতে…

  • ১. রোনাল্ড রস তখন ব্রিটিশ আর্মির সার্জন হিসেবে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে কাজ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে খুশিই ছিলেন। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব সার্জন থেকে বের হয়েছেন মাত্র বছর-দুই হলো। তরুণ বয়সে ইচ্ছা ছিলো লেখক হবেন; কিন্তু তার বাবা লন্ডনের একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দেন। রস যে মেডিকেল কলেজে কঠোর পরিশ্রমে পড়াশুনা করতেন এমন না। তার অনেকটা সময় চলে যেত কবিতা লিখে, নাটক আর সঙ্গীত রচনা করে। সময়টা ১৮৮৩ সাল, পেশাগত জীবন মাত্র শুরু তখন। ব্যাঙ্গালোর বেশ পছন্দই হলো তাঁর। এখানকার রৌদ্রজ্বল দিন, বাগান আর ভিলা তার মতে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সুন্দর জায়গা। কিন্তু রোনাল্ড রস…

  • ( নীচের লেখাটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে প্রকাশিত ডগলাস মেইনের লেখা ‘Worls largest cave fish discovered in India’ এর অনুবাদ।) এখন পর্যন্ত ২৫০ প্রজাতির গুহাবাসী মাছ পাওয়া গিয়েছে যারা ঘুটঘুটে অন্ধকারময় জায়গায় সামান্য খাদ্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। যেহেতু খাবারের জন্য খুব বেশি কিছু মিলে না তাই এরা আকারে ছোট হয়, সাধারণত কয়েক ইঞ্চি লম্বা। কিন্তু গবেষকরা ভারতের এক পাতাল গহ্বরে একটি মাছ আবিষ্কার করেছেন যা প্রায় দেড় ফুট লম্বা। যা জানা প্রজাতিগুলো থেকে প্রায় দশগুন ভারী। যখন জীববিজ্ঞানী ডেনিয়েল হ্যারিস ২০১৯ সালের অভিযানে প্রথম এই মাছটি দেখেন তখন তিনি বিস্মিত ও বিহম্বল হয়ে পড়েন। “আমার প্রথম…

  • ভাইরাস কি আসলেই আমাদের ভবিষ্যৎ-সম্ভাবনার দ্বার?

    ভাইরাস শব্দটি মূলত আক্রমনাত্মক এবং সংক্রামক স্বভাবেই বেশি পরিচিত। খালি চোখে দেখতে না পাওয়া এই জীবতত্ত্বিক রসায়ন অসংখ্য মৃত্যু এবং অসুস্থতার সাথে জড়িত। একটি ক্ষতিকর ভাইরাস মহামারীর মত প্রতিবেশি, শহর, এমনকি কোন ভৌগলিক এলাকাকে নিদারুণ উদ্ভট আতংকে ফেলতে পারে৷ যার প্রমাণ আমরা এই করোনার কারণে ভালোই উপলব্ধি করতে পারছি৷ আর এই খালি চোখে অদৃশ্য ভাইরাস পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই বিদ্যমান। এরা ছত্রাক, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষকেও সংক্রামিত করতে পারে৷ তবে, সব ভাইরাসই খারাপ নয়৷ কিছু ভাইরাস বিপদজনক ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করে ৷ কিছু মানব দেহের প্রোবায়োটিক-ব্যাকটেরিয়ার (যে ব্যাকটেরিয়া মানুষের উপকার করে) মতই প্রতিরক্ষা-ভাইরাস হিসাবেও কাজ করে। আসলে,…

  • গণিতে প্রচুর পরিমাণে কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট ব্যবহৃত হয়, আমরাও আমাদের কথার মাঝে প্রচুর কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট ব্যবহার করি। যেমন, ‘যদি আজ বৃষ্টি নামে তবে বাংলাদেশ জিতে যাবে’, ‘যদি কোন আয়তের দুটি সন্নিহিত বাহু সমান হয় তবে এটি একটি বর্গ’। আমরা উদাহরণগুলো থেকে কন্ডিশনাল স্টেটমেন্টের কিছু বৈশিষ্ট্য খেয়াল করি- প্রতিটি স্টেটমেন্টের গঠন এরকম: ‘যদি Statement1 তবে Statement2’ (‘If Statement1 then Statement2’), এখানে দুটো Statement ‘If…then..’ দিয়ে যুক্ত হয়েছে। মানে দুটো সিম্পল স্টেটমেন্ট মিলে কমপ্লেক্স আরেকটা স্টেটমেন্ট। Statement1 কে বলা হয় Hypothesis, Statement2 কে বলা হয় Conclusion। পুরো কন্ডিশনাল স্টেটমেন্টটি মিথ্যা হবে যদি Hypothesis সত্য হলেও Conclusion মিথ্যা হয়। যেমন…

  • চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পাঁচ মাসের ভিতরেই বিশ্বের প্রায় সমস্ত ভূখন্ড দখলে নিয়েছে অতিক্ষুদ্র ভাইরাস সার্স-করোনাভাইরাস-২। স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যুক্তরাস্ট্র মৃত্যুর মিছিলেও এগিয়ে। অন্যান্য ডিএন এ বা আর এন এ ভাইরাসের থেকে কম গতিতে নিজেকে পাল্টাচ্ছে এই ভাইরাস। দ্রুত গতিতে পাল্টালে এর বিধ্বংসী ভাব কমে আসতো কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। রয়েছে তাপমাত্রা, আদ্রতা,বয়সজনিত ব্যধি এরকম অনেক বিষয় যা এর উপর প্রভাব ফেলছে। মানসিক ও শারীরিক ভাবে অস্থির হয়ে পড়ছে গৃহবন্দী মানুষ। বাড়ছে আতংক। কাজ বন্ধ থাকায় সঞ্চয় কমে আসা মানুষরা বের হতে বাধ্য হচ্ছে। আক্রান্তদের ভিতরে শতকরা হারে মৃত্যু কিংবা জটিল অবস্থার সংখ্যা…

  • বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী পেক্ষাপটে “ভাইরাস” একটি বহুল আলোচিত ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী শব্দ। কিন্তু, কখনো কি মনে হয়েছে নামটির উদ্ভব কিভাবে হলো? কিংবা কেনই বা একে আমরা ভাইরাস বলি?  আসলে, ভাইরাস শব্দটি এসেছে ইতালির একটি শব্দ “ওয়েইস-ও-(এস-)” থেকে যাকে ল্যাটিন শব্দে রূপান্তরিত করলে “ভাইরাস” নামটি পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ল্যাটিন ভাষা হতে ধার করা একটি শব্দ হলো এই ভাইরাস। ইতালিয়ান শব্দটির অর্থ ছিলো বিষাক্ত তরল।  কিন্তু, ভাইরাস শব্দটির অর্থ হলো, বিষ কিংবা গাছের রস কিংবা, আঠালো-তরল কিংবা, এক ধরনের শক্তিশালী জ্যুস। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। প্রথম আবিষ্কারের  ঘটনাটি পড়লে এ নামের পিছনের…

  • শ্বাসতন্ত্রের যেসব ভাইরাস সাধারণ সর্দি, ঠান্ডা অথবা আরো মারাত্মক উপসর্গের জন্য দায়ী তারা মূলত নাক ও মুখ দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। নাক ও মুখের গভীরে এই অংশকে ফ্যারিংক্স বলে যেটির সবথেকে উপরের অংশ ন্যাসোফেরিংক্স (নাকের গভীরের অংশ), এরপর অরোফেরিংক্স (মুখ গহ্বর এর ভিতরে) এবং হাইপোফেরিংক্স ( অরোফেরিংক্স এর আরো খানিকটা নীচে)। অন্যান্য ভাইরাসের মতো সার্স-কভ-২ এর প্রাথমিক সংক্রমণে এই অঞ্চল গুলোতে ভাইরাস অবস্থান করে এবং এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাইরাস পাওয়া ও যায়। যার কারনে এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। ঠান্ডা কাশিতে লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া আমাদের ঘরোয়া চিকিৎসা তে একটি বহুল…

  • কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের জন্য দায়ী সার্স-কভ-২ ভাইরাস শনাক্তকরণে বিশ্বব্যাপী রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ পলিমারেজ চেইন রিয়াকশন (RT-PCR) ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য রোগীর নাক বা গলার ভিতর থেকে নমুনা নেয়া হয় যার মধ্যে সক্রিয় ভাইরাস বিদ্যমান। এই নমুনা ল্যাবে এনে পরীক্ষায় কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে নমুনার ভাইরাস থেকে এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বা RNA বের করে আনা। এরপর বেশ কিছু উপাদান ব্যবহার করে এইRNA এর একটি নির্ধারিত অংশ কে DNA তে রূপান্তরিত করা এবং সেই রূপান্তরিত DNA এর সংখ্যা বা পরিমাণ চক্র হারে বৃদ্ধি করা। শেষ পর্যায়ে এই DNA এর উপস্থিতি নির্দেশ করে নমুনাতে ভাইরাস টি উপস্থিত ছিল। তখন আমরা…