• দরিদ্র মানুষের চাল নেই, চুলোও নেই। ঘরে বিদ্যুৎবাতি তো দূরের কথা, এই আকালের দিনে দুফোঁটা কেরোসিনেরও খোঁজ পাওয়া যায় না, তাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে চাঁদের আলোই ভরসা। কিন্তু সুদূর ফিলিপাইনের দুই ভাইবোনের তৈরি এক বাতি চলবে লবণপানিতে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন অনেকেই। আইসা এবং রাফায়েল মিজেনো নামের এই দুই সহোদর sALt (Sustainable Alternative Lighting) নামের এক ল্যাম্প তৈরি করেন। লবণপানি এবং ধাতব রড ব্যবহার করে এই ল্যাম্প চলে। De La Salle ইউনিভার্সিটির এঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেন আইসা, এর পাশাপাশি তিনি গ্রিনপিস ফিলিপাইনেরও সদস্য। ফিলিপাইনের গ্রামে গ্রামে কেরোসিনের অভাব লক্ষ্য করেন তিনি। প্রচুর মানুষ অনেক দূরদূরান্ত থেকে…

  • ভূমিকম্প! শব্দটি শুনলেই চট করে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া নেপালের বিভীষিকার কথা মনে পরে যায়। আমরা যদি আরেকটু অতীতের কথা স্মরণ করি তাহলে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া জাপানের সেই ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প আর সুনামির দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠে। কিন্তু ভূমিকম্প কি সুধুই বিভীষিকার আর ধ্বংসের কথা মনে করিয়ে দেয়? আসলেই তাই। তবে, এই ধ্বংস আর পরিবর্তনের কারনেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী। এই ভূমিকম্প আর টেকটনিক সঞ্চালনের কারনেই পৃথিবী এখন সবুজ, এখানে রয়েছে নদি, খাল সমুদ্র আর এতে আছে পানির নির্মল প্রবাহ। আছে আমাদের বায়ুমণ্ডল আর জীববৈচিত্র! এই ভূমিকম্পই আমাদের গ্রহকে উষ্ণ রাখছে আর মূল চালিকা শক্তি…

  • বিশ্বসেরা স্বনামধন্য ম্যাগাজিনগুলোর মাঝে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অন্যতম। সরাসরি বিজ্ঞানের ম্যাগাজিন না হলেও প্রত্যেকটা সংখ্যাতেই বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা বা ছবি থাকে। পুরোপুরি বিজ্ঞান মনস্ক এই ম্যাগাজিন আমাদের দেশে খুব একটা সহজলভ্য নয়। ঢাকায় হাতে গোনা কয়েকটা স্টলে পাওয়া যায়। একেকটার দাম ৬০০ টাকা করে রাখে। বাংলাদেশের গরীব পাঠকের জন্য এটা খুবই বিশাল পরিমাণ টাকা। একে তো দুর্লভ, তার উপর প্রচণ্ড দাম। এহেন পরিস্থিতিতে পিডিএফই ভরসা। এটা ভাগ্যের কথা যে এই ম্যাগাজিনের পিডিএফ খুব একটা দুর্লভ নয়, এবং পাওয়াও যায় ফ্রীতে। তাই যাদের আগ্রহ আছে চমৎকার এই ম্যাগাজিনটি পড়ার তারা যেন বঞ্চিত না হয় তার জন্য “সায়েন্টিফিক ম্যাগাজিন”…

  • খ্রিস্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে হিপোক্রেটস বলেছিলেন আমাদের দের চার ধরনের তরলে গঠিত। এই চার ধরনের তরলের মধ্যে সব সময় ভারসাম্য বজায় থাকে, যা নষ্ট হলেই নানা বিধ ব্যামোর আবির্ভাব হয়। এর মধ্যে ব্ল্যাক বাইল নামক তরলের পরিমান বেড়ে গেলে যেটা হয় তাকে কার্সিনোস এবং কার্সিনোমা বলে বলে ডাকতেন তিনি, যার উৎপত্তি গ্রীক ‘Karkinos’ থেকে, এর অর্থ হচ্ছে কাঁকড়া আক্রান্ত টিস্যু হতে চারপাশে রক্তনালীগুলোর ছড়িয়ে পড়া দেখতে অনেকটা কাঁকড়ার থাবার মত, তাই এই নামকরন। ধীরে ধীরে এর ক্যান্সার নামটি প্রচলিত হয়। এখন ২০১৫ সালে এসে এত এত বছরের গবেষনা, এত এত মলাট বদ্ধ প্রকাশনা, এত এত…

  • কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গবাদীপশু একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কৃষকের হালচাষ থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য দুগ্ধ-সরবরাহ ছাড়িয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বাজার অর্থনীতিতে গবাদীপশুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া পরিবারভিত্তিক পশুপালনের বাইরে বাংলাদেশে এখন অনেকগুলো পশুখামার গড়ে উঠেছে। এ খাতে বাংলাদেশ যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, তেমনি বিদেশে পশুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানীর সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু গবাদীপশুর বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে গরুর ক্ষুরা-রোগ এ খাতে একটি জটিল সমস্যা যার কারণে পরিবার, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। আর গরুর ক্ষুরা-রোগ নিয়েই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা চলছে ড. আনোয়ার হোসেনের নের্তৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মাইক্রোবিয়াল জেনেটিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্স ল্যাবরেটরিতে। ইতিমধ্যে ড.…

  • একবার ভাবুন তো, আপনি কোনো এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে একটা কথা বলছেন। কথাটা আপনি আর আপনার বন্ধু ছাড়া আর কেউ একবিন্দুও বুঝতে পারছে না। এমন হলে ব্যাপারটা মজার না? ….প্রাচীনকালে যখন ফোনের ব্যবস্থা ছিলো না, তখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে কাগজে লিখে পাঠানো হত। এবং মাধ্যমকারী যাতে এ তথ্য পড়ে বুঝতে না পারে সেজন্য তথ্যকে এনক্রিপ্ট করে পাঠানো হত। আর প্রাপক একই উপায়ে একে ডিক্রিপ্ট করে তথ্য বুঝে নিতো। এনক্রিপশন কি? এটা বুঝার জন্য নিচের গল্পটি পড়ুন। আর যদি এতটুকুতেই বুঝে যান তাহলে এ অংশটুকু ছেঁড়ে যেতে পারেন। -সুবা আর সাদমান। খুব পছন্দ করতো…

  • কোষ জীবদেহের একটা অপরিহার্য উপাদান এবং জীবদেহ গঠনের ক্ষুদ্রতম একক। বর্তমান পৃথিবীর সকল জীবই এক প্রকার কোষ থেকে বিবর্তন (Evolution) প্রক্রিয়ায় আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এজন্য পৃথিবীর সকল প্রাণী বা উদ্ভিদ কোষ দ্বারা গঠিত। যদিও উদ্ভিদ বা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই কোষের প্রকৃতি ভিন্ন আবার এককোষী এবং বহুকোষী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও কোষের গঠন ভিন্ন। তাহলে এখানে প্রশ্ন থাকে যে যদি এক ধরনের কোষ থেকেই পৃথিবীর সকল জীবের উদ্ভব হয় তাহলে জীবের ধরনভেদে কোষের এই ভিন্নতা কেন! সত্যি বলতে এইসব প্রশ্নের অতি উত্তম ব্যাখ্যা থাকলেও সেটা দিতে গেলে আমাকে বেশ কয়েকটি বই লিখে ফেলতে হবে যা আপাতত করা যাচ্ছেনা।…

  • গত শতাব্দী থেকেই মানুষ মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ঘটনা কবে ঘটবে সেই সম্বন্ধে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কালক্ষেপন হতে হতে নাসা এখন পরিকল্পনা করছে ২০৩৫ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের। মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের সবচেয়ে বড় বাধা আসলে কোথায়? উত্তর হচ্ছে জ্বালানী। রকেট যখন উৎক্ষেপন করা হয় তখন সাথে করে এর বিপুল ভরের জ্বালানীও বহন করতে হয়। যা আবার একই সাথে জ্বালানীর চাহিদাও বিপুল পরিমানে বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে হলে তাকে ফিরিয়েও আনতে হবে এবং ফেরত আসার জ্বালানীটুকু বহন করে নিয়ে যেতে হবে, কিংবা মঙ্গলের বুকে উৎপাদন করতে হবে।…

  • সুপ্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন সাজসজ্জায় এবং স্থাপত্যে বিভিন্ন রকমের নকশার ব্যাবহার দেখা যায় । দেয়াল কিংবা মেঝের কারুকার্যে দ্বিমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা অথবা ছাদের কিনারা বা বিভিন্ন পাত্রে ফালির মতো একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা দেখা যায়। এই নকশা সমূহ সাধারণত বিশেষ প্রতিসাম্য বিশিষ্ট হয়ে থাকে যারা একটা নির্দিষ্ট আকারকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে যাকে বলা হয় মোটিফ। মোটিফ গুলো পুনরাবৃত্তি করে থাকে প্রতিসাম্য রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিসম ভাবে বিন্যস্ত সকল মোটিফ একটা মোটিফের উপর বিভিন্ন প্রতিসাম্য রূপান্তর দ্বারা প্রতিলিপি তৈরির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে। একটা একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশায় শুধু সাত রকমের প্রতিসাম্য পাওয়া যায় ফালি…