• কোষ জীবদেহের একটা অপরিহার্য উপাদান এবং জীবদেহ গঠনের ক্ষুদ্রতম একক। বর্তমান পৃথিবীর সকল জীবই এক প্রকার কোষ থেকে বিবর্তন (Evolution) প্রক্রিয়ায় আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এজন্য পৃথিবীর সকল প্রাণী বা উদ্ভিদ কোষ দ্বারা গঠিত। যদিও উদ্ভিদ বা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই কোষের প্রকৃতি ভিন্ন আবার এককোষী এবং বহুকোষী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও কোষের গঠন ভিন্ন। তাহলে এখানে প্রশ্ন থাকে যে যদি এক ধরনের কোষ থেকেই পৃথিবীর সকল জীবের উদ্ভব হয় তাহলে জীবের ধরনভেদে কোষের এই ভিন্নতা কেন! সত্যি বলতে এইসব প্রশ্নের অতি উত্তম ব্যাখ্যা থাকলেও সেটা দিতে গেলে আমাকে বেশ কয়েকটি বই লিখে ফেলতে হবে যা আপাতত করা যাচ্ছেনা।…

  • গত শতাব্দী থেকেই মানুষ মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ঘটনা কবে ঘটবে সেই সম্বন্ধে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কালক্ষেপন হতে হতে নাসা এখন পরিকল্পনা করছে ২০৩৫ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের। মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের সবচেয়ে বড় বাধা আসলে কোথায়? উত্তর হচ্ছে জ্বালানী। রকেট যখন উৎক্ষেপন করা হয় তখন সাথে করে এর বিপুল ভরের জ্বালানীও বহন করতে হয়। যা আবার একই সাথে জ্বালানীর চাহিদাও বিপুল পরিমানে বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে হলে তাকে ফিরিয়েও আনতে হবে এবং ফেরত আসার জ্বালানীটুকু বহন করে নিয়ে যেতে হবে, কিংবা মঙ্গলের বুকে উৎপাদন করতে হবে।…

  • সুপ্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন সাজসজ্জায় এবং স্থাপত্যে বিভিন্ন রকমের নকশার ব্যাবহার দেখা যায় । দেয়াল কিংবা মেঝের কারুকার্যে দ্বিমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা অথবা ছাদের কিনারা বা বিভিন্ন পাত্রে ফালির মতো একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা দেখা যায়। এই নকশা সমূহ সাধারণত বিশেষ প্রতিসাম্য বিশিষ্ট হয়ে থাকে যারা একটা নির্দিষ্ট আকারকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে যাকে বলা হয় মোটিফ। মোটিফ গুলো পুনরাবৃত্তি করে থাকে প্রতিসাম্য রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিসম ভাবে বিন্যস্ত সকল মোটিফ একটা মোটিফের উপর বিভিন্ন প্রতিসাম্য রূপান্তর দ্বারা প্রতিলিপি তৈরির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে। একটা একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশায় শুধু সাত রকমের প্রতিসাম্য পাওয়া যায় ফালি…

  • আমাদের দেহের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো কোষ। এই কোষের মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়াস, নিউক্লিয়াসের মধ্যে রয়েছে ক্রোমোজোম। ধরা যাক আমাদের নিউক্লিয়াস হলো কোষের হেড অফিস। এখানে নানান তথ্য ফাইলের মধ্যে রাখা হয়েছে। ফাইলগুলো যদি জিন হয়, তাহলে কেবিনেটগুলো হলো ক্রোমোজোম। বিভিন্ন জীবের কোষীয় হেড অফিসে কেবিনেট অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা বিভিন্ন। গরুর ৬০, কুকুরের ৭৮ এবং মানুষের ৪৬ টা ক্রোমোজোম আছে। Ophiglossum নামের এক ফার্ন গাছের রয়েছে সবচেয়ে বেশি ক্রোমোজোম। কত ভাবেন তো? একশ? দেড়শ? জি না, ১২৬২! একটু আগেই যে বললাম মানুষের ৪৬ টা ক্রোমোজোম, এর মধ্যে ৪৪ টা হলো অটোজোম। এদের বহন করা তথ্যে জীবের…

  • ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ…

  • [দ্বিতীয় খন্ডের পর] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিউট্রিনোর স্পন্দন ১৯৩৬ সালে কার্ল ডেভিড এন্ডারসন পার্বত্যএলাকায় মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একটি কণিকা পেলেন। মেঘ প্রকোষ্ঠে (cloud chamber) নতুন একধরনের গতিপথ দেখে বোঝা গেলো এই কণিকাটির উপস্থিতি এবং এই গতিপথ আগের কোনো কণিকার গতিপথের সাথে মেলানো যায় না। এর গতিপথ ইলেক্ট্রনের মতো একই দিকে বেঁকে যায় কিন্তু বক্রতার পরিমান বেশ খানিকটা কম যা দেখে বোঝা যায় এর চার্জ ইলেক্ট্রনের মতোই ঋনাত্মক তবে ইলেক্ট্রনের তুলনায় এটি বেশ ভারী। শুরুতে এন্ডারসন এই কণিকার নাম দিয়েছিলেন মেসট্রন (meostron) এবং সেখান থেকে কিছুটা সংক্ষেপিত হয়ে এর নাম হলো মেসন (meson)। পরবর্তীতে…

  • কিছু গল্প কিছু অনুধাবনঃ মানুষের চোখের যে অংশটা নড়াচড়া করে দেখতে সাহায্য করে সে অংশটাকে বাইরে থেকে দেখলে চ্যাপ্টা আকৃতির কিছু একটা বলে মনে হয়। আসলে এটি চ্যাপ্টা নয়, গোলক আকৃতির। এই অঙ্গটিকে বলা হয় অক্ষিগোলক, এটির বেশ খানিকটা অংশ ভেতরের দিকে গ্রোথিত থাকে বলে বাইরে থেকে দেখা যায় না। এই অক্ষিগোলক যদি গোল না হতো তাহলে আমাদেরকে দেখা সংক্রান্ত ব্যাপারে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। এটি গোলাকার বলেই চোখকে এপাশ-ওপাশ, উপর-নিচ করা যায়। অক্ষিগোলক যদি গোলাকার না হয়ে অন্য কোনো সরল আকৃতি যেমন ঘনক বা পিরামিডের মতো হতো তাহলে কী বিদঘুটে অবস্থার মাঝেই না পড়তে…

  • [২য় পর্বের পর থেকে] নানা কাজে নানা দিকে ব্যবহারঃ কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টি সে এলাকার বার্ষিক বৃষ্টির ১০%-২০% বৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে। ফসল নেই এমন সময়ে অধিক বৃষ্টি হলে ঐ দৃষ্টিকোণ থেকে খুব বেশি লাভ নেই। ফসলের প্রয়োজনে ৫% বৃষ্টিই পর্যাপ্ত! সময়মতো অল্প বৃষ্টিপাত দিয়েই ভাল ফসল ফলিয়ে নেয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ্যা জমি মানে যে সকল জমিতে পানির অভাবে কখনোই ফসল করা হয় না এমন জমিতেও ফসল ফলানো সম্ভব। আবার কিছু কিছু এলাকায় এটি ভাল ফলাফল নাও বয়ে আনতে পারে। মানুষ এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা শিখে নিতে পারে নি। দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম…

  • [১ম পর্বের পর থেকে] কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরিঃ কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানোর ক্ষেত্রে প্রধানত দুইটি উপায় দেখা যায়। একটি হচ্ছে ভূমি হতে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকা বা মেঘের দেশে ঘনীভবনকারী পদার্থ ছুড়ে দেয়া। কিংবা ভূমি হতে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করা, অনেকটা ধোঁয়া যেমন ধীরে ধীরে উপরে ওঠে যায় তেমন করে এই রাসায়নিক পদার্থগুলোও যেন উপরে ওঠে যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বাহকের মাঝে রাসায়নিক ভরা হয়। যেহেতু এটি রকেটের মতো করে ছুড়ে মারা হবে তাই উড়ার জন্য বাহককেও রকেটের মতো করে বানানো হয়। সেই রকেট একটি কামানের মতো নিক্ষেপক যন্ত্রের মাঝে রাখা হয়। পরে…