• আমাদের জীবন শুরু হয় কান্না দিয়ে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রায় সমস্ত উপলক্ষে জড়িয়ে আছে কান্না। কখনো আমরা কাঁদি বিষাদে, কখনো বা তা আনন্দ অশ্রু হয়ে ঝরে। এছাড়া পেঁয়াজ কাটার সময়ও আমাদের চোখ থেকে জলপপ্রাতের মতো পানি পড়ে!কান্না নিয়ে কত গল্পগাথা, কত কবিতা,কত গান … কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি আমরা কিভাবে কাঁদি? কেন কাঁদি?পেঁয়াজ কান্নার সাথে আনন্দে কান্না বা বিষাদে কান্নার কি পার্থক্য? এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা নিয়েই এই লেখাটি। কান্না হচ্ছে আবেগের প্রতি সাড়া দিয়ে চোখ দিয়ে জল পড়া। চোখের উপরের পাতায় থাকে অশ্রুগ্রন্থি (tear gland or lacrimal gland)। এখানে অশ্রুর উৎপত্তি।…

  • [আপডেট: লোটন ভাইয়ের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।] লোটন ভাইয়ের অনেকগুলো পরিচয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি বিজ্ঞান ব্লগের সহপ্রতিষ্ঠাতা। মনে পড়ে ২০১০ সালে ইমতিয়াজ ভাইয়ের প্রস্তাবে লোটন ভাই, শান্ত ও আমি ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর সাবডোমেইনে বিজ্ঞান ব্লগের যাত্রা শুরু করি। সেসময় আমরা সবাই অনুসন্ধিৎসু চক্রের সক্রিয় সদস্য। খুব দ্রুতই বিজ্ঞান ব্লগ নিজস্ব ডোমেইনে চলে আসে (৪ মার্চ, ২০১১)। লোটন ভাই মূলত সাইটের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো দেখেন। বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা সম্পাদনা, প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল দেখাশুনার কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছিলো। এরপর বিজ্ঞান ব্লগের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে – লেখক সংখ্যা বেড়েছে অনেক, এটি বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রুপ-ব্লগ হিসেবে নিজেকে…

  • বিশ্বজুড়ে পাবলিক হেলথের প্রধান অবলম্বন হল শিশুদের দেয়া ভ্যাকসিন । কিন্তু ভ্যাকসিন সব শিশুর ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয়না । কেন হয়না? অন্ত্রে বাস করা অনুজীব এক্ষেত্রে একটা বড় কারণ হতে পারে। ২০০৬ সালে ওরাল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে ব্যাপকভাবে বাচ্চাদের মধ্যে রোটাভাইরাস (Rotavirus) সংক্রমণ হত । এর ফলে বাচ্চাদের প্রচন্ড ডায়রিয়া হত। জীবনাশংকা সৃষ্টিকারী এই পানিশূণ্যতার কারণে সারাবিশ্বে এখনো প্রতিবছর সাড়ে চার লক্ষ্যের বেশি শিশু মারা যায়। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকায়। কারণ ভ্যাকসিন সবসময় কাজে আসে না । আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটির ভেনিসা হ্যারিস খুঁজে বের করতে চাইলেন কেন এই অঞ্চলের শিশুরা এত উচ্চমাত্রার নন-রেসপন্ডার ( ভ্যাকসিনে সাড়া…

  • ১. ফেব্রুয়ারি ১১ তারিখ, যেদিন মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, অনেকের মতো আমিও এ বিষয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠি। মহাকর্ষ তরঙ্গ বলে একটা জিনিস যে আছে তা প্রায় একশ বছর আগে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে বলে গেছেন। আবদুল গাফফার রনির “থিওরি অব রিলেটিভিটি” (অন্বেষা, ২০১৬) বইটি পড়ে ফেলি। লেখক সাবলীল ভাষায় এ তত্ত্বটির মূল ধারণাগুলোর সহজবোধ্য বর্ণনা দিয়েছেন। বইটি পদার্থবিজ্ঞানের বই হলেও বেশ উপভোগ্য, গাণিতিক সূত্রের ছড়াছড়ি নেই। এই জটিল বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষরতা লাভের জন্য চমৎকার উৎস। আইনস্টাইন, যাকে বলা হয় বিজ্ঞানের পোস্টার–বয়, বিজ্ঞানের রঙিন জগতের একজন তারকা, তিনি আরেকবার জিতলেন। তাঁর তত্ত্বটিতে কি…

  • ছোটবেলায় নানা রকম দুষ্টুমি করতে গিয়ে কত লোহা পেরেকের গুঁতো খেয়েছি। তখন যে কথাটি অবধারিতভাবে শুনতে হয়েছে তা হলো ‘লোহার গুঁতো খেলে কিন্তু টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হবে’। এ অভিজ্ঞতা যে হয় নি তা নয়। লোহার গুঁতো খেয়ে ইনজেকশনের শরণাপন্ন আমাকে হতে হয়েছে। তখন যা জানতাম তা হলো ধনুষ্টঙ্কার হলে ঘাড় মটকিয়ে যায়। তাই ছোটবেলায় পেরেককে ভয় পেতাম খুব। মজার বিষয় হচ্ছে আজ এতদিন পর আমি সেই ধনুষ্টঙ্কারের জন্য দায়ী অণুজীব নিয়েই লিখতে বসেছি! প্রথমে জানা যাক ধনুষ্টঙ্কার সৃষ্টিকারী অণুজীবের নাম টা কি? শিরোনাম থেকে বুঝতেই পারছেন মূল অপরাধী হলো Clostridium tetani. Kitasato Shibasaburo সর্বপ্রথম মানবদেহ থেকে…

  • এবোলা ভাইরাসের বাতাস ঘুরতে না ঘুরতেই নতুন এক ভাইরাসের আবির্ভাব, জিকা ভাইরাস (ZIKV)। নতুন করে আবির্ভাব ঠিক নয় বরং প্রাদুর্ভাব বেড়েছে হটাৎ করেই। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাস আলোচনার শীর্ষে কারন জিকা ভাইরাস আক্রমনের এক ভয়ঙ্কর দিক উন্মোচিত হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় অবস্থিত জিকা বনে রেসাস বানরদের মধ্যে এই ভাইরাস দেখা যায় (বনের নামেই নামকরণ)। এই সূত্রধরে কয়েক বছর বাদে ১৯৫২ সালে উগান্ডার মানুষের মধ্যেও এটি ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময় এটাকে আফ্রিকা, আমেরিকা এবং এশিয়াতে দেখা যায় কিন্তু ততটা বিপজ্জনক নয় বলে অতটা ভাবা হয়নি। হঠাত করেই ২০১৪ সালের দিকে এটা প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে ফ্রেঞ্চ…

  • এক্স ম্যান মুভি দেখেনি এমন মানুষ খুব কমই! কেমন হত যদি পর্দার সেই এক্স ম্যানরা আমাদের বাস্তব জগতে এসে ঘুরে বেড়াত!! সেই মিউটেন্ট ম্যান তৈরি হওয়া মনে হয় আর খুব দূরে না  !! !! !! সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৯০ মানব ইতিহাসের এক নতুন অভ্যুদয় বললে ভুল হবে না দিনটিকে। Ashi DeSilva নামে এক রোগী সর্বপ্রথম ADA-SCID রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই রোগটি মূলত দেহে এডেনোসাইন ডিএমিনেজ নামক এনজাইমের অভাবে হয়ে থাকে যার ফলশ্রুতিতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। Ashi DeSilva –র চিকিৎসা হয়েছিল জীন থেরাপির মাধ্যমেই। তারই পদাংক অনুসরণ করে ১৯৯৬ সালে প্রথম ভ্রুণ কোষে…

  • পূর্ববর্তী লেখা “মস্তিষ্কের কর্মকান্ড: অভ্যন্তরীণ বাচন (১)” এর পর থেকে। এই যে এই পোস্টটি দেখার পর আপনি মনে মনে বলছেন, “বিজ্ঞান ব্লগের নতুন পোস্ট!”- এই মনে মনে কথা বলাই Inner speaking বা অভ্যন্তরীণ বাচন। গতো পোস্টে এই বিষয়ে অল্প কিছু তথ্য জেনেছিলাম আমরা। আর আজ অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক বাচনের সম্পর্কের গল্প শুনবো। এ গল্প যেমন একদিকে এদের ভেতরকার সম্পর্কের বয়ান দেয়, তেমনই একসাথে বলে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মনের কথা। Inner speech বুঝতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা শুরুতেই ঠিক করে ফেলেছিলেন, একে বুঝতে গেলে এর জ্ঞাতিদের সম্পর্কে খোঁজ না নিলেই নয়। তাইতো তারা মনের গহীন কথা আর মুখ ফুটে বলা…

  • বায়োসেন্সর হচ্ছে এক ধরনের অ্যানালাইটিক্যাল ডিভাইস বা বিল্লেশ্নধর্মী যন্ত্র। এই যন্ত্রে রয়েছে একটি জৈবিক উপাদান। আর এর সাথে রয়েছে একটি পিজিকোডিটেক্টর। এই যন্ত্র চিহ্নিত ধরতে পারে স্পর্শকাতর সব জৈব উপাদান যা জৈব পদার্থের (যেমন- এনজাইম, অ্যান্টিবডি, কোষ অঙ্গাণু, হরমোন, নিউক্লিক এসিড অথবা সম্পুর্ণ কোষ) স্থিতিশীল আস্তরণের অন্তরঙ্গ সংস্পর্শে রুপান্তরক (transducer- একটি ভৌত উপাদান) নিয়ে গঠিত, যেখানে রুপান্তরক জৈব সংকেত (Biological signal) বিশ্লেষণ করে উহাকে বৈদ্যুতিক সংকেত ( Electrical signal) পরিবর্তন করে। একটি সেন্সর হতে পারে একটি কার্বন ইলেকট্রোড (a signal carbon electrode), একটি আয়ন সংবেদী ইলেকট্রোড (an ion-sensitive electrode), অক্সিজেন ইলেকট্রোড, একটি আলোক কোষ (a photocell)…