• এক দেশে এক এক কৃষক বাস করত, নানান ধরনের শস্য চাষ করে সুখে শান্তিতে দিন কাটাতো। ধীরে ধীরে দিন বদলে গেল, জমিজমা কমে গেল। দেশী জাতে আর পোষায়না, দুম করে কোথা থেকে চলে আসল ‘হাইব্রীড’। তার ঝলকানিতে সম্মোহিত হয়ে অনেকেই হাইব্রীড চাষ শুরু করল। আমাদের কৃষকও তার ব্যাতিক্রম নয়। কিন্তু, হাইব্রীডের সমস্যা একটাই…প্রতিবারই নতুন করে বীজ কেনা লাগে। কারন, হাইব্রীড গাছের থেকে যে বীজ পাওয়া যায়, সেই বীজে আর আগের মত ক্ষমতা থাকেনা। ব্যাপারটা খুব একটা ঝামেলার না হলেও, কৃষক মনে মনে অন্যের কাছে জিম্মি ভাবে নিজেকে। সে স্বপ্ন দেখে, এমন যদি হতো… হাইব্রীডের বীজ থেকেই…

  • একদিন এক বন্ধুর কাছে থেকে জ্যোতির বিজ্ঞানের খোশ খবর বই টি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম । কতটুকু পড়ার পর মাথা আর কাজ করছিল না, তখন ১০ম শ্রেণিতে পড়ি, এবং মডেল স্কুল এর বিজ্ঞান ক্লাব টাকে গড়ার কাজ করছিলাম । তখন বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাতাম শুধু পুরষ্কার পাওয়ার জন্য। তারপর একদিন কাকতালীয় ভাবে সেলিম ভাই এর সাথে দেখা ও কথা হল এবং আমি “অচ” তে নিজেকে যুক্ত করি। শুরু হয় বিজ্ঞান নিয়ে আলাদা করে পথ চলা। জ্যোতির বিজ্ঞান বিভাগে কাজ করা শুরু হয় স্পেস টেকনোলজি নিয়ে। আমি সর্বোপরি স্বল্প জ্ঞান এর মানুষ হওয়ায় একদম গোঁড়া থেকে শিখতে…

  • পেঙ্গুইনের বসবাস মূলত বরফের দেশে, এন্টার্কটিকায়। সেখানে পরিবেশের তাপমাত্রা সবসময়ই হিমাঙ্কের নিচে থাকে। বছরের একটা সময় সে তাপমাত্রা আরও কমে যায়। একসময় দেখা যায় তাপমাত্রা কমতে কমতে মাইনাস ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস(৫৮  ডিগ্রী ফারেনহাইট) হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত করে আসে ঠাণ্ডা বাতাস। দুয়ে মিলে পেঙ্গুইনের জন্য ভালই অসুবিধার সৃষ্টি করে। এমন অবস্থায় যেন বাঁচাই দায়! নবজাতক কিংবা ডিমের জন্য আরও  অসুবিধার সৃষ্টি করে। সবচে বেশি অসুবিধার কারণটা হয় ডিমের তা দেয়া নিয়ে। বাচ্চা ফোটাতে ডিমে তা দিতে হলে কিছু তাপের  দরকার। কিছুটা তাপ ছাড়া তো আর তা দেয়া হয় না। পেঙ্গুইনেরা এমন…

  • [আগের লেখা: ‘মগজ-ঘরে বসত করে কয়জনা?’] ফেব্রয়ারির বিকেলে একুশের বইমেলায় বাংলাএকাডেমি রাস্তার পাশে একদল আঁকিয়ে চেয়ার নিয়ে বসে থাকেন; তাদের সামনে গিয়ে বসলে আঁকিয়েরা আগ্রহীদের মুখায়ব চটপট এঁকে ফেলেন। আঁকিয়েদের মতোই যারা বাদ্যযন্ত্রে অচিন সুর তুলে ফেলেন কিংবা ঝরঝরে শব্দে নিটোল কবিতা লিখে ফেলেন – তাঁদের সৃজনের রহস্যময় ক্ষমতাকে মুগ্ধ আমজনতা সাধারণত খানিকটা সম্ভ্রমের দৃষ্টিতেই দেখি। এই সৃজনশীলতা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই আমাদের। সৃজনশীল মানুষদের অন্যরকম বলেই মনে হয়। সৃজনশীলতা যেন ভোজবাজী, জাদুকর তার টুপি থেকে বের করে আনলেন একটা ধবধবে সাদা খরগোশ। এটা কি কোন জন্মগত ক্ষমতা যেটা সবার থাকে না? সৃজনশীল মানুষদের মস্তিষ্ক কি…

  • শীত আসছে। তাই বাজার থেকে কিনে এনেছেন চামড়ার জ্যাকেট, পায়ে দিয়েছেন চামড়ার জুতো আর হাতে চামড়ার তৈরী ব্যাগ। কি একটিবারের জন্যও কি ভেবে দেখেছেন এর পেছনের গল্পটি কেমন? কি ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় এগুলো আপনার হাতে এসে পৌঁছেছে? পৃথিবীর অর্ধেকের বেশী ট্যানারী শিল্প গড়ে উঠেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। উচ্চ লাভ, নি¤œ মজুরি এবং পরিবেশ সম্পর্কে অনীহা ও অসচেতনতাই এর প্রধান কারণ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাজারীবাগে ১৯৬০ সালে পাঞ্জাবী ট্রেডার্স নামে ট্যানারী শিল্পের সূচনা হয়।পরবর্তীতে স্বাধীনতার পরে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। বাংলাদেশের ৯০% ট্যানারী হাজারীবাগে অবস্থিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০০ টির বেশি…

  • মাঝেমধ্যেই হয়তো ভাবেন কি করে দারুন সব রেজোলুশন এর প্রোটিনের গঠনের অসাধারণ সব ছবি তৈরি করেন বিজ্ঞান লেখকেরা। এমন সব ছবি যেগুলির মান এতই উচ্চ যে অনায়াসে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা বিজ্ঞান ম্যাগজিনের প্রচ্ছদে ছাপিয়ে দেয়া যায়। আবার অনেকে বই লেখার সময় ছবি তৈরি করতে চান বা প্রেজেন্টেশানের জন্য নিজের মত করে প্রোটিন বা ডিএনএ’র ছবি বানাতে চান। আমাকে প্রায়ই মানুষ জিজ্ঞেস করেন কিভাবে এমন ছবি তৈরি করা যায়। আসলে এমন জিনিস শিখতে হয়েছে নিজের গবেষণা কাজের জন্য। তবে যখন শিখেছি তখন কোন ভিডিও ছিলনা কোথাও, ল্যাবের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে এবং ম্যানুয়াল দেখে শিখেছি। এখন কিছু ইংরেজী ভিডিও…

  • মেরী কুরি, জন বারডীন, লিনাস পলিং এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার। চারজন বিজ্ঞানী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তবে তাদের মধ্যে একটা মিল হল, এই চারজনই দুই বার নোবেল পুরষ্কার অর্জনের বিরল সম্মানের অধিকারি। তবে এই লেখাটি শুধুই ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারকে নিয়ে। সম্পুর্ন কর্মজীবন নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন এই বিজ্ঞানী। বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহনের সময় আসার আগ পর্যন্ত নিজের কাজ ব্যাতীত অন্য কিছুতেই তার আকর্ষন ছিলোনা। প্রোটিন এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এ তার অবদান বৈপ্লবিক। আধুনিক প্রোটিওমিকস এবং জিনোমিকসের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তার হাত ধরেই। তার এই সাফল্যের রহস্য কি? তার আত্নজীবনীতে একটি মূল্যবান সূত্র পাওয়া যায়, যেখানে তিনি…

  • City Montessori School ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌ শহরে অবস্থিত Guinness World Records অনুসারে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কুল। এই স্কুলটি প্রতিবছর প্রায় ৩২টি International Educational Event এর আয়োজন করে যার একটি হল “International Festival Of Biotechnology QUEST – 2013 ” । ২০০৯ থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন হয় প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর। সেই হিসেবে ২০১৩ সালে বসেছিল এর ৩য় আসর। City Montessori School(CMS) Rajendra Nagar Campus-1 এর আয়োজনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ৩ থেকে ৬ অগাস্ট, ২০১৩ CMS World Unity Convention Center, Lucknow, India তে। Biotechnology’র এই মহা আয়োজনে বাংলাদেশসহ অংশ…

  • ধরুন আপনার বয়স ৪০ বছর। ঘটনাবহুল জীবনে আপনি নানা ধরণের অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। আর সবই সংরক্ষিত হয়ে আসছে আপনার ঘাড়ের উপরের যন্ত্রটিতে! কিন্তু ঠিক ৪০ বছর ১৩ দিন ২৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেল। মানে এরপর থেকে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারছেন না কারণ আপনার মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্ক পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র জায়গা খালি নেই! ফলে আপনার জীবন হয়ে গিয়েছে স্থবির! উপরের কল্পনাটি কেবলই কল্পনা! আজ পর্যন্ত কারোও সাথে এমনটি হয় নি। কিন্তু আসলেই কি এমনটা হওয়া সম্ভব। এখন আপনি যদি বলেন একটা মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে x পরিমাণ। তাহলে ‘x’ পরিমাণ…