• ২০২২ সালের বসন্তের একটি দিন। শিল্পী ও জীবাশ্ম শিকারী ফিলিপ জ্যাকবস দক্ষিণ ইংল্যান্ডের জুরাসিক উপকূল ধরে হাঁটছিলেন। এমন সময় তিনি এক কোণে কোনো এক অজানা প্রাণীর একটি স্নোট (প্রাণীদের প্রসারিত নাক বা মুখ) পড়ে থাকতে দেখেন। এটি প্রায় দুই ফুট (২৪ ইঞ্চি) লম্বা ছিল। আপনি কি বুঝতে পারছেন এটা কতটা লম্বা? মানুষের স্নোটের সাইজ বড়জোর দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি হয়।  যাই হোক, জ্যাকবসের খুঁজে পাওয়া স্নোটটিতে ছিল শ খানেকর বেশি ধারালো দাঁত। পরবর্তীতে একদল নাবিক খেয়াল করলেন, স্নোটটি সৈকতের ধারে একটা উঁচু বাঁধ থেকে পড়েছে। খুলির বাকি অংশটা পড়েছিল বাঁধের উপরেই। জীবাশ্মটির দৈর্ঘ্য ছ ফুটেরও বেশি…

  • কুমি একজন হাইস্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তবে ইদানিং সে তার শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ভুগছে। এই কারণেই সে খাওয়া-দাওয়া একদম ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বার করে আনতে তাকে প্রাণরসায়ন পড়বার পরামর্শ দিয়েছে তারই বন্ধু নেমেটো। কুমি নেমেটোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুরুসাকার কাছে প্রাণরসায়ন শিখছে। এরই মধ্যে একদিন প্রফেসর কুরুসাকা তাকে বাড়ির কাজ হিসেবে চারটা রহস্য সমাধান করতে দিয়েছে। তার মধ্যে একটা প্রশ্ন হচ্ছে, শরীরে কেন চর্বি জমে? কুমি এবং তার বন্ধু নেমেটো একসাথে গ্রুপ স্টাডিতে বসেছে এই রহস্য সমাধান করার জন্যে।       কুমি- পরের রহস্যটা হলো আমি যা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি! বেশি…

  • একদম ফাঁকিবাজি নেই, এমন একটা স্বাস্থ্যবিষয়ক (বা বলা যেতে পারে জনপ্রিয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের) বই পড়লাম। শেষ জনপ্রিয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনটা পড়েছি? আম্মুর রোগের কথা মনে রেখে স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার মিত্রের কন্যা জায়া ও জননী কেনা ও আংশিক পড়া। সংহত গদ্য, তবে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক কিছুই এসেছে বইটিতে, তবে আম্মুর রোগটার বিস্তারিত বিবরণ পাই নি। বইটির নতুন জীবন (পড়ুন সংস্করণ) কামনা করি। ডা. দেবাঞ্জন সেনগুপ্তের কম্পিউটার থেকে অসুখ বিসুখ (২০০৪) বইটির গদ্যও সংহত, তবে রক্ষণশীল নয়। তবে এ বইটিরও নতুন সংস্করণ দরকার হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক-সাহিত্যিক দেবাঞ্জন বেশ খেটেখুটে বইটি লিখেছেন। চোখ, হাত, শিরদাঁড়া, বিকিরণ, সংক্রমণ, মন, এবং অন্যান্য, ব্যায়াম, আসবাব,…

  • কিছুদিন আগে “ভিনগ্রহ থেকে আসছে রেডিও সিগন্যাল, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা” শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়। খবরের শিরোনামটি বিভ্রান্তিকর। মহাকাশ থেকে হরহামেশাই রেডিও সিগন্যাল আসতেই থাকে। এতে অবাক হওয়ারও কিছু না

  • আপনার বাচ্চাটা কদিন থেকে আর স্কুলে যেতে চাইছে না। শরীরটাও বেশ খারাপ, হাল্কা জ্বর সবসময়ই শরীরে থাকছে। জ্বর তো আসতেই পারে, কিন্তু এক্ষেত্রে জ্বরটা সহজে ছেড়ে যাচ্ছে না। বাচ্চাটা আবার খাওয়া দাওয়াও একেবারে ছেড়ে দিয়েছে। কিছু মুখের ভেতর গেলেই চিৎকার করে কেঁদে উঠে, মুখ জ্বলে গেল বলে। রাতে ওর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াতে গেলে বেশ অদ্ভুত একটি বিষয় আপনার নজরে এল। ওর শরীরে কিছু অদ্ভুত ধরনের র‍্যাশ দেখা দিয়েছে। সেগুলো আবার অনেকটা জলবসন্তের মত! ভেতরে আবার পানির মত এক ধরনের তরল পদার্থ দেখা যাচ্ছে। বাচ্চার এমন শারীরিক অবস্থায় আপনি খুবই বিচলিত হয়ে পড়েছেন।…

  • ধরা যাক, কোনো একরাতে আপনি এককাপ চা হাতে নিয়ে ছাদে গেলেন। সেখানে নিজেরই হাতে বানানো এক যন্ত্র দিয়ে হঠাৎ এমন কিছু দেখতে পেলেন যা আপনার আগে এই পৃথিবীতে কেউ দেখেনি। একটু চিন্তা করুন আপনার মনের অবস্থা। খুশিতে মাথা নষ্ট হওয়ার অবস্থা হবে তখন, তাই না? ৩০ শে নভেম্বর ১৬০৯ সাল। এই দিনে ইতালীয় গণিতবিদ গ্যালিলিও গ্যালিলি ঠিক এমনই কিছু লক্ষ্য করেন যা তাঁর আগে কেউ খেয়াল করেননি। সেদিন জ্যোতির্বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞানের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। সেই দরজা দিয়ে গ্যালিলিও যা দেখেছিলেন তার ধারা আজও বহমান। এখন আমরা বিজ্ঞানের যে বিভিন্ন শাখা দেখতে পাচ্ছি, তা অনেকক্ষেত্রে…

  • স্মৃতি আমাদের কাছে একটা সহজাত প্রবৃত্তি বলে মনে হয়। কোন একটা অভিজ্ঞতার তথ্য সযত্নে জমা রেখে পরবর্তীতে মনে করতে পারার যে ক্ষমতা, তাকে আমরা স্মৃতি বলে জানি।  কখনো কি মনে হয়েছে মস্তিষ্কের মধ্যে স্মৃতি ঠিক কিভাবে তৈরি হয়?  এনগ্রামকে বলা হয় স্মৃতি তৈরির গাঠনিক একক।এই লেখাতে আমরা এনগ্রাম নামক একটা ধারণার সাথে পরিচিত হবো। এর পরের লেখায় স্মৃতি তৈরির প্রক্রিয়ার পেছনে যে জীববিজ্ঞান ও নিউরো-কম্পিউটেশন আছে, সেটা সম্পর্কে জানবো। এনগ্রাম কী স্মৃতি নিয়ে অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহ ছিলো। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, ১৯০৪ সালে জার্মান বিজ্ঞানী রিচার্ড সিমন সর্বপ্রথম এনগ্রামের ধারণা দেন। তিনি বলেন, কোন…

  • এই লেখাটিকে ‘জিএম শস্য: কী, কেন, কীভাবে‘ শীর্ষক লেখার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। জিএম শস্য তৈরির বৈজ্ঞানিক কৃৎকৌশল ছাড়াও এটি নিয়ে সারা দুনিয়ায় যে জমজমাট বিতর্ক চলছে, তার কিছু ইশারা ওই লেখার শেষে দেওয়া হয়েছিলো। এই লেখায় তার কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। দুনিয়ার ইতিহাসের কোন মুহূর্তে জিএম ফসল ঠিক জরুরি হয়ে উঠলো,তার প্রেক্ষাপটটা জানা দরকার। ইংরেজ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস উনিশ শতকের প্রথমভাগে তার জনসংখ্যা তত্ত্ব প্রস্তাব করেন। তার তত্ত্বের সহজ প্রচলিত রূপটি এমন: খাদ্যশস্যের উৎপাদন সমান্তর প্রগমনে বৃদ্ধি পায় কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় গুণোত্তর প্রগমনে। এই অবশ্যম্ভাবী খাদ্য সংকট…

  • প্রাণরসায়নবিদরা গবেষণার দরকারে নানান রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। আমার সদ্য অনুবাদ করা জাপানিজ লেখক ও গবেষক মাসাহারু তাকেমুরার জনপ্রিয় কমিক্স বই “দ্য মাঙ্গা গাইড টু বায়োকেমিস্ট্রি” বই থেকে এই অংশটুকু নেওয়া। এই অংশে লেখক কমিক্স এর ভঙ্গিতে স্বল্প পরিসরে তুলে ধরেছেন প্রাণরসায়নবিদদের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা। লেখক এই অংশে একজন প্রাণরসায়নবিদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।     জীবপ্রযুক্তির নানান কৌশল ব্যবহার করে প্রোটিন এর কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে প্রাণরসায়নে কি কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়? গবেষণার ক্ষেত্রবিশেষে নানান রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতিই রয়েছে। সবকটাই এখানে তুলে ধরা সম্ভব না। তার চাইতে, আমি বরং নিজে কি কি রকমের পদ্ধতি ব্যবহার…