• অক্টোবর, ১৯৫৩। উত্তর ইংল্যান্ড। ৩৩ বছর বয়সী মিস ম্যাক (Mrs. McK, ছদ্মনাম) স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো রক্ত দিতে যান নিকটস্থ একটি ব্লাড ক্লিনিকে। রক্তদানের পর নিজেদের ছোটখাটো প্রয়োজন সেরে দুজনই ফিরে আসেন বাসায়। ততক্ষণে ক্লিনিকে দান করা রক্ত পৌঁছে যায় ল্যাবরেটরীতে, স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য। স্ক্রিনিং টেস্টের পর রিপোর্ট হাতে পেয়ে চোখ বুলাতেই চমকে ওঠেন ল্যাবম্যান! মনের অজান্তেই বলে ওঠেন – এ কি? একই ব্যক্তির শরীরে যে বইছে দুটি ভিন্ন রক্তের গ্রুপ! বায়োলজিক্যালি যা পুরোপুরি অসম্ভব। পুনরায় টেস্টের তোড়জোড় রিপোর্টে ভুল এসেছে ভেবে পুনরায় টেস্টটিউবে রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করতে বসে পড়লেন তিনি। এবার বেশ সময় নিয়ে, মনযোগ সহকারে সম্পন্ন করলেন পরীক্ষাকার্য।…

  • ধরেন আপনি নির্বাচন করবেন। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষমেশ নমিনেশন পেলেন। ভোটও হয়ে গেল। আজকে ভোটের ফলাফল।  কিন্তু, হায়হায়, একি সর্বনাশ! যে কালু মিয়ার ভোটে জীবনে জেতার কোন সম্ভাবনাই নাই, সেই কালু মিয়া আপনার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়ে জিতে গেছে। কিন্তু এবারের ভোটে তো ইভিএম মেশিন ব্যাবহার করা হয়েছে। সেখানে তো ভোট কারচুপির কোন উপায়ই নেই।  কিন্তু, কালু মিয়ার জিতারই কোন সম্ভাবনা নাই। তাহলে কি হলো এখানে? কোন দৈববলে কালু মিয়া জিতে গেল এবারের নির্বাচনে?  ইতিহাসের পাতায় ২০০৩ সালের ১৮ মে, বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল পদ্ধতির এক ভোট। সেখানে নিরাপত্তার জন্য একটা বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা…

  • বিগত চল্লিশ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিন্তু আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বেড়েছে সামান্যই। এরপরেও আমরা,রাজনৈতিক কারণ ছাড়া, পৃথিবীতে বড়সড় কোনো খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হই নি। আসলে, উল্লেখ্য সময়কালে জনপ্রতি খাদ্যোৎপাদন প্রায় পঁচিশ শতাংশ বেড়েছে। জমির পরিমাণ যদি তেমন না-ই বেড়ে থাকে,তাহলে কীভাবে সম্ভব হলো এই চমৎকার? ফসল উৎপাদনের দারুণ বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে জিন প্রকৌশলের।  কৃষির জন্মলগ্ন থেকেই কৃষকেরা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ফসল নির্বাচন করতেন এবং তাদেরই চাষ হতো। সুস্থ,সবল এবং কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনকারী ফসলের মধ্যে কৃষকেরা সংকরায়ণ করতেন। অন্য জাতের মিশ্রণ প্রতিরোধ করা হতো। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে আমরা পেয়েছি…

  • ঘুম, যে কাজে আমরা জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করি, বেঁচে থাকার জন্য তার অতীবগুরুত্ব ভূমিকা থাকতেই হবে। না হয় সে কাজ বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে বোধগম্য না।  ঘুমের অনেকগুলো জরুরী কাজের মধ্যে সম্ভবত অন্যতম প্রধান হলো স্মৃতি সংহতিসাধন (Memory consolidation)। নিউরোসায়েন্সের ভাষায় মেমরি কনসলিডেশন বলতে বোঝায় নতুন গঠিত হওয়া স্মৃতিকে দৃঢ়করণ, স্থিতিশীলতা বাড়ানো, ও স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তর। মস্তিস্কে স্মৃতির সংহতিসাধন ঠিক কিভাবে হয়?

  • মিসির আলি প্যারানরমাল বা অলৌকিক ভূতুরে ঘটনার লৌকিক ব্যাখ্যা প্রদান করার চেষ্টা করেন। মিসির আলির এ কাজ বৈজ্ঞানিক কি না তা জানা যায়

  • আমরা মাংস খাই, ফল খাই, অনেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সবজি খাই, আবার কেউবা মিষ্টি খাবারের নেশায় আসক্ত। আমাদের খাবার পছন্দের উপর বিরাট প্রভাব থাকে স্বাদের। কু-স্বাদের খাবার যতোই স্বাস্থ্যকর হোক না কেন, তা আমাদের গলা দিয়ে নামে না। সুস্বাদু খাবারের প্রতি কেন এই বিশাল আগ্রহ? আর এসব খাবারের স্বাদ কেনই বা ‘সু’ অনুভূতি জাগায়? এই প্রশ্নগুলোর জবাব আমরা পাই মানুষের বিবর্তন থেকে। স্বাদের সূচনা হয় আমাদের জিহ্বার স্বাদ কোরক নামক বিশেষ টিস্যুতে। আর শেষ হয় মস্তিষ্কের তৈরি ভ্রমের মধ্য দিয়ে।  স্বাদ কী খাবার মুখে পুড়বার সঙ্গে সঙ্গেই হজম ক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। দাঁত দিয়ে খাবার চিবানোর সময়…

  • অসীম মহাবিশ্বের বুকে অস্তিত্ব থাকা হয়তো একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের স্থায়ী ঠিকানা সৌরজগত। তাইতো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ওরিয়ন-সিগনাস আর্মে অবস্থিত সূর্য নামের মাঝারি আকৃতির আপাত বৈশিষ্ট্যহীন নক্ষত্রটি মহাবিশ্বের অগনিত অন্য সব নক্ষত্রের মাঝে অনন্য। নিউক্লিয়ার শক্তির বদৌলতে এটি আলোকিত করে চলেছে অবিরাম ঘুরতে থাকা আটটি গ্রহকে। এরা ছাড়াও সূর্যের রাজত্বে আরো আছে কয়েকটি বামন গ্রহ, কয়েকশত উপগ্রহ এবং কয়েক মিলিয়ন গ্রহাণুপুঞ্জের অস্তিত্ব। এদের সবার সরব উপস্থিতিতে পূর্ণতা পায় সোলার সিস্টেম। আচ্ছা ভাবুন তো, মহাবিশ্বে মোট নক্ষত্রের সংখ্যা কত? বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হতে না পারলেও এদের সংখ্যা খুব সম্ভবত ২০০ বিলিয়ন ট্রিলিয়নের কম হবে না। সংখ্যাটির বিশালতা…

  • জীববিজ্ঞান শব্দটা যতটা কাটখোট্টা, তার চাইতেও কিছু শিক্ষার্থী বা পাঠকেরদের কাছে বিষয়টা কঠিন বেশি। কিন্তু, কেন? এই কেন এর আবার হরেক রকম উত্তর আছে। কারও মতে এটা খালি মুখস্ত করতে হয়, তাই এটা বাজে। কারও আবার তথ্য মনে রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। যার যেই যন্ত্রণাই হোক না কেন, সব একপাশে রেখে আজকের এই ব্লগপোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কারণ হিমালয়ের বায়োনাথ বাবার দেওয়া কিছু পরামর্শ আমি শেয়ার করবো। তার আগে বলে নিই, এই লেখাটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। তো, চলো, শুরু করা যাক! শুরুটা হোক সুন্দর সাইকোলজিক্যালি একটা কথা সত্য যে তুমি যদি কোন কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে…

  • জীবমাত্র বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করে। বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উৎপাদক উদ্ভিদ এবং খাদক প্রাণীদের খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্ন। উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য কতগুলো উপাদান মাটি,পানি আর বাতাস থেকে গ্রহণ করে। এদের মধ্যে বিশেষ নয়টি উপাদান তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বেশি পরিমাণে দরকার হয়, যাদেরকে বলা হয় ম্যাক্রো-পুষ্টি উপাদান। নাইট্রোজেন তাদের মধ্যে অন্যতম। নাইট্রোজেন নিউক্লিক এসিড (অন্য কথায় কোষের ডিএনএ/আরএনএ), প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এজন্য মাটিতে নাইট্রোজেন মাত্রা কতটুকু—তা-ই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেয় জমির ফলন কেমন হবে। আমাদের দেহেও নাইট্রোজেন সমানভাবে দরকারি। উদ্ভিদ কিংবা তৃণভোজী বিভিন্ন প্রাণীকে খাওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করি।…