• অসীম মহাবিশ্বের বুকে অস্তিত্ব থাকা হয়তো একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের স্থায়ী ঠিকানা সৌরজগত। তাইতো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ওরিয়ন-সিগনাস আর্মে অবস্থিত সূর্য নামের মাঝারি আকৃতির আপাত বৈশিষ্ট্যহীন নক্ষত্রটি মহাবিশ্বের অগনিত অন্য সব নক্ষত্রের মাঝে অনন্য। নিউক্লিয়ার শক্তির বদৌলতে এটি আলোকিত করে চলেছে অবিরাম ঘুরতে থাকা আটটি গ্রহকে। এরা ছাড়াও সূর্যের রাজত্বে আরো আছে কয়েকটি বামন গ্রহ, কয়েকশত উপগ্রহ এবং কয়েক মিলিয়ন গ্রহাণুপুঞ্জের অস্তিত্ব। এদের সবার সরব উপস্থিতিতে পূর্ণতা পায় সোলার সিস্টেম। আচ্ছা ভাবুন তো, মহাবিশ্বে মোট নক্ষত্রের সংখ্যা কত? বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হতে না পারলেও এদের সংখ্যা খুব সম্ভবত ২০০ বিলিয়ন ট্রিলিয়নের কম হবে না। সংখ্যাটির বিশালতা…

  • জীববিজ্ঞান শব্দটা যতটা কাটখোট্টা, তার চাইতেও কিছু শিক্ষার্থী বা পাঠকেরদের কাছে বিষয়টা কঠিন বেশি। কিন্তু, কেন? এই কেন এর আবার হরেক রকম উত্তর আছে। কারও মতে এটা খালি মুখস্ত করতে হয়, তাই এটা বাজে। কারও আবার তথ্য মনে রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। যার যেই যন্ত্রণাই হোক না কেন, সব একপাশে রেখে আজকের এই ব্লগপোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কারণ হিমালয়ের বায়োনাথ বাবার দেওয়া কিছু পরামর্শ আমি শেয়ার করবো। তার আগে বলে নিই, এই লেখাটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। তো, চলো, শুরু করা যাক! শুরুটা হোক সুন্দর সাইকোলজিক্যালি একটা কথা সত্য যে তুমি যদি কোন কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে…

  • জীবমাত্র বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করে। বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উৎপাদক উদ্ভিদ এবং খাদক প্রাণীদের খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্ন। উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য কতগুলো উপাদান মাটি,পানি আর বাতাস থেকে গ্রহণ করে। এদের মধ্যে বিশেষ নয়টি উপাদান তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বেশি পরিমাণে দরকার হয়, যাদেরকে বলা হয় ম্যাক্রো-পুষ্টি উপাদান। নাইট্রোজেন তাদের মধ্যে অন্যতম। নাইট্রোজেন নিউক্লিক এসিড (অন্য কথায় কোষের ডিএনএ/আরএনএ), প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এজন্য মাটিতে নাইট্রোজেন মাত্রা কতটুকু—তা-ই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেয় জমির ফলন কেমন হবে। আমাদের দেহেও নাইট্রোজেন সমানভাবে দরকারি। উদ্ভিদ কিংবা তৃণভোজী বিভিন্ন প্রাণীকে খাওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করি।…

  •    এই সুবিশাল মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা এটা বহু পুরোনো প্রশ্ন। এর সদুত্তর এখনো আমরা পাইনি। প্রাণের সন্ধান জানতে আগে জানা প্রয়োজন আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো গ্রহ আছে কিনা। শতবছর ধরেই দার্শনিক, বিজ্ঞানীরা এটা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর জানা হয়ে উঠেনি। ইতালির বিখ্যাত দার্শনিক এবং সৃষ্টিতত্ত্ববিদ জিওনার্দো ব্রুনো ষোলো শতকেই সৌরজগতের বাইরেও প্রাণ থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে বহির্গ্রহ খুঁজে পাওয়ার বিভিন্ন দাবি আসতে থাকে। অনেক সায়েন্স ফিকশন বই, সিনেমাতেও পৃথিবীর মতো গ্রহের গল্প উঠে আসতে থাকে। কিন্তু বাস্তবে বহির্গ্রহের সন্ধান পাওয়াই যাচ্ছিল না। বলা চলে…

  • কখনো কি ভেবেছেন ডট গুণনে আমরা যে লেখি  $\vec{U} \cdot \vec{V} = UV \cdot \cos(\theta)$ এইটা আসলে কেনই বা লেখি? পদ্ধতিটা আসলো কিভাবে?  কেউ একজন কি ধুম করে এইটা ডিফাইন করে দিল আর আমরা মেনে নিলাম? ব্যাপারটা কি তাই? নাকি এইটার ভিতরও লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম কোন চিন্তার ছাপ? চলুন, আজকে আমরা সেটাই দেখব।  ধরি,  $\vec{U} = u_1 \hat{i} + u_2 \hat{j}$  আর  $\vec{V} = v_1 \hat{i} + v_2 \hat{j}$  তাহলে, আমাদের সূত্র মতে, $\vec{U} \cdot \vec{V} = u_1u_2 + v_1v_2 = UV \cdot \cos(\theta)$ কিন্তু, $u_1u_2 + v_1v_2 = UV \cdot \cos(\theta)$ হবেই সেটা আমরা কিভাবে…

  • এপ্রিল, ১৯৫০। কম্পিউটার ল্যাব, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, ইংল্যান্ড। ফুরফুরে মেজাজে ব্রিটিশ গণিতবিদ ও কম্পিউটার প্রকৌশলী এলান টুরিং কম্পিউটারের চিন্তন ক্ষমতা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার বিষয়- কম্পিউটার কী কখনো নিজস্ব চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে মানুষের বিকল্প (বট) হিসেবে কাজ করতে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাঁরা দারস্থ হন একটি চমকপ্রদ গেইমের। গবেষণার কাজের ফাঁকে, অবসর সময়ে টুরিং নিজেই তৈরি করেন এই গেইম। গেইমের নাম- দ্য ইমিটেশন গেইম। এটি মূলত একধরণের পরীক্ষণ। এর লক্ষ্য, রোবট কতটা বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে, তা পরীক্ষা করা। শুরুটা যেভাবে গেইমের বিষয়বস্তু অনেকটা এরকম- দু’টি ভিন্ন রুমের একটিতে মানুষ ও অন্যটিতে রাখা হবে একটি…

  • প্রতি বছরের মতো এবারও নোবেল পুরস্কার নিয়ে আগ্রহ কম ছিল না। নোবেল নিয়ে মানুষের এত কৌতূহলের বড় কারণ হলো নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার আগে তা জানা অসম্ভব। যে-সব বিষয়ে নোবেল দেওয়া হয় তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান একটি। এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়ের আগোস্তিনি, জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইন্সটিটিউট অফ কোয়ান্টাম ওপটিক্সের ফেরেন্স ক্রাউজ এবং সুইডেনের ল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান লিয়ের। আলোর অ্যাটোসেকেন্ড স্পন্দনের মাধ্যমে ইলেকট্রনের গতিবিধি নির্ণয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্যে তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। স্পন্দন ও অ্যাটোসেকেন্ড এবারের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা বুঝতে হলে, আলোর স্পন্দন ও অ্যাটোসেকেন্ড সম্বন্ধে জানা জরুরি। প্রথমেই আসি অ্যাটোসেকেন্ডের…

  • আপনাদের কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাপমাত্রা বলতে আপনি কি বুঝেন? তাহলে আপনাদের মধ্যে অধিকাংশই যেই উত্তরটা দিবেন সেটা হলো অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি। যে পদার্থের অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি বেশি, তার তাপমাত্রা বেশি আর যার অণু পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি কম, তার তাপমাত্রাও কম। এখন আমার প্রশ্ন হলো, তাপমাত্রা যদি অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি হয়, তাহলে কি তাপমাত্রার জন্য নতুন করে কেলভিন, সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ইত্যাদি ইত্যাদি নতুন একক আনার কি কোন প্রয়োজন ছিল? তাপমাত্রা কী? তাপমাত্রা কি এই জিনিসটা আমরা সবাই কমবেশি বুঝি। কিন্তু আমরা যেটা বুঝিনা সেটা হলো তাপমাত্রা জিনিসটা একটা খুবই অ্যাবস্ট্রাক্ট জিনিস। এইটা যে অ্যাবস্ট্রাক্ট সেটা কিভাবে বুঝবেন?? খুবই সোজা। আপনাকে…

  • চাঁদের অন্ধকার প্রান্তে পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া, চাঁদের অন্ধকার প্রান্তে টেলিস্কোপ বসানো, অন্ধকার প্রান্তেই ল্যান্ড করেছে চন্দ্রযান-৩।