•    এই সুবিশাল মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা এটা বহু পুরোনো প্রশ্ন। এর সদুত্তর এখনো আমরা পাইনি। প্রাণের সন্ধান জানতে আগে জানা প্রয়োজন আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো গ্রহ আছে কিনা। শতবছর ধরেই দার্শনিক, বিজ্ঞানীরা এটা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর জানা হয়ে উঠেনি। ইতালির বিখ্যাত দার্শনিক এবং সৃষ্টিতত্ত্ববিদ জিওনার্দো ব্রুনো ষোলো শতকেই সৌরজগতের বাইরেও প্রাণ থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে বহির্গ্রহ খুঁজে পাওয়ার বিভিন্ন দাবি আসতে থাকে। অনেক সায়েন্স ফিকশন বই, সিনেমাতেও পৃথিবীর মতো গ্রহের গল্প উঠে আসতে থাকে। কিন্তু বাস্তবে বহির্গ্রহের সন্ধান পাওয়াই যাচ্ছিল না। বলা চলে…

  • কখনো কি ভেবেছেন ডট গুণনে আমরা যে লেখি  $\vec{U} \cdot \vec{V} = UV \cdot \cos(\theta)$ এইটা আসলে কেনই বা লেখি? পদ্ধতিটা আসলো কিভাবে?  কেউ একজন কি ধুম করে এইটা ডিফাইন করে দিল আর আমরা মেনে নিলাম? ব্যাপারটা কি তাই? নাকি এইটার ভিতরও লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম কোন চিন্তার ছাপ? চলুন, আজকে আমরা সেটাই দেখব।  ধরি,  $\vec{U} = u_1 \hat{i} + u_2 \hat{j}$  আর  $\vec{V} = v_1 \hat{i} + v_2 \hat{j}$  তাহলে, আমাদের সূত্র মতে, $\vec{U} \cdot \vec{V} = u_1u_2 + v_1v_2 = UV \cdot \cos(\theta)$ কিন্তু, $u_1u_2 + v_1v_2 = UV \cdot \cos(\theta)$ হবেই সেটা আমরা কিভাবে…

  • এপ্রিল, ১৯৫০। কম্পিউটার ল্যাব, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, ইংল্যান্ড। ফুরফুরে মেজাজে ব্রিটিশ গণিতবিদ ও কম্পিউটার প্রকৌশলী এলান টুরিং কম্পিউটারের চিন্তন ক্ষমতা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার বিষয়- কম্পিউটার কী কখনো নিজস্ব চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে মানুষের বিকল্প (বট) হিসেবে কাজ করতে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাঁরা দারস্থ হন একটি চমকপ্রদ গেইমের। গবেষণার কাজের ফাঁকে, অবসর সময়ে টুরিং নিজেই তৈরি করেন এই গেইম। গেইমের নাম- দ্য ইমিটেশন গেইম। এটি মূলত একধরণের পরীক্ষণ। এর লক্ষ্য, রোবট কতটা বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে, তা পরীক্ষা করা। শুরুটা যেভাবে গেইমের বিষয়বস্তু অনেকটা এরকম- দু’টি ভিন্ন রুমের একটিতে মানুষ ও অন্যটিতে রাখা হবে একটি…

  • প্রতি বছরের মতো এবারও নোবেল পুরস্কার নিয়ে আগ্রহ কম ছিল না। নোবেল নিয়ে মানুষের এত কৌতূহলের বড় কারণ হলো নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার আগে তা জানা অসম্ভব। যে-সব বিষয়ে নোবেল দেওয়া হয় তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান একটি। এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়ের আগোস্তিনি, জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইন্সটিটিউট অফ কোয়ান্টাম ওপটিক্সের ফেরেন্স ক্রাউজ এবং সুইডেনের ল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান লিয়ের। আলোর অ্যাটোসেকেন্ড স্পন্দনের মাধ্যমে ইলেকট্রনের গতিবিধি নির্ণয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্যে তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। স্পন্দন ও অ্যাটোসেকেন্ড এবারের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা বুঝতে হলে, আলোর স্পন্দন ও অ্যাটোসেকেন্ড সম্বন্ধে জানা জরুরি। প্রথমেই আসি অ্যাটোসেকেন্ডের…

  • আপনাদের কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাপমাত্রা বলতে আপনি কি বুঝেন? তাহলে আপনাদের মধ্যে অধিকাংশই যেই উত্তরটা দিবেন সেটা হলো অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি। যে পদার্থের অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি বেশি, তার তাপমাত্রা বেশি আর যার অণু পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি কম, তার তাপমাত্রাও কম। এখন আমার প্রশ্ন হলো, তাপমাত্রা যদি অণু-পরমাণুর কাঁপা-কাঁপি হয়, তাহলে কি তাপমাত্রার জন্য নতুন করে কেলভিন, সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ইত্যাদি ইত্যাদি নতুন একক আনার কি কোন প্রয়োজন ছিল? তাপমাত্রা কী? তাপমাত্রা কি এই জিনিসটা আমরা সবাই কমবেশি বুঝি। কিন্তু আমরা যেটা বুঝিনা সেটা হলো তাপমাত্রা জিনিসটা একটা খুবই অ্যাবস্ট্রাক্ট জিনিস। এইটা যে অ্যাবস্ট্রাক্ট সেটা কিভাবে বুঝবেন?? খুবই সোজা। আপনাকে…

  • চাঁদের অন্ধকার প্রান্তে পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া, চাঁদের অন্ধকার প্রান্তে টেলিস্কোপ বসানো, অন্ধকার প্রান্তেই ল্যান্ড করেছে চন্দ্রযান-৩।

  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ সাল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক ভাবে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে। কারণ, চীনের উহান প্রদেশ থেকে পুরো বিশ্বে বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সার্স কোভ-২ (SARS-CoV-2) নামে করোনা ভাইরাস। কিন্তু কোনো লাভ হল না। এই ভাইরাস পুরো পৃথিবীতে মহামারি বাধিয়ে দিল। সারা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা পড়ল করোনার সংক্রমণে। পৃথিবীর মানুষকে বাঁচানোর গুরু দায়িত্ব তখন সকল স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাঁধে। ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম উপায় হল আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্যে প্রস্তুত করা। আর সেই কাজটা করা হয় টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে। বিশ্বের বিজ্ঞানীরা…

  • এবারের রসায়নে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন বিজ্ঞানী। এরা হলেন, মুঙ্গি বাওয়েন্ডি, লুই ব্রুস, আলেক্সি ইয়াকিমভ। ওনারা মূলত যে কারণে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন সেটাই আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়। ওনারা মূলত রসায়নে নোবেল পেয়েছেন কোয়ান্টাম ডট আবিষ্কার করা জন্য। এইটা মূলত একপ্রকার সেমিকন্ডাক্টর যেটা আবার একপ্রকার ন্যানোপার্টিকেল।সেমিকন্ডাক্টর হলো একপ্রকার পদার্থ যেটা কখনো পরিবাহী আবার কখনো অপরিবাহীর মতো আচরণ করে। আর ন্যানোপার্টিকেল হলো ১ সেন্টিমিটারের এককোটি ভাগের একভাগের সমান ক্ষুদ্র কণা। তো সাধারণ কোন মৌলের পরমাণু যখন একা থাকে  তখন তার শেষ কক্ষপথে কেবল একটা নির্দিষ্ট শক্তির স্তরই থাকে। কিন্তু সেমিকন্ডাক্টরে যখন একসাথে মৌলের অনেক পরমাণু থাকে তখন…

  • “UN Climate Change” প্রতিষ্ঠানটি বলছে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্র দীর্ঘকাল ধরে ভুগছে। মহাসাগরগুলো পৃথিবীতে আটকে থাকা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন থেকে মুক্ত হওয়া অতিরিক্ত তাপ এবং শক্তি শোষণ করে। সমুদ্র এই ক্রমবর্ধমান ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন দ্বারা উৎপন্ন তাপের প্রায় ৯০% শোষণ করে। অত্যাধিক তাপশক্তি সমুদ্রকে ক্রমেই উষ্ণ করে তুলছে। তাপমাত্রার পরিবর্তনে বরফ-গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর পাশাপশি সামুদ্রিক তাপ-প্রবাহ (Marine heat waves) তীব্রতর হচ্ছে এবং সমুদ্রের এসিডিফিকেশন ঘটছে। এর ফলে ক্যাসকেডিং ইফেক্ট দেখা দিচ্ছে অর্থাৎ কিছু নির্দিষ্ট কারণে পুরো সামুদ্রিক সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি শেষ পর্যন্ত সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারীদের জীবন ও জীবিকার…