• বাসা-বাড়িতে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে কিংবা চায়ের দোকানের আড্ডায় আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- পুরনো দিনের খাবারের স্বাদই কি বরং ভালো ছিল? আড্ডার সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিটি তো আরেক কাঠি সরেস,”এখনকার খাবারে কি আর স্বাদ আছে নাকি?” তবে বাস্তবিক অর্থে নূতন-পুরাতনের এ লড়াইয়ের সমাধান করা বেশ দুরূহ ব্যাপারই বটে! চাইলেই তো আর ৫০ বছর আগের কোনো ফলের দোকানের ফলের স্বাদ ও বর্তমানে সুপার মার্কেটের কোনো ফলের স্বাদ মিলিয়ে দেখা সম্ভব না। যদি এটি করা সম্ভবও হয়,তবু অতীতের ফলটিই যে সুস্বাদু- এ বিষয়েও হয়তো সকলে একমত হবেন না!  আমরা সাধারণত পাঁচ ধরনের স্বাদ অনুভব করতে পারি। এগুলো হলো- মিষ্টি, টক, তেতো,…

  • গ্রাম কিংবা শহরে প্রায় বাড়িতেই মানুষ বিড়াল পুষে। সংখ্যায় একটা দুটো থেকে শুরু করে আট দশটাও হয়। বাড়ির রান্না করা খাবারের বেঁচে যাওয়া হাড়গোড় সবসময় প্রস্তুত থাকে তার উদরপূর্তির জন্যে। কোনো কোনো বাড়িতে ভূরিভোজ এর খানিকটা অংশ দেয়া হয় তাদের। আর ঘরের আনাচে-কানাচে ঘোরাঘুরি করা ইঁদুরের দল তো আছেই। কেউ কেউ আবার আদর করে নামও রাখে এদের। যেমন আমারই এক সহপাঠীর বাড়িতে দশটা বিড়াল পোষা হয়। এগুলোর আছে হরেক রকমের নাম- লালটু, নীলটু, বল্টু ইত্যাদি। কতই না যত্নআত্তি হয় এদের। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে হরহামেশাই দেখা যায়, খেতে বসা থেকে শুরু করে ঘুমোতে যাওয়া অবধিও…

  • ডিজিটাল ডিভাইসগুলো শুধু সংখ্যা বুঝে। তাই CCD নামে একটি যন্ত্রের মাধ্যমে ফোটন কণার সংখ্যা গুনে রাখা হয়। এ থেকে পরে রঙ যুক্ত করে ছবি তৈরি করা হয়।

  • দশম শ্রেণিতে থাকতে আমি চিন্তার চাষের ক্ষুদে গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলাম। একটা সিরিয়াস প্রজেক্টে কাজ করে বিজয়ীও হয়েছিলাম। সেই সুবাদে অনুজদের পক্ষ থেকে এই প্রতিযোগিতার ব্যাপারে লেখার অনুরোধ পেয়েছি। আর তাই লিখতে বসে গেলাম। “চিন্তার চাষ” একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীরাও যেন গবেষণা কার্যক্রমের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, সেই উদ্দেশ্যেই এখন প্রতিবছর সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে। মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক ক্যাম্পেইনের সংগঠনটি বিভিন্ন স্কুলের দলভিত্তিক শিক্ষার্থীদেরকে “গবেষণা” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। একাধিক সেশনে এই ক্যাম্পেইনটি সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গবেষণা করতে বলা হয় এবং সকল প্রক্রিয়া-পদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ…

  • কুষ্ঠরোগ কি? কুষ্ঠরোগ, যা কিনা হ্যানসেনের রোগ নামেও পরিচিত। কুষ্ঠ একটি সংক্রামক রোগ। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি (Mycobacterium leprae) বা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রোমাটোসিস (Mycobacterium lepromatosis) নামক দুইটি ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের কারনে কুষ্ঠরোগ হয়। সংক্রমণটি স্নায়ু, শ্বাসনালী, ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করতে পারে। কুষ্ঠরোগের ইতিহাস প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সাল থেকেই কুষ্ঠরোগ বিদ্যমান ছিল। এর উৎপত্তি প্রাচীন পূর্ব আফ্রিকা নাকি ভারতে হয়েছিলো তা নিয়ে যথেষ্ট পরিমান বিতর্ক রয়েছে। প্রাচীনকালে এটিকে দেবতাদের অভিশাপ, পাপের শাস্তি বা বংশগত রোগ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হতো।  ভারতে ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কুষ্ঠ রোগের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের চীনা…

  • খরগোশ ল্যাগোমর্ফা বর্গের লেপোরিডি গোত্রের একটা তৃণভোজী প্রাণী। এদের দুটো ভাগ আছে- হেয়ার (Hare) এবং র‍্যাবিট (Rabbit)। আমরা অনেকেই প্রায়শই এই দুই দলকে এক করে ফেলি। কিন্তু তাদের মধ্যে আছে বিস্তর ফারাক। র‍্যাবিটদের দেহের গড়ন অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের হয়। কান জোড়াও হেয়ার’দের তুলনায় ছোট ছোট। জন্মলগ্নে র‍্যাবিট শাবক’দের দেহে কোনরকম পশম থাকে না। চোখ জোড়া বন্ধ অবস্থায় থাকে। এরা গাছপালা আর ঝোপঝাড়ে ভরতি এলাকায় মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বসবাস করে। অন্যদিকে হেয়ার’দের দেহ বড় আকারের হয়, কান জোড়াও বেশ লম্বা। জন্মলগ্ন থেকেই এদের গা ভরতি পশম থাকে। চোখ খোলা অবস্থাতেই হেয়ার শাবকের জন্ম হয়। বাসস্থান নির্বাচনেও এদের…

  • স্কুলে থাকতে জীবের প্রজনন পড়তে গেলেই মাথা নষ্ট হয়ে যেত। কোথায় যেন তাল-গোল পাকিয়ে ফেলতাম। এই তাল যেদিন ধরতে পারলাম, সেদিন থেকেই বায়োলজিতে গোল দেওয়া শুরু করলাম। কিন্তু তালটা ধরেছিলাম কীভাবে? আসলে বংশবৃদ্ধি ও প্রজননের কিছু মজার ও অবাক হওয়ার মতো বিষয় পড়তে গিয়েই ধীরে ধীরে “প্রজনন” ব্যাপারটা মাথায় ঢুকতে শুরু করে। আমার কাছে মনে হয় “প্রজনন” জিনিসটা জীবজগৎকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। শুধু তা-ই নয় এটা প্রজাতিগত বৈচিত্র্যও সৃষ্টি করেছে, আবার বিজ্ঞানীদের ঘুমও হারাম করেছে। প্যারামেসিয়াম থেকে শুরু করে স্পাইরোগাইরা পর্যন্ত সকল জীবের মধ্যেই আপন ছন্দে “প্রজনন” সংঘটিত হয়। কখনো ঘটায় বিস্ময়, আবার কখনো ঘটে…

  • গারগাস গুহা অবস্থিত ফ্রান্সের পাইরেনিসে অ্যাভেন্টিগনান শহরের কাছেই। এর অন্ধকার গহীনে আঁকা সুপ্রাচীন গুহা চিত্রকলাগুলো যে কারোর চোখকেই বিভ্রান্ত করবে। বাইসন, ঘোড়া, প্রাচীন গবাদি পশু, বুনো ছাগল আর ম্যামথসহ আরও নানান রকম প্রাণীর ছবি খোদাই করা আছে গারগাসের দেয়ালে। এছাড়া আছে শয়ে শয়ে হাতের রূপরেখার ছাপচিত্র। দশ হাজার বছর আগে প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা পাথরের দেয়ালে হাতের তালু প্রসারিত করে রেখে তার উপর দিয়ে লাল আর কালো রং ছিটিয়ে দিয়ে তৈরি করেছে এই ছাপ গুলো। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকা কিংবা ইন্দোনেশিয়া থেকে ইউরোপ, বিশ্বের নানা  প্রাগৈতিহাসিক স্থানে সন্ধান মেলবে প্রাচীন মানুষের এইরকম অসংখ্য হাতের ছাপ। প্রাগৈতিহাসিক এই গুহা চিত্রকলা…

  • নতুন একটি ওষুধ আলঝেইমার রোগের কারণে হওয়া মানসিক অবনতিকে সাময়িকভাবে প্রতিহত করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ১৭ জুলাই আমস্টারডামের আলঝেইমারস অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে উপস্থাপিত তথ্য এবং একই দিনে JAMA-তে প্রকাশিত তথ্য বলছে যে ডুনানেম্যাব নামক ওষুধটি দেড় বছরের ব্যবধানে বার্ধক্যজনিত আলঝেইমারের ফলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ৩৫% কমাতে সক্ষম হয়েছে। “ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন” লেকানেম্যাব (লেকেম্বি) নামের আরেকটি ওষুধের সম্পূর্ণ অনুমোদন দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে দেখা যায় ওষুধটি আলঝেইমার রোগের বৃদ্ধি ও প্রভাবকে থামিয়ে দিচ্ছে। গত গ্রীষ্মে অ্যাডুকানুম্যাব (অ্যাডুহেলম) নামের আরও একটি অনুরূপ ওষুধ খুব দ্রুতই অনুমোদন পেয়েছিল। তবে এই ওষুধগুলো লাস্ট স্টেজের রোগীদের ক্ষেত্রে অতটা…