• পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটাসিয়াস যুগের শেষদিকে। ডাইনোসর কি একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পৃথিবীর মাটি থেকে? না, তা হয় নি। ডাইনোসররা রেখে গেছে তাদের উত্তরসূরি। বিবর্তন বলে আধুনিক পাখি’রা হল ডাইনোসরদের উত্তরসূরি। কিন্তু কি করে? এই লেখায় সে বিষয়টাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। বিবর্তন তত্ত্বের একটা শক্তপোক্ত প্রমাণ হল জীবাশ্ম বা ফসিল। জীবাশ্ম রেকর্ড বলে আজ থেকে সত্তর মিলিয়ন বছর আগেও পাখি ছিল। তবে প্রায় দু শ মিলিয়ন বছর আগে বাস করত থেরোপড ডাইনোসররা। এদের কোনোটাই পাখি সদৃশ ছিল না। পাখিরা যে ডাইনোসরদের উত্তরসূরি সে ব্যাপারে নিশ্চিত…

  • পৃথিবীতে বাস করে হরেক রকমের জীব-জন্তু। যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রাণ কোনটি? নিমেষেই আমাদের মনে উত্তরটা চলে আসে যে আমরাই সবচাইতে বুদ্ধিমান। সত্যিই কি তাই? একদম শতভাগ মানুষ কিন্তু এমনটা মনে করেন না। কিছু চিন্তক কিংবা দার্শনিকদের মতে, আমাদের এই জটিল মানবসভ্যতা গড়ে তোলাটা ছিল ইতিহাসের সবচেয় বড় ভুল। সবচেয়ে বড় বোকামি। আদিম মুক্ত শিকারি জীবন ছেড়ে আমরা আটকা পড়ে গেছি সভ্যতা নামক চক্রে। তাই কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এই আধুনিক বিশ্বে তুখড় বুদ্ধিমত্তার উদাহরণ খুব একটা নেই। তবে এই কথা কিন্তু সর্বাঙ্গীণ সত্য নয়। মানবসভ্যতা হয়ত সামষ্টিক নির্বুদ্ধিতার মাশুল গুনছে ঠিকই,…

  • সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও ও ছবি বেশ ভাইরাল হচ্ছে যেখানে একটি পাহাড়ি গ্রামকে দেখানো হচ্ছে।দাবি করা হচ্ছে যে গ্রামটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এবং মেঘ জমার সাধারণ উচ্চতা ২০০০ মিটার হওয়ায় গ্রামটিতে কখনো বৃষ্টি হয়নি।  কিছু গণমাধ্যম বলছে গ্রামটি ইয়েমেনের (Yemen) রাজধানী সানা’র (Sanaa) পশ্চিমে মানাখাহ (Manakhah) এর পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থিত আল-হুতাইব (Al-Hutayb) গ্রাম। আবার কিছু গণমাধ্যম দাবী করছে এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) পূর্ব সিয়াং (East Siang) জেলার পাসিঘাট (Pasighat) গ্রাম। এই দাবি গুলো কি ফ্যাক্ট নাকি রিউমর? চলুন তা যাচাই করা যাক। প্রথমে এটা জানা যাক যে ভাইরাল ছবি ও…

  • দেহঘড়ি শব্দটা অনেকের কাছেই অপরিচিত মনে হতে পারে। আমরা হাত ঘড়ি, টেবিল ঘড়ি কিংবা দেয়াল ঘড়ি চিনি। কিন্তু দেহঘড়ি জিনিসটা আবার কি? আমাদের দেহ বাইরের জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলে এই দেহঘড়ি দিয়ে। ঘুম, জেগে উঠা, দেহকোষের ভেতরে ঘটা বিপাক ক্রিয়া এই সবকিছুই দেহঘড়ির নিয়মে চলে। সকালবেলা সূর্যের আলোতে ঘুম ভাঙ্গা আর রাতের বেলায় আঁধার ঘনিয়ে আসলে ঘুমোতে যাওয়া, প্রতিদিন আপনি যে সময়ে আহার গ্রহণ করে অভ্যস্ত সে সময়েই ক্ষিধে লাগা- এসবই কিন্তু দেহঘড়ির আইন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের প্রত্যেকের শরীরই এক একটা দেহঘড়ি। চব্বিশ ঘণ্টার দিন-রাত্রির চক্রের সাথে তাল মেলাতে আমাদের শারীরবৃত্তীয় অবস্থার ছন্দময়…

  • ‘জাতিস্মর’ বইয়ের গল্পের নায়ক ড. জামিল। মোট ১২টি গল্প আছে বইটিতে। ড. জামিল লেখকের সৃষ্ট একজন বিজ্ঞানী, যিনি প্রথাগত বিজ্ঞানচর্চা করেন না। তিনি ভালোবাসেন সত্যজিতের ফেলুদার মতো রহস্য সমাধান করতে আর তার ভালোবাসেন প্রফেসর শঙ্কুর মতো অদ্ভুত অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক যন্ত্র উদ্ভাবন করতে। শার্লক হোমসের যেমন একজন শত্রু লেগে থাকে মরিয়ার্টি, তেমনই ড. জামিলের শত্রু আরেক ক্ষ্যাপাটে বিজ্ঞানী পারভেজ আনোয়ার।

  • পাড়া গাঁয়ের বাড়ির আঙিনায় এখনো একটা দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। মধ্য দুপুরে বাড়ির কর্তা ভুরি ভোজ সেরে পাতের অবশিষ্টাংশ মাছের কাঁটা, আধা চিবোনো মুরগির হাড় হাতে করে নিয়ে কল পাড়ে ছুড়ে ফেলে। আর ওমনি একদল কুকুর তাদের ছানা-পোনা সহ হুমড়ি খেয়ে এসে পড়ে এসব উচ্ছিষ্টের উপর। মনের আনন্দে তারা এসব খেতে থাকে। কুকুরদের খাওয়া শেষ হলে কোত্থেকে যেন ছুটে আসে একদল সুযোগ সন্ধানী বিড়াল। গ্রামে আবার কেউ কেউ শখের বসে কুকুর-বিড়াল পুষে। ওদের জন্যে খাবারের আয়োজনটা আবার রমরমা। রান্না করা মাছ-মাংসের একটা ভাগ রেখে দেয়া হয় এদের জন্যে। শহর বন্দরে অবশ্য হিসেব আলাদা। সেখানে কুকুর-বিড়াল নিতান্তই…

  • ‘ভার্জিন বার্থ’ অর্থাৎ কুমারী হয়েও সন্তান জন্মের গল্প ইতিহাস জুড়ে বহু বলা হয়েছে [১]। প্রাচীন রোমান দেবতা মার্স, প্রাচীন মিশরীয় দেবতা হোরাস, প্রাচীন চীনা পৌরাণিক কাহিনীর কিউই, ইসলাম ধর্মের ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.), খ্রিষ্টান ধর্মে যিশু, সকলেই কুমারী মায়ের সন্তান হিসাবে জন্ম নিয়েছিলো। পৌরাণিক কাহিনি কিংবা ধর্মীয় কথা বাদ দিলেও কুমারী হয়েও সন্তানের জন্ম দেয় এমন কিন্তু আসলে প্রাকৃতিক জগতেই ঘটে। একে বিজ্ঞানের ভাষা বলা হয় পারথেনোজেনেসিস বা বাংলাতে অপুংজনি। সম্প্রতি এই পারথেনোজেনেসিস নিয়ে মানুষদের বেশ হইচই চলেছে। এর কারণ সম্প্রতি মার্কিন বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র [২] এবং সে বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সংবাদ। কুমিরের মধ্যে…

  • বিকেল বেলা ব্যালকনির গ্রিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। দুই হাত দূরে ছোটভাই যশো গ্রিল ধরে ঝুলার চেষ্টা করছে। আকাশ বেশ মেঘলা, শীতল বাতাসে শরীরের লোম‌ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর গ্রিল ছেড়ে দিয়ে যশো বললো, “আচ্ছা দাদা, আমাদের লোম দাঁড়িয়ে যায় কেন? এর কারণ কী?“ বুঝতে পারলাম আমার মতো যশোর‌ও লোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমি বললাম, বলবো তার আগে বলতো, এই যে আমাদের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা এটাকে ইংরেজিতে কি বলে?” যশো সহজ সরল ভঙ্গিতে বললো, “গুজবাম্পস (Goosebumps)“ “এটার আরো কিছু নাম আছে সেগুলো জানিস?” “সেগুলো তো জানি না। তুমি‌ই বলো?” আগের ভঙ্গিতেই বললো যশো। “সাধারণত লোম দাঁড়িয়ে যাওয়াকে…

  • দেশের সাধারণ মানুষ কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সুযোগ পাবে না, আর আমি আমেরিকা থেকে করে আসব বা দেশে মিথ্যা কথা বলে করতে হবে, তা হয় না। আমি ট্রান্সপ্লান্ট করব না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী “ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী”- আমাদের বাংলাদেশের চিকিৎসাজগতের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। আমরা তাঁর ব্যাপারে কতটুকুই বা জানি? তাঁর কর্মজগৎ নিয়ে বাংলায় তেমন কোনো ডকুমেন্ট না থাকলেও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল “দ্যা ল্যানসেট” একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখে সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে। বেভারলি স্নেল, আনোয়ার ফজল চৌধুরী এবং লিংকন চেনের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্যাপারে যে মতামত দিয়েছিলেন, সেগুলোও উক্ত লেখায় প্রকাশ পেয়েছিল। ল্যানসেটে অ্যান্ডিউ গ্রীন তাঁকে…