• সবীজ উদ্ভিদের দু’রকম ভাগ আছে। নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী। আবৃতবীজী উদ্ভিদদের বীজটা ফলের ভেতর আবৃত অবস্থায় থাকে। তাই এদের এমন নামকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে নগ্নবীজী উদ্ভিদদের বীজ একপ্রকার বীজ ধারক পত্রে খোলা অবস্থায় থাকে, তাই এদের নগ্নবীজী ডাকা হয়। আসলে নগ্নবীজীদের ফুল থেকে কোনরকম ফল সৃষ্টি হয় না। তার কারণ এদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না। তাই নগ্নবীজীদের ফুলকে সম্পূর্ণ ফুল বলা চলে না। আবৃতবীজীদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় এদের ফুল হল সম্পূর্ণ ফুল। ইতিহাস বলে পৃথিবীতে আবৃতবীজীদের আগমনের বহু আগেই নগ্নবীজী উদ্ভিদদের আগমন ঘটে। সেই জুরাসিক যুগেও পৃথিবী জুড়ে রাজত্ব করেছে নগ্নবীজী উদ্ভিদরা। কিন্তু বর্তমানে চারপাশে কেবল আবৃতবীজী…

  • নেউলে বা বেজি হল ঝোপ-ঝাড়ে ঘুরে বেড়ানো একটা শ্বাপদ স্তন্যপায়ী প্রাণী। গ্রামে কিংবা শহরে ঝোপ-জঙ্গলে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যেতে দেখা যায় এদের। কিংবা দেখা যায় কিং কোবরা সাপের মাথাটা কামড়ে ধরে আছে। পৃথিবীতে তিন ডজন এর কাছাকাছি সংখ্যক প্রজাতির বেজি আছে। এর মধ্যে আছে চৌদ্দটা গণের তেত্রিশটা নেউলে প্রজাতি। সবচাইতে চেনা হচ্ছে হারপেস্টেস গণের দশটা নেউলে প্রজাতি। বেজির সন্ধান মেলে প্রধানত আফ্রিকায়। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ ইউরোপের নানান দেশেও এদের দেখা যায়। ছোট ছোট পা, বিন্দুসম নাক, ছোট কান আর লম্বা লোমশ লেজ বিশিষ্ট, আকারে বিড়ালের মতন এই প্রাণীটিকে সবাই সাপের চিরশত্রু হিসেবেই বেশী চেনে।…

  • মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিলতম বিষয়গুলোর একটি হলো জীববিজ্ঞান-এই ধারণাটা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে গেছে। এই ধারণার পেছনে একটা না, বহু কারণ রয়েছে। প্রথমত, জীববিজ্ঞানের কাজই জটিল সব কাঠামো নিয়ে কাজ করা, যেগুলোর অধিকাংশই অঙ্ক কষে সমাধান করে ফেলার মতো নয়। দ্বিতীয়ত, এর বিভিন্ন বিষয়ের (জিনোম, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, আচরণ ইত্যাদি) ভেলকি এখনো পুরোপুরি উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তাই অনেক “কেন” এর উত্তর অস্পষ্ট। তৃ্তীয়ত, প্রতিদিনই জীববিজ্ঞানের পৃষ্ঠাগুলোর সংস্করণ ঘটছে। জীববিজ্ঞানের এতোসব মারপ্যাঁচের কারণে শিক্ষার্থীরা একটা বিষয়ের পুরো রহস্যটা জানতে পারে না, অনেকক্ষেত্রে জানতে দেওয়া হয় না। আবার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অনেকেই নতুন…

  • অনেকেই প্রশ্ন করেন, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদির লালা থেকে মানুষের ক্ষতি হতে পারে কিনা? এর উত্তর হচ্ছে, জ্বী, ক্ষতি হতে পারে। এমনকি, আপনার পোষা সে প্রাণিটি ভ্যাকসিনেটেড হলেও ইনফেকশান হতে পারে। আজকে তা নিয়েই আমাদের ছোট্ট আলোচনা। আজকাল অনেকেই দাবি করেন, বিড়ালের লালায় কোনো জীবাণু নেই। এ দাবিটুকু সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো প্রাণির লালা-ই জীবাণুমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। কুকুর, বিড়ালের লালায় থাকা জীবাণুদের সাধারণত বলা হয় Capnocytophaga germs । এ জীবাণুরা সাধারণত কুকুর এবং বিড়ালের লালা থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে মানব শরীরেও। এতে করে শরীরের বিভিন্ন অংশ বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত, যাদের ইমিউন সিস্টেম দূর্বল।  সাধারণত মুখ এবং গলার…

  • মিশন ইউক্লিডের নামকরণ করা হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রীক গণিতবিদ ইউক্লিডের নামানুসারে। জ্যামিতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ইউক্লিডকে সকলেই চেনে। মহাবিশ্বের জ্যামিতির সাথে সম্পর্ক আছে পদার্থ এবং শক্তির ঘনত্বের। অনেকটা সেকারণেই এই মিশনের নাম দেয়া হয়েছে ইউক্লিড। মিশনের উদ্দেশ্য ইউক্লিড নকশা করা হয়েছে অন্ধকার মহাবিশ্বের বিবর্তন অন্বেষণ করার জন্য । মিশনের বড় লক্ষ্য হল আমাদের মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে নিখুঁত 3D মানচিত্র তৈরি করা। এছাড়াও, বিজ্ঞানীরা এটি ব্যবহার করবেন আকাশের ১/৩-এরও বেশি জুড়ে ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষের গ্যালাক্সিগুলি পর্যবেক্ষণ করতে। এছাড়াও এই মানচিত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন। ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের প্রায় ২৫% তৈরি…

  • ইসলামি স্বর্ণযুগ সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই জানি। পূর্বের একটি ব্লগপোস্টে আমি সেই সময়ের ৫ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য তুলে ধরেছিলাম। যদি সেই লেখাটা না পড়ে থাকেন, তাহলে এখনি পড়ে ফেলুন “ইসলামি স্বর্ণযুগের পাঁচ তারকা”। পাঠকদের আগ্রহ দেখে সাহস করে তারই ধারাবাহিকতায় এই ব্লগপোস্টটি লিখছি। এখানেও চেনা-অচেনা পাঁচ জন বহুবিদ্যাবিশারদ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে কথা হবে। তো, দেরি কীসের? চলেন, শুরু করি! আব্বাস ইবনে ফিরনাস আব্বাস ইবনে ফিরনাস ছিলেন একজন মুসলিম আন্দালুসিয়ান জ্যোতির্বিদ, চিকিৎসক এবং রসায়নবিদ, যাকে আমরা খুব কম মানুষই চিনে থাকি। ইউরোপিয়ানদের বহু আগেই এই মুসলিম বিজ্ঞানী অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গিয়েছিলেন। তিনি…

  • পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটাসিয়াস যুগের শেষদিকে। ডাইনোসর কি একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পৃথিবীর মাটি থেকে? না, তা হয় নি। ডাইনোসররা রেখে গেছে তাদের উত্তরসূরি। বিবর্তন বলে আধুনিক পাখি’রা হল ডাইনোসরদের উত্তরসূরি। কিন্তু কি করে? এই লেখায় সে বিষয়টাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। বিবর্তন তত্ত্বের একটা শক্তপোক্ত প্রমাণ হল জীবাশ্ম বা ফসিল। জীবাশ্ম রেকর্ড বলে আজ থেকে সত্তর মিলিয়ন বছর আগেও পাখি ছিল। তবে প্রায় দু শ মিলিয়ন বছর আগে বাস করত থেরোপড ডাইনোসররা। এদের কোনোটাই পাখি সদৃশ ছিল না। পাখিরা যে ডাইনোসরদের উত্তরসূরি সে ব্যাপারে নিশ্চিত…

  • পৃথিবীতে বাস করে হরেক রকমের জীব-জন্তু। যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রাণ কোনটি? নিমেষেই আমাদের মনে উত্তরটা চলে আসে যে আমরাই সবচাইতে বুদ্ধিমান। সত্যিই কি তাই? একদম শতভাগ মানুষ কিন্তু এমনটা মনে করেন না। কিছু চিন্তক কিংবা দার্শনিকদের মতে, আমাদের এই জটিল মানবসভ্যতা গড়ে তোলাটা ছিল ইতিহাসের সবচেয় বড় ভুল। সবচেয়ে বড় বোকামি। আদিম মুক্ত শিকারি জীবন ছেড়ে আমরা আটকা পড়ে গেছি সভ্যতা নামক চক্রে। তাই কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এই আধুনিক বিশ্বে তুখড় বুদ্ধিমত্তার উদাহরণ খুব একটা নেই। তবে এই কথা কিন্তু সর্বাঙ্গীণ সত্য নয়। মানবসভ্যতা হয়ত সামষ্টিক নির্বুদ্ধিতার মাশুল গুনছে ঠিকই,…

  • সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও ও ছবি বেশ ভাইরাল হচ্ছে যেখানে একটি পাহাড়ি গ্রামকে দেখানো হচ্ছে।দাবি করা হচ্ছে যে গ্রামটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এবং মেঘ জমার সাধারণ উচ্চতা ২০০০ মিটার হওয়ায় গ্রামটিতে কখনো বৃষ্টি হয়নি।  কিছু গণমাধ্যম বলছে গ্রামটি ইয়েমেনের (Yemen) রাজধানী সানা’র (Sanaa) পশ্চিমে মানাখাহ (Manakhah) এর পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থিত আল-হুতাইব (Al-Hutayb) গ্রাম। আবার কিছু গণমাধ্যম দাবী করছে এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) পূর্ব সিয়াং (East Siang) জেলার পাসিঘাট (Pasighat) গ্রাম। এই দাবি গুলো কি ফ্যাক্ট নাকি রিউমর? চলুন তা যাচাই করা যাক। প্রথমে এটা জানা যাক যে ভাইরাল ছবি ও…