• (শুরুতেই বলে নেই এই রিভিউটা লেখক আব্দুল গাফফার রনির লেখা  এবং প্রথমা প্রকাশন হতে প্রকাশিত  “বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট” এর প্রথম সংস্করণের রিভিউ। তাই পরবর্তী কোনো সংস্করণে হয়তো কিছু পরিবর্তন থাকলে রিভিউর কিছুটা অমিল হতে পারে।)  উৎসর্গ “বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট” বইটা অনেক আগ্রহ নিয়েই পড়েছিলাম। বইটি পেন্সিল দিয়ে অনেক দাগিয়ে দাগিয়েই পড়েছি,  এমনকি বইয়ের পৃষ্ঠা বুকমার্ক করার জন্য একটি বেলিফুল রাখতাম, বইয়ের ভিতর বেলীফুলটা শুকিয়েও ফেলেছি। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর গবেষণা ও অবদান সম্পর্কে লেখা হয়েছে এই বইটিতে। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর একটি উক্তি- “যারা বলে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা হয়না, তারা হয় বাংলা জানে না, না হয় বিজ্ঞান বুঝে না”, এই…

  • গত ২০২১ সালে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে  বৃহস্পতি গ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে মহাকাশযান লুসি। গন্তব্য সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির কক্ষপথে ঘুরতে থাকা গ্রহাণুর ঝাঁক। লুসি একটি মহাকাশ প্রোব। লুসি সেই গ্রহাণুগুলো পর্যবেক্ষণ করবে। এই অভিযানকে বলা হচ্ছে  সৌরজগতের জীবাশ্ম খোঁজার অভিযান।  বৃহস্পতির কক্ষপথে ঘুরতে থাকা এইসব গ্রহাণুগুলি ট্রোজান গ্রহাণু নামে পরিচিত। ট্রোজান গ্রহাণুগুলো বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথে ৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরতে থাকে। ট্রোজান গ্রহাণু দু’টি আলাদা দলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, যার একটি দল বৃহস্পতির সামনে, অন্য দল বৃহস্পতির পিছনে থাকে। সূর্য এবং বৃহস্পতি থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত দুটি ল্যাগ্রেঞ্জ বিন্দুর চারপাশে গুচ্ছবদ্ধ করা। সূর্য এবং এর…

  • মাংকিপক্স ভাইরাস কী? মাংকিপক্স হলো অর্থোপক্স গণের অন্তর্ভুক্ত একটি ভাইরাস। এটি মূলত একটি দ্বি-সূত্রক DNA ভাইরাস। এর বাইরের আবরণ লিপিডে মোড়ানো। এটি একটি ‘zoonotic’ ভাইরাস। জুনোটিক মানে ‘অন্য প্রাণী থেকে মানুষে’ বা ‘মানুষ থেকে অন্য প্রাণীতে’ যেতে পারে এমন ভাইরাস , কতকটা আমাদের সবার পরিচিত কোভিড-১৯ এর করোনা ভাইরাসের মতোই। মাংকিপক্স ভাইরাস স্মলপক্স  (গুটিবসন্ত) ও চিকেনপক্স (জলবসন্ত) এর ভাইরাস একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত । ১৯৮০-র দশকে স্মলপক্স বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল । কিন্তু বিশ্বজুড়ে বিপুল তৎপরতায় ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের ফলে ১৯৮০ সালের পর এটি বিশ্বব্যাপী বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যদিও মাংকিপক্স রয়ে যায়। মাংকিপক্স রয়ে যাওয়ার অন্যতম…

  • বিগ ব্যাং তত্ত্ব বা ইংরেজিতে বললে Big Bang theory নামটা হয়তো আমরা সবাই জানি। মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত এবং গ্রহনযোগ্য তত্ত্ব। কিন্তু এটাই কি একমাত্র মডেল যা বিজ্ঞানীরা দিয়েছিলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখা করতে? আসলে তা কিন্তু নয় এর আগেও কিছু মডেল ছিলো যা দ্বারা মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু মডেল দেয়া হয়েছিলো যা দিয়ে বিগব্যাং কে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো মডেলই টেকেনি কারণ মহাবিশ্বে ঘটে চলা ঘটনা বিগব্যাং যেভাবে ব্যাখা দিতে পারে, অন্য মডেলগুলো তা পারেনি। আজ আমরা ব্যর্থ হয়ে যাওয়া কিছু মডেল নিয়ে জানবো। বিগ…

  • রক্ত আমাদের শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এটি এক ধরণের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত ও লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু। মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এর  ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। এই যেমন ধরুন আপনার যেকোন একজন আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধু কোন দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার বললেন রোগীকে বাঁচাতে হলে রক্তের প্রয়োজন। রোগীর রক্তের গ্রুপ অমুক। এখন রক্ত নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু রক্তের প্রয়োজন হলেই কি যে কেউ রক্ত দিতে পারে? অবশ্যই না। বরং তার জন্য রক্তের গ্রুপের মিল থাকতে হয়। গ্রহীতার রক্তের গ্রুপের সাথে মিল থাকতে হয় দাতার রক্তের গ্রুপের।   কখনো কোনো রোগীর…

  • এক. রতন মিয়া পত্রিকা অফিসে কাজ করে। তার কাজ ছোটখাট। চা বানানো, সম্পাদক সাহেবের জন্য সিগারেট এনে দেওয়া, পত্রিকা বিলি করা ইত্যাদি। তার বয়স ৫২। ৫২ থেকে ১৬ বাদ দিলে থাকে ৩৬। ১৬ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে। যদিও পুরোটা দিতে পারেনি। এরপর গত ৩৬ বছর ধরে সে চাকরি করে আসছে পত্রিকার। এ চাকরিটা অসম্ভব ভাল। দেশ-বিদেশের তরতাজা খবরের সাথে যুক্ত থাকা যায়। এ সৌভাগ্যই বা ক’জনের হয়? সে রাতে পত্রিকা অফিসেই ঘুমায়। মাদুর পেতে শুয়ে পড়ে চুপচাপ। মেসে বা আলাদা বাড়ি ভাড়া করেও থাকতে পারতো। কিন্তু সে শৌখিন নয়। তাই একা মানুষ হওয়ায় তার…

  • গণিত উৎসবে কিংবা বলতে পারো গণিত বিষয়ক কোনো প্রতিযোগিতা, পরীক্ষাতে একটা খুব কমন প্রশ্ন হলো, “H টা M মিনিট সময়ে কোনো একটা ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা এবং মিনিটের কাঁটার অন্তর্ভুক্ত কোণের মান কত?”। এই প্রকার অংক তোমাদের সামনে একবার হলেও এসেছে। কিন্তু এটা সমাধান করবো কিভাবে? ঘড়ির কাঁটার হিসাব করে আমাদের বাস্তব জীবনে কি কাজে লাগবে? তো চলো! আজকে আমাদের আলোচনা এই ঘড়ির কাঁটা নিয়েই শুরু করি। গণিতপ্রেমী রাইমা একদিন তার বান্ধবী তুলিকে তাদের বাসায় নিমন্ত্রণ করলো। তুলি কখনো রাইমাদের বাসায় যায়নি। মজার ব্যাপার হলো, তুলি এবং রাইমার বাসার মাঝে একটা সোজা রাস্তা, কোনো মোড় নিতে হয়না।…

  • বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাজারে কিছু ঘড়ি আসে যেগুলোর নাম্বার এবং কাটা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করতো। অন্ধকারেও এই ঘড়ির সময় দেখা যেত। সেই সময় এই ঘড়ি গুলো আভিজাত্য এবং শৌখিনতার প্রতীক হয়ে এসেছিল।  ঘড়িগুলোর এমন উজ্জ্বলতার পিছনে ছিল এক বিশেষ ধরনের রং, যার কারনে এই ঘড়িগুলোর কাঁটা এবং নাম্বারগুলো অন্ধকারে জ্বলতো।  ১৯১৭ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন রেডিয়াম কর্পোরেশন মূলত রেডিয়াম লুইমিনাস মেটিরিয়াল কর্পোরেশন নামে পরিচিত ছিল। এই কোম্পানি কার্নোটাইট আকরিক থেকে রেডিয়াম নিষ্কাশন এবং পরিশোধন করে উজ্জল রং তৈরী করতো। এই ধরনের ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রথম কারখানা স্থাপিত হয় নিউ জার্সির অরেঞ্জে ১৯১৭ সালে। মাত্র ৭০ জন…

  • প্রিয় পাঠক, হ্যারি পটারের সেই বিখ্যাত জাদুর আলখাল্লার কথা মনে আছে? যা গায়ে চড়ালে সে এক নিমিষেই অদৃশ্য হয়ে যেতো চোখের সামনে থেকে। বাস্তবে এমন কোন জিনিসের অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত নেই। কিন্তু তারপরেও মানুষের অদৃশ্য হবার আকাঙ্ক্ষা বিন্দুমাত্র কমে নি। আমরা সকলেই জীবনের কোন এক সময়ে এসে একবারের জন্য হলেও ভেবেছি যে, কিছুটা সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যেতে পারলে নেহাত মন্দ হতো না। হয়তো কখনও ছেলেবেলাতে বাবা মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমান করে, না হয় কৈশোরে বন্ধুদের সাথে দস্যিপনা করার বাসনায় আমাদের অদৃশ্য হওয়ার ইচ্ছার সূত্রপাত। অবশ্য দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বাঁচতে বা পাওনাদারদের ফাঁকি দিতে অনেকে বড়…