• জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজস্ব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র, Sagittarius A* নামক অতি-ভারী (super massive) ব্ল্যাকহোলের প্রথম চিত্র উন্মোচন করেছেন। অস্পষ্ট ছবিটি ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (EHT) সাহায্যে তোলা হয়েছে। ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ হলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আটটি সিনক্রোনাইজড রেডিও টেলিস্কোপের একটি সংগ্রহ। এটি মূলত ব্ল্যাক হোলের সাথে সম্পর্কিত রেডিও উৎসগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষণকারীদের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক, যারা সম্মিলিতভাবে কাজ করেন। এই প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল। এটি ব্ল্যাক হোলের প্রথম ছবি নয়।  এর আগে একই গ্রুপ ২০১৯ সালে ৫৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে মেসিয়ার 87 (M87) গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে তোলা ব্ল্যাক হোলের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছিলো। মিল্কিওয়ে ব্ল্যাক…

  • ৫ ই ডিসেম্বর ১৯৫২ সাল প্রতিদিনের মতন লন্ডনের আরেকটি সুন্দর সকাল,আস্তে আস্তে ব্যাস্ত হয়ে উঠছে লন্ডনের নাগরিক জীবন।কিন্তু তারা কেউ জানতেও পারেনি লন্ডনের পরিস্কার আকাশের বুক চিরে ছুটে আসছে ভয়ংকর এক বিপদ। লন্ডনের পরিস্কার আকাশ আস্তে আস্তে হালকা কুয়াশায় ঢেকে যেতে থাকে। লন্ডনের আকাশে সারাবছর কমবেশী কুয়াশা থাকেই। কাজেই জনগন এই কুয়াশা নিয়েও মাথা ঘামায়নি।(১৯ শতকে এবং ২০ শতকের গোড়ার দিকে লন্ডন ঘন কুয়াশার জন্য কুখ্যাত ছিল যা প্রায়ই শরৎকালে শহরের উপর নেমে আসে)। কিন্তু সময় যত বাড়তে থাকে কুয়াশার চাঁদর ততো গাঢ় হতে থাকে।, সেই সাথে লন্ডনের বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলো –  বিগ বেন, সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল,…

  • ২০০৪ সালের ক্রিসমাসের ঠিক পরে, মাইক ব্রাউনের নেতৃত্বে পালোমার অবজারভেটরির একটি দল, আগে তোলা ছবি পর্যবেক্ষন করতে ছিলো সেই ছবিগুলিতে একটি ছোট, প্লুটো-আকারের দেহ আবিষ্কার করেছিল।  জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তখন শিলাটির ডাকনাম দেন “সান্তা”। ব্রাউনের দল তাদের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে, প্রায় একই সময় জোসে লুইস অরটিজ মোরেনোর নেতৃত্বে সিয়েরা নেভাদা অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ২০০৩ সালের মার্চ মাসে তোলা ছবিতে তাদের আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। মূলত 2003 EL61 হিসাবে মনোনীত,  মহাজাগতিক  বস্তুটি এখন হাউমিয়া নামে পরিচিত। এটি সৌরজগতের সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে  বস্তুগুলির মধ্যে একটি। হাউমিয়ার নামকরণ করা হয়েছে শিশুর জন্ম ও উর্বরতার হাওয়াইয়ান দেবীর নামানুসারে। এর দুটি চাঁদের নামকরণ করা…

  • জীবদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো বংশগতি। কিন্তু বংশগতিবিদ্যা (Genetics) বোঝার জন্য বাংলা ভাষায় বইপত্রের সংখ্যা খুব কম। এই প্রয়োজনটাই উপলব্ধি করতে পেরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পিএইচডি গবেষক আরাফাত রহমান ভাইয়া বংশগতি নিয়ে “জেনেটিক্স” বইটা লেখেন। বইয়ের প্রচ্ছদটা বেশ! ফ্রন্ট কাভারে ডিএনএর মাঝে বইয়ের নাম এর পাশে লেখকের নাম আর ব্যাক কাভারে মান্নান স্যার আর সৌমিত্র স্যারের মতামত লেখা। প্রথম দর্শনেই মুগ্ধ হয়েছি। জ্ঞানগর্ভ এই বইটি খোলার পরে বুঝলাম যে এর মূলত ৮টি অধ্যায়। বইয়ের ব্যবচ্ছেদ প্রথম অধ্যায়টা খুবই ছোট। আসলে এ অংশে একটা কাহিনী বলা হয়েছে। বিখ্যাত বেহালাবাদক নিকোলা প্যাগানিনি কীভাবে বংশগতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে…

  • জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ এ ঘোষণা দিয়েছেন তারা এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সি খুঁজে পেয়েছেন। গ্যালাক্সিটির নাম অ্যালসিওনিয়াস (Alcyoneus)। গ্রীক পুরাণে আকাশের দেবতা ওরানোসের পুত্রের নামানুসারে গ্যালাক্সির  নামকরণ করা হয়েছে। গ্যালাক্সিটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। এটি একটি বিশাল রেডিও গ্যালাক্সি যার অনুমানিক  দৈর্ঘ্য ৫.৪ মেগাপারসেক (১৬.৪৪ মিলিয়ন আলোকবর্ষ), অর্থাৎ আমাদের ছায়াপথের চেয়ে ১০০ গুণ বড়। এটি আমাদের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের আকারের একটি এলাকা দখল করে আছে। এটি একটি রেডিও গ্যালাক্সি – তার মানে দৃশ্যমান আলোতে একে দেখা যায় না কিন্তু রেডিও তরঙ্গে  দৃশ্যমান। এই গ্যালাক্সিতে এমন অনেক নক্ষত্র রয়েছে যাদের ওজন আমাদের…

  • ১৯৭৮ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেলটা যায় আর্নো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন এর হাতে। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউণ্ড আবিষ্কারের জন্যে তাঁরা এই সম্মান পায়। আলোক বর্ণালীর ১.৯ মিমি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অংশের নাম কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউণ্ড বা মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণ। এর এমন নামকরণের পেছনে কারণ হচ্ছে, এই বিকিরণ এর জন্ম হয়েছিল আজ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে ঘটা মহাবিস্ফোরণ এর সময়। মহাবিশ্বের শুরু থেকে ঘটে যাওয়া মহাজাগতিক ঘটনা সমূহ সম্বন্ধে জানতে সাহায্য করে এই কসমিক মাইক্রোওয়েভ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপে চোখ রেখে আজ থেকে  বিলিয়ন বছর আগের অতীতের তরুণ মহাবিশ্বকে দেখতে পান। দেখতে পান সেই তরুণ মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনা গুলো। কখন…

  • ২০০৩ সালে গবেষকরা মানব জিনোমের সম্পূর্ণ সিকোয়েন্স আবিস্কারের ঘোষণা আসে। কিন্তু, ঐখানে প্রায় ৮% অসম্পূর্ণতা ছিল। এই ৮% এর মধ্যে আছে সেন্ট্রোমিয়ার, বার বার পুনরাবৃত্ত হওয়া ডিএনএ ও হেটারোক্রোমাটিন স্ট্রাকচার। ঐখানে অনেকগুলো ডিএনএ টুকরোর পুনরাবৃত্তির ফলে সেগুলোকে অন্যান্য অংশের সাথে মেলানো যাচ্ছিল না। কিন্তু, মার্চের শেষে এসে বিজ্ঞানীরা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে শতভাগ সম্পূর্ণ জিনোমের সিকোয়েন্স আবিষ্কারের ঘোষণা করেছেন। নতুন “লং রিড” সিকোয়েন্সিং কৌশল ডিএনএর বড় অংশগুলিকে ডিকোড করতে পেরেছে। জিনোম সিকোয়েন্স আসলে কী? সোজা বাংলায় এক কথায় বলতে গেলে জিনোম হলো কোষের মধ্যে থাকা সকল বংশগতীয় উপাদানের সমষ্টি। ন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তথ্য বলছে যে…

  •  বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস। আর হবে নাই বা কেন, বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মুহূর্তেই যোগাযোগ করতে পারি। ভিডিও রেকর্ড করে স্মৃতিতে রেখে দিতে পারি বিভিন্ন ঘটনা। এক সময় এসব আমাদের কল্পনা ছিল, আর আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। যেকোনো কিছু একবার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলে আমরা আর সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না। বিজ্ঞানের একটি সফলতা অনেকগুলো বিস্ময়ের জন্ম দেয়। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি ঘটেছে। আগের তুলনায় এখন গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। একসময় সামান্য কলেরা, ডায়রিয়ার কারণে মানুষ মারা যেত। আর এখন এসব তেমন কোনো রোগই না।…

  • পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে সূর্য সহ সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে উপগ্রহে পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন রকমের মহাকাশযান বিভিন্ন গ্রহের কক্ষপথে এবং গ্রহের পৃষ্ঠে অবস্থান করছে। এই নভোযানগুলি প্রতিনিয়ত প্রচুর ছবি তুলে চলছে এবং সেই সাথে  প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করছে।  এই সব তথ্য এবং ছবি কি ভাবে পৃথিবীতে প্রেরণ করে? সবগুলো মহাকাশযান কি তথ্য আলাদা আলাদা ভাবে পাঠায়? কিভাবে এই সব নভোযানের সাথে  যোগাযোগ করা হয়?   অনেকের মনেই এই বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে এবং অনেকের এই বিষয়ে জানার আগ্রহ আছে। চলুন জানার চেষ্টা করি কি ভাবে কাজগুলি সম্পন করা হয়। মহাকাশযানের সাথে এই যোগাযোগ মাধ্যমটার নাম ডিপ স্পেস…