• Devil’s Finger পপুলার কালচারে ডেভিলকে সাধারণত লাল হিসেবে দেখানো হয় কারণ লাল দেখলে বিপদ সংকেত টাইপের মনে হয় সেজন্য । বিখ্যাত Tom and Jerry কার্টুনেও দেখবেন টমকে দুষ্টু বুদ্ধি দেওয়ার সময় লাল রঙের পিচ্চি টম হাজির হয়। যেহেতু ফাংগাসের নাম দেওয়া হয়েছে ডেভিলস ফিঙ্গার তাহলে ধরে নিতে পারেন লাল রঙের একটা রিলেশন আছে। ডেভিলস ফিঙ্গার দেখতে অনেকটা জবা ফুলের মতো টকটকে লাল আর অক্টোপাসের মতো আকৃতির । এইরকম  আকৃতির কারণে এর আরেক নাম Octopus Stinkhorn. নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় মেইন বাসস্থান হলেও ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানসহ বলতে গেলে পুরোবিশ্বেই এদের উপস্থিতি রয়েছে। ১৮৬০ সালের দিকে…

  • বাংলাদেশ থাকেন অথচ দোয়েল পাখির নাম শুনেননি এরকম বললে মহাপাপ হবে। দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি, দুই টাকার নোটেও রয়েছে দোয়েল পাখির ছবি, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ”সাউথ এশিয়ান গেমস ” এর মাসকটও ছিল দোয়েল, রাজধানী ঢাকাতে রয়েছে দোয়েল চত্বর, প্রকৃতিপ্রেমী কবি জীবনানন্দ দাশ তার বিখ্যাত “বাংলার মুখ” কবিতায় তুলে এনেছেন দোয়েলের কথা   ”অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছেচেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েলপাখি –”, এমনকি লোকগাথার মধ্যেও দোয়েল আছে। চারিদিকে দোয়েলের যেন সমাচার। দোয়েল নিয়ে বাংলাদেশের যশোরে প্রচলিত একটি গল্প আছে- এক দেশে কুচকুচে কালো এক দধিয়াল বাস করত। তার মতো সাদা দই আর…

  • শুরুতেই বলে রাখি, আমার এ লেখায় হারুন ইয়াহিয়া ও আরিফ আজাদের বই দুটোর কেবল বিবর্তন তত্ত্ব সংক্রান্ত অংশ নিয়েই সমালোচনা। আর শেষে থাকবে ন্যাচারাল সায়েন্সের সঠিক সংজ্ঞা। বই দুটির বাকি অংশে কি আছে না আছে সেগুলি এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়। “চন্দ্ররেণুবৃত্তি” একটি সংস্কৃত শব্দ। যার বাংলা অর্থ ‘রচনা চুরি‘, ইংরেজিতে যেটাকে বলে ”Plagiarism” । যারা এ কাজ করে, তাদের ভদ্রভাবে বলা যায় ‘কুম্ভিলক’। আরিফ আজাদকে অনেক আগে জনপ্রিয় বুদ্ধিজীবীদের চন্দ্ররেণুবৃত্তি(!) নিয়ে বেশ সোচ্চার হয়ে কথা বলতে দেখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে নিজেই সেরকম কাজে লেগে গেলেন। যাইহোক, সেটা অন্য আলোচনা। ভদ্রলোকের বই পড়ে যতোটুকু বুঝলাম,…

  • Perhaps they are not stars in the sky, but rather openings where our loved ones shine down to let us know they are happy. Eskimo Legend সন্ধ্যার খোলা আকাশ আমার বরাবরই পছন্দের ও আগ্রহের দৃশ্য। আমার গ্রামের বাড়িতে আগে সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যেতো। তখন আমি বেশ ছোট। নক্ষত্র নিয়ে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। খসে পড়া নক্ষত্র এ জীবনে অনেকবার দেখা হয়েছে। আমার ছোট্ট মন ভাবতো, এই খসে পড়া নক্ষত্রেরা জোনাকি হয়ে আমাদের পুকুরপাড়ের ঝোপে জোনাকি হয়ে ঘুরে বেরায়। শুনতে কাব্যিক আর নাটকীয় লাগলেও এটা আমার সত্যিকারের উপলব্ধি ছিলো। আজকের মতো আলো দূষণ আমার গ্রামের…

  • [একমেবাদ্বিতীয়ম্ সংযোজন – ১ম কিস্তি] প্রথম দেখায় একটি গাছ থেকে ঐ গাছের পাতা খাওয়া শুঁয়োপোকা, গাছের বাকল থেকে অঙ্কুরিত ব্যাঙের ছাতা, গুঁড়ির পাশে বর্ধনশীল ঘাস, কিংবা তরু ছায়ায় বসে গল্প করা যুগল – কোন কিছুই দেখতে এক রকম লাগবে না। তবে বাহ্যরূপ ছলনাপূর্ণ হতে পারে। আণুবীক্ষণিক পর্যায়ে বিবর্ধিত করে দেখা হলে এদের কাঠামোগত সাদৃশ্য অবাক করে দেবে। কারণ এরা সকলে একই ধরনের গঠন-শৈলী মেনে চলা কোষ দিয়ে তৈরি। ধারাবাহিকের সূচী: ধারাবাহিকের সূচী: কিস্তি ১. প্রাণের প্রথম একশ কোটি বছর কেন একঘেয়ে ছিলো? কিস্তি ২. সুকেন্দ্রিকদের উদ্ভব কেন অসম্ভব-সম্ভাবনা ছিলো? কিস্তি ৩. প্রাককেন্দ্রিক জিনেরা সুকেন্দ্রিক জিনোমে কিভাবে…

  • উদ্ভিদ জগতের সবচাইতে দীর্ঘজীবী পাতার সন্ধান মেলবে দক্ষিণ অ্যাংগোলা এবং উত্তর নামিবিয়ার সীমান্তে একটি কর্কশ, রুক্ষ মরুভূমিতে। মরুভূমি চির অসবুজ বলেই আমরা জানি কিন্তু নামিবিয়া মরুভূমি যেখানে কিনা প্রতি বছরে একবার দুই ইঞ্চির থেকে কম বৃষ্টিপাত হয় সেটিই “ওয়েলভিটসিয়া”- এর বাসভূমি। আফ্রিকানদের কাছে উদ্ভিদটি “টুইব্লারকেনিডুড” নামে পরিচিত। এর ভাবার্থ হচ্ছে “দুটি পাতা যা কখনো মারা যায় না”। এই রকম নামের পেছনে কারণ হল এই উদ্ভিদ দুটো পাতা নিয়ে জন্মায় এবং দুটো পাতা নিয়েই বাড়তে থাকে। আর এই বৃদ্ধি সহস্রাব্দ বছর ধরে চলতে পারে। ছবিটি ওয়েলভিটসিয়া মিরাবালিস এর। ওয়েলভিটসিয়া মূলত একটি গণ। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ…

  • আমাদের শরীরের সমস্ত রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থাগুলির ভিতর সবচেয়ে কায্যকরি হল এন্টিবডি। ছোট করে বলা যায়, এটি এক ধরনের প্রোটিন। যখন কোন ভাইরাস অথবা ব্যক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে তখন এদের বিরুদ্ধে তৈরি হয় এই এন্টিবডি । এটা শুধু ওই নির্দিষ্ট  আক্রমণকারী জীবাণুর বিরুদ্ধেই কাজ করে। অর্থাৎ একটি জীবাণুর বিরুদ্ধে তৈরি এন্টিবডি অন্য জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না। আবার এন্টিবডি নিজে সরাসরি কোন জীবাণুকে মেরে ফেলে না। বরং এটা প্রথমে জীবাণুকে চিনহিত করে এর সাথে যুক্ত হয়। তারপর  শরীরের অন্যন্য রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তুলে চিনহিত করা জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য। মোটকথা,  এন্টিবডি আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ…

  • অ্যালকোহল বা বাংলায় মদ হচ্ছে এক ধরনের নেশাজাতীয় পানীয়। মদ শরীরে দ্রুত প্রভাব ফেলে। যখন কোন ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করে তখন তা পাকস্থলীর মাধ্যমে পুরো শরীরের রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে সেটা কোষে চলে যায়।  অ্যালকোহল পান করার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে তা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। আর মাত্র ১০ মিনিটের মাঝেই তা শরীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০ মিনিট পর যকৃৎ (liver) মদ প্রক্রিয়া করতে শুরু করে। যকৃৎ প্রতি ঘন্টায় ১ আউন্সের মতো মদ প্রক্রিয়া করতে পারে। রক্তে অ্যালকোহলের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ০.০৮% – যা শরীরের পুরো সিস্টেম থেকে চলে যেতে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা সময়…

  • In science credit goes to the man who convinces the world, not the man to whom the idea first occurs. —Francis Galton এই উদ্ধৃতিটির মাহাত্ন এবং যথার্থতা অনুধাবনের জন্য আপনাকে ফিরে যেতে হবে ১৭০০ শতকের মধ্যভাগে ইংল্যান্ডের বার্কলে শহরে। এই ছোট্ট শহরে বার্কলে ক্যাসেল এবং তাতে রাজা দ্বিতীয় এডোয়ার্ডের খুনের কিংবদন্তি ছাড়া তখন পর্যন্ত আর বলার মত কিছু নেই। তবে ১৭৪৯ সালে এই শহরে জন্ম নেন আরেক এডোয়ার্ড , এডোয়ার্ড জেনার যার মাধ্যমে শহরটি নতুন একটা কিংবদন্তি ধারণ করার সুযোগ পায়। টিকার জনক হিসেবে লোকে তাঁকে চিনে থাকলেও বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর ছিল বহুমুখী বিচরণ।  চলুন…