•  কিংবদন্তি বিজ্ঞান লেখক, গবেষক, কলামিস্ট কার্ল জিমার New York Times ম্যাগাজিন এ সম্প্রতি পূর্ব এশিয়ান জনগোষ্ঠির শরীরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধি প্রকট ৪২ টি জিনের উপস্হিতি ছিলো এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন  প্রকাশ করেছেন। কী ছিলো সেই লেখার বিষয়বস্তু চলুন চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।    গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন যে করোনা ভাইরাস ধ্বংসাত্মক একটি মহামারি  প্রায় ২০,০০০ বছর পূর্বে পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিলো  যা আজ জীবিত মানুষের ডিএনএর উপর একটি বিবর্তনীয় ছাপ রেখে যেতে যথেষ্ট ছিলো।   গবেষকরা বলেছেন নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি প্রাচীন করোনভাইরাস এই অঞ্চলটিকে বহু বছর ধরে জর্জরিত করেছে। অনুসন্ধানে বলা হয় কোভিড -১ মহামারিটি যদি…

  • প্রকৃতিতে এমন বেশ কিছু প্রাণী রয়েছে যারা ছদ্মবেশ ধারণ করতে সক্ষম। প্রাণীরা সাধারণত ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে শত্রুপক্ষ থেকে নিজেকে লুকানোর উদ্দেশ্যে। তবে শুধু প্রাণীই নয়, এমন অনেক উদ্ভিদও পাওয়া যায় যারা মানুষের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে ছদ্মবেশ ধারণ করে। যদিও উদ্ভিদের ছদ্মবেশ ধারণ করার ব্যাপারে খুব বেশী তথ্য নেই। তবে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছদ্মবেশী উদ্ভিদগুলো তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করার জন্য প্রাণীদের মত একই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে থাকে। উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়েরই ছদ্মবেশ ধারণ করার পদ্ধতির উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: পটভূমির সাথে মিল — তাদের আবাসস্থলের রঙ বা আকৃতির সাথে মিশে যাওয়া। বিঘ্নিত রঙ —…

  • প্রিয় স্যাপিয়েন্স সকলে, কেমন আছেন? নিউক্লিক এসিড এর বিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আপনাদের স্বাগতম। আপনাদের বলছিলাম কি করে আরএনএ-ডিএনএ এর আগমন ঘটে। গত পর্বে বলেছিলাম আরএনএ বিশ্ব হাইপোথিসিস বলছে আরএনএ ই পৃথিবীর প্রথম বংশগত বস্তু। আরএনএ থেকেই ডিএনএ বিবর্তিত হয়। আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরির প্রথম ধাপ হচ্ছে আরএনএ থেকে ইউ-ডিএনএ (U-DNA) এর উদ্ভব। এবং এর পরে কি করে টি-ডিএনএ আসে সেটাও বলেছি। আজকের পর্বে এর পর থেকে শুরু হবে। আজকে জানাব আরএনএ বিশ্ব প্রকল্পের বাকী অংশটুকু এবং সেই সাথে এই প্রকল্পকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো কিছু গবেষণা আর মতামত নিয়েও। কোষে ডিইউএমপি তৈরি হয় ডিইউটিপি থেকে ডিএনএ…

  • স্কুল জীবনে পদার্পণ করলেই ফলের রাজা কাঁঠাল এটাতো দিব্যি শেখানো হয়। কিন্তু আমকে কেন ফলের রাজা বলা হয়নি এ নিয়ে অনেকেরই আক্ষেপের শেষ নেই। তো বাংলাদেশে গ্রীষ্মের ছুটি মানেই রসালো আম, জাম, কাঁঠাল খাওয়ার ছুটি বলে প্রচলিত।   আম খেতে ভালোবাসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের উপমহাদেশ তো আমের জন্য বিখ্যাত। কথিত আছে মোঘল সম্রাট রা আম সারা বছর খাওয়ার জন্য ঘি ভর্তি ড্রামে চুবিয়ে রাখতেন। তখন অবশ্য রেফ্রিজারেটরের যুগ ছিলোনা। আমের কত শত প্রজাতি। নাম শুনেই বিমুগ্ধ অনুভূতি হয়। ফজলি,ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষিরসাপাত,আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, কাঁচা মিঠা, গোলাপ খাস,কার্টিমন, সূর্য ডিম  আরো কত নাম। আমের জন্য…

  • জীবদেহ গঠন এবং পরিচালনার জন্যে যে ক’টি জৈব অণু র‍য়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রোটিন এবং  নিউক্লিক এসিড কে বলা যায় সবথেকে গুরত্বপূর্ণ। কেননা কেবল এই প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড মিলে তৈরি হয়ে গিয়েছিল প্রথম প্রাণ। এককোষী জীব কিংবা বহুকোষী জীবদেহ সকল জীব এ প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে অসংখ্য প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়া। এই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া গুলো বিভিন্ন জীব প্রজাতি ভেদে বিভন্ন হয়। এগুলোই এক একটা জীব দেহের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক। তবে প্রায় সকল জীবের মধ্যেই কয়েকটা মৌলিক একই রকমের বিক্রিয়া আছে। যেমন শ্বসন। শ্বসন এর মাধ্যমে একটা জীব খাদ্যবস্তু হতে শক্তি তৈরি করে। এই সকল প্রাণরাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের  পেছনে রয়েছে বিভিন্ন প্রোটিন…

  • বেরিবেরি রোগের কথা প্রথম পড়েছিলাম মাস্টার্সের এক কোর্সে। ইদানীংকালে এই রোগে আক্রান্তের খবর বাংলাদেশে খুব একটা পাওয়া না গেলেও , আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দরিদ্র দেশে এখনো বেরিবেরি রোগের প্রাদুর্ভাব চোখে পড়ার মতন। বেরিবেরিতে আক্রান্ত মানুষের প্রথম লক্ষনগুলো একই রকম – যেমন শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা, পা ভারী হয়ে যাওয়া ,হাত পা অবশ আর ঝিনঝিন বোধ করা। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দুই ধরনের লক্ষন দেখা দিতে পারে। এক – আর্দ্র বেরিবেরি, যেটাতে আক্রান্ত হওয়া মানুষগুলোর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুক ধড়ফড় করে, পায়ে পানি জমে যায় আর হাত পা বেশ ফুলে যায়। দুই – শুষ্ক বেরিবেরি ,যাতে আক্রান্ত…

  • অনুসন্ধানী মানুষ বোধ-বুদ্ধিপ্রাপ্তির শুরু থেকেই তার চারপাশের বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। কেমন করে এলো আকারে-প্রকারে-স্বভাবে-বর্ণে এতসব বৈচিত্র্যময় প্রাণী? ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় জুড়েই এই প্রশ্ন মানুষকে গোলকধাঁধায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো। একটা সময় পর্যন্ত মানুষের ধারণা ছিলো এই সব প্রাণী সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র,এদের মধ্যে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই,নিজেদের রূপেই এরা সকলে সৃষ্টির আদি থেকে রয়েছে,এবং সেই রূপের কোনো বদলও ঘটে নি। সে যুগের জ্ঞানে আপাতদৃষ্টিতে এই ব্যাখ্যাকেই সবচেয়ে সহজ এবং গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছিলো। উনিশ শতকে এসে এই প্রশ্নের সম্পূর্ণ ভিন্ন উত্তর হাজির করলেন এক বিজ্ঞানী। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা-সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর তিনি যখন তার…

  • [আগের অধ্যায় | সূচীপত্র | পরের অধ্যায়] খন্ড-১, অধ্যায়-২ নিজের জিনোম সিকোয়েন্স করবো। এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছুদিন পর আমি বোস্টনের এক হাসপাতালে আবিষ্কার করি। একজন বংশগতি-বিশেষজ্ঞ আমার মুখে আকুপাকু করে কিছু খুঁজছিলেন। ড. রবার্ট গ্রিন বললেন, “আমি আসলে তোমার চেহারায় কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কি না সেটা খুঁজছি, যা থেকে তোমার বংশগতির রোগ থাকলে তার ইঙ্গিত দেবে। যেমন ধরো চোখের আকৃতি, তোমার কান নিম্নমুখি কি না, কানের গঠনের জটিলতা ইত্যাদি।” ড. গ্রিন তারপর আমাকে তার ব্রিগহাম ও মহিলা হাসপাতালের অফিসে এদিক-ওদিক হাঁটতে বললেন। ওয়েস্টমিনিস্টারে প্রতিবছর একটি বিখ্যাত কুকুর-প্রদর্শনী হয়। সেখানে নানা জাতের শৌখিন কুকুর নিয়ে বিভিন্ন…

  • জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে বাংলায় লেখালেখির পরিমাণ বেশ অল্প। যেগুলো আছে অনেকক্ষেত্রেই আপডেটেড না, পুরোনো তথ্যে ভরপুর। বইটা এবছর প্রকাশিত হয়েছে তারা, গ্রহাণু, উল্কা, ছায়াপথ ইত্যাদি নিয়ে আগ্রহ থাকলে বইটা অবশ্যই পড়া উচিত। প্রথম অধ্যায়টা শুরু হয়েছে “জ্যোতিবিহীন জ্যোতিষশাস্ত্র” শিরোনামে। জ্যোতির্বিজ্ঞান (astronomy) , জ্যোতিষশাস্ত্র (astrology) দুইটা খুবই কাছাকাছি শব্দ কিন্তু অর্থের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। • জ্যোতির্বিজ্ঞান ফিজিক্স কেমিস্ট্রির মতোই ন্যাচারাল সায়েন্সের একটা ফিল্ড যা গ্রহ, গ্রহাণু, নক্ষত্র, নেবুলা ছায়াপথ, ইউনিভার্স ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে। এর বিভিন্ন শাখাও রয়েছে Astrophysics, Astrobiology, Cosmology ইত্যাদি। • জ্যোতিষশাস্ত্র পুরোপুরি ভাঁওতাবাজির ফ্যাক্টরি। রাশিফল, হাতের রেখা, আকাশে তারার অবস্থান দিয়ে ভাগ্যনির্ধারণ করে। এগুলোর…