• প্রথমেই বলে রাখি লেখাটি বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া পাঠকদের জন্য যাদের পদার্থবিজ্ঞানে একটু হলেও আগ্রহ আছে। যারা বিশেষ আপেক্ষিকতা একটু-আধটু জানে-বোঝে, তারা সবাই আশা করি দৈর্ঘ্যের আপেক্ষিকতা বা দৈর্ঘ্য-সংকোচন বিষয়টি জানে। বইয়ের ভাষায়ঃ কোন পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে গতিশীল বস্তুর দৈর্ঘ্য ঐ পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে নিশ্চল অবস্থায় ঐ একই বস্তুর দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয়, এই প্রভাবকে দৈর্ঘ্য সংকোচন বলে। সহজ কথায়, কোন বস্তু যদি আপনার তুলনায় অতি উচ্চ বেগে গতিশীল থাকে, তবে বস্তুটির দৈর্ঘ্য তার গতির অভিমুখ বরাবর  আপনার সাপেক্ষে সংকোচিত হয়ে যায়। আবার এর বিপরীত ঘটনাও সত্য। বস্তুটির সাপেক্ষে সম্পূর্ণ জগত তার গতির অভিমুখ বরাবর  সংকোচিত হয়ে যায়।…

  • পদার্থবিজ্ঞানের সমীকরণগুলো যেন যাদুর ছোঁয়া। তারা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে অতীতকে, যেমন কেন হ্যালির ধুমকেতু ৭৬ বছর পর পর আসে। আবার সাহায্য করে ভবিষ্যদ্বাণী করতেও, একেবারে মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত। তারা সম্ভাব্যতার সীমানা আরোপ করে যেমন ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতায় এবং তারা এমনসব বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের দাড় করায় যা আমাদের কল্পনাতেও কখনো ছিল না, যেমন পরমাণুর ভেতরের শক্তি। গত শতাব্দীগুলোতে নতুন সমীকরণ নতুন যাদু নিয়ে পরের প্রজন্মকে অলংকৃত করেছে। বদলে দিয়েছে ইতিহাসের বাক। তেমনি ছয়টি সমীকরণ নিয়ে আজকের আলোচনা। ১. নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র (১৬৮৭) $$\mathbf{F} = m \mathbf{a}$$► সহজ ভাষায়ঃ বল হচ্ছে ভর ও ত্বরণের গুণফল। নিউটনের অন্য দুটি সমীকরণ সমেত এই সমীকরণ…

  • যখন লোকজন কোনকিছুকে কত কঠিন বোঝাতে উপমা ব্যাবহার করে তখন নিউরোসায়েন্স বা রকেটসায়েন্সের তকমা দেয়,কিন্তু কোনটি জয়ের দাবীদার? ১। প্রয়োগঃ নিউরোসায়েন্সঃ নিউরোসায়েন্স হল মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে বিজ্ঞান। এর অনেকগুলো উপভাগের মধ্যে কয়েকটা হচ্ছে স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ,মোটর নিয়ন্ত্রন,ভাষা,ও মস্তিস্ক সংক্রান্ত রোগ এবং স্নায়ু বিকলতা। সহজ কথায়,আমরা আমাদের জীবনে যা করি বা দেখি সব কিছুই মস্তিষ্কের মাধ্যমে হয়। রকেটসায়েন্সঃ রকেট সায়েন্স হল রকেট তৈরি ও মহাকাশে এদের পাঠানো। অনেক কারনেই এদের প্রয়োজন হয় যেমন মহাকাশে টেলিস্কোপ প্রেরণ,স্যাটেলাইট পাঠানো যা টিভি,আবহাওয়া ও সামরিক কাজে লাগানো হয় এবং এর সবকিছুই করা হয় মানবজাতির উন্নতির জন্য। ফলাফলঃ  যদিও মহাকাশ কর্মসূচির ব্যাপকতা…

  • জলবায়ুর পরিবর্তন পরাস্ত করেছে মানুষের দাপট – মাত্র পঞ্চাশ কোটি পৃথিবীবাসী অবশিষ্ট উত্তরের জীবন-তরীতে। কিভাবে বেঁচে আছে তারা? ১. অভেদ্য, নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ার সুউচ্চ বহুতল ভবনের ৩০০ তলায় ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে তাকাই – মাটির আধামাইল উপরে আমার ফ্ল্যাট থেকে মনোমুগ্ধকর বীথিদৃশ্য চোখে পড়ে: বেশ কিছু বাংলো, ছিমছাম উঠান, পান্না-সবুজ রাঙা খেলার মাঠ, সূর্যের আলো ঝিলিক দেয়া সুইমিং পুল, আর দীর্ঘ বেলাভূমির ওপারে তৈরি কিছু প্রাসাদসম অট্টালিকা। দৃশ্যগুলো লস এঞ্জেলস শহরের স্মৃতি মনে করিয়ে আকুল করে দেয়। শহরটি এখন অস্তিত্বহীন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সময়ে বড় হয়েছেলিন আমার দাদার-দাদা, যখন নবজাতকের জন্মদান কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো না, আর সাতশ’ কোটি…

  • গত পর্বে সমুদ্রের পারে উঁচু একটি পর্বতের উপরে একটি কাল্পনিক কামানের কথা বলেছিলাম। নিউটন তার চিন্তন পরীক্ষায় এই কামানটি ব্যবহার করেছিলেন। ঐ কামান থেকে খুব বেশি জোরে গোলা ছুঁড়া হলে গোলাটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকবে। ঐ কামানের কাছে আবারো ফিরে যাই। এবার কামানটিকে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী করে তুলি। এমন শক্তিশালী কামান থেকে গোলা ছুড়ে মারলে কী ঘটবে? তা জানতে হলে আমাদেরকে এখন বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলারের অসাধারণ আবিষ্কারের সাথে পরিচিত হতে হবে। উপবৃত্তকে অনেকটা ডিমের সাথে তুলনা করা যায়। যদিও ডিম পুরোপুরি উপবৃত্তাকার নয়। তারপরও তুলনার খাতিরে ধরে নিলাম। গোলাকার যে ক্ষেত্রকে আমরা বৃত্ত বলে জানি…

  • আমাতো ডেরেক, ৩৯ বছর বয়সী সেলস ট্রেইনার ছুটি কাটাতে এসেছেন তার নিজ শহরে। এক সকালে তিনি তার দুই বন্ধু রিক এবং স্টার্ন- কে নিয়ে গেলেন এলাকার হেল্থ ক্লাবে। বন্ধুদের সাথে মজা করার এক পর্যায়ে ডেরেক সুইমিংপুলের পাটাতনে গিয়ে দাড়ালেন আর জাকুজিতে আরাম করতে থাকা রিক কে বললেন ফুটবলটা তার দিকে ছুড়ে দিতে, আর তখনই দুই বাহু প্রসারিত করে লাফ দিলেন। তার ইচ্ছা শুন্যে থাকা অবস্থায় বলটি ধরে ডিগবাজি খেয়ে পানিতে পড়া। কিন্তু হিসাবে ভুল হয়ে যায়, বল যায় ফসকে আর মাথাটা পড়ল কনক্রিটের মেঝেতে। তার মনে হল যেন মাথার উপর বোমা ফেটেছে। কান দিয়ে যে তরলের…

  • “তোমরা যে বলো দিবস রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা/ সখী ভালোবাসা কারে কয়?” “তোরা যে যা বলিস ভাই”-ভালোবাসা একটি শারীরবৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, এর হরেকরকম ব্যাখ্যা থাকতে পারে, দিক থাকতে পারে, কিন্তু এর রাসায়নিক দিকটি উড়িয়ে দেওয়ার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তাহলে ঘুরে আসি এক লম্বা সফরে; বিজ্ঞানীগণ ভালোবাসা নিয়ে কী বলেন-জেনে আসি। তবে এই যাত্রায় যাওয়ার আগেই বলে রাখি আমরা এই যাত্রাপথকে-প্রেমের আবেগ, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উদ্দীপতা এবং হরমোনঘটিত পরিবর্তন-অনুযায়ী তিন পর্বে ভাগ করে তবেই আগাচ্ছি। প্রথম পর্বঃ প্রেমে পড়া   আপনাদের ঐ গল্পটা জানা আছে? ঐ যে এক ছাত্র পরীক্ষার জন্য শিখে গেলো…

  • আমি যে সে শহরে থাকি ওখানে একটা বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল আছে। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর মুখে শুনতাম এখানে টিবি এর চিকিৎসা হয়। আমার কাছে টিবি নামটা কেমন জানি ইন্টারেস্টিং লাগতো কারণ এর সাথে ‘টিভি’ শব্দটার মিল আছে। পরে বুঝতে পারি টিবি আসলে যক্ষ্মা। আর এই যক্ষ্মা রোগের কারণ Mycobacterium tuberculosis নামের অণুজীব। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ (Robert Koch) এই অণুজীবটি আবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্যে তিনি ১৯০৫ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পান। ওনার নাম অনুসারে একে কখ’স বেসিলাস (Koch’s Bacillus) ও বলা হয়! যক্ষ্মা নিয়ে একসময়কার বিখ্যাত ডায়ালগ ছিল ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। আর…

  • ধরুন আপনার প্রচন্ড বুকে ব্যাথা হলো । সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি একজন ডাক্তারের কাছে যাবেন। আপনার ব্যাথা নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ নাকি অন্য কোন কারনে হয়েছে তা জানার জন্য ডাক্তার সাহেব একগাদা টেস্ট দিবেন। ফলে আপনার রোগটি শুধু সুনির্দিষ্ট ভাবে নির্ণয় করা যাবে তাই নয়, বরং এটি আপনে যেন যথাযথ ও সুচিকিৎসা পান এটাও নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে ধরুন আপনি কোন মানসিক জটিলতার মধ্যে দিয়ে গেলেন। এক্ষেত্রে আপনার রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করার কৌশলটি অনেকটাই অন্যরকম হবে। এমনকী আপনার কাছে সেরকম ভালো কোন অপশন নাও থাকতে পারে। মানসিক রোগে ভোগা বেশিরভাগ মানুষকে হয় স্রিজোফেনিয়া নয়তো বাইপোলার ডিজর্ডারের রোগীর কাতারে ফেলা…