

আজকের এই প্রযুক্তির যুগে চারপাশে তথ্যের স্রোত বয়ে চলেছে। কিন্তু তার ভেতরে আসলটা কোথায়, মিথ্যাটা কোথায়, সে পার্থক্য করা কি সহজ? ফেসবুকের নিউজ ফিড, হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামের গ্রুপ চ্যাট, কিংবা নিউজ অ্যাপ। সব জায়গায় মিথ্যা খবর, গুজব আর অর্ধসত্য ভেসে বেড়ায়। বাংলা ভাষার কোটি মানুষের জন্য এ এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ সত্য যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা না থাকলে এর ফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ভয়ঙ্কর বিভ্রান্তির সময় থেকেই জন্ম নিয়েছে “খোঁজ”, বাংলা ভাষার প্রথম এবং সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এআই-ভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম [১] যা ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে। টেক্সট, ছবি, ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব,…

এআই কীভাবে গান লিখছে, ছবি আঁকছে, গল্প বলছে?
একটা সময় ছিল, যখন মানুষ ভাবতো, সৃজনশীলতা কেবল তাদের হাতেই সীমাবদ্ধ। তারাই কেবল গান লিখবে, ছবি আঁকবে, গল্প বলবে! যন্ত্রের কাজ তো শুধু গাণিতিক হিসাব-নিকাশ, ডেটা বিশ্লেষণ ও সময়সাপেক্ষ কঠিন কাজ সহজতর করে তোলা! কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ধরণীতলে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এখন সেই মেশিনই, যাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বলা হয়, পা রেখেছে সৃজনশীলতার ময়দানে। শুধু পা নয়, হাত-পা-পেট-মাথা সবকিছু নিয়েই জড়োসড়ো হয়ে বসেছে সে! বর্তমানে এমন সব কাজ করছে যা দেখে যারপরনাই অবাক হচ্ছে মানবজাতি। কীভাবে? চলুন বুঝিয়ে বলছি। এআই-এর ভুবনে গিয়ে আপনি যদি বলেন, আমাকে রবীন্দ্রনাথের মতো একটি কবিতা লিখে দাও তো। সফটওয়্যার…

কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার: রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার ও অগণিত প্রাণ সঞ্চার!
১৮১৮ সাল। গাই’স হসপিটাল, লন্ডন। প্রতিদিনকার মতো বরফস্নাত এক সকাল। হিমশীতল পরিবেশ। চারিদিকে অনুভূত হচ্ছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বায়ুপ্রবাহ। কিছুক্ষণ হলো হাসাপাতালের বারান্দায় পরিবারসমেত উপস্থিত হয়েছেন একজন প্রসূতি। প্রসব বেদনায় রীতিমতো কাতরাচ্ছেন তিনি। অবস্থা এমন যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই মূর্ছা যাবেন তিনি। অভিজ্ঞ ডাক্তার ঝামেলাহীন প্রসবের জন্য তাকে আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করলেন। কিছু সময় পর, বন্ধ কামড়া ভেদ করে ভেসে এলো নবজাতকের কান্নার শব্দ। সেবিকা জানালেন, ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। পরিবারের সবাই যখন আনন্দে আত্মহারা ঠিক তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নারীটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এমন সময় হাসপাতালে এসে উপস্থিত হলেন তৎকালীন প্রসিদ্ধ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জেমস…

এআই মেডিসিন
ঘাড়টা শক্ত হয়ে আছে, মাথাটা ঝিমঝিম করছে, আঙুলগুলো ঝিনঝিন করছে। এভাবে আপনার সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেন। এরপর স্ক্রিনে প্রশ্ন এলো, ঠিক কবে থেকে এই সমস্যাগুলো হচ্ছে এবং আগের থেকে অবস্থা আরও বেগতিক কি না। আপনি ঠিকঠাক জবাব দিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপটা আপনার সমস্যাটা ধরে ফেললঃ ঘাড়ে টান পড়েছে। এজন্যে আপনার ঘর থেকে বের হতে হয়নি, ক্লিনিকে গিয়ে লাইন ধরতে হয়নি। এটা কিন্তু কোনো বিজ্ঞান কল্প-গল্প এর প্লট নয়। Ada বা এডা অ্যাপটি ঠিক এভাবেই লক্ষণ দেখে রোগ নিদান করে দিচ্ছে। এডার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে, ড. মার্টিন হির্শ, ড. ক্লেয়ার নভোরোল এবং ড্যানিয়েল নাথরাথ, এই তিনজনের…

প্রথম সমুদ্র জয়ী যারা
সূর্য ঢলে পড়েছে। একটু পরেই ডুবে যাবে। বাও আঙুল তুলে গোনা শুরু করলো। সে বাবার কাছে শিখেছে সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ অন্ধকার নামার আগ অবধি সময় কীভাবে গুনতে হয়। চারদিকে শুনশান নীরবতা। শুধু সমুদ্র থেকে সৈকতে সশব্দে পানি আছড়ে পড়ার শব্দ। বাও গোনার ফাঁকে উত্তর আকাশে তাকায়। ধ্রুবতারা মিটমিট করছে। সেই ধ্রুবতারায় চোখ বুলিয়ে এক ঝাঁক পাখি তাদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। সন্ধ্যার এই সময়ে সাধারণত প্রতিবেশীদের কোলাহল থাকে। আজ কেউ নেই। সত্যি বলতে বাওদের গ্রামে তারাই শেষ পরিবার। বাকি সবাই সাহুল এর পথে রওয়ানা দিয়েছে কয়েকদিন আগেই। বাও এবং তার পরিবার থাকে সুন্দা অঞ্চলে। খাদ্যের…

নিয়ান্ডারথালদের প্রাচীন ডিএনএ আমাদের কী জানায়?
জীবন্ত জীবসত্তার খুঁটিনাটি বুঝতে পারার সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার হলো ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)। আমাদের জেনেটিক কোড আমাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা দেয়। যেমন — আমরা কী, কোথা থেকে এসেছি, কারা আমাদের নিকটাত্মীয়, ইত্যাদি। জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় বিবর্তন সম্পর্কিত গবেষণায়, ডিএনএ’র ভূমিকা সবচেয়ে তাৎপর্যবহ। কিন্তু সমস্যার ব্যাপার, ডিএনএ ভঙ্গুর অণু, যা সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বেশিরভাগ প্রাচীন জীবাশ্মের ক্ষেত্রে, জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ দারুণ দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রজাতিসমূহের তথ্য উদ্ঘাটন বিজ্ঞানীদের পক্ষে সম্ভবপর। এমনই একটি প্রজাতি হচ্ছে, হোমো স্যাপিয়েন্সের মতো আরেকটি মানবপ্রজাতি। নাম হোমো নিয়ান্ডারথাল। হোমিনিন হিসেবে নিয়ান্ডারথালদের জীবাশ্মই সর্বপ্রথম…

মানবদেহে বসবাসকারী যত অদৃশ্য প্রাণ!
মানবদেহ; পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল, সবচেয়ে রহস্যময় এক জৈবিক সংগঠন। মাথার ত্বক থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত, প্রতিটি কোষে লুকিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য। আছে নানাবিধ প্রাণের মনোরম জীবনযাপন। আমরা প্রতিনিয়ত বহন করছি কোটি কোটি “অতিথি”–এরা খায়, ঘুমায়, প্রজনন করে। এরা কখনো আমাদের বন্ধু, কখনো আবার শত্রুও বটে! এই “অতিথি” আসলে কারা? এরা হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, আর্কিয়া এবং প্রোটোজোয়া। আমাদের শরীরেই গড়ে উঠেছে এদের বিশাল জনপদ যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন “মাইক্রোবায়োম”। এই অণুজীবদের চোখে দেখা যায় না, তবুও তারা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চলুন আজ আমরা ডুব দেই সেই অদৃশ্য জগতে, শুনবো এক রহস্যময় বসতির গল্প! মুখ ও…

আইনস্টাইন জিগজ্যাগ
লেখাটি গবেষণা, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ফিচার, বিবিধ, মহাকাশ, সাম্প্রতিক বিভাগে প্রকাশিতমিরাবিলিস ১৯০৫ সালকে অ্যানাস মিরাবিলিস বা ‘অত্যাশ্চর্যের বছর’ নামে অভিহিত করা হয়। এমন নামে ডাকার কারণ এ বছর বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন – ব্রাউনিয়ান মোশন, যার মাধ্যমে অণুর অস্তিত্বকে প্রমাণ করেন, ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট, যেই ইফেক্ট ব্যবহার করে আমাদের ক্যামেরাগুলো কাজ করে এবং তৃতীয়টি হলো আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব যার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণই বদলে দেন আইনস্টাইন। ১৯১৫ সালে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব কেবলমাত্র ধ্রুব বেগে গতিশীল বস্তুর জন্য কাজ করলেও আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব পরিবর্তনশীল বেগের জন্যও সঠিকভাবে কাজ…

কেমন হতে পারে পৃথিবীর সমাপ্তি?
২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বর। পৃথিবী চলছে তার চিরচেনা গতিতে। সূর্য উঠেছে, পাখিরা ডাকছে, রাস্তায় গাড়ি চলছে, মানুষ প্রতিদিনের কাজকর্মে ব্যস্ত। কোনো অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ছে না। তবু কোথায় যেন একটা চাপা উত্তেজনা, এক অজানা ভয়। কেউ প্রকাশ্যে বলছে না, তবে অনেকেই মনে মনে ভাবছে—”আজই কি পৃথিবীর শেষ দিন?” মায়ান ক্যালেন্ডারের শেষ দিন বলে কয়েক বছর ধরেই নানা গুজব ছড়িয়েছে—ধ্বংস হবে পৃথিবী, নাকি আসবে এলিয়েন? কেউ বলছে বিশাল গ্রহ ধাক্কা দেবে পৃথিবীতে, কেউ আবার নিশ্চিন্তে চা খেয়ে বলছে—”সবই বাজে কথা।” ঢাকার মোহাম্মদপুর নিবাসী ছেলে তুহিন, এক সাধারণ কলেজপড়ুয়া ছেলে। নিয়মিত কলেজে যাওয়া আসা করে। পৃথিবীর সব বিষয়েই…







