• আমরা জানি সাপ মূলত ভূকম্পন অনুভব করে “শুনতে” পায়, তাদের কার্যকরী কোন কান নেই বলে বায়ুবাহিত শব্দ শুনতে পারে না। কিন্তু আসলেকি কি তাই? সাপের কি কান নেই? সাপ কি আসলেই শুনতে পারে না? সম্প্রতি এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু গবেষণা হয়েছে। চলুন জানা যাক তার খবরা-খবর। “আজ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ড. ক্রিস্টিনা এন. জেডেনেকের থেকে একটি ইন্টারভিউর মাধ্যমে জানার চেষ্টা করবো। আমরা এখন কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছি যেখানে ড. জেডেনেক Venom Evolution Lab এর রিসার্চার হিসেবে কাজ করছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য আমরা ড. জেডেনেকের ল্যাবে পৌঁছে যাবো।” গাড়ির মধ্যে থেকেই জেনিসা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কথা…

  • প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর কথা ভাবলেই আমাদের কল্পনায় ভেসে উঠে অতিকায় সব প্রাণীর ছবি। তখন জল-স্থল-আকাশ দাবড়িয়ে বেড়াতো আড়াই মিটার লম্বা মিলিপিডরা, এগারো মিটার বিস্তৃত ডানা বিশিষ্ট দৈত্যাকার উড়ন্ত ডাইনোসর এবং প্রায় একটন ওজনের সাপ। কিন্তু সর্বকালের সবচাইতে বড় দানব প্রাণীটিকে খুঁজে পেতে হলে আপনাকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের দিকে তাকাতে হবে না। আমাদের সময়ের সাগর দানব নীল তিমিকেই ধরা হত সর্বকালের সবচাইতে বিরাটাকার প্রাণী। নীল তিমির ওজন প্রায় দুইশ টন এবং লম্বায় ত্রিশ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গত প্রায় বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে এর চাইতেও বড় কোন প্রাণী ছিল বলে বিজ্ঞানীদের জানা ছিল না।   কিন্তু প্রচলিত এই ধারণা থেকে বিজ্ঞানীরা…

  • গণিত হলো সেই বিজ্ঞান যা বিভিন্ন বস্তুর আকৃতি-পরিমাণ এবং বিভিন্ন ঘটনা ও উপাত্তের বিন্যাস নিয়ে কাজ করে। আমরা যা করি, আমাদের চারপাশে যা আছে, সবই গণিতের যুক্তি ও প্রয়োগ। এটি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সফ্টওয়্যার, স্থাপত্য (প্রাচীন এবং আধুনিক), শিল্প, অর্থনীতি, প্রকৌশল, এমনকি খেলাধুলা সহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুর সাথেই জড়িত। আজকের ব্লগটিতে আমরা এই গণিত নিয়েই টুকটাক জানার চেষ্টা করবো। আমরা দেখব, কীভাবে গণিতের ক্রমবিকাশ ঘটলো, আজকের দিনের গণিত কেমন আর এই জটিলতম বিষয় আধুনিক যুগে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তো, চলেন, শুরু করা যাক! যখন থেকে ইতিহাস নথিভুক্ত হওয়া শুরু হলো, তখন থেকেই দেখা গিয়েছে যে প্রতিটি…

  • মানব মস্তিষ্ককে বলা হয় এখন পর্যন্ত বিদ্যমান সবচেয়ে জটিল জৈবিক গঠন। আমরা এখনও পুরোপুরি জানিনা আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে। তবে এর জন্য কিন্তু নিউরোসায়েন্স বা স্নায়ুবিজ্ঞানের অগ্রগতি থেমে নেই। সেই খ্রিষ্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দ থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত গবেষকরা স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণার নতুন-নতুন মাইলফলক অর্জন করে যাচ্ছেন। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের ৮৫ বিলিয়ন বা তার বেশি সংখ্যাক নিউরনের জটিল ফাংশন এবং তাদের মধ্যে ১০০ ট্রিলিয়নেরও বেশি সংযোগের ম্যাপিং করার দিকে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছেন। ১০০ ট্রিলিয়ন খুবই বিশাল সংখ্যা, যেখানে আমাদের মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথে মাত্র ৪০০ বিলিয়নের মতো নক্ষত্র রয়েছে। হলো তো মস্তিষ্কের বিশালতা নিয়ে কথা। এবার চলুন…

  • সরলরেখার সমীকরণ আমি শুরু করছি সমীকরণ বানানো। গেট সেট গো! মনে করো, আমার কাছে y অক্ষের ছেদক (c) আর ঢাল দেওয়া আছে। এখন আমি সরলরেখার সমীকরণ বের করব। সাধারণত, স্থানাঙ্ক ব্যবস্থায় যদি একটা সরলরেখা দেওয়া থাকে তাহলে আমরা বলতে পারি, সেটার ঢাল কত, y ও x অক্ষকে কোথায় ছেদ করল, ভুজ আর কোটিগুলোর সম্পর্ক। কিন্তু আমাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু তথ্য দেওয়া থাকে তখন সেটা থেকে ভূজ আর কোটি মধ্যে সম্পর্ক বের করে সমীকরণ তৈরি করতে হয়। আর সেই সমীকরণ দিয়ে চিত্র না এঁকেও বলা যায় সরলরেখা সম্পর্কে।  এটাই সমীকরণের মাহাত্ম্য। আমার এক বন্ধু এসে আমাকে বলল, “তোকে আমি…

  • বীজগণিতের দৃষ্টিপাত ফরাসি গণিতবিদ রেনে দেকার্তে একদিন উদাস মনে বসে আছেন। এমন সময় তিনি একটা মাছি দেখতে পেলেন। মাছিটা অনেকক্ষণ ওড়াউড়ি করে দেয়ালে বসল। দেকার্তে তখন চিন্তা করলেন, আচ্ছা এই মাছির অবস্থানটা কি আমি বের করতে পারি? দেকার্তে দেয়ালের দুই ধারের সাপেক্ষে মাছির অবস্থান বের করলেন। তিনি ভাবলেন, “আচ্ছা মাছিটা দেয়ালের এই পাশ থেকে এতটুকুতে আছে। এখন যদি আমি এই পাশ থেকে ওপরে যেতে থাকি তাহলেই তো মাছিটাকে পেয়ে যাব। এভাবে যখন তিনি দুইটা অক্ষের সাপেক্ষে মাছির অবস্থান বের করলেন। তখনই স্থানাঙ্ক জ্যামিতির জন্ম হলো।” তিনি জ্যামিতিক আকারকে বিন্দুর মাধ্যমে প্রকাশ করলেন, এভাবে স্থানাঙ্ক জ্যামিতির উদ্ভব…

  • প্রতি বছরই শীতের শুরুতে সুনামগঞ্জের  টাঙ্গুয়ার হাওর, কক্সবাজারের সোনাদিয়া কিংবা নিঝুম দ্বীপে অতিথি পাখিদের আনাগোনা শুরু হয়। ঢাকার কাছাকাছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়েও অতিথি পাখিদের মেলা উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। এসব পাখিদের বেশির ভাগই আসে উত্তর মঙ্গোলিয়া, তিব্বতের একটি অংশ, চীনের কিছু অঞ্চল, রাশিয়া ও সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে। শুধু মাত্র আমাদের দেশেই যে পরিযায়ী পাখিদের দেখা মেলে তা না। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভারতে কিংবা ইউরোপেও ওদের দেখা যায়। যেমন গত সেপ্টেম্বর এ একটি ইউরোপিয়ান ব্ল্যাকবার্ড ১৫৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বেলারুস থেকে আলবেনিয়ায় যায়।   পাখিদের এই পরিযাণ সত্যিই অবাক করার মতন। কিন্তু পাখিরা ঠিক কি…

  • রাফির দুঃস্বপ্ন ক্লাসের সবাই চুপচাপ বসে আছ, পুরো পিন ড্রপ সাইলেন্স। রাফি একটু অবাকই হচ্ছে– ফ্লোরে পিন পড়লে তো একটা টিং আওয়াজ হয়। এইটা আবার কেমন নীরবতা? এই ভাবতে গিয়ে তার হাত থেকে কলম পড়ে গেল। রাফি ভয়ে ভয়ে কলমটা তুলে দেখে রফিক স্যার তার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে! স্যার হাতের বেতটা ঘুরাচ্ছেন। “রাফি, বাবা। তুমি কী করছিলে?” “স্যার, কলমটা পড়ে গিয়েছিল…” “বল তো, আমি এখন কী পড়াচ্ছি?” “স্যার, সরলরেখার ঢাল।” স্যার হাসি দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “বলো তো ঢাল কী?” “স্যার, ঢাল হলো tanA। যেখানে A কোণের মান।” রাফি ভয়ে অস্থির হয়ে গেছে। স্যার এখনও হাসছেন।…

  • পদার্থবিজ্ঞানের বাস্তবমুখী গাণিতিক আর জীববিজ্ঞানের বিচিত্র সব ব্যাপার একত্রিত হলে সেই জিনিসটা কতটা ইন্সটারেস্টিং হতে পারে সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? জীববিজ্ঞান আর রসায়ন মিলে হয় প্রাণরসায়ন (Biochemistry), ভূগোল আর জীববিজ্ঞান মিলে হয় জীবভূগোল (Bio-geography)। একইভাবে জীববিজ্ঞান আর পদার্থবিজ্ঞানের আলোচনার সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে জীবপদার্থবিজ্ঞান (Biophysics)। কখনো কি ভেবে দেখেছো যদি পদার্থবিজ্ঞানের বাস্তবমুখী সূত্র আর জীববিজ্ঞানের বিচিত্র সব কিছু মিলে নতুন আরেকটি বিষ্ময় তৈরি করে, তাহলে কেমন হবে? আজ সেই বিষ্ময় নিয়েই কথা হবে। জীবপদার্থবিজ্ঞান (Biophysics) মূলত জৈবিক কার্যক্রম বোঝার জন্য পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও পদ্ধতি প্রয়োগ  করে থাকে। এর লক্ষ্য প্রধানত কোন জীবের মৌলিক স্তরের গঠন, মিথস্ক্রিয়া…