• সংখ্যার সৌন্দর্য আলোচনা করতে গেলে আমাকে এমন আরো হাজারখানেক লেখা তোমাদের সামনে তুলে ধরতে হবে যা আমার উদ্দেশ্য নয়। তবে, সৌন্দর্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে আজকে তোমাকে একটু ধারনা দিবো। জটিল সংখ্যা নিয়ে সজ্জিত সংখ্যাতত্ত্বের মোটামুটি আমাদের জানা পরিপার্শ্বের সকল কিছু নিয়েই আমার একটা লেখা আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তোমরা প্রথম আলো গণিত ইশকুলে পেয়ে যাবে যাতে। সেখান থেকেই আজকের লেখাটা। সংখ্যা জগতের নিমিখ পানে বিচরণ করে অমূলদ সংখ্যা। তারই উদাহরণ দিতে গেলে তোমার সামনে $\sqrt{2}, \sqrt{3}, \sqrt{5}, \pi(3.1415…), e(2.7182818…)$ চলে আসবে। আজকে আমাদের আলোচনার মূলত অমূলদ সংখ্যা $e$-কে নিয়েই। দশমিকের পরে 50 ঘর পর্যন্ত $e$ এর মান,…

  • গণিত ও মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা গণিত সম্ভবত মানুষের ইতিহাসের সেরা কিছু আবিষ্কারের মধ্যে একটা। এর জন্ম হয়েছিল নিতান্ত ব্যবসায়িক চাহিদা ও গণনার দুর্বধ্যতা মেটানোর জন্য। আদিকালে গণনা করার জন্য মানুষ গণিত আবিষ্কার করে, সংখ্যা আবিষ্কার করে। যেই সংখ্যা আবিষ্কারকে মানব সম্প্রদায়ের দারুণ একটা আবিষ্কার হিসেবে ভাবা হয়। কেন বলুন তো দেখি? সেই সাথে সাথে বড় হওয়ার সাথে সাথে আমরা গণিতের অনেক শাখার সাথে পরিচিত হই। আর তখনি প্রশ্ন আসে এর কাজ কি? তেমনি একটি শাখা হলো দ্বিপদী বিস্তৃতি। দ্বিপদী বিস্তৃতি শেখার প্রথম প্রথমে আমাদের শুধু একটা ধারণাই কাজ করে এটা হয়ত বড় বড় গাণিতিক সমস্যা সমাধানে…

  • আচ্ছা যদি একজন মানুষ কোন এক ব্ল্যাক হোলের দিকে মোহে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রসর হতে থাকে তাহলে সে কি দেখবে? তার চারপাশের দুনিয়াটাই বা কেমন হবে? সে কেমনই বা অনুভব করবে? সে কি আদৌ এই মোহের টান ছিন্ন করে বের হয়ে আসতে পারবে? নাকি সেই ব্লাকহোলের জগতে হারিয়ে যাবে?… বইয়ের প্রথম অধ্যায়টা পড়লে মোটামুটি এইসব অদ্ভুত প্রশ্নের উদয় হবে। এটাই স্বাভাবিক। কেননা অধ্যায়টা শুরু হয়েছে রাস্তা নামে একটা হরর সাইফাই দিয়ে। যেখানে গল্পের মূল নায়ক ভুলবশত ব্ল্যাক হোলের দিকে গাড়ি নিয়ে অগ্রসর হয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হন। আর তার জীবনের বিনিময়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা থেকে পাঠকের মনে যে…

  • প্রাণীটার বৈজ্ঞানিক নাম Ampulex compressa। সাধারণ নাম জুয়েল ওয়াস্প,বা বাংলা করে বলতে পারি জুয়েল বোলতা। আফ্রিকা এবং এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকাগুলোয় প্রধানত এর দেখা মেলে। দৈর্ঘ্যে এক ইঞ্চি থেকে সামান্য ছোটো। গায়ে বাহারি রঙ। খটকা লাগতে পারে,এটা কোনো কৃমি না,ভাইরাস না, কোনো ছত্রাকও না; সামান্য একটা বোলতা আবার পরজীবী হয় কীভাবে? আমরা হরদম যেসব বোলতা দেখি,সেগুলো তো গাছের গায়ে মধুর চাক বানিয়ে বাস করে। কাছাকাছি কোনো ঘর থাকলে সেই ঘরের কর্তা-কর্ত্রী বোঝেন তার কি জ্বালা! মজাটা হচ্ছে,জুয়েল বোলতা তার ঘর বানায় একটা জ্যান্ত তেলাপোকার শরীরের মধ্যে। 📷যাকে নিয়ে আজকের আলাপ ঘটনাটা কীভাবে ঘটে বলি। জুয়েল বোলতা তেলাপোকার…

  • কোষ ও টিস্যু নিয়ে প্রাথমিক বিষয়গুলো জানা যাবে এবং যেগুলোর বিস্তৃতি উপলব্ধি করতে পারবো, এমন কোনো বই বাংলা ভাষায় দেখতে না পারায় বেশ আফসোস হচ্ছিল। বিচিত্র কোষজগৎ সম্পর্কে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা কি বেসিক জিনিসগুলো উপলব্ধির সাথে জানতে পারবে না? এই আফসোস দূর করে দিয়ে ২০২২ সালের বইমেলায় চলে আসে সৌমিত্র চক্রবর্তী স্যারের লেখা “জীবকোষ তা নয় যা তুমি ভাবছো”। আর এই বইটাই আমি বিজ্ঞান ব্লগ থেকে গিফট পেলাম। পড়ে তো অবাক! চলুন, সেই গল্পই জানা যাক। বইয়ের ভেতরে “জীবকোষ তা নয় যা তুমি ভাবছো”-বইটিতে বেশ কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম দুই অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে কোষ আসলে…

  • বিন্দুর শরীর অপ্রকৃতস্থের মতো কাঁপছে, তাকে বদ্ধ উন্মাদের মতো দেখাচ্ছে। সে এক রহস্যের জালে আটকে গেছে। দুই পাশের দেয়াল আস্তে আস্তে তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে কী করবে বুঝতে পারছে না। বিন্দু বুঝতে পারছে সে সময়ের প্রান্তে এসে গেছে। তার আর সময় নেই, সে মারা যাচ্ছে! কিন্তু সে বাঁচতে চায়। তার স্বপ্ন আর জীবনটাকে আরও ভালো করে অনুভব করতে চায়। দেয়ালগুলো ক্রমেই এগিয়ে আসছে, হঠাৎ দেয়ালগুলোর গতি বেড়ে গেল। তারা কী বিন্দুর ভাবনা বুঝতে পারছে?  দেয়ালগুলো বিন্দুর চোখের সামনে এসে গেছে। বিন্দুর চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। কিন্তু সেই অশ্রু পরিপূর্ণভাবে নিজের বিষাদ প্রকাশ করতে পারল না।…

  • অ্যাকাডেমিক আগ্রহ থেকে আমরা যে-সব বই পড়ি সেগুলোকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক হচ্ছে সেই সমস্ত বই যেগুলো আমাদের কৌতূহলকে মেটায় বা আরো বেশি কৌতূহলী করে তুলে। অন্যদিকে, দুই হচ্ছে সেই সমস্ত বই যেগুলো আমাদের পরীক্ষার ফলাফলকে ভালো করতে সাহায্য করে। আর উপরের এই দুই শ্রেণির মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রেখে লেখা হয়েছে টেকনিকস ইন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বইটি। এইজেল আকস্যান কুরনাজ (বাংলা উচ্চারণ নিয়ে আমি নিশ্চিত নই ‘Isil Aksan Kurnaz’) এর লেখা এই বইটি একইসাথে জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং এর টুলসগুলোকে আমাদের বোধগম্য ভাষাতে উপস্থাপন করতে চেয়েছে এবং সমান্তরাল গতিতে দেখিয়ে গিয়েছে এই টুলসগুলোর রিয়েল লাইফ ল্যাবরেটরি…

  • বিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। গবেষকরা ক্যান্সার, হাইপারার্জিনিনেমিয়া, থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন জিনগত রোগের চিকিৎসার কথা ভাবতে থাকেন ভিন্ন আঙ্গিকে। এসব জটিল জিনগত রোগ হয়ে থাকে নির্দিষ্ট কিছু জিনে মিউটেশন ঘটবার দরুন। গবেষকরা কোষে জিনগত পরিবর্তন সাধন করার মাধ্যমে এই জিনগত রোগ সমূহের চিকিৎসার কথা ভাবতে শুরু করেন। বিষয়টা অনেকটা একদম রোগের গোঁড়ায় গিয়ে চিকিৎসা করার মতন। আর একেই বলে জিন থেরাপি। বর্তমানে জিন থেরাপি চিকিৎসা জগতে বেশ আলোচিত এক বিষয়। বেটা-থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, অন্ধত্ব, ক্যান্সার, ADA-SCID-সহ বেশ কিছু সংখ্যক জটিল জিনগত রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি সাফল্য দেখিয়েছে। তবে শুরুর দিকের পথটা মোটেও সহজ ছিল…

  • যেহেতু কম্পিউটারগুলো বার্ধক্য প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী অনেক জিন শনাক্ত করতে সক্ষম হবে, তাই আমরা সম্ভবত পিটার প্যানের মতো চিরকাল যুবক হয়ে থাকতে পারব মিশিও কাকু, বই: ফিজিক্স অব দ্য ফিউচার মৃত্যুকে কে আলিঙ্গন করতে চায়? মরণের কথা উঠলেই সবার আগের বার্ধক্যের কথা মনে পড়ে যায়। যদি আমরা কোনোভাবে এই বার্ধক্যকে আটকে দিতে পারতাম, তাহলে কেমন হতো? বার্ধক্য রুখে দিতে বহু বিজ্ঞানী উঠে পড়ে লেগেছেন। প্রথমেই তো আর মানুষের উপরে গবেষণা চালানো যায় না, অনেকক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। একারণে গবেষকেরা ইস্ট আর গোলকৃ্মির উপর নজর দিলেন। তারা দেখলেন যে বেশ কয়েকটি জিন বয়সবৃদ্ধির সাথে জড়িত। কিছুটা…