• অ্যাকাডেমিক আগ্রহ থেকে আমরা যে-সব বই পড়ি সেগুলোকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক হচ্ছে সেই সমস্ত বই যেগুলো আমাদের কৌতূহলকে মেটায় বা আরো বেশি কৌতূহলী করে তুলে। অন্যদিকে, দুই হচ্ছে সেই সমস্ত বই যেগুলো আমাদের পরীক্ষার ফলাফলকে ভালো করতে সাহায্য করে। আর উপরের এই দুই শ্রেণির মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রেখে লেখা হয়েছে টেকনিকস ইন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বইটি। এইজেল আকস্যান কুরনাজ (বাংলা উচ্চারণ নিয়ে আমি নিশ্চিত নই ‘Isil Aksan Kurnaz’) এর লেখা এই বইটি একইসাথে জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং এর টুলসগুলোকে আমাদের বোধগম্য ভাষাতে উপস্থাপন করতে চেয়েছে এবং সমান্তরাল গতিতে দেখিয়ে গিয়েছে এই টুলসগুলোর রিয়েল লাইফ ল্যাবরেটরি…

  • বিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। গবেষকরা ক্যান্সার, হাইপারার্জিনিনেমিয়া, থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন জিনগত রোগের চিকিৎসার কথা ভাবতে থাকেন ভিন্ন আঙ্গিকে। এসব জটিল জিনগত রোগ হয়ে থাকে নির্দিষ্ট কিছু জিনে মিউটেশন ঘটবার দরুন। গবেষকরা কোষে জিনগত পরিবর্তন সাধন করার মাধ্যমে এই জিনগত রোগ সমূহের চিকিৎসার কথা ভাবতে শুরু করেন। বিষয়টা অনেকটা একদম রোগের গোঁড়ায় গিয়ে চিকিৎসা করার মতন। আর একেই বলে জিন থেরাপি। বর্তমানে জিন থেরাপি চিকিৎসা জগতে বেশ আলোচিত এক বিষয়। বেটা-থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, অন্ধত্ব, ক্যান্সার, ADA-SCID-সহ বেশ কিছু সংখ্যক জটিল জিনগত রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি সাফল্য দেখিয়েছে। তবে শুরুর দিকের পথটা মোটেও সহজ ছিল…

  • যেহেতু কম্পিউটারগুলো বার্ধক্য প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী অনেক জিন শনাক্ত করতে সক্ষম হবে, তাই আমরা সম্ভবত পিটার প্যানের মতো চিরকাল যুবক হয়ে থাকতে পারব মিশিও কাকু, বই: ফিজিক্স অব দ্য ফিউচার মৃত্যুকে কে আলিঙ্গন করতে চায়? মরণের কথা উঠলেই সবার আগের বার্ধক্যের কথা মনে পড়ে যায়। যদি আমরা কোনোভাবে এই বার্ধক্যকে আটকে দিতে পারতাম, তাহলে কেমন হতো? বার্ধক্য রুখে দিতে বহু বিজ্ঞানী উঠে পড়ে লেগেছেন। প্রথমেই তো আর মানুষের উপরে গবেষণা চালানো যায় না, অনেকক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। একারণে গবেষকেরা ইস্ট আর গোলকৃ্মির উপর নজর দিলেন। তারা দেখলেন যে বেশ কয়েকটি জিন বয়সবৃদ্ধির সাথে জড়িত। কিছুটা…

  • সময়িন্দ্রজাল প্রকৃতির ভয়াল এক রহস্যের গল্প। প্রকৃতি চায় না এই গল্প ফাঁস হোক, তাই যারাই এই গল্প সম্পর্কে জেনেছে তাদের উপরই নেমে এসেছে প্রকৃতির ভয়াল থাবা। সময়টা ১৯৯৭। সান জুয়ানের রাডার থেকে মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে গেল ফ্লাইট এস.জে ১৩। আকাশপথে বিপদের সম্মুখীন হলে প্লেনটা অবশ্যই পুয়ের্তো রিকোর কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করত। নিকটবর্তী অন্য প্লেনকেও আসন্ন সমস্যার কথা জানাতে পারত। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এমন কিছুই ঘটেনি প্লেনটার ভাগ্যে। বাতাস কেটে কর্পূরের মতো উবে গেছে এস.জে. ১৩। সুবিশাল প্রকৃতির কোন অদ্ভুত রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়েছে প্লেনটা, কেউ জানে না। কেউ খবর রাখে না। এদিকে এস.জে ১৩…

  • “আমি আমার এক্সপেরিমেন্টের প্রথম জেলগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার এখনও মনে পড়ে অশ্রু আমার দুচোখে টলমল করছিলো, এ এক দুর্দান্ত অনুভূতি! আমি বুঝে গেছিলাম আমরা এখন অসাধারণ কাজ করতে পারব।” হারবার্ট বয়ার ১. ১৯৯৪ সালে হারবার্ট বয়ারের করা এই উক্তির প্রায় ৮০ বছর পূর্বে ফ্রেডেরিক টোর্ট সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিওফাজ আবিষ্কার করেন ১৯১৫ সালে। ব্যাকটেরিওফাজ হলো ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এমন ভাইরাস। এর প্রায় চল্লিশ বছর পর, গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ওয়ার্নার আর্বার নামের একজন বিজ্ঞানী ব্যাকটেরিয়াতে ব্যাকটেরিওফাজ প্রতিরোধী রেস্ট্রিকশন মডিফিকেশন সিস্টেম খুঁজে পান। এই সিস্টেমটি আক্রমণ করা ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলতে পারত। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে, এই সিস্টেমে থাকা…

  • বইটি কেন পড়বেন কোভিড ১৯ এ জর্জরিত সারাবিশ্ব। এই মহামারির মধ্যেও কিছু মানুষদের (Covidiot) দেখা যায় রাস্তায় শুধু শুধু ঘোরাঘুরি করতে, প্রায়ই তারা স্বাস্থ্য সচেতন থাকে না। তাদের সচেতন হতে বললে তারা বলে– “মানুষ একদিন না একদিন মারা যাবে,   করোনায় আক্রান্ত হলেও মারা যাবে এমনিতেও মারা যাবে।  ভাগ্যে থাকলে মরণ হবেই [সিদ্ধান্ত]” তাদের সিদ্ধান্ত হলো ভাগ্যে থাকলে মৃত্যু হবেই। কিন্তু তারা যে যুক্তিতে কথা বলল, তা কি ঠিক? না ঠিক না। তাদের যুক্তিতে ভুল হয়েছে যার নাম “False Analogy”। কেউ কোনো সিদ্ধান্তে আসার জন্য একটা তুলনা করল। অথচ তুলনার সাথে সিদ্ধান্তটা মিলে কিনা বা তুলনাটা কতটুকু সত্য…

  • আমরা নবম-দশম শ্রেণীতে “বস্তুর অবস্থা ও চাপ” অধ্যায় পড়ার সময় হরহামেশা একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। সেটি হলো: “লোহা ও রাবারের মধ্যে কোনটি বেশি স্থিতিস্থাপক?” যখন আমরা উক্ত সমস্যার সমাধান করতে বসি অর্থাৎ দুটি পদার্থের মধ্যে কোনটি বেশি স্থিতিস্থাপক নির্ণয় করতে চাই তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মাথায় সর্বপ্রথম রাবারের কথা আসে । কারণ আমরা রাবারকে টানলে সেটাকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যেতে দেখি । আবার, আমরা যারা স্থিতিস্থাপকতার গুনাঙ্ক সম্পর্কে জানি তারা প্রথমে হুকের সূত্রের কথা চিন্তা করি। হুকের সুত্রানুসারে, স্থিতিস্থাপক সীমার ভিতরে কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত পীড়ন উক্ত বস্তুতে সৃষ্ট বিকৃতির সমানুপাতিক। অর্থাৎ, পীড়ন ∝ বিকৃতি…

  • “ভূমিকম্প” এক মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম। তুরষ্কের ঘটে যাওয়া বিশাল ভূমিকম্পের পর এই শব্দটা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, ভূমিকম্প কেন হয়? কীভাবে এর মাত্রা পরিমাপ করা হয়? আর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে এই দূুর্যোগের ঝু৺কি কতটুকু? এই সব প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর জানবো আজকের এই ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে। এই ব্লগটা মূলত শিক্ষার্থীদের জন্যই লেখা। এখন শুরু করা যাক! প্রাথমিক ধারণা ভূ-অভ্যন্তরের তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো থেকে তাপ বিচ্ছুরিত হয়। একটা সময়ে গিয়ে তাপের উত্তেজনায় সেখানে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যেয়া Incredible Hulk এর মতো আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর ফলে ঐ এলাকা কাঁপা-কাঁপি শুরু করে দেয়।…

  • রসায়ন ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাথে পরিচিত হবার পর থেকেই এটি আমাদের কাছে জাদুকরী হিসাবে ধরা দেয়। যেই জাদু আমাদের কাছে অতীন্দ্রিয়, বিস্ময়কর। যার কারণে একে বিজ্ঞানের চেয়ে জাদু হিসাবে উপভোগ করতেই আমরা মজা পাই। রসায়ন কাজ করে অণু-পরমাণুর মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসের আচরণ নিয়ে। যেই জগতে জাদুকরী ঘটনা হিসেবে আমরা যা উপভোগ করি তার বেশিরভাগই দুর্ঘটনা! পরমাণু তৈরির গল্পও এমন দুর্ঘটনার জন্যই। উত্তপ্ত প্রাচীন মহাবিশ্বে দুর্ঘটনা বসতই কিছু বাড়তি ইলেক্ট্রন ও অন্যান্য কণিকার জন্ম হয়েছিল। যা পরবর্তীতে একত্রে পরমাণু তৈরি করে। তার মানে এই না এই সবকিছুর ঘটনার মধ্যে  কোনো প্যাটার্ন নেই, ব্যাখ্যা নেই। নীল ডিগ্রেস…