• ঘুম আমাদের মানবজীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের নানান কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ব্যস্ত মন সারাদিন কর্মক্ষম থাকার পর চায় একটুখানি প্রশান্তি। যা একমাত্র ঘুমই এনে দিতে পারে। ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ : হৃৎপিন্ডের সুস্থতা, হজম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ প্রায় সকল শারীরবৃত্তীয় সিস্টেমের কার্যকারিতার জন্য ঘুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো : এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যকলাপ বজায় রাখতে গুরাত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এটি জ্ঞান, একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরিতেও রয়েছে ঘুমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রতিদিন কতটুকু ঘুমানো দরকার? একজন মানুষের জন্য কতটুকু ঘুম জরুরী তা তার বয়স, কর্মক্ষমতা ও…

  • আমাদের মধ্যে একটা সাধারণ ধারণা হলো একইবয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশি পরিপক্ব। পরিপক্বতা (ম্যাচিউরিটি) বলতে সাধারণত মানসিক পরিপক্বতা (সাইকোলজিক্যাল ম্যাচিউরিটি) বোঝানো হয়। ম্যাচিউরিটিকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়। তবে বয়ঃসন্ধির সময় থেকে ব্যক্তিগত বিকাশের পরিপক্বতা মূলত তিন প্রকার, যাদের পার্থক্য স্পষ্ট। এগুলা হলো জৈবিক পরিপক্বতা (বায়োলজিক্যাল বা ফিজিক্যাল ম্যাচিউরিটি), মানসিক পরিপক্বতা (সাইকোলজিক্যাল বা মেন্টাল ম্যাচিউরিটি) এবং আবেগীয় পরিপক্বতা (ইমোশনাল ম্যাচিউরিটি)।   ১) শারিরীক পরিপক্বতা বা বায়োলজিক্যাল ম্যাচিউরিটি  শারীরিক পরিপক্বতা হলো শারিরীক সক্ষমতা অর্জন এবং সকল অঙ্গের পূর্ণবিকাশ সম্পূর্ণ হওয়া। সাধারণত বয়সন্ধিকালেই আমরা শারিরীকভাবে পরিপক্ব হয়ে যাই (বেশিরভাগ দিক থেকে)। কিন্তু মানসিক ও আবেগীয় পরিপক্বতার  এরকম…

  • আগে আমি জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি ও নমুনা প্রশ্ন নিয়ে ব্লগ পোস্ট লিখেছিলাম। তখন অনেকে অনুরোধ করেছিল যাতে “গণিত অলিম্পিয়াডের নমুনা প্রশ্ন” নিয়ে একটা কন্টেন্ট বানাই। তাই চলে এলাম ৮টি প্রশ্ন নিয়ে। এর মধ্যে ৪টি প্রশ্নের সমাধান দেওয়া থাকবে আর ৪টা প্রশ্নের সমাধান তোমরা নিজেরা করবে। চলো, প্রশ্নের সাগরে ঝাঁপ দেওয়া যাক! প্রশ্ন ও সমাধান ১. 6-36+216-1296+7776-46656+…ধারাটির জোড় সংখ্যক পদের যোগফল সর্বক্ষেত্রে কোন কোন বিজোড় মৌলিক সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য হবে? সমাধানঃ ধারাটির-১ম 2টি পদের যোগফল -30১ম 4টি পদের যোগফল -1110১ম 6টি পদের যোগফল -39990 এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন যোগফল হলো -30, যা 2,3 ও 5 মৌলিক সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য।…

  • বর্তমান কালের আধুনিক বিজ্ঞান বেশ কয়েকটি যুগের আবিষ্কার, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এমনই একটি সময় হলো “ইসলামি স্বর্ণযুগ”। এই সময় মিশর, ইরান, ইরাক, তুর্কিয়ে প্রভৃতি অঞ্চলে কিছু মহামানবের আবির্ভাব ঘটে, যাঁরা নিষ্ঠার সাথে জ্ঞানচর্চা করতেন। কেউ ছিলেন চিকিৎসক, কেউ গণিতজ্ঞ, আবার কেউ বা ছিলেন রসায়নবিদ। আজকের এই ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এমনই পাঁচ তারকার ব্যাপারে জানতে চলেছি। শুরু করা যাক! ইসমাইল আল জাযারি ইসমাইল আল জাযারি ১১৩৬ সালে তৎকালীন “জারিযার ইবনে ওমর” নামক স্থানে ১১৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এই অঞ্চলটি বর্তমান তুর্কিয়ে ও ইরাক সংলগ্ন একটি অঞ্চল। তাঁর জন্মের সময়টা ছিল মুসলিমদের স্বর্ণযুগ।…

  • প্রারম্ভ এক মাঝরাতের ট্রেনে করে যাচ্ছি অন্ধ্রপ্রদেশের ভাইজ্যাক থেকে পশ্চিম বঙ্গের হাওরার দিকে। আমার সামনেই এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক। তামিল নাডুর ভেল্লোরে এসেছিলেন ছেলের চিকিৎসা করাতে। ছেলের বয়স ৯ কি ১০ হবে। গলায় দু’টো বড় বড় তাবিজ ঝুলছে। ভদ্রলোকের নাম তোয়াহা। ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ায় বেশ খোশ মেজাজে আছেন। একটু পর পর আমাকে বিভিন্ন খাবার অফার করে যাচ্ছেন। তোয়াহা সাহেবের সাথে কথার একপর্যায়ে তিনি বললেন যে, তার ধারণা চিকিৎসা না যতোটা তার ছেলের ক্যান্সার সারিয়েছে তারচেয়ে বেশি উপকার করেছে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া পানিপড়া। আমি চেষ্টা করলাম সৌজন্যসূচক মৃদু হাসার। তিনি বললেন, “হাসবেন না। এই…

  • ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক একটা কথা বলেছিলেন , আমরা যদি প্রকৃতির সব রহস্যই সমাধান করে ফেলি, তারপরে আমরা নিজেরাই রহস্য হয়ে থাকব। কথাটি বেশ বাস্তবিক। প্রকৃতি রহস্য জালে ঘেরা। আর বিজ্ঞানীরাও খেয়ে দেয়ে কাজ নেই দায়িত্ব নিয়েছে এসব রহস্য জাল উদঘাটন করার। আসলে এইসব রহস্য এর উদ্ঘাটনই আমদের বাঁচিয়ে রাখছে যুগের পর যুগ। মানব মুক্তি বলতে তো তাই। প্রকৃতির পরতে পরতে আছে রহস্য। সেসব এর মাঝে মানুষের মনও কি কম রহস্যময় ? এই যে মন বললাম তা দিয়েই বা কি বোঝাচ্ছি? এর জবাব আমারও সঠিক জানা নেই। কিন্তু দেখেন এই মন নিয়ে কত গবেষণা হচ্ছে। এই মন দিয়ে…

  • ১৬৬৫ সাল, পুরো বিশ্বটা মহামারীতে আক্রান্ত। এই ভয়াবহ মহামারীর কারণ হলো ছোট ছোট ইদুর, যার কামড়ে হয় প্লেগ! কত কত মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। এই সময় নিউটন নামে এক তরুণ ছাত্র ট্রিনিটি  কলেজ থেকে ফিরে আসে তার গ্রামে। কিছুদিন আগেই এই ছেলেটা দ্বিপদী উপপাদ্যকে নতুন রূপ দিয়েছে। নিউটনের আগে এই উপপাদ্য নিয়ে অনেকেই কাজ করেছে। নিউটন সেই উপপাদ্যকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। দ্বিপদী বিস্তৃতী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ব্লেস প্যাসকেল দ্বিপদী বিস্তৃতীর সহগগুলোকে  একটা ত্রিভুজে রূপ দেন। কিন্তু এইভাবে কাজ করাটা অনেক সময় ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। নিউটন তাই তার…

  • গত ২৮ নভেম্বর, ২০২২ এ Proceedings of the National Academy of Science (PNAS) জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার [১] পর এই বিষয়টি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গবেষণাটি বিবর্তনের ফলে এক ধরণের ইঁদুরে কীভাবে Y ক্রোমোজোমের পরিবর্তে নতুন পুরুষ-নির্ধারক জিন তৈরি হয়েছে, সেসব দেখানো হয়েছে। Y ক্রোমোজোম যে ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু নতুন কিছু না। এখন এটা মানুষের ক্ষেত্র কতটা সত্য? ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন বছর আগে যখন প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হয়েছিল, তখন তাদের মধ্যে কোনো সেক্স ক্রোমোজোম ছিল না। পরিবর্তে, X এবং Y ক্রোমোজোম অন্যান্য ক্রোমোজোম সেটের মতোই অনুরূপ কাঠামোর সাথে আকারে অভিন্ন ছিল…

  • গাছটির সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে লিখা।