• কখনো কি পুরনো মৃত গাছের পড়ে থাকা গুড়ি বা কান্ডে হয়তো হলুদ রঙের ছোপ চোখে পড়েছে আপনার? কাছে গিয়ে দেখলে মনে হবে ছত্রাক পড়েছে। এদের অনেকেই স্লাইম মোল্ড পরিবারের সদস্য। দেখতে অপ্রয়োজনীয় ছত্রাক মনে হলেও এরা বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত সংজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে। স্লাইম মোল্ড পরিবারের সবচেয়ে আলোচিত সদস্য বোধ হয় ফাইসারাম পলিসেফালাম (Physarum polycephalum)। আলোচিত হবেই না কেন? এদের নিয়ে জটিল সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে গেছেন। এরা জটিল গোলকধাঁধা সমাধান করতে পারে, খাবারের জন্যে সংক্ষিপ্ততম পথ খুঁজে বের করতে পারে। এমনকি এদের মাঝে এক ধরনের স্মৃতিও রয়েছে। অথচ এদের কোন স্নায়ু বা স্নায়ুতন্ত্র নেই। স্নায়ু…

  • ২৭ অক্টোবর, ১৯৫৪ সাল। স্টেডিও আর্টেমিও ফ্রাঞ্চি স্টেডিয়াম। ফ্লোরেন্স, ইতালি। হ্যালোউইন উৎসবের তখনও দিন চারেক বাকি। এরইমধ্যে চমৎকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে তৎকালীন দুই পরিচিত ক্লাব–ফিওরেন্টিনা ও পিস্তোইয়েস। উৎসব আর উৎকণ্ঠার আমেজমাখা মুহূর্তে উত্তেজনা বিরাজ করছিল চরম আকারে। জনা হাজার দশেক দর্শকের চিৎকার আর চেঁচামেচিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি যেন আরো জমজমাট হয়ে উঠেছিল। গুটি গুটি পায়ে বল যখনই গোলবারের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো, তখনই হৈ-হুল্লোড়ে ফেটে পড়তে লাগলো সবাই। অর্ধ সময় শেষ। এবার রেফারির বাঁশিতে এলো মধ্যবিরতির নির্দেশ। খেলোয়াড়েরা সারিবেঁধে চললেন বিরতি রুমের দিকে। ছোট্ট বিরতি শেষে ঝাঁঝালো শক্তিতে আবারও ফিরে এলেন মাঠে। শুরু হলো চূড়ান্ত…

  • আল্টিমা থুল (Ultima Thule), যেন এক স্বর্গরাজ্য। পৃথিবীর সর্বোচ্চ উত্তরে যার অবস্থান। উষ্ণতা যেখানে দুর্লভ, আলো যেখানে অপ্রতুল, বছরজুড়ে তুষারপাত এবং প্রচণ্ড শক্তিশালী ঝড় যেখানে নিত্যসঙ্গী। শতাব্দী ধরে কিংবদন্তিরা যেখানে অভিযান চালাতে চেয়েছে। অন্ধকারের কুয়াশা আর হিমশীতল বরফের ঘূর্ণিঝড়ের ওপারে আলোর আভাসের সন্ধানে অভিযানে বের হয়ে মারা গেছে সহস্র মানুষ। শীতল বরফের আলিঙ্গন একীভূত করেছে কয়েক প্রজন্মের দু:সাহসিক অভিযাত্রী এবং মেরু ভালুকের অস্থি । উত্তর মেরু তারপরেও সহস্র যুগ ধরে ছিল মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে, পরীক্ষিত নাবিকের রোমাঞ্চের বিলাসিতার বাকেট লিস্টে। তাই হয়ত, উত্তর মহাসাগরের কিংবদন্তিদের গল্প থাকে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সংস্কৃতির লোকগল্পে, হারিয়ে যাওয়া বীরদের উপকথায়,…

  • বাংলাদেশে বেশ কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন রয়েছে। আর সেই ভান্ডারেই অন্যতম সংযোজন ছিল বিজ্ঞান প্ল্যাটফর্ম ‘ট্যকিয়ন’ এর বিশেষ ম্যাগাজিন। জুলাই সংখ্যার এই ম্যাগাজিনটিতে ছিল গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানকর্মীদের টুকটাক লেখনি ও প্রবন্ধ। কেমন লাগলো এই ম্যাগাজিন? চলুন, ম্যাগাজিনের ভেতরে ডুব দেওয়া যাক এবং দেখে নেওয়া যাক ভালো-মন্দ!  ম্যাগাজিন পরিচিতি ম্যাগাজিনটিতে মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কিছু প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম লেখাটি ছিল নিউক্লিয়ার ওয়েপনস এর উপরে। এটা একটি যুগোপযোগী লেখা। এরপর ছিল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ নিয়ে একটি বিজ্ঞান সংবাদ। তারপর ‘ডেঙ্গু জ্বরের কথকতা’ শিরোনামে একটি চমৎকার প্রবন্ধ রয়েছে, যেটা  মূলত একজন বিশেষজ্ঞ…

  • এক সময়ে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াতো এমন সব প্রাণীরা, যাদের কোন মস্তিষ্ক ছিলো না। এমন একটি প্রাণী ছিলো অ্যাম্ফিওক্সাস। এদেরকে হঠাৎ দেখলে মনে হবে ক্ষুদ্র কোন কীট মনে হবে। তবে ভালোভাবে খেয়াল করলে এর দেহের দুই পাশে মাছের গিলের মতো চিড় দেখা যাবে। ৫৫০ মিলিয়ন বছর আগে অ্যাম্ফিওক্সাস সমুদ্রে ঘুরে বেড়াতো। নিজেদেরকে সামনে ঠেলে দিয়ে এরা চলাচল করতো। আর খাদ্যশিকারের জন্য নিজেদের সমুদ্রতলে ঘাসের মতো বসে থেকে, আরো ক্ষুদ্র প্রাণী কখন এদের মুখের মধ্যে এসে পড়ে, তার অপেক্ষা করতো। স্বাদ-ঘ্রাণ নিয়ে অ্যাম্ফিওক্সাসের কোন বিকার নেই, কারণ এই জীবের আমাদের মতো ইন্দ্রিয় ছিলো না। এদের কোন চোখ ছিলো…

  • আর্কটিক বা উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean) পৃথিবীর জলবায়ুর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এর ফলে পৃথিবীতে সামান্য যেই কয়টি জায়গা বড় পরিসরে ঝুঁকির মুখে আছে, আর্কটিক মহাসাগর সেই তালিকায় একদম উপরে থাকবে। শুধু বিগত পঁয়ত্রিশ বছরেই আর্কটিক মহাসাগর প্রায় বিশ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বরফের আস্তরণ হারিয়েছে [1] যা কিনা গত পনেরোশ বছরের সম্মিলিত হারানো বরফের আস্তরণের চেয়ে বেশি! এই সংখ্যাটার ব্যাপকতা এবং গভীরতা বুঝানোর জন্য আমি একটি তুলনা দিয়ে দেখাতে চাই। ব্যাপারটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ যেহেতু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং সমুদ্রের উপরের স্তরের পানি দিন দিন গরম হচ্ছে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির…

  • ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর। বিখ্যাত নেচার জার্নালে প্রাচীন এক সরীসৃপ সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়। নতুন আবিষ্কৃত সেই সরীসৃপের সামনের দুই বাহুতে ৭ টি করে আঙুল ছিল এবং পায়ের আঙুল সংখ্যা ছিল ৬ টি করে। শুনতে সাধারণ মনে হলেও, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার ছিল। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে এখন থেকে প্রায় ৩৬-৪২ কোটি বছর আগে। পৃথিবীতে তখন ডেভোনিয়ান পিরিয়ড বা ডেভোনিয়ান সময়কাল। ডেভোনিয়ান পিরিয়ডের প্রথমদিকে পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করত মাছ। ডাঙায় তখনো কোনো প্রাণীর উদ্ভব হয়নি। তবে ডেভোনিয়ান এর মাঝামাঝি সময়ে এক নতুন ধরণের মাছের উদ্ভব হয় যাদের শরীরে সরু…

  • গণিত; প্রকৃতির রহস্য উদঘাটনের এক চমকপ্রদ উপহার। এর সাহচর্যে প্রসারিত হচ্ছে বিজ্ঞানের সীমানা। আবিষ্কৃত হচ্ছে নব-নব প্রযুক্তি, উন্মোচিত হচ্ছে দিগন্ত-বিস্তৃত সম্ভাবনা। তবে, সুনিপুণ এই বিজ্ঞানের জগৎকেও অনেকেই ভয় পান। ভাবেন- গণিত মানেই জটিল-কঠিন সমীকরণের সমাহার আর নিকষকালো, প্রাণহীন, দুর্ভেদ্য সব অন্ধকার বিষয়। কিন্তু, এর অতল গহ্বরে ডুব দিয়েও যে এর মগজ-ধাঁধানো সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করা যায়, সে সুযোগটুকুও তৈরি করে নিতে রীতিমতো অপারগ তারা। তাদের এমন অপারগতার ফলাফল, মলাটবদ্ধ পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও যে গণিতের রয়েছে অবাধ বিচরণ, তা দু-চোখ ভরে কখনোই দেখা হয়ে ওঠে না। জানা হয় না বর্ষার অথৈ জলে হেলেদুলে ভাসমান শাপলার পাতায়, শামুকের খোলসে,…

  • অ্যালকালাইন ভেন্ট হাইপোথিসিস জোর দেয় জীবকোষ চালাবার শক্তির ওপর। তাই একে “মেটাবলিজম ফার্স্ট” হাইপোথিসিসও বলে। কিন্তু এই অনুকল্পে ভর দিয়ে প্রাণ সৃষ্টির দৃশ্যপট কল্পনা করতে গেলেও সবার শুরুতে একটা পর্দার কথা ভাবতে হয়। যদিও এটা বর্তমান কোষপর্দার মতন না। তাই এই হাইপোথসিসিসেও কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের প্রসঙ্গ চলে আসে।