• বেটম্যান প্রিন্সিপাল (Bateman’s Principle) জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী  এ. জে. বেটম্যান ফলের মাছি (Drosophila melanogoster)এর গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রস্তাবিত হয়। বেটম্যান প্রাথমিকভাবে চার্লস ডারউইনের যৌন নির্বাচনের তত্ত্বের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত হন। তিনি ডারউইনের তত্ত্বকে ত্রুটিপূর্ণ না মনে করলেও অসম্পূর্ণ মনে করতেন।  যৌন নির্বাচন কীভাবে নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রজনন সাফল্যে ভূমিকা রাখে তা তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি ডারউইনের ধারণা এবং যৌন দ্বৈতরূপের (sexual dimorphism) মাঝে যে শুন্য স্থান তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। বেটম্যানের নীতিটি ব্যাখ্যা করে যে প্রজনন ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের সফলতা কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়।…

  • কে বলেছে যে বিজ্ঞানে অবদান রাখতে আপনাকে বিজ্ঞানী হতে হবে? আমাদের মানবসভ্যতায় কিছু উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এমন কিছু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে এসেছে, যারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের চেয়ে তাদের শৈল্পিক এবং সাহিত্যিক অবদানের জন্য বেশি পরিচিত। আজকের ব্লগপোস্টে আমরা এমনি ৩ জনের ব্যাপারে জানবো, যারা হয়ত জীবনে কোনো দিন কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ বা গবেষণা করেও দেখেননি, কিন্তু বিজ্ঞান ভাবনায় তারা ছিলেন যে কারও তুলনায় অগ্রগামী। তাঁরা একদিকে যেমন বিজ্ঞানকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছিলেন, তেমনি বদলে দিয়েছেন আমাদের বিজ্ঞান ভাবনাও। চলুন, শুরু করা যাক! জুল ভার্ন আমাদের জীবনের প্রথম পড়া সায়েন্স ফিকশনগুলো ছিল কিংবদন্তি লেখক জুল ভার্নের…

  • বোধ হওয়ার পর থেকে মুখস্ত করে এসেছি, “পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। পৃথিবীর তি…”। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে, আমার বোধ তার নিজের সীমা পরিসীমা ছাপিয়ে কৌতুহলে রুপ নিতে থাকে। ভাবতে থাকি, পৃথিবীর তিন ভাগ কি কেবলই জল? পরক্ষণেই মনে হয়- না একেবারেই না! এই “সাধারণ” জলের গর্ভে যেই তরল মহাবিশ্ব লুকায়িত, তা উপলব্ধি করতে বেগ পেতে হয়নি আমার। কেননা রুপকথার জলপরীদের জীবন নিয়ে শৈশবে আকাশ কুসুম কল্পনা করতাম। তাই নিজেরও জলপরী হওয়ার বাসনা ছিল প্রকট! যে জল ভালোবেসে জলপরী হওয়ার স্বপ্ন দেখে, আমার মতে…

  • [আমার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিলো সমজীবিতা বা সিম্বায়োসিস। সেটার প্রথম প্রজেক্ট (বা চ্যাপ্টার) ছিলো লিগিউম-রাইজোবিয়া সিম্বায়োসিসে ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যকার যে প্রতিযোগিতা হয়, সেটা বোঝা। এই লেখাতে মূলত আমার সেই গবেষণার একটা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছি। চলুন শুরু করা যাক।] হেবার-বস পদ্ধতি কী গত শতাব্দীর সেরা আবিস্কার? গত শতাব্দীর শুরুতে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র দেড়শ’ কোটির মতো। মাত্র একশ বছরের মাথায় জনসংখ্যার আশ্চর্যজনক বৃদ্ধি ঘটে সূচকীয় হারে। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দুইটি প্রধান অনুঘটককে দায়ী করা যায়। একটা হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি, যার কারণে  আগের মতো মহামারী কিংবা সামান্য ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আর মানুষ মারা যায় না। কিন্তু সুচিকিৎসাইতো…

  • সুজলা-সুফলা-নয়নাভিরাম আমাদের এই পৃথিবী। চারিদিকে প্রাণের বিকাশে পরিপূর্ণ সে। নিয়মিত কিছু জীবের জন্ম হচ্ছে, আবার মৃত্যু হচ্ছে কিছু জীবের। পৃথিবীর চারিদিকে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষাস্তর। বাতাসে রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন। রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছে পৃথিবীবাসীর। আমাদের চারপাশের এত সুন্দর পৃথিবীটা কিন্তু আগে এত সুন্দর ছিল না। আগে বলতে এখন থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগের কথা বলছি। তখন পৃথিবীর মাত্র জন্ম হয়েছে। ছোট্ট পৃথিবীর আকার তখন একেবারে ছোট। তবে আকার ছোট হলে কি হবে,মাথা প্রচুর গরম! প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ছে গ্রহাণুকণা,উল্কা প্রভৃতি মহাকাশীয় বস্তু; সাথে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত। পুরো হুলুস্থুল কারবার ঘটে…

  • প্রতি বছরই কম বেশি আমাদের দেশে বন্যা হচ্ছে। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে অনেকে জানে বেঁচে গেলেও বন্যা পরবর্তী সময়ে সঠিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবে করুণ পরিণতির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদেরকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে রোগ বা শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দেয়, সেগুলো হলো টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, কৃমির সংক্রমণ, রেস্পাইরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশন ও চর্মরোগ। এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হলে কী করতে হবে? আর যারা রোগাক্রান্ত, তাদেরকে কীভাবে কোন চিকিৎসা দিতে হবে? আজকে এই নিয়েই আলাপ হবে। চলুন, শুরু করা যাক! বন্যার ঝড়-ঝাপটা দূর হলে প্রথমেই ৩টা জিনিস ঠিক করতে…

  • এই লেখাটা প্রাণ সৃষ্টির উপাখ্যানের তৃতীয় কিস্তি। গত দুই পর্বে প্রাণ সৃষ্টি নিয়ে বেশ ক’টা হাইপোথিসিস নিয়ে আলাপ করেছি। এই লেখায় আলাপ করব এ নিয়ে জগ্বিখ্যাত “হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট” অনুকল্প নিয়ে। অনেকেই মনে করেন, প্রথম সরল প্রাণের জার্নি শুরু হয়েছিল সমুদ্রতলের ক্ষারীয় ভেন্টে। ক্ষারীয় ভেন্ট কি? কি করেই সরল বুদবুদ সদৃশ প্রাণ শক্তির যোগান পেল সেখানে? আজকের লেখায় বলব সেসব কথা।

  • গেল ক’বছর পূর্বেই বিশ্ব দরবারে প্রানহানি থাবা বসিয়েছিল মরণঘাতী করোনা ভাইরাস। সেকালের কোভিড ১৯ এর ক্ষয়ক্ষতি বর্তমান বিশ্বের আলোকে দেখলে আজও অপূরণীয়। করোনার পরে আরোও কিছু ভাইরাসের এই পৃথিবীতে আনাগোনা হলেও এতোটা বিভীষিকার জন্ম তেমন কোনোটাই দেয়নি। তবে সম্প্রতি এমপক্স (mpox) নামে ভাইরাস নিয়ে উত্তাল হয়ে আছে পৃথিবীবাসী। হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হলো এই এমপক্স? এর লক্ষণ, প্রতিকার, টিকা সম্পর্কে কতটুকু তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা? নিজের ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবার, বন্ধুদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে নিবন্ধটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো। এমপক্স/ মাংকিপক্স কী? মাংকিপক্স বা সংক্ষেপে এমপক্স (mpox- monkey pox) ভাইরাস। এটা অর্থোপক্স…

  • আষাঢ়ের রাত। বাইরে একনাগাড়ে বইছে তুমুল ঝড়ো হাওয়া। বাদল দিনের চিরায়ত রূপ, অঝোর বারিধারা। এসময় টানা বর্ষণে ভরা পূর্ণিমার গলগলে চাঁদটাও মাঝ আকাশে হেলে পড়েছে। পৃথিবীর পানে মেলে ধরেছে তার স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। বৃষ্টির ঝাপটা আর ঝলমলে রূপোলী চাঁদের আলোয় রহস্যময় হয়ে উঠেছে এ জনপদের মেঠোপথ, রাস্তা-ঘাট আর ফসলের মাঠ।  দূরের পূব আকাশে এখনো বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, একের পর এক। পরক্ষণেই গর্জে উঠছে সারি সারি ধূসর মেঘ। এসময় খাল-বিলের কৈ মাছগুলো আনন্দের আতিশয্যে উঠে বসছে ডাঙায়, ধানক্ষেতে। এদের শিকারে মৃদু টর্চ হাতে শান্ত পায়ে এগিয়ে আসে শিকারীরা। তাদের সবার ভেতরই চাপা উত্তেজনা। কে কার চেয়ে বেশি ধরবে, শুরু…