• সমুদ্র এমন একটা অদ্ভুত গবেষণাগার যেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন থেকে বিশাল বড় পরিসরে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ ভাষায় একে বলে স্কেল (scale)। সমুদ্রে মিলিমিটার বা সেন্টিমিটার স্কেলের ক্রিয়াপ্রক্রিয়া যেমন পরিলক্ষিত হয়, ঠিক তেমনি এখানে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। এই পরিবর্তন কে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ভ্যারিয়াবিলিটি (variability)। মজার ব্যপার হল, ডমিনো ইফেক্ট এর মতো করে এই ছোটো স্কেলের ঘটনাগুলোই আস্তে আস্তে বড় স্কেলের পরিবর্তন এর দিকে ধাবিত হয়।  উদাহরণস্বরূপ, নিচের ছবিতে (ছবি-১) আমরা বিভিন্ন স্কেলের একটা ম্যাপের মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করছি যে, ছোট ছোট ঘুর্ণনস্রোত (~১ মিটার) সমুদ্র মোহনার লবণ স্তরায়ন (~১০…

  • মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। তবে বেশিরভাগই একটা ব্যাপারে সহমত হবে যে, ক্যামিস্ট্রি ইজ আ সাবজেক্ট অব এক্সেপশনাল। এক্সেপশনাল, এক্সেপশনাল  শব্দ শুনতে শুনতে পুরো বিষয়টাই আমাদের কাছে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে! যেখানে কিছু নিয়ম-নীতি পড়তে হয় যা কিনা আমাদের কখনো অনুভব করানো হয় না। তেমনি একটা বিষয়বস্তু হচ্ছে, “হাকেল তত্ত্ব”। প্রথম যখন এই তত্ত্ব পড়ি, খুব অদ্ভুতরে মনে হয়েছে আমার কাছে। তত্ত্বটির গতানুগতিক সংজ্ঞায় আমি যাব না, সোজা বাংলায় বললে, “যেসব সমতলীয় চাক্রিক যৌগে ৪n+২ সংখ্যক পাই ইলেকট্রন থাকে তারা অ্যারোমেটিক যৌগ হয়”। প্রথম প্রথম আমার একে কেবল দৈববাণীর…

  • “A man with a conviction is a hard man to change. Tell him you disagree and he turns away. Show him facts and he questions your sources. Appeal to logic and he fails to see your point.” ~Leon Festinger ১৯৫০’র দশকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কাল্ট-দল প্রচার করেছিলো চার বছর পর,মানে ১৯৫৪ সনের ২১শে ডিসেম্বর হবে পৃথিবীর শেষ দিন। এক মারাত্মক বন্যায় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দলের সদস্যরা এতোটাই আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে তাদের অনেকে নিজ নিজ চাকরিও ছেড়ে দেন এবং নিজেদের সম্পদ’ও বিলিয়ে দেন। কিন্তু.. পৃথিবীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই চার বছর পর ২১শে ডিসেম্বর পার হয়ে ২২শে…

  • বেটম্যান প্রিন্সিপাল (Bateman’s Principle) জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী  এ. জে. বেটম্যান ফলের মাছি (Drosophila melanogoster)এর গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রস্তাবিত হয়। বেটম্যান প্রাথমিকভাবে চার্লস ডারউইনের যৌন নির্বাচনের তত্ত্বের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত হন। তিনি ডারউইনের তত্ত্বকে ত্রুটিপূর্ণ না মনে করলেও অসম্পূর্ণ মনে করতেন।  যৌন নির্বাচন কীভাবে নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রজনন সাফল্যে ভূমিকা রাখে তা তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি ডারউইনের ধারণা এবং যৌন দ্বৈতরূপের (sexual dimorphism) মাঝে যে শুন্য স্থান তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। বেটম্যানের নীতিটি ব্যাখ্যা করে যে প্রজনন ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের সফলতা কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়।…

  • কে বলেছে যে বিজ্ঞানে অবদান রাখতে আপনাকে বিজ্ঞানী হতে হবে? আমাদের মানবসভ্যতায় কিছু উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এমন কিছু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে এসেছে, যারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের চেয়ে তাদের শৈল্পিক এবং সাহিত্যিক অবদানের জন্য বেশি পরিচিত। আজকের ব্লগপোস্টে আমরা এমনি ৩ জনের ব্যাপারে জানবো, যারা হয়ত জীবনে কোনো দিন কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ বা গবেষণা করেও দেখেননি, কিন্তু বিজ্ঞান ভাবনায় তারা ছিলেন যে কারও তুলনায় অগ্রগামী। তাঁরা একদিকে যেমন বিজ্ঞানকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছিলেন, তেমনি বদলে দিয়েছেন আমাদের বিজ্ঞান ভাবনাও। চলুন, শুরু করা যাক! জুল ভার্ন আমাদের জীবনের প্রথম পড়া সায়েন্স ফিকশনগুলো ছিল কিংবদন্তি লেখক জুল ভার্নের…

  • বোধ হওয়ার পর থেকে মুখস্ত করে এসেছি, “পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। পৃথিবীর তি…”। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে, আমার বোধ তার নিজের সীমা পরিসীমা ছাপিয়ে কৌতুহলে রুপ নিতে থাকে। ভাবতে থাকি, পৃথিবীর তিন ভাগ কি কেবলই জল? পরক্ষণেই মনে হয়- না একেবারেই না! এই “সাধারণ” জলের গর্ভে যেই তরল মহাবিশ্ব লুকায়িত, তা উপলব্ধি করতে বেগ পেতে হয়নি আমার। কেননা রুপকথার জলপরীদের জীবন নিয়ে শৈশবে আকাশ কুসুম কল্পনা করতাম। তাই নিজেরও জলপরী হওয়ার বাসনা ছিল প্রকট! যে জল ভালোবেসে জলপরী হওয়ার স্বপ্ন দেখে, আমার মতে…

  • [আমার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিলো সমজীবিতা বা সিম্বায়োসিস। সেটার প্রথম প্রজেক্ট (বা চ্যাপ্টার) ছিলো লিগিউম-রাইজোবিয়া সিম্বায়োসিসে ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যকার যে প্রতিযোগিতা হয়, সেটা বোঝা। এই লেখাতে মূলত আমার সেই গবেষণার একটা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছি। চলুন শুরু করা যাক।] হেবার-বস পদ্ধতি কী গত শতাব্দীর সেরা আবিস্কার? গত শতাব্দীর শুরুতে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র দেড়শ’ কোটির মতো। মাত্র একশ বছরের মাথায় জনসংখ্যার আশ্চর্যজনক বৃদ্ধি ঘটে সূচকীয় হারে। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দুইটি প্রধান অনুঘটককে দায়ী করা যায়। একটা হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি, যার কারণে  আগের মতো মহামারী কিংবা সামান্য ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আর মানুষ মারা যায় না। কিন্তু সুচিকিৎসাইতো…

  • সুজলা-সুফলা-নয়নাভিরাম আমাদের এই পৃথিবী। চারিদিকে প্রাণের বিকাশে পরিপূর্ণ সে। নিয়মিত কিছু জীবের জন্ম হচ্ছে, আবার মৃত্যু হচ্ছে কিছু জীবের। পৃথিবীর চারিদিকে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষাস্তর। বাতাসে রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন। রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছে পৃথিবীবাসীর। আমাদের চারপাশের এত সুন্দর পৃথিবীটা কিন্তু আগে এত সুন্দর ছিল না। আগে বলতে এখন থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগের কথা বলছি। তখন পৃথিবীর মাত্র জন্ম হয়েছে। ছোট্ট পৃথিবীর আকার তখন একেবারে ছোট। তবে আকার ছোট হলে কি হবে,মাথা প্রচুর গরম! প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ছে গ্রহাণুকণা,উল্কা প্রভৃতি মহাকাশীয় বস্তু; সাথে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত। পুরো হুলুস্থুল কারবার ঘটে…

  • প্রতি বছরই কম বেশি আমাদের দেশে বন্যা হচ্ছে। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে অনেকে জানে বেঁচে গেলেও বন্যা পরবর্তী সময়ে সঠিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবে করুণ পরিণতির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদেরকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে রোগ বা শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দেয়, সেগুলো হলো টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, কৃমির সংক্রমণ, রেস্পাইরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশন ও চর্মরোগ। এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হলে কী করতে হবে? আর যারা রোগাক্রান্ত, তাদেরকে কীভাবে কোন চিকিৎসা দিতে হবে? আজকে এই নিয়েই আলাপ হবে। চলুন, শুরু করা যাক! বন্যার ঝড়-ঝাপটা দূর হলে প্রথমেই ৩টা জিনিস ঠিক করতে…