• বিশ্বকবি গেয়েছেন, “সীমার মাঝে, অসীম, তুমি।” জগতের যতখানি আমাদের জ্ঞানের গণ্ডির ভিতরে রয়েছে, তা যেনো অধরা অচেনা জগতের সিকিভাগ। বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাত্র পাঁচ শতাংশ আমাদের ইন্দ্রিয়ের জালে ধরা দেয়, আর বাকি পঁচানব্বই শতাংশের সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো অকাট্য তথ্য নেই। এর একটি অংশ ডার্ক এনার্জি দ্বারা গঠিত, বাকি অংশ ডার্ক ম্যাটারের সমন্বয়ে। এই ডার্ক বা অন্ধকার জগত আজও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের আধার, যদিও তা মানুষের অবদমিত কৌতূহলের কাছে হার মেনেছে বার বার। বিজ্ঞানীমহলের প্রত্যাশা, একদিন এই রহস্যের জট খুলবেই।

  • হাজার হাজার বছর ধরে চাঁদ মানুষকে সময় ও ঋতুর হদিশ দিয়ে আসছে। আকাশে চাঁদের নিয়মিত চক্র এক বছরে মাসের সংখ্যা ঠিক করে নিতে সাহায্য করেছে। ঋতুর পরিবর্তনের বিষয়টি খেয়াল রাখতেও চাঁদ মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। এবং ধর্মীয় উৎসবের আরম্ভের উদ্‌বোধন নিজের অজান্তেই করে আসছে এটি। ইসলাম ধর্মানুসারীরা চন্দ্রমাস মেনে তাঁদের উৎসব পালন করেন। ১২টি চন্দ্রমাসকে বলা হয় হিজরি সন। ইসলামি এই বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আকাশে একফালি (অর্ধেক) চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুরু হয় মাস। যেমন, এক মাসের রোজার সাধনা শুরু হয় রমজান মাসের চাঁদ দেখে। আবার ২৯ বা ৩০ দিন পর শাওয়াল মাসের একফালি চাঁদে ইদ উৎসব শুরু…

  • এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বিজ্ঞানের বইগুলোর মধ্যে আগ্রহের শীর্ষে ছিলো দ্য মাঙ্গা গাইড টু বায়োকেমিস্ট্রি। তার একটি কারণ তো অনুবাদকের বিজ্ঞান-লেখালেখির সাথে পূর্ব-পরিচিতি, আরেকটি কারণ এই বইয়ের বিষয়বস্তু প্রাণ-রসায়ন। খুব মজার, রসালো বিষয় হিশেবে এর সুনাম একেবারেই নেই, বরং আছে উল্টোটা। উচ্চ মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ‘কোষ-রসায়ন’ অধ্যায় দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচিত হয় এই বিষয়টির সাথে। সেখানে নানারকম প্রোটিন, লিপিড, শর্করার নাম,রকমফের আর ব্যবহারাদি মুখস্ত করতেই তাদের জান কাবার! এরপর এমবিবিএস কিংবা জীবনবিদ্যার কোনো বিষয়ে অনার্সে পড়লে মুখ গুঁজতে হয় ঢাউস সাইজের লেনিনজারে। এহেন কুখ্যাত বিষয়ের ওপর ‘কমিক’ বই লেখা হয়েছে,সেটা আবার বাংলাতেও অনুবাদ করেছেন কেউ—এই ব্যাপারে তাই…

  • আজকে যে বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি, সেটাকে ইংরেজীতে ‘Fasting’ বলে। তবে আমরা একে বিভিন্ন নামে ডাকি। কেউ বলেন ‘উপবাস’, কেউ বলেন ‘উপোস’, আবার কেউ বা বলেন ‘রোজা’। সাধারণ চিন্তা থেকে মনে হয় যে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বুঝি শরীরের ভীষণ রকম ক্ষতি হয়। কিন্তু শুধু খাবার খেলেই কি শরীর ভালো থাকে? আচ্ছা, একটু উল্টোভাবে চিন্তা করলে কেমন হয় – খাবার না খেলেই কি স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়? কিছু বিজ্ঞানী কিন্তু সেটাই করেছেন। চলুন, আজকে সেই গল্প শোনা যাক! আপনি কি জানেন সুস্বাস্থ্য কাকে বলে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সুস্বাস্থ্য শুধুমাত্র রোগ বা দুর্বলতার অনুপস্থিতি নয়, বরং…

  • কল্পনাবিলাসী মানুষ আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণের পর হাত বাড়ান অনন্ত মহাকাশের পানে। পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে নিঃসীম অন্ধকার মহাশূন্যে পরিভ্রমণ করার ইচ্ছায় লিপ্ত হন কঠোর গবেষণায়। বিশেষ করে, উন্নত বিশ্বের নীল রক্তের মানুষেরা স্নায়ুযুদ্ধের অংশ হিসেবে সেসময় বেছে নেন মহাকাশ জয়ের প্রচেষ্টা। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগেন তারা। নামেন তুমুল প্রতিযোগিতায়। যদিও মহাকাশ অভিযানে মানুষের তখনও হাঁটি হাঁটি পা। কেননা, ইতিহাস সৃষ্টিকারী ইউরি গ্যাগরিন তখনও পৃথিবীর কক্ষপথ মাড়াননি। এপোলো-১১ এর নভোচারীরা- নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স ও এডউইন অল্ড্রিন পাড়ি জমাননি ঝলমলে রূপালী চাঁদের জগতে। কিন্তু কেন? কারণটা পরিষ্কার। আচমকা একজন মানুষকে রকেটের ককপিটে বসিয়ে ছুঁড়ে দেওয়া যায় না অজানা মহাশূন্যের ভরশুন্য পরিবেশে। কেউ-ই জানে না কার্বনগঠিত মানবদেহ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ…

  • তিন মাত্রার স্থান আর এক মাত্রার সময় নিয়ে চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্ব আমাদের। আমরা নিজেরা তিন মাত্রার জীব। তিন মাত্রা বলতে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতার কথা বলছি। কিন্তু ফ্ল্যাটল্যান্ড সমতল বিশ্বের গল্প। সেখানকার নাগরিক সবাই দ্বি-মাত্রিক। অর্থাৎ তাঁদের বড়জোর দুইটা মাত্রা- দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ আছে। রহস্য থ্রিলারও না, আবার বিজ্ঞান কল্পকাহিনীও বলা যায় না। তাই কেবল গল্পই বলি। তবে বিদ্রূপাত্মক গল্প। লেখক সমতল বিশ্বের নাগরিকদের অবয়বের পরিচয় দিয়েছেন চেনাজানা দুই মাত্রার সব জ্যামিতিক আকৃতি দিয়ে। প্রত্যেক ব্যক্তির সামাজিক শ্রেণি নির্ধারিত হয়েছে তার দেহের আকৃতি অনুসারে। সমতল বিশ্বে সবথেকে নীচু শ্রেণির নাগরিক হলেন নারীরা। এরা সরলরেখা। সমাজে এদের একেবারেই…

  • ১৯ এপ্রিল ২০২১।পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের আকাশে বিকেলের শেষ আভা ফুটে উঠেছে। ঠিক সেসময় পৃথিবী থেকে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে লাল গ্রহের আকাশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে উড্ডয়ন সম্পন্ন করে মনুষ্য নির্মিত হেলিকপ্টার ‘ইনজেনুইটি’। মুহূর্তটা এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, প্রথম বিমান আবিষ্কারক ‘রাইট ভাইদের’ স্মরণে ‘ইনজেনুইটি’র প্রথম উড্ডয়ন’কে ‘রাইট ব্রাদার্স মোমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। আর যেই স্থান থেকে হেলিকপ্টারটি উড়েছিল সেটির নামকরণ করা হয় ‘রাইট ব্রাদার্স ফিল্ড’! মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডলে ৩ মিটার উঁচুতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড ভেসে ছিল হেলিকপ্টারটি। ইনজেনুইটির জন্য এটি একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য বিরাট এক অগ্রগতি। এবারে হেলিকপ্টারটি সম্পর্কে আরও…

  • ঘটনা ১ একবার এক হাসপাতালে বেশ কজন রোগী আসেন যাদের ভেতর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা-বেদনায় ভুগছিলেন। তো এত রোগী দেখে চিকিৎসকরা ফন্দি আঁটলেন এক পরীক্ষা করার। তারা সকল রোগীকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। এক ভাগকে মেডিটেশন/যোগব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিলেন এবং অন্য ভাগকে দিলেন ঔষধ। উভয় ভাগের রোগীরা-ই প্রায় একই সময় সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে মজার কথা হচ্ছে তারা সুস্থ হয়ে ওঠার পর চিকিৎসকেরা জানালেন, যাদেরকে ঔষধ দেওয়া হয়েছিল তা মূলত চিনির দানা বৈ আর কিছুই ছিল না। ঘটনা ২ পারকিনসন রোগের কথা তো আমরা কমবেশি সকলেই জানি। এই রোগের রোগীদের উপর পরীক্ষা করার জন্য একদল চিকিৎসক…

  • যদি পৃথিবী সৃষ্টির সময়ে পানির অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে অবধারিতভাবেই পানি এসেছিল গঠন প্রক্রিয়া সমাপ্তির পরে। আর এদের পৌঁছে দেয়ার কাজটি করেছিল অজানা কোন মহাজাগতিক অতিথি। শুষ্ক পৃথিবী তত্ত্ব অনুসারে, ডেলিভারি সার্ভিসের সম্ভাব্য তালিকার প্রথম দিকেই আছে বরফ সমৃদ্ধ পাথর বা প্ল্যানেটেসিমালের নাম, যাদের আগমন হতে পারে সৌরজগতের বাইরের অংশ থেকে। উৎপত্তি স্থল আইস লাইন পার হয়ে অনেকটা বাইরে হওয়ায় এদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ বরফের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এই প্ল্যানেটেসিমালগুলো পৃথিবীতে আসার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়ে সৌরজগতের গ্যাস জায়ান্টগুলো। তাদের গ্র্যাভিটির প্রবল আকর্ষণে সৌরজগত সৃষ্টির সময়কার অবশিষ্ট প্ল্যানেটেসিমালরা যাত্রা করে টেরেস্টিয়াল গ্রহদের দিকে। সুবিশাল সৌরজগতের নির্দিষ্ট…