• আজকে যে বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি, সেটাকে ইংরেজীতে ‘Fasting’ বলে। তবে আমরা একে বিভিন্ন নামে ডাকি। কেউ বলেন ‘উপবাস’, কেউ বলেন ‘উপোস’, আবার কেউ বা বলেন ‘রোজা’। সাধারণ চিন্তা থেকে মনে হয় যে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বুঝি শরীরের ভীষণ রকম ক্ষতি হয়। কিন্তু শুধু খাবার খেলেই কি শরীর ভালো থাকে? আচ্ছা, একটু উল্টোভাবে চিন্তা করলে কেমন হয় – খাবার না খেলেই কি স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়? কিছু বিজ্ঞানী কিন্তু সেটাই করেছেন। চলুন, আজকে সেই গল্প শোনা যাক! আপনি কি জানেন সুস্বাস্থ্য কাকে বলে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সুস্বাস্থ্য শুধুমাত্র রোগ বা দুর্বলতার অনুপস্থিতি নয়, বরং…

  • কল্পনাবিলাসী মানুষ আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণের পর হাত বাড়ান অনন্ত মহাকাশের পানে। পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে নিঃসীম অন্ধকার মহাশূন্যে পরিভ্রমণ করার ইচ্ছায় লিপ্ত হন কঠোর গবেষণায়। বিশেষ করে, উন্নত বিশ্বের নীল রক্তের মানুষেরা স্নায়ুযুদ্ধের অংশ হিসেবে সেসময় বেছে নেন মহাকাশ জয়ের প্রচেষ্টা। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগেন তারা। নামেন তুমুল প্রতিযোগিতায়। যদিও মহাকাশ অভিযানে মানুষের তখনও হাঁটি হাঁটি পা। কেননা, ইতিহাস সৃষ্টিকারী ইউরি গ্যাগরিন তখনও পৃথিবীর কক্ষপথ মাড়াননি। এপোলো-১১ এর নভোচারীরা- নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স ও এডউইন অল্ড্রিন পাড়ি জমাননি ঝলমলে রূপালী চাঁদের জগতে। কিন্তু কেন? কারণটা পরিষ্কার। আচমকা একজন মানুষকে রকেটের ককপিটে বসিয়ে ছুঁড়ে দেওয়া যায় না অজানা মহাশূন্যের ভরশুন্য পরিবেশে। কেউ-ই জানে না কার্বনগঠিত মানবদেহ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ…

  • তিন মাত্রার স্থান আর এক মাত্রার সময় নিয়ে চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্ব আমাদের। আমরা নিজেরা তিন মাত্রার জীব। তিন মাত্রা বলতে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতার কথা বলছি। কিন্তু ফ্ল্যাটল্যান্ড সমতল বিশ্বের গল্প। সেখানকার নাগরিক সবাই দ্বি-মাত্রিক। অর্থাৎ তাঁদের বড়জোর দুইটা মাত্রা- দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ আছে। রহস্য থ্রিলারও না, আবার বিজ্ঞান কল্পকাহিনীও বলা যায় না। তাই কেবল গল্পই বলি। তবে বিদ্রূপাত্মক গল্প। লেখক সমতল বিশ্বের নাগরিকদের অবয়বের পরিচয় দিয়েছেন চেনাজানা দুই মাত্রার সব জ্যামিতিক আকৃতি দিয়ে। প্রত্যেক ব্যক্তির সামাজিক শ্রেণি নির্ধারিত হয়েছে তার দেহের আকৃতি অনুসারে। সমতল বিশ্বে সবথেকে নীচু শ্রেণির নাগরিক হলেন নারীরা। এরা সরলরেখা। সমাজে এদের একেবারেই…

  • ১৯ এপ্রিল ২০২১।পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের আকাশে বিকেলের শেষ আভা ফুটে উঠেছে। ঠিক সেসময় পৃথিবী থেকে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে লাল গ্রহের আকাশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে উড্ডয়ন সম্পন্ন করে মনুষ্য নির্মিত হেলিকপ্টার ‘ইনজেনুইটি’। মুহূর্তটা এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, প্রথম বিমান আবিষ্কারক ‘রাইট ভাইদের’ স্মরণে ‘ইনজেনুইটি’র প্রথম উড্ডয়ন’কে ‘রাইট ব্রাদার্স মোমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। আর যেই স্থান থেকে হেলিকপ্টারটি উড়েছিল সেটির নামকরণ করা হয় ‘রাইট ব্রাদার্স ফিল্ড’! মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডলে ৩ মিটার উঁচুতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড ভেসে ছিল হেলিকপ্টারটি। ইনজেনুইটির জন্য এটি একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য বিরাট এক অগ্রগতি। এবারে হেলিকপ্টারটি সম্পর্কে আরও…

  • ঘটনা ১ একবার এক হাসপাতালে বেশ কজন রোগী আসেন যাদের ভেতর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা-বেদনায় ভুগছিলেন। তো এত রোগী দেখে চিকিৎসকরা ফন্দি আঁটলেন এক পরীক্ষা করার। তারা সকল রোগীকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। এক ভাগকে মেডিটেশন/যোগব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিলেন এবং অন্য ভাগকে দিলেন ঔষধ। উভয় ভাগের রোগীরা-ই প্রায় একই সময় সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে মজার কথা হচ্ছে তারা সুস্থ হয়ে ওঠার পর চিকিৎসকেরা জানালেন, যাদেরকে ঔষধ দেওয়া হয়েছিল তা মূলত চিনির দানা বৈ আর কিছুই ছিল না। ঘটনা ২ পারকিনসন রোগের কথা তো আমরা কমবেশি সকলেই জানি। এই রোগের রোগীদের উপর পরীক্ষা করার জন্য একদল চিকিৎসক…

  • যদি পৃথিবী সৃষ্টির সময়ে পানির অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে অবধারিতভাবেই পানি এসেছিল গঠন প্রক্রিয়া সমাপ্তির পরে। আর এদের পৌঁছে দেয়ার কাজটি করেছিল অজানা কোন মহাজাগতিক অতিথি। শুষ্ক পৃথিবী তত্ত্ব অনুসারে, ডেলিভারি সার্ভিসের সম্ভাব্য তালিকার প্রথম দিকেই আছে বরফ সমৃদ্ধ পাথর বা প্ল্যানেটেসিমালের নাম, যাদের আগমন হতে পারে সৌরজগতের বাইরের অংশ থেকে। উৎপত্তি স্থল আইস লাইন পার হয়ে অনেকটা বাইরে হওয়ায় এদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ বরফের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এই প্ল্যানেটেসিমালগুলো পৃথিবীতে আসার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়ে সৌরজগতের গ্যাস জায়ান্টগুলো। তাদের গ্র্যাভিটির প্রবল আকর্ষণে সৌরজগত সৃষ্টির সময়কার অবশিষ্ট প্ল্যানেটেসিমালরা যাত্রা করে টেরেস্টিয়াল গ্রহদের দিকে। সুবিশাল সৌরজগতের নির্দিষ্ট…

  • হোমারের ইলিয়ড আর প্রাচীন গ্রীক পুরাণের মহাবীর অ্যাকিলিস যুদ্ধবিগ্রহ থেকে ইস্তফা নিয়েছেন আজ। অনেক হয়েছে মরণপণ লড়াই! এবার কিছুদিন সুখে-শান্তিতে দিনাতিপাত করা যাক। আর তাই তো যুদ্ধের ময়দান থেকে ঢাল-তলোয়ারসমেত সোজা হেঁটে চললেন এক গহীন অরণ্যের পানে। সেখানে পৌঁছে রং-বেরঙের পাখিদের কলকাকলি আর পশুদের আতিথেয়তায় রীতিমতো মুগ্ধ তিনি। খোশগল্প-আড্ডায় বেশ চমৎকার কাটতে লাগলো সময়। কিছুদিন পরের কথা। একনাগাড়ে এভাবে অনেকদিন আমোদ-ফুর্তিতে থেকে অ্যাকিলিসের সুঠাম দেহে জেঁকে বসেছে অলসতা। কেননা, আগের মতো শারীরিক কসরত করা হয় না আর। করা হয় না দৌড়-ঝাপ, নড়াচড়াও। এখন উপায়? অনেক ভেবেচিন্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ডেকে পাঠালেন বনের সকল পশুদের। এবং সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে…

  • সুবিশাল এই মহাবিশ্ব আমাদের সামনে রহস্যের এক বিরাট জাল বুনে রেখেছে। রাতের আকাশের দিকে তাকালে রহস্যের গভীরতা আরও টের পাওয়া যায়। এই রহস্যের জাল সবসময় ছিঁড়তে চেয়েছে মানুষ। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ কৌতূহলী চোখে রাত্রির আকাশের দিকে তাকিয়েছে। চেনার চেষ্টা করেছে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা নক্ষত্ররাজিকে।      বর্তমানে আকাশ পর্যবেক্ষণের বিষয়টা কমে গিয়েছে। মানুষের এই ব্যস্ত ও যান্ত্রিক সময়ে নিজের দিকে তাকানোরই সময় হয় না আর তো আকাশ। শহরের আলোকদূষণ আকাশ পর্যবেক্ষণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তারপরও কিছু মানুষ আছেন যারা মহাবিশ্বকে বুঝতে চান। জানতে চান নক্ষত্রখচিত রাতের আকাশকে। এই জানার কাজটা বেশ সহজ হয়ে যেতো এই বিষয়ে…

  • আপনাকে যদি কয়েকজন পদার্থবিদ বা জ্যোতির্বিদের নাম বলতে বলা হয় তাহলে অনেক দ্রুত কয়েকজনের নাম বলতে পারবেন। কিন্তু যদি কিছু কালোবর্ণের জ্যোতির্বিদের নাম বলতে বলা হয় তাহলে হয়ত সহজে পারবেন না। কারণ কালো বর্ণের জ্যোতির্বিদ সহজে আপনার চোখে পরেনি। এই লেখায় এমনই একজনের সম্পর্কে জানবো। তাকে প্রথম প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণবর্ণের জ্যোতির্বিদও বলা যায়। ১৭০০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ইংরেজদের কলোনি। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে তখন কেবল জাহাজ তৈরি ও নানা কারখানা গড়বার কাজ শুরু করেছে ইংরেজরা। মেরিল্যান্ডে তখন তামাকের চাষ শুরু হয়েছে। আর এসব করতে ইংরেজরা কাজে লাগাচ্ছে আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা কালোদাসদের।এইসময়েই ৯ নভেম্বর ১৭৩১ সালে জন্ম হয়…