• পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করতে চাঁদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদের অভিকর্ষ টানের জন্য পৃথিবী আরও স্থিতিশীল হয়েছে ফলে পৃথিবীর জলবায়ু হয়েছে বসবাসযোগ্য । চাঁদের কারণে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয় যা সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আচরণ ও প্রজননের উপর চন্দ্রচক্রের প্রভাব রয়েছে। আমাদের আবাসস্থল পৃথিবীকে রক্ষা করে গেছে গ্রহাণু আর ধূমকেতুর আঘাত থেকে। চাঁদের গায়ের ক্ষত সেসবরেই সাক্ষ্য দেয়। মোদ্দাকথা চাঁদের উপস্থিতি ছাড়া পৃথিবী কখনোই বসবাসযোগ্য হতো না। পূর্বের লেখায় আমরা সৌরজগতের বাইরের গ্রহ এবং তাদের খোঁজ করার উপায় সম্পর্কে জেনেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রহের সাথে তাদের চাঁদের কথাও উঠে আসবে। নব্বইয়ের দশকে…

  • সে অনেককাল আগের কথা। ষোড়শী সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী স্বর্গলোকের জলদেবী ওনডিন পৃথিবী ভ্রমণে এসেছেন। ঘুরে ফিরে দেখছেন এখানে-সেখানে। আচমকা একদিন তার দৃষ্টি যায় মর্ত্যলোকের এক সুদর্শন যুবকের পানে। পেলিমো নামের সেই যুবক সেসময় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সুশোভিত গাছের ছায়ায়। প্রথম দর্শনে দেবী তার প্রেমের ডোরে বাঁধা পড়েন। জলের অতলে থেকে তাকে চোখে চোখে রাখেন সর্বদা। সময়-সুযোগ বুঝে একদিন দেবী আবির্ভূত হন পেলিমোর সম্মুখে। দেন প্রণয়ের প্রস্তাব। তাঁর এমন মোহনীয় রূপ-লাবণ্য দেখে পেলিমোও হয়ে পড়ে পুরোপুরি হতবাক। যেন স্বচ্ছ জলে স্নান করে আসা এক প্রস্ফুটিত পদ্ম এসে উপস্থিত হয়েছে তার সম্মুখে। তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যায় সে। যদিও ঘটে এক বিপত্তি। দেবীর প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করে…

  • আপনার-আমার দেড় কেজি মস্তিষ্কের মধ্যে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন (কারও মতে ১০০ বিলিয়ন) নিউরন রয়েছে। আপনি গর্ব করে বলতেই পারেন যে মহাবিশ্বের যতটুকু পর্যবেক্ষণ করা এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে, তাতে যত গ্রহাণু পাওয়া গিয়েছে, তার চাইতেও হাজার গুণ বেশি নিউরন আপনার মস্তিষ্কে রয়েছে। এছাড়াও এই ছোট্ট মস্তিষ্কের মধ্যে ৮৫ বিলিয়ন অন্যান্য কোষ ও নিজেদের মধ্যে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন সংযোগ রয়েছে। কী মনে হয়? আমাদের এই মস্তিষ্ক কি জটিলতার দিক দিয়ে মহাবিশ্বের প্রতিটা প্যাঁচে লুকিয়ে থাকা যেকোনো মজাগতিক বস্তুকে ছাড়িয়ে যেতে পারে?  ২০১২ কি ২০১৩ সালের দিকের গল্প। স্নায়ুবিজ্ঞানী ক্রিস্টফ কচ তার ‘Consciousness: Confessions of a romantic reductionist…

  • নোবেল পুরস্কারের শূন্যতা পূরণে গণিতের রাজ্যে বিশেষ অবদানকে স্বীকৃতিদানে যে পুরস্কারগুলোকে সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তন্মধ্যে ফিল্ডস মেডেল ও অ্যাবেল পুরস্কার অন্যতম। এ বছর সম্মানজনক অ্যাবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী ফরাসি গণিতবিদ মাইকেল পিয়েরে তালাগ্র্যান্ড। গত ২০ মার্চ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে নরওয়েজিয়ান একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড লেটারস ‘গাণিতিক পদার্থবিদ্যা ও পরিসংখ্যানে অসামান্য প্রয়োগ সহ সম্ভাব্যতা তত্ত্ব এবং ফাংশনাল বিশ্লেষণে যুগান্তকারী অবদানের জন্য’ তালাগ্র্যান্ডকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। একাডেমির সভাপতি লিসে ওভরিস বলেন, “তালাগ্র্যান্ড একজন অসামান্য এবং অত্যন্ত সৃজনশীল ক্ষমতাধিকারী গণিতবিদ যার কাজ সম্ভাব্যতা তত্ত্ব, ফাংশনাল বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানকে রূপান্তরিত করেছে। তিনি গণিত…

  • অমরত্ব, মানবজাতির এক লালিত আকাঙ্ক্ষা। আর এই আকাঙ্ক্ষার চিত্রায়ন নিয়ে রচিত “অমরত্বের ইতিবৃত্ত” একজন জীববিজ্ঞান প্রেমী ও অপ্রেমী উভয়েরর কাছেই সুপাঠ্য হবে। বই নিয়ে আলোচনার আগে আপনাদের কয়েকটা যুক্তি দেই এবং তার প্রেক্ষিতে একটা প্রশ্ন করি। বলুন তো, মানুষ বুড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কেন রোগ-অসুস্থতা বাড়ে? এর একটা কারণ হলো যত বয়স বাড়ে তত বেশি কোষ বিভাজিত হয়, আর কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ রেপ্লিকেশন হয়। এই রেপ্লিকেশনসহ যাবতীয় কাজ করে প্রোটিন, তবে প্রতিবার সে কিছু ভুল করে যাকে বলে মিউটেশন। আর এর জন্যই ভুলভাল রিয়েকশন হয়, রোগ হয়। এখন আমাকে বলুন, একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যেই…

  • প্রথম পর্বের পর.. অপার রহস্যের হাতছানি অনন্ত মহাশূন্যে মানবজাতি ইতোমধ্যেই প্রেরণ করতে শুরু করেছে একের পর এক ছোট ছোট প্রাণী। যাদের কেউ কেউ আবার সফলতার সাথে ঘুরেও এসেছে। দেখে এসেছে অন্ধকার ও আলোকের রোমাঞ্চকর জগৎ। কুড়িয়ে এনেছে একগাদা চাঞ্চল্যকর নিদর্শন। এসব নিদর্শন বিশ্লেষণে গবেষকগণ শুরু করেছেন অন্বেষণ। প্রসারিত করছেন নিজেদের জ্ঞানের পরিসর। আর তাই মহাকাশ অভিযানের এ যাত্রা থেমে থাকেনি। ভাটা পড়েনি অপার রহস্যে মোড়ানো অসীম মহাকাশে প্রাণী প্রেরণের অনবদ্য কর্মযজ্ঞে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে তা। প্রেরণ হতে থাকে একের পর এক বৈচিত্র্যময় প্রাণ। প্রথম পর্বে আলোচিত প্রাণীদের পর মহাকাশে পরবর্তীতে আরও পাঠানো হয়েছে…

  • বিশ্বকবি গেয়েছেন, “সীমার মাঝে, অসীম, তুমি।” জগতের যতখানি আমাদের জ্ঞানের গণ্ডির ভিতরে রয়েছে, তা যেনো অধরা অচেনা জগতের সিকিভাগ। বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাত্র পাঁচ শতাংশ আমাদের ইন্দ্রিয়ের জালে ধরা দেয়, আর বাকি পঁচানব্বই শতাংশের সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো অকাট্য তথ্য নেই। এর একটি অংশ ডার্ক এনার্জি দ্বারা গঠিত, বাকি অংশ ডার্ক ম্যাটারের সমন্বয়ে। এই ডার্ক বা অন্ধকার জগত আজও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের আধার, যদিও তা মানুষের অবদমিত কৌতূহলের কাছে হার মেনেছে বার বার। বিজ্ঞানীমহলের প্রত্যাশা, একদিন এই রহস্যের জট খুলবেই।

  • হাজার হাজার বছর ধরে চাঁদ মানুষকে সময় ও ঋতুর হদিশ দিয়ে আসছে। আকাশে চাঁদের নিয়মিত চক্র এক বছরে মাসের সংখ্যা ঠিক করে নিতে সাহায্য করেছে। ঋতুর পরিবর্তনের বিষয়টি খেয়াল রাখতেও চাঁদ মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। এবং ধর্মীয় উৎসবের আরম্ভের উদ্‌বোধন নিজের অজান্তেই করে আসছে এটি। ইসলাম ধর্মানুসারীরা চন্দ্রমাস মেনে তাঁদের উৎসব পালন করেন। ১২টি চন্দ্রমাসকে বলা হয় হিজরি সন। ইসলামি এই বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আকাশে একফালি (অর্ধেক) চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুরু হয় মাস। যেমন, এক মাসের রোজার সাধনা শুরু হয় রমজান মাসের চাঁদ দেখে। আবার ২৯ বা ৩০ দিন পর শাওয়াল মাসের একফালি চাঁদে ইদ উৎসব শুরু…

  • এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বিজ্ঞানের বইগুলোর মধ্যে আগ্রহের শীর্ষে ছিলো দ্য মাঙ্গা গাইড টু বায়োকেমিস্ট্রি। তার একটি কারণ তো অনুবাদকের বিজ্ঞান-লেখালেখির সাথে পূর্ব-পরিচিতি, আরেকটি কারণ এই বইয়ের বিষয়বস্তু প্রাণ-রসায়ন। খুব মজার, রসালো বিষয় হিশেবে এর সুনাম একেবারেই নেই, বরং আছে উল্টোটা। উচ্চ মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ‘কোষ-রসায়ন’ অধ্যায় দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচিত হয় এই বিষয়টির সাথে। সেখানে নানারকম প্রোটিন, লিপিড, শর্করার নাম,রকমফের আর ব্যবহারাদি মুখস্ত করতেই তাদের জান কাবার! এরপর এমবিবিএস কিংবা জীবনবিদ্যার কোনো বিষয়ে অনার্সে পড়লে মুখ গুঁজতে হয় ঢাউস সাইজের লেনিনজারে। এহেন কুখ্যাত বিষয়ের ওপর ‘কমিক’ বই লেখা হয়েছে,সেটা আবার বাংলাতেও অনুবাদ করেছেন কেউ—এই ব্যাপারে তাই…