• ডিএনএকে বলা হয় জীবনের নীল নকশা। দ্বিসূত্রক ডিএনএ’তে A,T,C,G এই চারটি অক্ষরে জীবনের যাবতীয় তথ্যাদি ‘লেখা’ থাকে। জীবনের এই তথ্যকে ‘রেসিপির সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যে রেসিপি’ অনুযায়ী তৈরি হয় নানাবিধ প্রোটিন। প্রোটিনের মাধ্যমেই আমাদের চোখের রং, চুলের ধরন থেকে শুরু করে কোষে অক্সিজেন পরিবহণ, বহিরাগত জীবাণুর মোকাবিলাসহ নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। যাহোক, জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বংশগতীয় তথ্যের সঞ্চারণ। এজন্য ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত সকল জীবই কোষ বিভাজনের পূর্বে তার ডিএনএ’র সংখ্যা বাড়াতে হয়। ডিএনএ’র সংখ্যা বাড়ে প্রতিলিপন (Replication) প্রক্রিয়ায়। ডিএনএ’র প্রতিলিপন হয় এটা জানা…

  • যদি আপনি ওই পালসারে দাড়াতে পারতেন তাহলে আপনি একবার চোখ ফেললেই দেখতেন দিন হয়ে গেছে আরেকবার চোখ ফেললেই দেখতেন রাত হয়ে গেছে।

  • ২০২৩ এর বইমেলায় আসে হালিমা-শরফুদ্দিন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত লেখক আব্দুল গাফফারের ‘দ্য গড পার্টিকেল’। বইটি মূলত হিগস বোসন ও তৎসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জরুরি খুঁটিনাটির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের জরুরি একটি কণাকে কেন্দ্র করে এরকম আস্ত একটা বই লিখে ফেলা চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু কী ছিল এই বইতে? বই পরিচিতি ‘দ্য গড পার্টিকেল’ বইটি মূলত ৪টি পর্বে বিন্যস্ত। ১ম পর্বের আলোচ্য বিষয়গুলো হলো সবল বল, দুর্বল বল, কাপলিং কন্সট্যান্ট, প্রতিসাম্য, প্যারিটির সংরক্ষণশীলতা এবং টাউ-থিটা পাজলের মতো চমকপ্রদ ব্যাপারগুলো। ২য় পর্বে রয়েছে ভর নিয়ে নানান বিচিত্র তথ্য। ৩য় পর্বে মূলত কিছু অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যেগুলো…

  • পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করতে চাঁদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদের অভিকর্ষ টানের জন্য পৃথিবী আরও স্থিতিশীল হয়েছে ফলে পৃথিবীর জলবায়ু হয়েছে বসবাসযোগ্য । চাঁদের কারণে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয় যা সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আচরণ ও প্রজননের উপর চন্দ্রচক্রের প্রভাব রয়েছে। আমাদের আবাসস্থল পৃথিবীকে রক্ষা করে গেছে গ্রহাণু আর ধূমকেতুর আঘাত থেকে। চাঁদের গায়ের ক্ষত সেসবরেই সাক্ষ্য দেয়। মোদ্দাকথা চাঁদের উপস্থিতি ছাড়া পৃথিবী কখনোই বসবাসযোগ্য হতো না। পূর্বের লেখায় আমরা সৌরজগতের বাইরের গ্রহ এবং তাদের খোঁজ করার উপায় সম্পর্কে জেনেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রহের সাথে তাদের চাঁদের কথাও উঠে আসবে। নব্বইয়ের দশকে…

  • সে অনেককাল আগের কথা। ষোড়শী সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী স্বর্গলোকের জলদেবী ওনডিন পৃথিবী ভ্রমণে এসেছেন। ঘুরে ফিরে দেখছেন এখানে-সেখানে। আচমকা একদিন তার দৃষ্টি যায় মর্ত্যলোকের এক সুদর্শন যুবকের পানে। পেলিমো নামের সেই যুবক সেসময় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সুশোভিত গাছের ছায়ায়। প্রথম দর্শনে দেবী তার প্রেমের ডোরে বাঁধা পড়েন। জলের অতলে থেকে তাকে চোখে চোখে রাখেন সর্বদা। সময়-সুযোগ বুঝে একদিন দেবী আবির্ভূত হন পেলিমোর সম্মুখে। দেন প্রণয়ের প্রস্তাব। তাঁর এমন মোহনীয় রূপ-লাবণ্য দেখে পেলিমোও হয়ে পড়ে পুরোপুরি হতবাক। যেন স্বচ্ছ জলে স্নান করে আসা এক প্রস্ফুটিত পদ্ম এসে উপস্থিত হয়েছে তার সম্মুখে। তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যায় সে। যদিও ঘটে এক বিপত্তি। দেবীর প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করে…

  • আপনার-আমার দেড় কেজি মস্তিষ্কের মধ্যে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন (কারও মতে ১০০ বিলিয়ন) নিউরন রয়েছে। আপনি গর্ব করে বলতেই পারেন যে মহাবিশ্বের যতটুকু পর্যবেক্ষণ করা এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে, তাতে যত গ্রহাণু পাওয়া গিয়েছে, তার চাইতেও হাজার গুণ বেশি নিউরন আপনার মস্তিষ্কে রয়েছে। এছাড়াও এই ছোট্ট মস্তিষ্কের মধ্যে ৮৫ বিলিয়ন অন্যান্য কোষ ও নিজেদের মধ্যে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন সংযোগ রয়েছে। কী মনে হয়? আমাদের এই মস্তিষ্ক কি জটিলতার দিক দিয়ে মহাবিশ্বের প্রতিটা প্যাঁচে লুকিয়ে থাকা যেকোনো মজাগতিক বস্তুকে ছাড়িয়ে যেতে পারে?  ২০১২ কি ২০১৩ সালের দিকের গল্প। স্নায়ুবিজ্ঞানী ক্রিস্টফ কচ তার ‘Consciousness: Confessions of a romantic reductionist…

  • নোবেল পুরস্কারের শূন্যতা পূরণে গণিতের রাজ্যে বিশেষ অবদানকে স্বীকৃতিদানে যে পুরস্কারগুলোকে সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তন্মধ্যে ফিল্ডস মেডেল ও অ্যাবেল পুরস্কার অন্যতম। এ বছর সম্মানজনক অ্যাবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী ফরাসি গণিতবিদ মাইকেল পিয়েরে তালাগ্র্যান্ড। গত ২০ মার্চ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে নরওয়েজিয়ান একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড লেটারস ‘গাণিতিক পদার্থবিদ্যা ও পরিসংখ্যানে অসামান্য প্রয়োগ সহ সম্ভাব্যতা তত্ত্ব এবং ফাংশনাল বিশ্লেষণে যুগান্তকারী অবদানের জন্য’ তালাগ্র্যান্ডকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। একাডেমির সভাপতি লিসে ওভরিস বলেন, “তালাগ্র্যান্ড একজন অসামান্য এবং অত্যন্ত সৃজনশীল ক্ষমতাধিকারী গণিতবিদ যার কাজ সম্ভাব্যতা তত্ত্ব, ফাংশনাল বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানকে রূপান্তরিত করেছে। তিনি গণিত…

  • অমরত্ব, মানবজাতির এক লালিত আকাঙ্ক্ষা। আর এই আকাঙ্ক্ষার চিত্রায়ন নিয়ে রচিত “অমরত্বের ইতিবৃত্ত” একজন জীববিজ্ঞান প্রেমী ও অপ্রেমী উভয়েরর কাছেই সুপাঠ্য হবে। বই নিয়ে আলোচনার আগে আপনাদের কয়েকটা যুক্তি দেই এবং তার প্রেক্ষিতে একটা প্রশ্ন করি। বলুন তো, মানুষ বুড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কেন রোগ-অসুস্থতা বাড়ে? এর একটা কারণ হলো যত বয়স বাড়ে তত বেশি কোষ বিভাজিত হয়, আর কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ রেপ্লিকেশন হয়। এই রেপ্লিকেশনসহ যাবতীয় কাজ করে প্রোটিন, তবে প্রতিবার সে কিছু ভুল করে যাকে বলে মিউটেশন। আর এর জন্যই ভুলভাল রিয়েকশন হয়, রোগ হয়। এখন আমাকে বলুন, একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যেই…

  • প্রথম পর্বের পর.. অপার রহস্যের হাতছানি অনন্ত মহাশূন্যে মানবজাতি ইতোমধ্যেই প্রেরণ করতে শুরু করেছে একের পর এক ছোট ছোট প্রাণী। যাদের কেউ কেউ আবার সফলতার সাথে ঘুরেও এসেছে। দেখে এসেছে অন্ধকার ও আলোকের রোমাঞ্চকর জগৎ। কুড়িয়ে এনেছে একগাদা চাঞ্চল্যকর নিদর্শন। এসব নিদর্শন বিশ্লেষণে গবেষকগণ শুরু করেছেন অন্বেষণ। প্রসারিত করছেন নিজেদের জ্ঞানের পরিসর। আর তাই মহাকাশ অভিযানের এ যাত্রা থেমে থাকেনি। ভাটা পড়েনি অপার রহস্যে মোড়ানো অসীম মহাকাশে প্রাণী প্রেরণের অনবদ্য কর্মযজ্ঞে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে তা। প্রেরণ হতে থাকে একের পর এক বৈচিত্র্যময় প্রাণ। প্রথম পর্বে আলোচিত প্রাণীদের পর মহাকাশে পরবর্তীতে আরও পাঠানো হয়েছে…