• জীববিজ্ঞানের মজার কিছু শাখার মধ্যে ‘বিবর্তন’ একটি। আমরা জানি, এক বংশধর থেকে অন্য বংশধরে জীব পপুলেশনের জিন ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তনই জৈব বিবর্তন। একে ডারউইন “Descent with modification” বলে উল্লেখ করেছিলেন। অল্প বিজ্ঞান জানা কিছু বক্তি একটা ভুল ধারণা দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করে; সেটা হলো ডারউইনিজম আর জৈব বিবর্তন একই বিষয়। ন্যূনতম বিবর্তন ভিত্তিক জ্ঞান থাকলে কেউ এই কথা বলতে পারেনা। আসলে ডারউইন জৈব বিবর্তন নিয়ে একটি মতবাদ দিয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও অনেকেই এ ব্যাপারে তাদের মতামত ও ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বিবর্তনের পথকে প্রশস্ত করতে ডারউইনের ভূমিকাই সবচেয়ে আলোড়ন ফেলেছিল। তাহলে আপনাকে আগে দুটো বিষয় মাথায় রাখতে হবে।…

  • নেফারতারি, লেডী অফ গ্রেইস, লেডী অফ অল ল্যান্ডস, ওয়াইফ অফ দি স্ট্রং বুল সহ আরও অনেক নামে পরিচিত। নেফারতারি ছিলেন অন্যতম বিখ্যাত মিশরীয় রানী। মিশরের অন্যান্য রাজাদের মতো দ্বিতীয় রামেসিসেরও অনেক স্ত্রী ছিলো। তবে এর মধ্যে থেকে  কেবল একজন স্ত্রীকেই তাঁর প্রধান রানী হওয়ার সম্মান দেওয়া হতো।রামেসিস তাঁর জীবদ্দশায় আটজন রানী গ্রহণ করেছিলেন। তার মধ্যে রানী নেফারতারি ছিলেন তাঁর প্রথম এবং সবচেয়ে প্রিয়। রামেসিস সর্বদা নেফারতারির সৌন্দর্যে মুগ্ধ থাকতেন। তিনি অবিশ্বাস্যভাবে নেফারতারির অনুগত ছিলেন।  সমাধির দেওয়ালে আঁকা চিত্র থেকে প্রতীয়মান হয় যে প্রাচীন মিশরের  রাজকীয় বিবাহ সর্বদা শক্তি জোট বা সুযোগ -সুবিধার ভিত্তিতে ছিল না। কিছু …

  • তখন বইয়ের মৌসুম। বইমেলাও নতুন বইয়ে মেতে উঠেছে, আবার রকমারিতেও বইয়ের ঝড় বইছিল। এমন সময়ে বিজ্ঞান ব্লগ থেকে রফিকুল ইসলাম ভাইয়ের ‘ক্যাম্পেবল বায়োলজি (প্রাণরসায়ন ইউনিট) এর ২য় সংস্করণ গিফট পাই। প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের প্রেমে পড়ে যাই। বইটা খুলে দেখার পর বুঝলাম যে এর মূলত ৫টি অধ্যায় রয়েছে। বইয়ের ব্যবচ্ছেদ বইটার প্রথমেই রয়েছে অভিযোজনের আলোচনা। এই প্রক্রিয়া ছাড়া জীবদের অস্তিত্বই থাকত না। অভিযোজনের কারণেই জীবের বৈচিত্র্যময় হয়। এ ব্যারটিকেই কিছু জীবের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। এ অধ্যায়ে আরও যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো হলো জীবজগতের বিভিন্ন স্তর, জীবের গঠন ও তার কাজের সম্পর্ক, বংশগতি, সিস্টেমস…

  • আমার বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর জগতে আনাগোনার শুরু হয় মূলত হুমায়ূন আহমেদ এর কল্পকাহিনীর বই দিয়ে। অনন্ত নক্ষত্রবীথি, তারা তিনজন, ফিহা সমীকরণ দিয়ে। তারপরে একে একে বিজ্ঞান লেখক জাফর ইকবাল এর কল্পগল্পের বই গুলো পড়া শুরু করেছিলাম। ওয়েলসের টাইম মেশিন, আসিমভ এর বিজ্ঞান ফিকশন গুলোও একে একে পড়া হয়েছিলো। তবে সবগুলো পড়া শেষ হয় নি। দীপেন ভট্টাচার্যের কল্পকাহিনীর বই পড়া শুরু হয়েছিল অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো দিয়ে। তার লেখায় শব্দ নিয়ে খেলা করার অসামান্য দক্ষতা আমাকে রীতিমত মুগ্ধ করেছিল বলা যায়। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর ভেতরেও সাহিত্যরসটা কমতি থাকে না এতটুকু।  সম্প্রতি তার লেখা আরেকটা কল্পগল্পের বই “অদিতার আঁধার” পড়ে শেষ…

  • জীববিজ্ঞানের ওপর তেমন কোনো বই বাংলা ভাষায় সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু যখনি এমন কোনো বইয়ের আওয়াজ পাই, তখনি ঐ বই সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। সেই প্রবণতার কারণেই সৌমিত্র চক্রবর্তী স্যারের “জীবনের গল্পঃ দ্বিতীয় খণ্ড” বইটা সংগ্রহ করি। আগে প্রথম খণ্ডটা পড়েছিলাম বলে এবার এটা পড়ার সিন্ধান্ত নিলাম। বইয়ের ব্যবচ্ছেদ “জীবনের গল্পঃ দ্বিতীয় খণ্ড” মূলত একটি সংকলনমূলক বই, যেখানে ১৬টি প্রবন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সৌমিত্র স্যারের নিজের এবং বাকি ১০ টি কিছু বাঘা বাঘা লেখকদের লেখনী। প্রথমে সৌমিত্র স্যারের ৬ টা প্রবন্ধ নিয়েই কথা বলি।বইয়ের শুরুতেই রয়েছে ডেভিড ওয়েসনারের লেখা The Origins Of Viruses…

  • কোন কিছুর অনুপস্থিতি বোঝাতে আমরা শূন্য সংখ্যাটি ব্যবহার করি। শূন্য, নালা, সিফর, জেবেরো ইত্যাদি কত নামেই ডাকা হয় শূন্যকে। এই শূন্য সংখ্যাটি ভারী কৌতুহলপূ্র্ণ। বলা যায় রহস্যময়। যেমন ধরুন কোন সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে ভাগ করতে গেলে সৃষ্টি হয় রহস্যের। ভাগটা মেলে না৷ গণিতশাস্ত্রে এ এক মহারহস্য ৷ আবার পদার্থবিজ্ঞান বলে শূন্যস্থান আসলে শূন্য নয়৷ সেখানে চলতে থাকে কণা-প্রতিকণাদের প্রতিনিয়ত সৃষ্টি ধ্বংস। শূন্য সংখ্যাটি যেমন রহস্যময় তেমনি রহস্যে ঘেরা এর জন্ম ইতিহাস।   সেসব কথা থেকে বেরিয়ে এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। দেখুন সংখ্যা জগতে অন্য নয়টি অঙ্কের আবির্ভাব কিন্তু হয়ে গেছে শূন্যের আগেই। তাহলে আগে মানুষজন কোন কিছুর…

  • “বিল্ডিংটা অনেক উঁচু,”“লাঠিটা অনেক ছোট,”“ছেলেটা বেশ লম্বা”,“গাছটা বেশ খাটো”- এসব কথা আমরা হরহামেশাই বলি। কিন্তু উঁচু, ছোট বা খাটো এই শব্দগুলো কি আসলেই কোন নির্দিষ্ট পরিমাপকে তুলে ধরে? আসলে এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপভিত্তিক সীমা নেই। একটা দোতালা দালানকেও উঁচু বলা হচ্ছে, আবার বুর্জ খলিফাকেও উঁচু বলছি। জিরাফকেও লম্বা বলছি, আবার দেড় মিটারের পিচ্চিকেও লম্বা বলছি। সবকিছুতে কেমন জানি বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, তাই না? চলুন, এই বিশৃঙ্খলার মাঝে ডুব দেওয়া যাক! কতটা ভারী? হাতি বর্তমান জীবজগতের সবচেয়ে ভারি চতুষ্পদ প্রাণী, যার ভর প্রায় ৫×১০৩ কেজি। কিন্তু এই “ভারী” শব্দটা যদি মহাবিশ্বের আলোচনায় ঢুকিয়ে দেওয়া হই, তাহলে কেমন…

  • সম্প্রতি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সৌরজগতের বাইরের গ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে যা এক কথায় অতুলনীয়। মূল ছবির কথায় আসার আগে জেমস ওয়েবের ক্যামেরার বেসিক একটু মনে করা যাক। আমাদের দৃশ্যমান আলোর ঠিক পরেই রয়েছে অবলোহিত বা Infrared আলো। এর মধ্যে আবার একটু কম তরঙ্গদৈঘ্যের গুলো হলো নিকট অবলোহিত বা Near Infrared আর তার চেয়ে বড় গুলো হলো মধ্যম অবলোহিত বা Middle Infrared। জেমস ওয়েবে NIRCam ও MIRI instrument নামে দুটো যন্ত্র আছে। যেহেতু সবাই মোটামুটি জানে জিনিস গুলো কী আর কী রকমের ছবি তোলে তাও একবার মনে করিয়ে দেই, NIRCam হলো নিকট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে অবলোহিত আলোর ছবি তোলে…

  • আজ থেকে ২৭ বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পের কারণে বিশাল এলাকা বিদুৎহীন হয়ে পরে। পুরো শহর অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা জরুরী পরিসেবাকেন্দ্র ৯১১ ফোন করে বলেন যে, তাদের মাথার উপরে েক বিশাল রুপালী মেঘ পুরো আকাশ ঢেকে ফেলেছে। আসলে তারা সেইদিন প্রথমবারের মতো রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশের সাথে আমাদের ছায়াপথের বাহুর কিছু অংশ দেখতে পেয়েছিলো। যেটা তাদের কাছে “রুপালী মেঘ” মনে হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলস শহরের কিছু বাসিন্দা কখনোই আগে ঘন-অন্ধকার আকাশ দেখেন নি। মাত্র একশো বছর আগেও আপনি কোন শহরে রাতে বাইরে হাঁটতে বের হলে আকাশ জুড়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি খিলান দেখতে পেতেন। হাজার হাজার…