• আমার বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর জগতে আনাগোনার শুরু হয় মূলত হুমায়ূন আহমেদ এর কল্পকাহিনীর বই দিয়ে। অনন্ত নক্ষত্রবীথি, তারা তিনজন, ফিহা সমীকরণ দিয়ে। তারপরে একে একে বিজ্ঞান লেখক জাফর ইকবাল এর কল্পগল্পের বই গুলো পড়া শুরু করেছিলাম। ওয়েলসের টাইম মেশিন, আসিমভ এর বিজ্ঞান ফিকশন গুলোও একে একে পড়া হয়েছিলো। তবে সবগুলো পড়া শেষ হয় নি। দীপেন ভট্টাচার্যের কল্পকাহিনীর বই পড়া শুরু হয়েছিল অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো দিয়ে। তার লেখায় শব্দ নিয়ে খেলা করার অসামান্য দক্ষতা আমাকে রীতিমত মুগ্ধ করেছিল বলা যায়। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর ভেতরেও সাহিত্যরসটা কমতি থাকে না এতটুকু।  সম্প্রতি তার লেখা আরেকটা কল্পগল্পের বই “অদিতার আঁধার” পড়ে শেষ…

  • জীববিজ্ঞানের ওপর তেমন কোনো বই বাংলা ভাষায় সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু যখনি এমন কোনো বইয়ের আওয়াজ পাই, তখনি ঐ বই সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। সেই প্রবণতার কারণেই সৌমিত্র চক্রবর্তী স্যারের “জীবনের গল্পঃ দ্বিতীয় খণ্ড” বইটা সংগ্রহ করি। আগে প্রথম খণ্ডটা পড়েছিলাম বলে এবার এটা পড়ার সিন্ধান্ত নিলাম। বইয়ের ব্যবচ্ছেদ “জীবনের গল্পঃ দ্বিতীয় খণ্ড” মূলত একটি সংকলনমূলক বই, যেখানে ১৬টি প্রবন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সৌমিত্র স্যারের নিজের এবং বাকি ১০ টি কিছু বাঘা বাঘা লেখকদের লেখনী। প্রথমে সৌমিত্র স্যারের ৬ টা প্রবন্ধ নিয়েই কথা বলি।বইয়ের শুরুতেই রয়েছে ডেভিড ওয়েসনারের লেখা The Origins Of Viruses…

  • কোন কিছুর অনুপস্থিতি বোঝাতে আমরা শূন্য সংখ্যাটি ব্যবহার করি। শূন্য, নালা, সিফর, জেবেরো ইত্যাদি কত নামেই ডাকা হয় শূন্যকে। এই শূন্য সংখ্যাটি ভারী কৌতুহলপূ্র্ণ। বলা যায় রহস্যময়। যেমন ধরুন কোন সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে ভাগ করতে গেলে সৃষ্টি হয় রহস্যের। ভাগটা মেলে না৷ গণিতশাস্ত্রে এ এক মহারহস্য ৷ আবার পদার্থবিজ্ঞান বলে শূন্যস্থান আসলে শূন্য নয়৷ সেখানে চলতে থাকে কণা-প্রতিকণাদের প্রতিনিয়ত সৃষ্টি ধ্বংস। শূন্য সংখ্যাটি যেমন রহস্যময় তেমনি রহস্যে ঘেরা এর জন্ম ইতিহাস।   সেসব কথা থেকে বেরিয়ে এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। দেখুন সংখ্যা জগতে অন্য নয়টি অঙ্কের আবির্ভাব কিন্তু হয়ে গেছে শূন্যের আগেই। তাহলে আগে মানুষজন কোন কিছুর…

  • “বিল্ডিংটা অনেক উঁচু,”“লাঠিটা অনেক ছোট,”“ছেলেটা বেশ লম্বা”,“গাছটা বেশ খাটো”- এসব কথা আমরা হরহামেশাই বলি। কিন্তু উঁচু, ছোট বা খাটো এই শব্দগুলো কি আসলেই কোন নির্দিষ্ট পরিমাপকে তুলে ধরে? আসলে এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপভিত্তিক সীমা নেই। একটা দোতালা দালানকেও উঁচু বলা হচ্ছে, আবার বুর্জ খলিফাকেও উঁচু বলছি। জিরাফকেও লম্বা বলছি, আবার দেড় মিটারের পিচ্চিকেও লম্বা বলছি। সবকিছুতে কেমন জানি বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, তাই না? চলুন, এই বিশৃঙ্খলার মাঝে ডুব দেওয়া যাক! কতটা ভারী? হাতি বর্তমান জীবজগতের সবচেয়ে ভারি চতুষ্পদ প্রাণী, যার ভর প্রায় ৫×১০৩ কেজি। কিন্তু এই “ভারী” শব্দটা যদি মহাবিশ্বের আলোচনায় ঢুকিয়ে দেওয়া হই, তাহলে কেমন…

  • সম্প্রতি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সৌরজগতের বাইরের গ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে যা এক কথায় অতুলনীয়। মূল ছবির কথায় আসার আগে জেমস ওয়েবের ক্যামেরার বেসিক একটু মনে করা যাক। আমাদের দৃশ্যমান আলোর ঠিক পরেই রয়েছে অবলোহিত বা Infrared আলো। এর মধ্যে আবার একটু কম তরঙ্গদৈঘ্যের গুলো হলো নিকট অবলোহিত বা Near Infrared আর তার চেয়ে বড় গুলো হলো মধ্যম অবলোহিত বা Middle Infrared। জেমস ওয়েবে NIRCam ও MIRI instrument নামে দুটো যন্ত্র আছে। যেহেতু সবাই মোটামুটি জানে জিনিস গুলো কী আর কী রকমের ছবি তোলে তাও একবার মনে করিয়ে দেই, NIRCam হলো নিকট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে অবলোহিত আলোর ছবি তোলে…

  • আজ থেকে ২৭ বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পের কারণে বিশাল এলাকা বিদুৎহীন হয়ে পরে। পুরো শহর অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা জরুরী পরিসেবাকেন্দ্র ৯১১ ফোন করে বলেন যে, তাদের মাথার উপরে েক বিশাল রুপালী মেঘ পুরো আকাশ ঢেকে ফেলেছে। আসলে তারা সেইদিন প্রথমবারের মতো রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশের সাথে আমাদের ছায়াপথের বাহুর কিছু অংশ দেখতে পেয়েছিলো। যেটা তাদের কাছে “রুপালী মেঘ” মনে হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলস শহরের কিছু বাসিন্দা কখনোই আগে ঘন-অন্ধকার আকাশ দেখেন নি। মাত্র একশো বছর আগেও আপনি কোন শহরে রাতে বাইরে হাঁটতে বের হলে আকাশ জুড়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি খিলান দেখতে পেতেন। হাজার হাজার…

  • কেমন হয় যদি আমাদের হার্টবিটের মতোই এই পৃথিবীরও নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়? আমাদের হার্টবিট যেরকম হৃৎপিন্ডে ধুক ধুক করে, তেমনি পৃথিবীর হার্টবিট আয়নোস্ফিয়ারে উৎপন্ন হয়। পাঠকেরা হয়ত বা ভাবছেন যে আমি মনে হয় গ্রিক পুরাণের গল্প করেছি। তবে এটা যে পিওর সায়েন্স, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আপনাদেরও থাকবে না যদি এই প্রবন্ধ পুরোটা পড়েন। পৃথিবীর হার্টবিট পদার্থবিজ্ঞানের সংবিধানে শুম্যান রেজোনেন্স (Schumann resonances) নামে পরিচিত। পদার্থবিজ্ঞানী উইনফ্রাইড অটো শুম্যানের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। পৃথিবীর পৃষ্ঠ এবং আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী স্থানটি একটি বদ্ধ তরঙ্গ নির্দেশক হিসাবে কাজ করে বলে শুম্যান রেজোনেন্স (রেজোনেন্স মানে কিন্তু অনুনাদ) ঘটে।…

  • ডাক্তারেরা অতি ক্ষুদ্র একটি গাড়িতে চড়ে আপনার দেহে প্রবেশ করে রোগ সারিয়ে তুলল। যদি এটা বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে কেমন হবে? “ফ্যান্টাস্টিক ভয়েজ” সিনেমায় এমনি একটি দৃশ্য দেখানো হয়। যদিও পুরো ব্যাপারটা সায়েন্স ফিকশনের মাঝেই সীমাবদ্ধ, তবে মেডিকেল সায়েন্সের উন্নয়নে এ ধরনের কিছু টেকনিক এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে ন্যানো ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটা নিয়েও প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ন্যানো চিকিৎসাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান। আর সেটা যদি সম্ভবপর হয়, তবে একটি চিপ দিয়েই আপনার শরীরের রোগ নির্ণয় করে ফেলা যাবে, ঐ চিপের সাহায্যেই কোষ ধ্বংস করা যাবে, আরও কত কী! ন্যানোচিকিৎসার…

  • মেঘমুক্ত রাতের আকাশে দিকে তাকালে বিভিন্ন রঙের  অনেক নক্ষত্র দেখতে পাবেন। দেখা যায় হলুদ, নীল সাদা বর্ণের নক্ষত্র আকাশে মিটমিট করছে। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এর মধ্যে কিছু নক্ষত্র আছে হালকা থেকে টকটকে লাল রঙের।  এই নক্ষত্রগুলো কেন লাল? খুব সহজ করে বললে, তাপমাত্রা হচ্ছে কোন বস্তুর অণু-পরমাণুর গড় ত্বরণের সমষ্টি। যে নক্ষত্রের গ্যাস যত বেশী গরম,ততো বেশী আলোড়িত হয় তার অণু-পরমাণু।  নক্ষত্রের তাপমাত্রা অনুযায়ী এদেরকে বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করা হয়। সবচেয়ে গরম নক্ষত্রগুলো O শ্রেণীর। এরপরে B,A,F,G,K,M। এরমধ্যে M শ্রেনীর নক্ষত্রগুলো সবচেয়ে শীতল। এগুলোর তাপমাত্রা ৩,০০০ ডিগ্রী কেলভিন।  পারমাণবিক ফিউশনের জন্য একটি নক্ষত্রের হাইড্রোজেন…