• জেমস ওয়েব দুরবিনে তোলা কয়েকটি খগোল বস্তুর চমকপ্রদ ছবি এই বছরের ১২ জুলাই NASA প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোর মাধ্যমে বলা যায় জ্যোতির্বিজ্ঞান এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। এর মধ্যে অন্যতম হল হাবল দুরবিন দিয়ে বহু দূরের গ্যালাক্সিদের লাল সরণের যে সীমা নির্ধারিত হয়েছিল সেই সীমাকে পার হয়ে যাওয়া। কোনো খগোল বস্তু (তারা, গ্যালাক্সি, ইত্যাদি) যখন আমাদের থেকে দ্রুত সরে যেতে থাকে তখন সেটির থেকে বিকিরিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে যায় – নীল আলো লালের দিকে সরে যায় – এর জন্য এটিকে লাল সরণ বলা হয়। আবার বস্তুটি যদি আমাদের দিকে আসে সেটির থেকে বিকিরিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে…

  • দ্বিপদী বিস্তৃতির সাথে আমাদের হাতেখড়ি হয়, (a+b)2 এর সূত্র মুখস্ত করতে গিয়ে। তারপর যখন দ্বিপদী বিস্তৃতির প্যাসকেলের ত্রিভুজের যাদুবিদ্যা দেখি, তখন পুরো ভ্যাঁবাচেকা খেয়ে যাই। দ্বিপদী বিস্তৃতির কাজ হলো দুই পদ যুক্ত রাশি নিয়ে কাজ করা। যেমন-  দ্বিপদী বিস্তৃতি নিয়ে অনেক গণিতবিদ কাজ করেছেন। দেখাই যাচ্ছে, ঘাত যত বড় বিস্তৃতি তত বেশি। তাই এই বড় আর জটিল কাজ সহজ করতে এগিয়ে এলেন যাদুকর প্যাসকেল, আর তার জনপ্রিয় যাদু হলো তার ত্রিভুজ। প্যাসকেলের ত্রিভুজটা হলো- এই ত্রিভুজটি কাজ করে মূলত সহগ নিয়ে। এর প্রায় সারিটা হলো শূন্য ঘাতের সহগের, তারপরের সারিটা একঘাতের সহগ। এই সহগগুলো ১,১। কারণ…

  • মানুষ পৃথিবীতে এসেছে অপরিমেয় কৌতূহল নিয়ে। সে সবকিছুকে জানতে চায়, সব কিছু চিন্তা ভাবনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে চায়। একারণেই সে অন্যান্য প্রাণীদের অপেক্ষা ভূ-পৃষ্ঠে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসার যোগ্য দাবীদার। নিজের দাদা-দাদির কোলে মাথা রেখে ঘুমোতে যাবার সময়টাতেও সে তার দাদা-দাদিকে প্রশ্ন করতে ভুলে না, আচ্ছা দাদি/দাদা! সত্যিই কি চাঁদের বুড়ি আছে? সত্যিই কি আকাশ পাড়ি দিয়ে আমরা যেতে পারবো দিগ দিগন্তে? এরকম স্বপ্ন মানুষের বহুদনি আগের। দেখা গেল, মহাশূন্যে প্রথম নভোযানটি পাঠানোর আগে থেকেই মানুষ এলিভেটরের চিন্তা করে বসে আছে। পরবর্তীতে নভোযানের বাস্তবায়ন অনেক আগে হয়ে গেলেও স্পেস এলিভেটরের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। উপরে হালকা…

  • ভ্রূণবিদ্যার কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি যে লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু একটি মাত্র ডিম্বাণুর দিকে সাঁতরে গেলেও, মাত্র একটিই পারে ঐ ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে। আগে মনে করা হতো শুক্রাণু আপন গতিতে ডিম্বাণুর দিকে পৌঁছায় এবং এতে ডিম্বাণুর কোনো হাত থাকে না। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, গর্ভাশয়ের ফলিকল টিউব থেকে নিঃসৃ্ত তরল পদার্থ শুক্রাণুর গতিপথকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এ বিষয়ে Chemical signals from eggs facilitate cryptic female choice in humans শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র The Royal Society Publishing এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ম্যানচেস্টারের সেন্ট ম্যারি’স হসপিটালে যারা আইভিএফ (IVF: In vitro fertilization) বা আইসিএসআই (ICSI: Intra Cytoplasmic Sperm Injection) করতে…

  • নোবেল পুরষ্কারের নাম শোনেনি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞানী এ পর্যন্ত নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। নোবেল পুরষ্কারের তিনটি ক্ষেত্র বিজ্ঞান সম্পর্কিতঃ পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং চিকিৎসাবিদ্যা। এ বছর কারা কারা এই তিন সেক্টরে নোবেল পেলেন, সেটা নিয়েই আজকের লেখা। চলুন, শুরু করা যাক! চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্ব করলিনস্কা ইনস্টিটিউটে বহু মানুষের উপস্থিতিতে শারীরতত্ত্বে এ বছর নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। আর এই লরিয়েট হলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী সোয়্যান্তে প্যাবো। তিনি হোমো স্যাপিয়েন্স (আধুনিক মানুষ) এর বিলুপ্ত পূর্বপুরুষ নিয়ানডার্থালদের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানী প্যাবো দেখিয়েছেন যে ৭০,০০০ বছর আগে আফ্রিকা…

  • এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্যের মতই আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন স্যাপিয়েন্সদের ভাবিয়ে এসেছে এতকাল। আর সেটা বুদ্ধিমান হোমো স্যাপিয়েন্সদের নিজেদের উদ্ভব বিষয়ে। এখানে স্যাপিয়েন্স বলতে আলাদা করে কেবল হোমো স্যাপিয়েন্সদেরকেই বোঝাচ্ছি। কেননা এই ধরিত্রীতে স্যাপিয়েন্সরা আসলে একা ছিল না। পৃথিবীর মাটিতে হেঁটে বেড়াতো হোমো গণের আরও কিছু সদস্য। তাদের মধ্যেই দুটো আলাদা স্বতন্ত্র প্রজাতি হচ্ছে হোমো নিয়ানডার্থাল আর হোমো ডেনিসোভান। তারা আমাদের-ই জ্ঞাতি ভাই ছিল। আজ থেকে তিন লাখ বছর আগে আধুনিক মানুষ তথা স্যাপিয়েন্সদের আবির্ভাব ঘটে প্রাচীন আফ্রিকায়। নিয়ানডার্থালদের উদ্ভব তারও এক লাখ বছর আগে। অর্থাৎ চার লাখ বছর আগে। ইউরোপ আর পশ্চিম এশিয়ার বনে জঙ্গলে ঘুরে…

  • জীববিজ্ঞানের মজার কিছু শাখার মধ্যে ‘বিবর্তন’ একটি। আমরা জানি, এক বংশধর থেকে অন্য বংশধরে জীব পপুলেশনের জিন ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তনই জৈব বিবর্তন। একে ডারউইন “Descent with modification” বলে উল্লেখ করেছিলেন। অল্প বিজ্ঞান জানা কিছু বক্তি একটা ভুল ধারণা দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করে; সেটা হলো ডারউইনিজম আর জৈব বিবর্তন একই বিষয়। ন্যূনতম বিবর্তন ভিত্তিক জ্ঞান থাকলে কেউ এই কথা বলতে পারেনা। আসলে ডারউইন জৈব বিবর্তন নিয়ে একটি মতবাদ দিয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও অনেকেই এ ব্যাপারে তাদের মতামত ও ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বিবর্তনের পথকে প্রশস্ত করতে ডারউইনের ভূমিকাই সবচেয়ে আলোড়ন ফেলেছিল। তাহলে আপনাকে আগে দুটো বিষয় মাথায় রাখতে হবে।…

  • নেফারতারি, লেডী অফ গ্রেইস, লেডী অফ অল ল্যান্ডস, ওয়াইফ অফ দি স্ট্রং বুল সহ আরও অনেক নামে পরিচিত। নেফারতারি ছিলেন অন্যতম বিখ্যাত মিশরীয় রানী। মিশরের অন্যান্য রাজাদের মতো দ্বিতীয় রামেসিসেরও অনেক স্ত্রী ছিলো। তবে এর মধ্যে থেকে  কেবল একজন স্ত্রীকেই তাঁর প্রধান রানী হওয়ার সম্মান দেওয়া হতো।রামেসিস তাঁর জীবদ্দশায় আটজন রানী গ্রহণ করেছিলেন। তার মধ্যে রানী নেফারতারি ছিলেন তাঁর প্রথম এবং সবচেয়ে প্রিয়। রামেসিস সর্বদা নেফারতারির সৌন্দর্যে মুগ্ধ থাকতেন। তিনি অবিশ্বাস্যভাবে নেফারতারির অনুগত ছিলেন।  সমাধির দেওয়ালে আঁকা চিত্র থেকে প্রতীয়মান হয় যে প্রাচীন মিশরের  রাজকীয় বিবাহ সর্বদা শক্তি জোট বা সুযোগ -সুবিধার ভিত্তিতে ছিল না। কিছু …

  • তখন বইয়ের মৌসুম। বইমেলাও নতুন বইয়ে মেতে উঠেছে, আবার রকমারিতেও বইয়ের ঝড় বইছিল। এমন সময়ে বিজ্ঞান ব্লগ থেকে রফিকুল ইসলাম ভাইয়ের ‘ক্যাম্পেবল বায়োলজি (প্রাণরসায়ন ইউনিট) এর ২য় সংস্করণ গিফট পাই। প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের প্রেমে পড়ে যাই। বইটা খুলে দেখার পর বুঝলাম যে এর মূলত ৫টি অধ্যায় রয়েছে। বইয়ের ব্যবচ্ছেদ বইটার প্রথমেই রয়েছে অভিযোজনের আলোচনা। এই প্রক্রিয়া ছাড়া জীবদের অস্তিত্বই থাকত না। অভিযোজনের কারণেই জীবের বৈচিত্র্যময় হয়। এ ব্যারটিকেই কিছু জীবের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। এ অধ্যায়ে আরও যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো হলো জীবজগতের বিভিন্ন স্তর, জীবের গঠন ও তার কাজের সম্পর্ক, বংশগতি, সিস্টেমস…