• কেমন হয় যদি আমাদের হার্টবিটের মতোই এই পৃথিবীরও নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়? আমাদের হার্টবিট যেরকম হৃৎপিন্ডে ধুক ধুক করে, তেমনি পৃথিবীর হার্টবিট আয়নোস্ফিয়ারে উৎপন্ন হয়। পাঠকেরা হয়ত বা ভাবছেন যে আমি মনে হয় গ্রিক পুরাণের গল্প করেছি। তবে এটা যে পিওর সায়েন্স, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আপনাদেরও থাকবে না যদি এই প্রবন্ধ পুরোটা পড়েন। পৃথিবীর হার্টবিট পদার্থবিজ্ঞানের সংবিধানে শুম্যান রেজোনেন্স (Schumann resonances) নামে পরিচিত। পদার্থবিজ্ঞানী উইনফ্রাইড অটো শুম্যানের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। পৃথিবীর পৃষ্ঠ এবং আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী স্থানটি একটি বদ্ধ তরঙ্গ নির্দেশক হিসাবে কাজ করে বলে শুম্যান রেজোনেন্স (রেজোনেন্স মানে কিন্তু অনুনাদ) ঘটে।…

  • ডাক্তারেরা অতি ক্ষুদ্র একটি গাড়িতে চড়ে আপনার দেহে প্রবেশ করে রোগ সারিয়ে তুলল। যদি এটা বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে কেমন হবে? “ফ্যান্টাস্টিক ভয়েজ” সিনেমায় এমনি একটি দৃশ্য দেখানো হয়। যদিও পুরো ব্যাপারটা সায়েন্স ফিকশনের মাঝেই সীমাবদ্ধ, তবে মেডিকেল সায়েন্সের উন্নয়নে এ ধরনের কিছু টেকনিক এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে ন্যানো ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটা নিয়েও প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ন্যানো চিকিৎসাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান। আর সেটা যদি সম্ভবপর হয়, তবে একটি চিপ দিয়েই আপনার শরীরের রোগ নির্ণয় করে ফেলা যাবে, ঐ চিপের সাহায্যেই কোষ ধ্বংস করা যাবে, আরও কত কী! ন্যানোচিকিৎসার…

  • মেঘমুক্ত রাতের আকাশে দিকে তাকালে বিভিন্ন রঙের  অনেক নক্ষত্র দেখতে পাবেন। দেখা যায় হলুদ, নীল সাদা বর্ণের নক্ষত্র আকাশে মিটমিট করছে। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এর মধ্যে কিছু নক্ষত্র আছে হালকা থেকে টকটকে লাল রঙের।  এই নক্ষত্রগুলো কেন লাল? খুব সহজ করে বললে, তাপমাত্রা হচ্ছে কোন বস্তুর অণু-পরমাণুর গড় ত্বরণের সমষ্টি। যে নক্ষত্রের গ্যাস যত বেশী গরম,ততো বেশী আলোড়িত হয় তার অণু-পরমাণু।  নক্ষত্রের তাপমাত্রা অনুযায়ী এদেরকে বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করা হয়। সবচেয়ে গরম নক্ষত্রগুলো O শ্রেণীর। এরপরে B,A,F,G,K,M। এরমধ্যে M শ্রেনীর নক্ষত্রগুলো সবচেয়ে শীতল। এগুলোর তাপমাত্রা ৩,০০০ ডিগ্রী কেলভিন।  পারমাণবিক ফিউশনের জন্য একটি নক্ষত্রের হাইড্রোজেন…

  • বর্তমানে সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন বিরাট এক প্রশ্ন বোধক চিহ্নের আকারে সাতটি নক্ষত্র জ্বল জ্বল করছে। এর নাম সপ্তর্ষী মন্ডল। এই তারা-মন্ডলটির নাম শুনেন নি এমন মানুষ খুব কম আছে।  এই মন্ডলটির পাশ্চাত্য নাম উরসা মেজর (Ursa Major)। ‘দ্য প্লাফ’ ডাকনামে পরিচিত, একে বিগ ডিপারও বলে। প্রাচীন গ্রিকরা উরসা মেজরকে ভাল্লুক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর ল্যাটিন নাম ‘বৃহত্তর ভালুক’।  কিছু ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন যে নামকরণের এই ঐতিহ্য কমপক্ষে ১০,০০০ বছর আগের।  সাধারণত, বিভিন্ন সভ্যতার নক্ষত্রপুঞ্জের বিভিন্ন নাম রয়েছে। উরসা মেজর সম্পর্কে একটি কৌতূহলী বিষয় হল ভিন্ন মহাদেশে, দুটি ভিন্ন সভ্যতায়, একে অপরের…

  • কখনো কি এমন হয়েছে? যে কোনো সময়ে একটি মুহূর্ত  যা আপনি প্রত্যক্ষ করছেন, কিন্তু আপনার মনে হলো যে ঠিক একই মুহূর্ত আপনি আগেও কখনো অনুভব করেছেন। যদিও আপনি এই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত যে আপনি আগে কখনো এ ধরনের মুহূর্তের সম্মুখীন হননি! ব্যাপারটা হয়তো এখনো পরিস্কার হয় উঠেনি আপনার কাছে। চলুন একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আপনি আপনার কোনো এক দূর সম্পর্কের  আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছেন যেখানে আপনার প্রথম বার যাওয়া। সেখানে গিয়ে কোনো এক মুহূর্তে আপনার মনে হলো যে এটা আগেও আপনি দেখেছেন। কোনো এক সময় একদম অনুরূপ-চারপাশের মানুষ, জিনিসপত্র সবকিছুই হুবহু অবিকল। ফ্রান্সের ভাষায় এ…

  • ১৯৪০-র দশকে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল ডিএনএ-ই হলো জীবনের সংকেতবাহী রহস্যময় অণু। ডিএনএতেই কোন ভাবে লেখা থাকে বংশগতির নির্দেশনা। কিন্তু তখনো বিজ্ঞানীরা জানতেন না ডিএনএ-তে জীবনের রহস্য কিভাবে লেখা থাকে। হ্যাঁ, ডিএনএতে চারটি নিউক্লিওটাইড বেস রয়েছে। কিন্তু ডিএনএ-র গঠন কি রকম? আর ডিএনএ কিভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বংশগতির তথ্য বহন করে? ১৯৪০-র দশক এমন একটা সময় যখন পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে জীববিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এটা কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উন্নত-প্রযুক্তি গবেষণার লক্ষ্যই ছিলো যুদ্ধে কিভাবে সুনিপুণ হওয়া যায় অর্থাৎ ধ্বংস।  এসব গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক পদার্থবিজ্ঞানী জড়িত ছিলেন। এজন্য যুদ্ধের সময়ে ও পরে…

  • ইটা কারিনা। দাপ্তরিকভাবে ইটা আর্গাস নামে পরিচিত। এর অন্য নাম হলো  ইটা রোবরিস, বা ইটা নাভিস। ইটা কারিনা হলো কারিনা নক্ষত্রমন্ডলে অবস্থিত অন্তত দুইটি নক্ষত্র নিয়ে গঠিত একটি নাক্ষত্রিক ব্যবস্থা। এর একটি ইটা কারিনা-A, অন্যটি ইটা কারিনা-B। এই উভয় নক্ষত্রই বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করছে।  এই নক্ষত্রমণ্ডলের আলো আমাদের সূর্যের চেয়ে বেশি। ইটা কারিনা-A আমাদের সূর্যের চেয়ে ৫ মিলিয়ন গুন বেশী উজ্জ্বল এবং কারিনা-B ১ মিলিয়ন গুন বেশী উজ্জ্বল। ইটা কারিনা-A এবং ইটা কারিনা-B প্রতি ৫.৫৪ বছরে একবার একে অপরের চারপাশে একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে। এই নক্ষত্র ব্যবস্থার ব্যাপক বিস্ফোরণের একটি বিস্তৃত ইতিহাস রয়েছে। যা এটিকে কয়েকবার…

  • বাংলা ভাষায় স্টেম কোষ নিয়ে কোনো বই না থাকায় এদেশের শিক্ষার্থীসহ বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষেরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে জ্ঞান লাভ থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। এই ব্যাপারটিকে উপলব্ধি করতে পেরে তরুণ লেখক অপূর্ব পাল লিখলেন “স্টেম কোষের আদ্যপান্ত”। জীববিজ্ঞানের ভক্ত হওয়ায় বইটি প্রকাশের পরপরই আমি সংগ্রহ করলাম। কী এমন আছে এই বইতে? বইয়ের ব্যবচ্ছেদ প্রথম অধ্যায় “জন্মকথা” এর প্রথম কথাগুলো পরেই বুঝলাম যে লেখকের হাত একদম অন্যরকম। অপূর্ব দা স্টেম কোষকে “দেশের প্রধানমন্ত্রী” উপমা দিয়ে গল্পের মাধ্যমে বিষয়টিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়ে স্টেম কোষের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে লেখক একদমই সংক্ষেপে কবে, কীভাবে স্টেম সেল নিয়ে…

  • কোয়াসার গ্রহের নীল মাটিতে সবুজ গাছ পালা, ফলমূল আর ঔষধের বাগান। বড় বড় কাঁচের বিল্ডিং। সব ঘরই ভার্চুয়াল ও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। এখানে কলকারখানা, কৃষিকাজ ও অন্যান্য সকল কাজে রোবটের ব্যবহার লক্ষ্য করার মতো। এসব রোবট জৈবিকভাবে অনুপ্রাণিত! তাই এরা মানুষের কথা বুঝতে পারে। নীনা’র মন খারাপ। কারণ তার মানুষ মা ও বাবা সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকে। ফলে, সে একদম একা। কয়েক বছর আগের কথা। কোয়াসার  গ্রহ ছিল শিশুশূন্য। কারণ এ  গ্রহের কারও সন্তান হয় না। দিন দিন জনসংখ্যা কমে যাচ্ছিল। এ গ্রহের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আসিক ইবরার ব্লেকো-৩ নামক একটি শিশু রোবট তৈরী করেন। যা কিনা…